Blog

  • সাজিদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, দাফন সম্পন্ন

    সাজিদের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল, দাফন সম্পন্ন

    শোকে পুরো গ্রাম এখন স্তব্ধ। প্রতিবেশীরা আহাজারি করে সকাল থেকেই এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। মসজিদের মাইকে বারংবার শোনা যাচ্ছে সেই ঘোষণা—‘কোয়েলহাট পূর্বপাড়া নিবাসী রাকিব উদ্দীনের দুই বছরের শিশু সন্তান সাজিদ মারা গেছে।’

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নেককিড়ি কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে জানাজা শেষে শিশু সাজিদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়ার কারণে এক এক শিশুর জীবন এইভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে, সে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া পুরো এলাকাকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

    অতিথি ও স্থানীয়রা জানাজার জন্য পুরো গ্রাম ছড়িয়ে পড়েছেন। কেউ কোনো দোকানপাট খোলেনি, কেউ যাননি দোকানে। সবাই গ্রামের প্রধান রাস্তা ধরে গামছা-পাঞ্জাবি গায়ে জড়িয়ে ও মাথায় টুপি পরে সাজিদের বাড়ির দিকে ছুটে যাচ্ছেন। তারা একবার শিশুটির নিষ্পাপ মুখ দেখতে চাচ্ছেন—মুখে ছিলো হাসি, আর আজ নিস্তব্ধতা।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে সাজিদের মরদেহ নেওয়া হয়। দুঃখের বিষয়, একই দিন গভীর নলকূপের ৪০ ফুট মাটি খনন করে ৩২ ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির লাশ উঠানো হয়। এই দুর্ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছড়াছড়ি।

    জানাজার ময়দানে মানুষের ঢল লক্ষ্য করা গেছে সকাল থেকেই। গ্রামের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে স্কুলের ছাত্ররা সবাই চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। কারো গলায় কণ্ঠ কমছে না—‘আল্লাহ, এই ধরনের মৃত্যু কাউকে যেন না দেখাতে দেন।’ শিশু সাজিদের সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহটি যখন জানাজা মাঠে আনা হয়, তখন চারপাশে কান্নার রোল শোনা যায়। তার মা বারবার ছুটে আসছেন—আহাজারি করছেন। মাঝখানে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি কারও কান্না।

    জানাজার ইমামতি করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। জানাজা শেষে যখন তিনি তাকবির দেন, সবাই হাত তুলে দোয়ার ভঙ্গিতে পাঠ করেন। সকলের হৃদয় থেকে মহান রবের কাছে শিশুটির জন্য পূর্ণ দোয়া আর প্রার্থনা। একই সঙ্গে তারা আল্লাহর কাছে এই দুয়া করেন যে, শিশুটির পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন।

    চলমান দৃশ্যের মধ্যে কবরের জন্য প্রস্তুত ছোট্ট কফিনটি যখন কাবার দিকে নেওয়া হচ্ছিল, তখন বাতাস যেন স্থবির হয়ে আসে। শুধু শোকার্ত কান্নার শব্দ শোনা যায়। স্বজনরা কেঁদে কেঁদে আরও ভেঙে পড়েন। একটি শিশুর জানাজা—যেখানে পুরো গ্রাম অংশ নেয়, এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি এলাকাবাসী।

    উল্লেখ্য, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে গভীর নলকূপে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশু সাজিদ। সকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ৪০ ফুট মাটি খনন করে ৩২ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অঘটন ও শোকের ছাঁয়ায় পুরো গ্রাম এখনও দিশেহারা আর স্মৃতির দেয়ালে বেদনার ছাপ পড়েছে।

  • ইসির ৩০০ আসনে ৬৯ রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োগ

    ইসির ৩০০ আসনে ৬৯ রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োগ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু তিনজন নিজস্ব লোকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই তথ্য বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং নির্বাচন কমিশনে কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা-১৩ ও ১৫ নম্বর আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে। চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন চট্টগ্রাম-১১ নম্বর আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে। খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন খুলনা-৩ নম্বর আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে।

    অপরদিকে, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকেরাও তাদের এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

    উল্লেখ্য, আজ (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এর তফসিল ঘোষণা করবেন। ইসি জানিয়েছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

  • নায়িকা পপি সহিংস মানহানির অভিযোগে আইনি নোটিশ পেলেন

    নায়িকা পপি সহিংস মানহানির অভিযোগে আইনি নোটিশ পেলেন

    এবার মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে চিত্রপরিচালক এবং অভিনেত্রী সাদিকা পারভিন পপিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার চাচাতো ভাই ও জামাই মো. তারেক আহমেদ চৌধুরী। এই নোটিশটি বুধবার (২৬ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডলের মাধ্যমে তারেকের খোলা আবাসস্থল ঢাকা ও তার hometown খুলনা—উভয় ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারেক নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, তার স্ত্রী সম্পর্কের আত্মীয় সাদিকা পারভিন পপি বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা তার জন্য বেশ দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘যদি পপির কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে পারিবারিকভাবে আলোচনা করতে পারেন বা আইনি পথে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে বিভিন্ন মাধ্যমে আমার নামে অপবাদ ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাই আমি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি।’ এর আগে, পপি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মো. তারেক আহমেদ চৌধুরী জানান, তিনি ইতিমধ্যে তার এই অভিযোগের জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মণ্ডল বলেন, তার মক্কেল ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে আসীন। তারেক এই ব্যক্তির প্রাচীন পরিবারে জন্ম, তিনি প্রয়াত মিয়া কবির হোসেনের জামাতা। এই সম্পর্কের মাধ্যমে পপি তার চাচার পরিবারের একজন। আইনি নোটিশে জানানো হয়, একটি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এই সম্পত্তি তারেকের স্ত্রী এবং তার মাকে হেবা দলিলের মাধ্যমে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। এর মানে, তারা আইনি মালিক। তবে, তারেকের সঙ্গে এই সম্পত্তির কোনো প্রকার উত্তরাধিকার বা দখল নেই। একই সঙ্গে, উল্লেখ করা হয় যে গত ২১ নভেম্বর একটি টিভি অনুষ্ঠানে পপি তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানির বিষয়ক অভিযোগ করে থাকেন এবং তা জনসম্মুখে প্রকাশ করেন।

  • জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেনস সুমন আর নেই

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেনস সুমন আর নেই

    নব্বই দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী গালীব আসহান মেহদীর পরিচিত নামে জেনস সুমন ইন্নালিলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন সংগীতশিল্পীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ঈশা খান।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুপুরে হঠাৎ বুকের তীব্র ব্যথা অনুভব করেন জেনস সুমন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে, কিছুক্ষণের মধ্যে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জেনস সুমন ১৯৯০ এর দশকে ‘একটা চাদর হবে’ গানের মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই গানটির কথা, সুর ও সংগীতে ইথুন বাবুর সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে তার জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। এরপর বহু মিক্সড অ্যালবাম ও একাধিক গান দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেন তিনি। দীর্ঘ এক যুগের বিরতির পর, চলতি বছর পুনরায় সংগীতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

    সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার গাওয়া ‘আমি চাইব না’ গান, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি নতুন কিছু গান নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু তার আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

    জেনস সুমনের প্রথম একক অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। এরপর বিভিন্ন জনপ্রিয় অ্যালবাম প্রকাশিত হয়—‘আকাশ কেঁদেছে’, ‘অতিথি’, ‘আশাবাদী’, ‘একটা চাদর হবে’, ‘আয় তোরা আয়’, ‘চেরী’ সহ নানা শ্রোতাপ্রিয় সৃষ্টি। ২০০৮ সালে তার শেষ অ্যালবাম ছিল ‘মন চলো রূপের নগরে’।

  • শাকিবের ‘পাইলট’ লুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ শোরগোল

    শাকিবের ‘পাইলট’ লুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ শোরগোল

    মেগাস্টার শাকিব খান বর্তমানে বাংলার ঢালিউডে এক অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তার প্রতিটি নতুন কার্যক্রমই মুহূর্তের মধ্যে দর্শকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে এসে পড়ে। তার প্রকাশিত প্রতিটি লুক, পোশাক বা স্টাইলও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়, যা দর্শকদের মনে কৌতূহল এবং প্রশংসার ঝড় তোলে। তা হোক সিনেমার স্টাইলিশ দৃশ্য বা কোনো বিজ্ঞাপনের চরিত্র।

    সম্প্রতি তিনি একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নিয়েছেন, যার ভাইরাল হওয়ার পরে তিনি নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নিজের স্টাইলের মাধ্যমে। সেই বিজ্ঞাপনের জন্য তোলা পাইলট লুকের কিছু ছবি তিনি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, শাকিবের পুরোপুরি ভিন্ন রকমের রূপ—নেভি ব্লু ক্যাপ্টেন ইউনিফর্ম পরিহিত, গম্ভীর মুখ, পরিপাটি সাজে, সানগ্লাস ও পরিচ্ছন্ন গোঁফের সঙ্গে—এমন একটি চেহারা, যা ভক্তদের নতুন করে মুগ্ধ করে তুলেছে।

    শাকিব ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আকাশটা সীমা নয়, এটি শুরু করার স্থান!’ এই কথাটি যেন তার নতুন লুকের মাধ্যমে দর্শকদের মনে বার্তা দিচ্ছে। ছবিগুলোর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেসবুকের বিভিন্ন মন্তব্যে ভক্তরা তাদের প্রশংসা ঝরিয়েছেন। কেউ लिखেছেন, “এটাই আমাদের ক্যাপ্টেন শাকিব!” অন্যজন মন্তব্য করেছেন, “চলচ্চিত্রের পাইলট।”

    তবে কিছু নেটিজেন মনে করছেন, এই লুকের কিছু ছবি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছিল। যদিও মেটা এআই বা চ্যাটজিপিটি এই ছবি গুলোর এআই-নির্মিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত নয়।

    একই সময়ে, শাকিব খানের আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়েও তুমুল আলোচনা চলছে। সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স প্রযোজিত এই ছবিতে তাকে একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখা যাবে। তিনি একটি একক যুদ্ধের মাধ্যমে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, যা দর্শকদের ভাবাতে বাধ্য করছে। এই সিনেমা থেকে একেবারে নতুন রূপে দেখা যাবে বলেই প্রত্যাশা।

  • শুটিং শেষে সালমান খান বদলে গেলেন, চেহারায় দেখা গেল বড় পরিবর্তন

    শুটিং শেষে সালমান খান বদলে গেলেন, চেহারায় দেখা গেল বড় পরিবর্তন

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান নিজেকে সবসময়ই নিজস্ব স্টাইল ও লুকের জন্য আলাদা করে থাকেন। সম্প্রতি তিনি মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা গেলে তা দেখে তার ভক্তরা অভ্যুত্থিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গোঁফযুক্ত লুক রাখতে থাকা এই তারকা এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে নজরে এলেন, যার কারণে সবাই বেশ হতবম্ব।

    জানা গেছে, সালমান খান তার আসন্ন ছবি ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর শুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন। এই ছবির জন্য তাকে দীর্ঘদিন গোঁফ ও নির্দিষ্ট একটি লুক ধরে রাখতে হয়েছিল। তবে, লাদাখের কঠিন পরিস্থির শুটিং শেষ করে তিনি এখন একটি নতুন, পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন শেভড চেহারায় ফিরে এসেছেন। বিমানবন্দরে তাকে কালো টি-শার্ট, ডেনিম জিনস আর জ্যাকেট পরে দেখা গেছে, তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তার মোছা ও ঝরঝরে চেহারা, যা তার ভক্তদের চমকে দিয়েছে।

    ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’ সিনেমার শুটিং হয়েছে লাদাখের কঠিন পরিবেশে, যেখানে তীব্র ঠান্ডা এবং কম অক্সিজেনের কারণে শুটিং অনেক কষ্টকর ছিল। এই কঠিন শিডিউলের শেষে সালমানের এই নতুন লুকের প্রকাশ তার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেক ভক্ত। সাধারণত ‘দাবাং’ সিনেমার চুলবুল পান্ডের মতো গোঁফের লুকের জন্য পরিচিত এই অভিনেতাকে এই পরিবর্তন বেশ আনন্দের মত দেখাচ্ছেন অনুরাগীরা।

    অভিনেতার ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের খবর, দীর্ঘশুটিংয়ের পর তাকে কিছুটা বিরতিতে থাকতে হবে। এরপর তিনি দ্রুত মুম্বাইয়ে ফিরে আসবেন এবং নতুন পরিকল্পনায় কাজ শুরু করবেন। বিশাল এই তারকার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি হলেও তার এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, সালমানের গ্ল্যামার অমলিন। সামাজিক মাধ্যমে তার এই নতুন লুকের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তরা তার প্রতি প্রশংসায় ভরিয়ে তুলছেন। ভবিষ্যতের নতুন প্রজেক্টের জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

  • অভিনব পোশাকে বিস্ময় জাগালেন জয়া আহসান

    অভিনব পোশাকে বিস্ময় জাগালেন জয়া আহসান

    অভিনেত্রী জয়া আহসান নতুন এক ধরনের পোশাক ও স্টাইলে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ডোন্ট বি অ্যান অ্যাপল’ লেখায় ছয়টি নতুন ছবি শেয়ার করেন। ছবিগুলিতে দেখা যায়, জয়ার চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটে বাঁকা হাসি—একটু ইঙ্গিতময় চোখের গল্প। এ ছাড়া, তিনি সঙ্গে যুক্ত করেছেন নার্গিসের জনপ্রিয় গান ‘পিরিতের পেট্রোল ঢাইলে আগুন জ্বালাইসে গায় / সোনা বন্ধু কুনজাগায়…’, যা আরও বরং এইবারের বার্তাটির গভীরতা বোঝাতে সাহায্য করছে। এটি বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ১৪ মিনিটে পোস্ট করা হয়, এবং দ্রুতই ছবি গুলোর প্রশংসা ও আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। ছবিগুলোতে জয়াকে দেখা যাচ্ছে একটি লাল ব্লাউজ ও ডেনিম পরিহিত অবস্থায়, কপালে লাল টিপ ও খোপায় লাল-সাদা ফুলের সাজে। এই পোশাকের মাধ্যমে মনে হচ্ছে, হয়তো নতুন কোনো খবরের সূচনা হচ্ছে, যা শুরু হচ্ছে এমন রোমান্টিক এক ছবির মাধ্যমে। ছবিগুলোর কমেন্টে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, সঙ্গে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ, কৌতূহল এবং আগ্রহের নানা ধাপ। এই পোস্টটি ব্যক্তি ও ভক্তদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে, একে অন্যের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে নানা প্রতিক্রিয়া।

  • সাকিব বললেন, আমি সব বল আমার দেশের জন্য খেলব

    সাকিব বললেন, আমি সব বল আমার দেশের জন্য খেলব

    সম্প্রতি দেশের বাইরে একটি পডকাস্টে লম্বা সময় ধরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের শীর্ষ তারকা সাকিব আল হাসান। সেখানে তিনি তার ক্যারিয়ারের নানা দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের কথা ওঠে। তখন উপস্থাপক জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপের আগেই কি তিনি টের পেয়েছিলেন যে এই বিশ্বকাপ তারই জন্য আসছে।

    সাকিব উত্তর দেন, ‘কিছুটা ধারণা ছিল। আইপিএলের আগের মৌসুমে আমি সব ম্যাচ খেলেছি (সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে). ফাইনালও খেলেছিলাম, কিন্তু জিততে পারেনি team. ওয়ার্নার তখন অধিনায়ক ছিলেন, তবে তিনি মৌসুমের মাঝপথে খেলতে পারেননি। পরের মৌসুমে তিনি ফিরে আসেন। কেইন উইলিয়ামসন দারুণ ফর্মে ছিলেন। জনি বেয়ারস্টো ও রশিদ খানও দলে ছিলেন। আমি মনে করি, তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল।

    সাকিব আরও বলেন, ‘আমি দেখছিলাম, যদি কেউ ইনজুরিতে না পড়ে তাহলে আমার এই বছর দলে থাকার সম্ভাবনা কম। তখন আমি ভাবলাম, কেন নিজেকে প্রস্তুত করছি না আমার সামর্থ্য অনুযায়ী? কারণ দুই মাস পরই বিশ্বকাপ। আমি হোটেল রুমে বসে নিজেকে অনুপ্রাণিত করছি, ভাবছিলাম, আমি যা চাই সেটি অর্জন করতে আমি বর্তমানে যথেষ্ট পরিশ্রম করছি না। তাই আমি নিজের সব কিছু উজাড় করে দিয়ে ট্রেনিং শুরু করি। এক মাসের ট্রেনিং শেষে আমার ওজন কমে যায় কেউ কেউ দেখেছেন। মূল কোচ টম মুডি জিজ্ঞেস করেন, কী হয়েছ, আমি বলি, দেখবেন বিশ্বকাপে। আমি সবাইকে দেখিয়ে দেব, আমি কী বলতে পারি। আমি ভেতর থেকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। দুই মাসের ট্রেনিং শেষে আমি আয়ারল্যান্ডে গেলে তিনটি ফিফটি করি। তবে ফাইনালের আগে ইনজুরির কারণে ফাইনাল খেলতে পারিনি, আমি কোনো সুযোগ হাতছাড়া করিনি।

    সাকিব আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে আমি ৭৫ রান করেছিলাম। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে মনে হয় ৬০ রান ছিল। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার জোফরা আর্চারের মুখোমুখি হয়েছি। সে ১৫০ কিমি/ঘণ্টা+ গতিতে বল করত। কার্ডিফে আমরা খেলছিলাম। সৌম্য সরকার তখন আউট হয়ে গিয়েছিল, বল স্টাম্পে হিট করে বাউন্ডারিতে চলে যায়। আমি পরের ব্যাটার। তাকে মোকাবেলা করে একটি ছয় মারি। কারণ সে শরীর তাক করে বল করছিল, আমি হুক পুল করে বলছিলাম। এরপর আমি ভাবলাম, হ্যাঁ, আমি পারব। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন বোলারকে আমি মোকাবেলা করেছি, ফলত বাকিরা একদম সহজ।

    সেঞ্চুরি করার পর যেনো খুব বেশি উদযাপন না করাটা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘এর কারণ ছিল এই বিশ্বকাপে আমি একটি লেখা লিখে রেখেছিলাম, যাতে বলা হয়েছে আমি প্রতিটি বল আমার দেশের জন্য খেলব—নিজের জন্য নয়। এটি সম্পূর্ণ দলের জন্য।’

  • সাকিবের মন্তব্য: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি

    সাকিবের মন্তব্য: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি

    ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষের আগে থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে থাকেন, আর ফিরতে পারেননি। এর ফলে তিনি নিজেকে আরও অধিক জনপ্রিয় এবং দৃঢ়ভাবে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তিনি এসব কথা প্রকাশ করেছেন। একাধিক মামলার আসামি হিসেবে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি — এর মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। তবে, তিনি এখনো ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী এবং আরও অনেকদিন রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান। সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, ক্রিকেট ক্যারিয়ার প্রায় শেষ করে ফেলেছি আমি। তবে রাজনীতির অংশ এখনও বাকি আছে। এটা আমি বাংলার মানুষের ও মাগুরার মানুষের জন্য করতে চাই। এটাই আমার ইচ্ছা, এবং এখনও আমার আশা আছে। দেখা যাক, আল্লাহ কি করে আমাকে পরিচালনা করেন।’ তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পূর্ব থেকেই তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, আর সেই সময় থেকে আর দেশের ফিরে আসেননি। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত ছিল। তিনি স্বৈরাচারী নেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা জনরোষের সৃষ্টি করেছিল। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান এবং সেই রাজনীতি এখনো আওয়ামী লীগের নিয়মরীতেই করবেন।

  • ভারতের কারণে আইসিসির ৭৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

    ভারতের কারণে আইসিসির ৭৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই গুরুত্বপূর্ণ আসরকে ঘিরে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে টনক নড়ে আইসিসির দাঁতে, কারণ ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ত্বের জন্য তারা বড় ধরনের ঝটকা খেয়ে গেছে।

    আইসিসির সঙ্গে রিলায়ান্সের মালিকানাধীন জিওস্টারের চুক্তি ছিল ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর আইসিসি পেত ৩০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৬,৬৮৮ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎই সম্প্রচার জায়ান্ট জিওস্টার এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, খুব দ্রুতই তারা এই চুক্তি বাতিল করছে, যেখানে মাত্র দুই বছরই বাকি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসির জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে। এই খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের व्यापक প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

    এখন আইসিসিকে নতুন ধারক খুঁজতে হচ্ছে, তবে বড় অঙ্কের এই অর্থাৎ ৩০০ কোটি ডলার বছরে দেওয়ার মত কেউ এগোচ্ছে না। নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর আইসিসি পাবেই মাত্র ২৪০ কোটি ডলার, যা আগের চুক্তির তুলনায় ৬০ কোটি ডলার কম, অর্থাৎ বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৭,৩৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি।

    জিওস্টার কেন এই চুক্তি ভেঙে দিল? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রচারকারীর জন্য রিয়েল মানি গেমিং অ্যাপগুলো কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ড্রিম১১, মাইইলেভেন সার্কেলসহ বড় বড় অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জিওস্টারের বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের পরিমাণে ব্যাপক হ্রাস হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৭,০০০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯,৫০০ কোটি টাকা। এরফলে তাদের খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ, ফলে তারা এত বড় চুক্তি চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে।

    এখন আইসিসি অন্যান্য বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম যেমন সনি, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমের সঙ্গে আলোচনা করছে, কিন্তু কেউ এখনও রাজি হয়নি। যদি নতুন ক্রেতা না পাওয়া যায়, তবে আইসিসিকে বাধ্য হয়েই ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি চালিয়ে যেতে হবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নামকরা এই আসর। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ। যদি পাকিস্তান ফাইনালের মুখোমুখি হয়, তাহলে ফাইনাল শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, আয়োজন হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।