Blog

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজারের অস্থির অবস্থা ও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। প্রতিদিন ৫০টি করে ইপির (আমদানি অনুমতি) প্রদান করা হবে, যার প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবল পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই আবেদনের সুযোগ পাবেন। এটি যতক্ষণ না পুনরাদেশ দেওয়া হবে, ততক্ষণ এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

    গত মাসের শুরুতে হঠাৎ করে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে এর দাম ৪০ টাকার মতো বাড়ে এবং প্রতি কেজিতে দাম ওঠে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এক পর্যায়ে সরকার আমদানির অনুমতি দিলে দাম কিছুটা কমে যায়। ধীরে ধীরে দাম ১০৫ থেকে ১১0 টাকায় আর ফিরে আসে।

    সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। ফলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে মজুতদার ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, যার কারণে এখনো বাজারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ টাকা বেশি।

    অন্যদিকে, টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এখনও পেঁয়াজের দর প্রায় ১০ শতাংশ কম। বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতায়যুক্ত পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, যার কেজি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

    পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির অনুমতি না দেওয়ার খবর পেয়ে দর বাড়ছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

    এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বক্তব্যে জানানো হয়েছিল, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে যদি পেঁয়াজের দাম ওভার করে না, তবে আমদানি অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাজারের ওপর চোখ রাখছি। দেশের মজুত যথেষ্ট। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবে যদি এই সময়ের মধ্যে দাম কমে না, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বর্তমানে সরকারের কাছে ২৮০০টির বেশি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন রয়েছে। যার দশ শতাংশ অনুমোদন হলে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে দাম কমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেই জন্য সরকার এই বিষয় মনিটর করছে।’

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে কিছুটা কমে এসেছিল মূল্যস্ফীতি, কিন্তু নভেম্বর মাসে আবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। এর আগে অক্টোবরের হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের হিসাব বলছে, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। দুই মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটা বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

    বিবিএস উল্লেখ করেছে যে, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর অর্থ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম কমে যায় না। এটি বোঝায় যে অন্যান্য মাসের তুলনায় ওই নির্দিষ্ট মাসে দাম বাড়ার হার কিছুটা অল্প হয়েছে।

    অর্থনীতিতে দুই-তিন বছর ধরে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টা চালানো হয়। একই সঙ্গে, এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়, যাতে বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখা যায়।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বৃদ্ধি পেল

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বৃদ্ধি পেল

    দেশের ব্যাংকখাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় এই বছরের জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর গত তিন মাসে, অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। যদিও কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জমা টাকার পরিমাণ অনেকখানি কমে গেছে। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংকখাতে মোট অ্যাকাউন্ট ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। যেখানে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০-এ। অর্থাৎ, এখনও তিন মাসের মধ্যে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকে জমার মোট পরিমাণও সামান্য বেড়েছে। জুন শেষে জমার পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, আর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা হয়েছে। ফলে, এই তিন মাসে জমার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। কোটিপতি অ্যাকাউন্টের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি মানে শুধুমাত্র ব্যক্তির হিসাব নয়। দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট সংস্থারও কোটি টাকার বেশি আমানত থাকতে পারে। এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র পাঁচ জন। এরপর বছরগুলোতে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ১৯৭৫ সালে ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি অ্যাকাউন্ট, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি এবং ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি। ২০০১ সালে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে এগোতে গিয়ে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে তা বেড়ে ১৯ হাজার ১৬৩টি। এরপর অনেকটা দ্রুত বাড়তে থাকে এই সংখ্যা। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে তা বেড়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং চলতি বছর ২০২৪ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।

  • ২০ দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ

    ২০ দল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ

    আজ সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েল পার্টি সেন্টারে এক তথ্যবহুল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, যারা বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছেন। এই জোটের নাম দেয়া হয়েছে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ)।

    জোটে আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দল, যেমন – জনতা পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জাতীয় ইসলামিক মহাজোট, জাতীয় সংস্কার জোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, স্বাধীন পার্টি, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি, অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।

    সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সংকট সমাধান এবং দেশের আগামীর জন্য একটি সুদৃঢ় মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। আমরা দেশটির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ২৪ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও জাতীয় ঐক্যকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে চাই। এই নতুন জোটের মাধ্যমে আমরা জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অবকাঠামোগত সংস্কার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিজ নিজ স্বকীয়তা ও আদর্শ বজায় রেখে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত নীতিমালা গ্রহণ করব। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জোটের নাম দেয়া হয়েছে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’।’

    তাঁর বক্তব্যে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়, যেমন:
    ১. ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন পরিচালনার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
    ২. অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য দুই মাসের মধ্যে গঠন করতে হবে।
    ৩. অবৈধ হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে নির্বাচন ও রাজনীতি স্বচ্ছ করতে হবে।
    ৪. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
    ৫. নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
    ৬. স্বনির্ভর অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
    ৭. দুর্নীতি মুক্ত, জোরদার সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

    অপরদিকে, গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নতুন আরেকটি রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা দেয় তিনটি দল—নিহার ইসলাম নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। এই জোটের নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই জোটের সদস্যরা হলো: এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এই জোটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে দুটি পথে চলতে না দেয়ার জন্য সরকারের পরিবর্তন, গণতন্ত্র ও সংস্কার প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে নতুন পরিবর্তনের সূচনা এবং দেশের রাজনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

  • ডা. শফিকুর রহমানের রহিত মন্তব্য: জামায়াতে ইসলাম ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে না

    ডা. শফিকুর রহমানের রহিত মন্তব্য: জামায়াতে ইসলাম ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে না

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে না—এমন বিবৃতি দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাসে আট দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় নির্বাচন এবং দলের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

    তিনি বলেন, ‘জামায়াত ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করে না, এবং ধর্মের নামে ব্যবসা করাও দলটির নীতির মধ্যে নেই। তবে নির্বাচন ও গণমাধ্যমে যারা ধর্মীয় আচরণকে প্রচারণার অংশ করে থাকেন, তারা প্রকৃতপক্ষে ধর্মকে ব্যবহার করেন।’

    একজন সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন যদি পেছানো হয়, তবে দেশের অস্থিরতা বেড়াতে পারে। তাঁর মতে, কোন কারণেই নির্বাচন বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়, কারণ এর ফলে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    আলোচনায় তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দেশের স্বার্থে সব দলের সঙ্গে সমন্বয় করে অন্তত পাচঁ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তাঁদের।

    তার মতে, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দুইটি মূল শর্ত হলো—প্রথমত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান framing, এবং দ্বিতীয়ত, সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রভাব যেন বিচারব্যবস্থায় স্থান পায় না, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বিষয়ের সঙ্গে যারা একমত, তাঁরা সহায়ক হিসেবে সরকারের পরিচালনায় যোগ দিতে প্রস্তুত।

    খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, অসুস্থতা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। দেশবাসী তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি দেশের অগ্রগতির পথে বাধা নয়, এটাই তাঁর মত।

    একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি স্বীকার করেন, দুইটি একসঙ্গে ভোটের জন্য শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আলাদা দিনে ভোটগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

    শেষে, তিনি আবারও 강조 করেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সময়মতো হওয়া অপরিহার্য। আনুমানিক পরিবর্তন দেশকে সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতা জরুরি—এ সতর্কতা দিয়ে তিনি সবাইকে শান্তি ও সার্বভৌমত্বের প্রতি লক্ষ্য রাখতে আহ্বান জানান।

  • ক্ষমতায় গেলে আবারও খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে বিএনপি: তারেক রহমান

    ক্ষমতায় গেলে আবারও খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে বিএনপি: তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে যদি জনগণ বিএনপিকে দেশ চালানোর দায়িত্ব দেয়, তবে তারা আবার সেই জিয়াউর রহমানের খাল খনন প্রকল্প শুরু করবেন। এই পরিকল্পনার আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফসলের ক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান এক সময় এক মাঠে তিন ফসল ফলানোর উদ্যোগ নেন, যা ইতোমধ্যে বিএনপির বর্তমান পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিএনপি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান। তার মতে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবাসে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণের পথ সৃষ্টি করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে যে কাজগুলো হয়নি, বিএনপি তা আবার শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, তরুণদের জন্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তির জ্ঞান থাকলে তরুণরা বেশি আয় করতে পারবে, পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা থাকলে কর্মসংস্থান ও আয়-উন্নতির সম্ভাবনা আরও বাড়বে। বিএনপি এসব উদ্দেশ্যে কাজ করছে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করতে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

  • জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি উসকে দিচ্ছে: এনসিপি

    জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি উসকে দিচ্ছে: এনসিপি

    বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে যে, জামায়াতে ইসলামি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশটিকে বিভাজন, ঘৃণা ও সহিংসতার পথে ঠেলে দিচ্ছে। তারা বলছেন, ৫ আগস্টের পরবর্তীকালের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে গ্রহণ না করে জামায়াত পুরোনো সহিংস ও আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথেই হাঁটতে চাইছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর সংকেত।

    সোমবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে করোনা-সংক্রান্ত সহিংসতার প্রমাণ হিসেবে প্রকাশিত মন্তব্যের বিষয়টিকে তারা সম্পূর্ণ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন।

    এনসিপি জানায়, ২৭ নভেম্বর পাবনা ঈশ্বরদীতে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে গুলি চালানোর ঘটনাটি জামায়াতের একজন কর্মী তুষার মণ্ডল করেছে বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়া এই কর্মীর বিষয়টিকে অস্বীকার করে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে।

    এনসিপি মনে করছে, জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পরবর্তীতে তারা পুরোনো সহিংস ও আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথে ‘নতুন খেলোয়াড়’ হিসেবে উপস্থিত হতে চাইছে, যা দেশের জন্য অশুভ সংকেত।

    তাদের মতে, সহিংসতা, অস্ত্রের ব্যবহার এবং ধর্মের অপব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য আপত্তিজনক। আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।

    এনসিপি জামায়াত আসলে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে দেশ এগিয়ে যায় এক শান্তিপূর্ণ ও একটি সমগ্র জাতির পথে।

  • বিএলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে শাহাদাত হোসেন সেলিমের যোগদান

    বিএলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে শাহাদাত হোসেন সেলিমের যোগদান

    আজ সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, তিনি তার দলের সম্মৃতি এবং অনুমতি নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এর আগে, গত ২৭ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষীর-কুমিল্লা (রামগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, শাহাদাত হোসেন সেলিম ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে বিএনপির বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সেই কারণেই তাকে বিএনপি থেকে আগেই সবুজ সংকেত দেওয়া হয়—তাই তার এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, জামায়াতের দাবি

    নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, জামায়াতের দাবি

    বর্তমানে চলমান নির্বাচন পরিস্থিতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন পর্যায়ে একটি ন্যায্য ও সমান সুযোগের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে তারা নির্বাচনকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু বলে মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সুস্থ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সোমবার নির্বাচন ভবনে ইসির সাথে এক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা আবারও জানতে চেয়েছেন, তফসিলের সিদ্ধান্ত কি হয়নি এবং এর ওপর স্পষ্ট কোনো הודעה পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, তারা আলোচনা করেছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে। প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াও জটিল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এটি বিশাল খরচের ব্যাপার। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অর্থের অঙ্কই প্রধান নয়, এখানে স্বচ্ছতা বেশি জরুরি।

    এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন, কিছু দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রচারকালে হামলার শিকার হচ্ছেন। তফসিল ঘোষণা হলে এসব কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও ইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের এই নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কমিশন সাধ্যমত সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে নির্বাচন সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয় বলে।

    প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সবাইকে সমান সুযোগ দিতে পারেননি। কিছু প্রশাসনিক অসঙ্গতির বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেছেন, যাতে করে নির্বাচন সুষ্ঠুর পথে এগিয়ে যায়। যদি কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তিনি বলেন, দলের মালিকানায় কোনো ব্যাংক নেই এবং তাদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত নিয়োগের ঘটনা ঘটে না। ভোটের ব্যাপারে তারা কোনো আশঙ্কা করছেন না, বরং তাদের বিশ্বাস, নির্বাচন নিস্তেজ ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, তফসিলের বিষয়ে নিশ্চিত হতে তারা এসেছেন এবং ইসির প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। সেন্সর ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে তারা আহ্বান জানিয়েছেন এবং দাতাদের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী, কারণ জাতির প্রত্যাশা হলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তিনি মনে করেন, ইসি জাতির অংশ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে, এবং এটিই সংবিধান ও শপথের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে।

  • হাইকোর্টের নির্দেশ: ৯০ দিনের মধ্যে গুলশানের আবদুস সালাম মুর্শেদীর বাড়িটি দখল নিতে হবে

    হাইকোর্টের নির্দেশ: ৯০ দিনের মধ্যে গুলশানের আবদুস সালাম মুর্শেদীর বাড়িটি দখল নিতে হবে

    আওয়ামী লীগ সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর গুলশান-২ নম্বরের পরিত্যক্ত বাড়িটি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন, যেখানে এই সম্পত্তি দ্রুত সরকারের হস্তান্তরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায় অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সরকার এই বাড়ি দখল করবে, যা আগেই আদালত নিশ্চিত করে দিয়েছিল।

    বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই ৫২ পাতার রায় স্বাক্ষর করে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এই সম্পত্তির ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ঘটনা এটি।

    এর আগে, এই জমি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল। রিটের শুনানি শেষে, এই নির্দেশনা দেয় বিচারকরা। পাশাপাশি, এই বাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে সরবরাহের জন্য বলা হয়।

    হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, সরকার বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তি এই সম্পত্তি ইজারা নিতে পারবে না। এটি জনস্বার্থে সংরক্ষিত থাকবে। এই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন রিট দাখিল করেন, যেখানে তিনি বাড়িটি অবৈধভাবে দখলে রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন।

    প্রাথমিক শুনানির পরে, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে, আদালত বাড়িসংক্রান্ত সব নথি দাখিলের নির্দেশ দেয়। আবদুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে দখল এবং অনিয়মের অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রুল জারি করা হয়। এরপর রাজউক এই নথি জমা দেয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক) এই বিষয়ের তদন্তে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুদক এই বাড়ির বিষয়ে হলফনামা আকারে তথ্যাদি দাখিল করে। এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, এবং ওই বছরই আবদুস সালাম মুর্শেদী হত্যা মামলায় কারাগারে যান। তার পাশাপাশি, মামলার অন্য পক্ষ, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনও একই মামলায় কারাগারে আছেন।

    প্রভাবশালী এই মামলার প্রত্যাঘাতের জন্য সালাম মুর্শেদী আপিল বিভাগেও গিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আপিল আপাতত স্থগিত রয়েছে।