Blog

  • প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত

    প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন, স্লোগান দিতে থাকেন এবং তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। যখন তারেক রহমান গাড়ি নিয়ে কার্যালয়ের সামনে আসেন, তখন নেতাকর্মীরা হাত নেড়ে তাকে স্বাগত জানিয়ে তাকে বাহবা দেন। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান, এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার সন্ধ্যায় দলের কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা প্রদান করেন, যেখানে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে সকলের সহায়তা প্রয়োজন এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ মোকাবেলায় ধৈর্য্য ধারণের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা থাকবে, পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না।’ তিনি নেতাকর্মীদের দ্রুত রাস্তাগুলো ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, দলের কার্যক্রম চালাতে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য কার্যালয়ে আসাটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র যদি সবাই সহযোগিতা করে। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই আমাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে এবং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশের সমসাময়িক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং তাদের ধৈর্য্য ধরে সহায়তা করতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘মানুষ আমাদের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাই যেন কোনো কর্মকা-ের মাধ্যমে মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না হয়, সেদিকে সবাই সচেতন থাকতে হবে।’ বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি সড়ক নিরাপদ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো রাস্তাগুলো খালি করা। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে না পারলে আমাকে এখানে আসা বেশ কঠিন হয়ে যাবে।’ এর আগে সন্ধ্যায় নেতাকর্মীদের বিপুল সংঙ্গায় স্বাগত জানান দলের নেতাকর্মীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকাল থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল থেকে নয়াপল্টনের রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, যেখানে নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ফেস্টুন ও স্লোগান নিয়ে উপস্থিত হন। দুপুর ২:৩০ থেকে শুরু করে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দেন, যেমন ‘প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছা’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ ও শুভেচ্ছা’ ইত্যাদি। একই সময় সড়কে ভিড়ের কারণে নয়াপল্টনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যেখানে গাড়িগুলো এক লাইনে চলাফেরা করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর করা হয়, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ ব্যাপারে এক নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশ সব সময় আটক করত। আজকে আল্লাহর রহমতে সম্ভব হলো।’ এই দিনটি যেন একদমই ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে এসেছে নেতাকর্মীদের জন্য।

  • ৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা তরুণ নেতৃত্বের সংগঠন চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে ঢাকার বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    দলের পক্ষ থেকে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কুমিল্লা সিটি করপোরশনে স্থান পেয়েছেন অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, যিনি জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক। সিলেট সিটি করপোরেশনে এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহী মহানগরীর দলীয় নেতা মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    এনসিপি জানায়, এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিকল্পনা নেই বিএনপির। পরিস্থিতির কারণে দলটির নেতারা ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক পদে বসেছেন। এই অবস্থায় প্রথমে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তথা রাজনৈতিক দখলে নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, এই প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন যেকোনো দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে আয়োজন করা যাবে না। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থী ছাড়াও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম এবং আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি অঘোষিতভাবে অগ্রসর হতে চায়, তবে জনগণ তা সহজে মানবে না। গণরায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের موقعে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে, কিন্তু যখনই তারা গণরায়ের মূল্যকে উপেক্ষা করে এগোতে চেয়েছে, তখনই জনগণের গণআন্দোলনের মাধ্যমে তাদের পরাস্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কারণে স্বাধীনতার অগ্নিগিরি দেখা দেয়। একইভাবে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সম্ভব হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর দমন-পীড়নের পর জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করে শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা জনতার প্রতিবাদে ভেঙে পড়েছে।

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, যদি এখনো গণরায় বা গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সরকার অগ্রসর হতে চায়, তবে জনগণ তা মানবে না। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটে বিজয় অর্জিত হয়েছে। সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার ও স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের বাস্তবায়ন না হলে, গণভোটে সাধারণ জনগণের ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপ্লবের জন্য আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে দ্বিধা করবে না।

    এছাড়াও তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এসে জনজনের স্বার্থে কাজ করতে হবে। জনগণের পাশে থাকলে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তবে, যদি জনগণের বিপক্ষে দিয়ে আত্থে যায়, তাহলে আবারও আমরা জনগণকে নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মাঠে নামতে বাধ্য হব।

  • প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে

    প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থপাচার হয়েছে

    বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের অর্থসম্পদের অপচয় এবং অবৈধ অর্থপ্রবাহের বিষয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিজেদের স্বগুপ্ত সিন্ডিকেট ও অপ্রতুল জবাবদিহিতার কারণে দেশের অর্থনীতি বিপদে পড়ছে এবং দেশের বাইরে কোটি কোটি ডলার অর্থ পাচার হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে প্রকাশ করেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচার হয়েছে। এই পরিমাণ অর্থে বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। পাচারের অর্থ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ, ও আইনগত সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে থাকেন, প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীন—অর্থপাচার গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশে (মালয়েশিয়া, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত) পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাতটির সঙ্গে চুক্তি অনুমোদনের কাজ চলমান। এই কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

    অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নেতৃত্বাধীন একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। এই টাস্কফোರ್ಸি এখন পর্যন্ত ১১টি মামলায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান চলমান। তদন্তে সহযোগিতা দেয় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সিআইডি, এনবিআর সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা।

    সম্পদ জব্দের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সংসদে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের বাইরে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার ও তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    সর্বশেষে, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিষয়ে একটি বিস্তারিত শ্বেতপত্র প্রকাশ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • আইনমন্ত্রী জানান, ২৩৫৮৬৫ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে

    আইনমন্ত্রী জানান, ২৩৫৮৬৫ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোর প্রত্যাহারে সরকারের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে, গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১লা এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছিলেন, এবং এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য দেন।

    মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা দায়ের হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে সংরক্ষিত নেই। তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি পুনর্গঠিত হয়। এই কমিটি মামলার আবেদনপত্র, এজাহার, অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে। যদি দেখা যায় যে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে এবং জনস্বার্থে চালানো দরকারি নয়, তবে সেটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।

    সংসদে আরও জানানো হয়, এই সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কার্যকর করতে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ একটি কেন্দ্রীয় ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্ব দেন আইনমন্ত্রী। এই কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এতদিনে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এখনো যারা মামলা প্রত্যাহার হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক হয়রানি কমানোর পাশাপাশি আইনী প্রক্রিয়াগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • একসঙ্গে জন্ম নেওয়া যমজ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ট্রেনে ধাক্কায়

    একসঙ্গে জন্ম নেওয়া যমজ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ট্রেনে ধাক্কায়

    ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ভুষনা লক্ষণদিয়া রেলক্রসিং এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় তাইয়েব ও তাহমিদ নামে চার বছর বয়সী যমজ ভাই নিহত হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে, যখন তারা মধুখালি থেকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া যাওয়ার পথে রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন।

    নিহত দুই ভাই শহরের লক্ষণদিয়া গ্রামের আকাশ শেখ ও রিমা বেগম দম্পতির সন্তান। তাদের পিতা-মাতা এখন শোকে বিহ্বল, কারণ তারা হারিয়েছেন তাদের আদরের দুলাল দুজনকেই। তারাও পাগলপ্রায় হয়ে উঠেছেন, সন্তানদের হারানোর শোক তারা সহ্য করতে পারছেন না। প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    জানা যায়, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে যখন তারা ট্রেনের আসার সময় পাশে থাকা একটি দোকানে চকলেট কিনতে যায়। ঠিক তখনই দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় তারা কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আকাশ ও রিমার বিয়ে পাঁচ বছর আগে হয়। তাদের সন্তান হওয়ার পর পরিবারের খুশির শেষ ছিল না। তারা আশা করেছিল তাদের লালিত সন্তানরা বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে, কিন্তু এই মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের স্বপ্নগুলো বিনাশ করে দিয়েছে।

    অভিভাবকদের চোখের জল যেন বয়সের অজুহাতে কমছে না; রিমা বেগম কেঁদে কেঁদে বলছেন, ‘ছেলেদের ফিরিয়ে দাও, ফিরে আয়।’ তার বুকের কান্না কেবেলায় পরিণত হয়েছে।

    এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রেলক্রসিংটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে চার থেকে পাঁচটি গ্রামবাসীর নিয়মিত যাতায়াত। এর আগে নানা দুর্ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য রেলক্রসিংটি দ্রুত সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থলে এসে ট্রেনে অসুস্থ এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

  • সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়ার্কআউট

    সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়ার্কআউট

    বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের প্রশ্নে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে সংসদ থেকে ওয়ার্কআউট করেছেন। বিরোধী দলের নেতার নেতৃত্বে তারা অধিবেশন ত্যাগ করেন।

    সংসদে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পরেও সংবিধান সংস্কার পরিষদে আয়োজিত সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিরোধীদল এই পদক্ষেপ নেন। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী হয়তো আমার বক্তব্যকে পুরোপুরি লক্ষ্য করেননি, তবে আমি বিশ্বাস করি না যে এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। মূলত আমাদের আলোচনাতে প্রধান বিষয় ছিল গণভোট এবং এর সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদে সভা আহ্বানের বিষয়।

    তিনি আরও যোগ করেন, সংকট নিরসনের জন্য যদি সংস্কার পরিষদে কোনও বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, তবে আমরা সেটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব। সেই সঙ্গে প্রস্তাব দিয়েছি, এই কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য রাখা হলে তা আরও কার্যকরী হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সংকট সমাধান, নতুন সমস্যা সৃষ্টি নয়।

    বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে আমার আগের কথার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। আমার বক্তব্যটি আগে শেষ ছিল বলে আমি বললাম, এটি জনআকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করবে। আমরা আশা করেছিলাম স্পিকারের মাধ্যমে এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি না। আমি আপনার কাছ থেকে এই বিষয়ে পরিষ্কার ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি।

    এর উত্তরে স্পিকার উল্লেখ করেন, গতকালের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা তার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল আনোয়ার হোসেন মঞ্জুরের, গ্রেনেড হামলা ও নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত, আটকে থাকা বছরের পর বছর কোনো প্রস্তাব মুলতবি করা হয় না। তবে সংসদে ভোটের উত্তেজনা ও আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

    তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সম্ভব, অতএব সাধারণত মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না, তবে ভোটের মাধ্যমে সংসদে সবদলের মতামত নেওয়ার জন্য এটি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ আমরা এই সংক্রান্ত অন্য একটি নোটিশ বিবেচনা করব। আপনার যদি বক্তব্য বাকী থাকলে আজ বা আগামীকাল আলোচনা চলবে। এটি আমাদের জনগণের সংসদ, এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে আলোচনা ফলপ্রসূ করতে আপনাদের সরাসরি দায়িত্ব।

  • সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো ১২৫ বার

    সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছালো ১২৫ বার

    সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে গিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই দিনটি ছিল নির্ধারিত ছিল, তবে বিচারক যথাসময়ে তদন্তকারীর অনুসন্ধান প্রতিবেদন না পেয়ে নতুন তারিখ ৭ মে নির্ধারণ করেন। এভাবে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৫ বার পেছানো হয়েছে। 

    সাগর-রুনি হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) তদন্তাধীন ছিল। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের জন্য এক টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাই কোোর্ট। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই কাজ করছে। 

    উল্লেখ্য, এই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে থাকলেও অন্যরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। 

    মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিকদম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। আগের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত দায়িত্ব ছিল শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তার ওপর, পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তের ভার দেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পরে হাইকোর্টের আদেশে, মামলার তদন্তের কাজটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর অর্পিত হয়।

  • ইরান: যুদ্ধ ইস্যুতে ঢাকার বিবৃতি সন্তোষজনক নয় — ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত

    ইরান: যুদ্ধ ইস্যুতে ঢাকার বিবৃতি সন্তোষজনক নয় — ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত

    ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, তেহরান ঢাকার যুদ্ধ সংক্রান্ত বিবৃতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তিনি বুধবার সকালে ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

    রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার আমাদের এই যুদ্ধের ব্যাপারে যে সমস্ত বিবৃতি দিয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের কিছু কষ্টের জায়গা আছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, স্পেনসহ অনেক ইউরোপীয় দেশে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক জনসমাবেশ হয়েছে এবং সেসকল দেশ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই যুদ্ধকে সরাসরি নিন্দা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ অস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেবে।

    জাহনাবাদি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ভাই মনে করি। এজন্য আমরা চাই আমাদের সম্পর্ক আরও সুন্দর ও মসৃণ হোক। আমরা চাই একে অপরকে সহযোগিতায় রেখে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাই।’ তিনি সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    রাষ্ট্রদূত দাবী করেন যে, প্রকাশিত বিবৃতিগুলোতে মূলত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, অথচ তাদের মতে যুক্তরাষ্ট্র এখানে সরাসরি আগ্রাসীর ভূমিকা নিয়েছে এবং যে কোনো আগ্রাসন নিন্দার দাবির যোগ্য। তিনি জানান, স্পষ্টভাবে নিন্দা জানানোই তাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের কয়েক মিলিয়ন শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন এবং তাদের অনিচ্ছাকৃতভাবে অস্বস্তিতে ফেলতে চান না।

  • প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে খাল খনন উদ্বোধন করবেন: পানি সম্পদ মন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী চলতি মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে খাল খনন উদ্বোধন করবেন: পানি সম্পদ মন্ত্রী

    পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, চলতি এপ্রিল মাসে ঝিনাইদহ ও ফেনীতে দুইটি খাল খননের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন সচিবালয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের।

    মন্ত্রী জানান, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় একটি খালের উদ্বোধনী কাজ ইতোমধ্যেই সমাপ্ত এবং ওই খালের কাজও চলমান আছে। এবারের আয়োজনের মতো আরও দুটি খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যার উদ্বোধন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা করা হবে। একটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে ঝিনাইদহের শৈলকূপা হিসেবে, আরেকটিকে সম্ভাব্যভাবে ফেনীতে নেয়া হবে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষে তা নিশ্চিত করা হবে।

    কমিশন সভায় মন্ত্রী আরও জানান, খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১৮০ দিনের সময়সীমা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে যাতে জনগণের সামনে দেয়া প্রতিশ্রুতি সময়মতো বাস্তবায়িত করা যায়। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর ও দৃশ্যমান করা।

    মন্ত্রী বলেছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে—অনেক নদী মরে গেছে, দখল হয়ে গেছে, শিল্প কলকারখানার বর্জ্য-আবর্জনা জমে আছে এবং অনেক জায়গায় দোকানপাট বা বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। এসব অবরোধ সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে যাতে খালগুলো পরিষ্কার করে নলেজ্যানো যায় এবং প্রকল্পের গতি বাড়ে। তিনি জানান, মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদী যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও উদ্যোগ নিয়েই কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।

    তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বললেন, এই বিষয়ে নিয়মিতভাবে ছোট পরিসরের টেকনিক্যাল সভা হচ্ছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পরিকল্পনা ও কাজের দিকগুলো নিয়ে কাজ করছে; বিষয়টি এখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তা নিয়ে বড় ঘোষণা দেওয়া যায়। তবে কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং রুটিন মিটিংগুলো চলবে।

    ভারত-বাংলাদেশের গঙ্গা চুক্তি সম্পর্কেও তিনি জানালেন, ৩০ বছরের মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে এবং এ বিষয়ে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। রুটিন ভিত্তিতে বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    মোটের ওপর মন্ত্রী এই উদ্যোগগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে জনসাধারণের কাছে প্রতিশ্রুতিমতো কাজ তুলে ধরাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।