Blog

  • ইডেন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গায়ক জাহিদ অন্তুকে অন্তর্বর্তী জামিন

    ইডেন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গায়ক জাহিদ অন্তুকে অন্তর্বর্তী জামিন

    রাজধানীর গুলশানে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে যৌনভাবে হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ গায়ক আবু জাহিদ ওরফে জাহিদ অন্তুকে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে জামিন প্রদান করেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত তাকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।

    জামিন পাওয়ার আগে জাহিদ অন্তুকে গ্রেপ্তারের একদিনের মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। গতকাল বুধবার তাকে আদালতে নিয়ে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ওইদিন সকালে গুলশান অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার ক্লাসের সময় অভিযুক্ত জাহিদের সঙ্গে ওই ইডেন শিক্ষার্থীর পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছু সময় পর সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

    অভিযোগ আছে, ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একটি পণ্যের ফটোশুটের প্রলোভন দেখিয়ে জাহিদ ওই শিক্ষার্থীরকে তার গুলশানের বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে গেলে তিনি অভিযোগ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করেন। প্রতিরোধ করলে তাকে মারধর করা হয়; এতে পড়াশোনা নিহত শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও মাথায় আঘাত লাগার প্রতিফল আছে। পরে ভুক্তভোগী কৌশলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরিবারের সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    অভিযোগপ্রাপ্ত ওই ছাত্রী ৩০ মার্চ গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

    জাহিদ অন্তু একজন বাংলাদেশি তরুণ গায়ক, সুরকার ও গীতিকর; তিনি কলকাতার পিবি একাডেমিক স্কুল ভেন্যুতে ‘‘ইন্ডিয়ান আইডল’’ বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে প্রথম দফায় নজর কেড়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাওয়া গান ও ভিডিওর মাধ্যমে তিনি প্রচণ্ড পরিচিতি পান।

    তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। মামলাসংক্রান্ত আরও তথ্য প্রাপ্তির সাথে সাথে পরবর্তী আদালত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

  • প্রতারণা মামলায় নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    প্রতারণা মামলায় নোবেলের জামিন বাতিল, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্থা ও প্রতারণার অভিযোগে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এই আদেশ দেন।

    বাদী পক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান নিশান (প্রিন্স) আদালতের সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি জামিনের আপস শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি বিয়ে করেননি এবং প্রদত্ত টাকাও ফেরত দেয়নি—এ কারণে তারা জামিন বাতিলের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মেনে জামিন বাতিল করে নোবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    নোবেলকে ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। পরে একই আদালত ২৪ ফেব্রুয়ারি আপসের শর্তে তাকে জামিন দিয়েছিল এবং আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

    মামলাটি গত বছরের ১৩ আগস্ট আনাননিয়া শবনম রোজ (অনন্যা) দায়ের করেন। অভিযোগের বরাতে নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার অ্যাসিস্ট্যান্ট মুনেম শাহ সৌমিককে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ তদন্তের জন্য আদালত পরবর্তীতে পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।

    পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে জানিয়েছেন যে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। মামলায় বলা হয়েছে, নোবেল বাদীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন। একইসঙ্গে বাদীকে আটক রেখে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা এবং আপত্তিকর ছবি তোলার চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে; অন্য আসামিরা তার সহযোগিতাও করেছেন বলে বলা হয়েছে।

    আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে নোবেলকে কারাগারে পাঠানো হলেও মামলার তদন্ত ও বিচার এখনও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষেরা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন।

  • এসএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্র সচিবদের জন্য ৩১ দফা নির্দেশনা

    এসএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্র সচিবদের জন্য ৩১ দফা নির্দেশনা

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত করতে কেন্দ্র সচিবদের জন্য জরুরি ৩১ দফার নির্দেশনা জারি করেছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরে এই নির্দেশনা বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল কেন্দ্র সচিবদের কাছে পাঠানো হয়।

    নির্দেশনায় প্রশ্নপত্র সুরক্ষা, সতর্কতা, সময়সূচি ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

    প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও যাচাই: পরীক্ষার তিন দিন পূর্বে ট্রেজারি/থানার লকার ট্রাংকে রাখা প্রশ্নপত্রের প্যাকেট ও তার বিবরণী তালিকা সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। যাচাই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।

    সেট এবং প্যাকেজিং: প্রতিটি প্রশ্নপত্র দুই সেট (সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনী) হিসেবে তৈরি করা হবে এবং তারিখভিত্তিক আলাদা সিকিউরিটি খামে প্যাকেট করতে হবে। যাচাইয়ের দিন ওই সেটগুলো গামের মাধ্যমে সীল করে কার্টুন টেপে মোড়ানো হবে এবং খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। কোনো ত্রুটি দেখা গেলে তা কেন্দ্র সচিবের অবহেলা হিসেবে গণ্য হবে।

    প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন: ট্রেজারি অফিসার পরীক্ষার দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট দিনের সিকিউরিটি খাম—সৃজনশীল দুই সেট ও বহুনির্বাচনী এক সেট—কেন্দ্রে হস্তান্তর করবেন। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরা নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে প্যাকেট কেন্দ্রের কক্ষে আনতে হবে।

    সেট কোড যাচাই: মোবাইল এসএমএসে সেট কোড পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের সামনে সেট কোড প্রদর্শন করে প্যাকেট খোলা যাবে। যে সেটটি ব্যবহার করা হবে তা নিশ্চিত করে অন্য সেটের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকে রাখতে হবে। অব্যবহৃত সেটের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সেটের পরিবর্তে অন্য সেট ব্যবহার করলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষেধাজ্ঞা: কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিব শুধুমাত্র এমন মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন যাতে ছবি তোলা যায় না।

    পরীক্ষার সময় ও প্রবেশাধিকার: সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কক্ষে প্রবেশ করানো বাধ্যতামূলক। এর পর যদি কোনো পরীক্ষার্থী late আসে, তখন কেন্দ্র সচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতে রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্র প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন; পরীক্ষার পর রেজিস্টার বোর্ডে জমা দিতে হবে।

    পর্যবেক্ষক ও ভর্তুকি: প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক (ইনভিজিলেটর) দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিটি কক্ষে অন্তত দুইজন দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।

    আসন ব্যবস্থা: পাঁচ-ছয় ফুট লম্বা বেঞ্চে প্রতি বেঞ্চে দুইজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজন করে বসাবেন; এতে কোনো ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

    কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ: পরীক্ষা কেন্দ্র 주변ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা তৈরি করতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত নকল প্রতিরোধক পোস্টার প্রবেশপথের দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে।

    প্রবেশপত্র ও উপকরণ গ্রহণ: কেন্দ্র সচিবরা দরকারি প্রবেশপত্র ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে গ্রহণ করবেন এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১০ দিন আগে প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধানকে হস্তান্তর নিশ্চিত করবেন। পরীক্ষা পরিচালনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করতে হবে।

    উত্তরপত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা: ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা যাবে না। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্র আলাদা আলাদা প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেট করতে হবে এবং ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা নিতে হবে। নতুন ও পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি করে উত্তরপত্র করোগেটেড শিটে প্যাকেট করতে হবে; দুই সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না। প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয় লেখা থাকলে কেন্দ্র সচিব দায়বদ্ধ থাকবেন।

    গোপনীয়তা ও তল্লাশি: পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্রের টয়লেটসহ সব সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি করাতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের সামগ্রী পাওয়া গেলে তা উচ্ছেদ করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালীন শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারী ও প্রত্যবেক্ষক ছাড়া কেন্দ্রের ভিতরে অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।

    ক্যালকুলেটর ও অন্যান্য বিধি: বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটার ব্যতীত অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষায় নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার প্যাকেট গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রের কক্ষে প্যাকেট খোলা—সব কাজে সংশ্লিষ্ট থাকবেন। তাদের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্র সচিব কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থাপনা করবেন।

    হাজিরা, נע্যাণ ও রিপোর্টিং: পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে স্বাক্ষর নিতে হবে; অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য লাল কালি দিয়ে ‘অনুপস্থিত’ লিপিবদ্ধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে এবং উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখা/স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালাকৃত অবস্থায় পৌঁছে দিতে হবে।

    রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্র সংশোধন: পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা প্রবেশপত্র গ্রহণের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।

    ক্লাস পরিচালনা: পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে; অবশ্যই পরীক্ষা নেই এমন দিনগুলোতে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে পাঠক্রম চালু রাখা যাবে।

    অতিরিক্ত নিয়মভঙ্গ: রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবেনা; কোনো জটিলতা তৈরি হলে কেন্দ্র সচিব দায়ী হবেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনের সময় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে হবে।

    এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালন করা হবে এবং নির্ধারিত বিধি ভঙ্গ করলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্র সচিবদের ওপর পরীক্ষার সুষ্ঠুতায় সরাসরি দায় অপরিহার্য—তাই নির্দেশনা নিয়ে কোনো শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়।

  • অফিস সময়সূচি নিয়ে ভাইরাল পত্র ভুয়া: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    অফিস সময়সূচি নিয়ে ভাইরাল পত্র ভুয়া: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি দিনের হোম অফিস চালুর নির্দেশসম্বলিত একটি স্মারকपত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা ভুয়া বলে জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জনসংযোগ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ০৫.০০.০০০০.১১০.২২.০৪৫.২৬.১২০ নম্বর স্মারক শিরোনামে যে নথিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়নি। মন্ত্রণালয় সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেছে।

    সংবাদে ছড়ানো ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে আদেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীরা সপ্তাহে দুই দিন বাড়ি থেকে কাজ করবে এবং বাকি তিন দিন (রবি, সোম, মঙ্গল) অফিস খোলা থাকবে; বুধবার ও বৃহস্পতিবার হোম অফিস থাকবে; সাপ্তাহিক ছুটি হবে শুক্র ও শনিবার। নথিতে অফিসের কার্যঘন্টা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ইত্যাদি) এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে—এমনটিই সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়েছিল।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যদিও জ্বালানি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম সুবিধা ও অফিস সময়সূচি নিয়ে পরিবর্তনের কথা ভাবছে—তবুও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কথা থাকায় সভার আগেরদিনেই ওই ভুয়া পত্রটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুনরায় تاکید করেছে যে সরকারি নির্দেশনা জানতে হলে শুধুমাত্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ঘোষণা দেখুন এবং অননুমোদিত কাগজপত্র বা সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে বিভ্রান্ত হবেন না।

  • গণরায়কে অবজ্ঞা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়কে অবজ্ঞা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যদি সরকার গণরায়কে উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চায় তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না এবং ইতিহাসের ধারায় তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এসব কথা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে বলেন।

    আসিফ মাহমুদ স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের ইতিহাসে শক্তিশালী অনেক সরকারও ছিল, কিন্তু যারা যখনই জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছিল তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, তা থেকেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্যবিরোধী গণআন্দোলন সরকারের পরিবর্তন এনেছিল।

    তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়নের পরে জনগণের রায়ের বিপরীতে শাসন কায়েমের চেষ্টা করেও তা টিকে থাকে না—সুতরাং যদি আজও গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, জনগণ সেটা কখনো মেনে নেবে না।’’

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন যে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার, শহীদদের আত্মত্যাগসহ আহত সহযোদ্ধাদের স্বপ্ন যে নতুন বাংলাদেশের — সেই সংস্কার বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যদি এই জনরায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছে, তারা আবার রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।’’

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সবাইকে জনগণের পক্ষে এসে একসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাতে সরকার জনগণের পাশে না গেলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আবারও মাঠে নামতে হতে পারে—এমন ফলও দেখে রাখার বার্তা দেন তিনি।

  • ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

    ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শনিবার বিকেলে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জোটের লিঁয়াজো কমিটি।

    বুধবার নয়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠকের পর জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির কথা জানান।

    আযাদ বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং বর্তমান সরকার শাসনকালে ফ্যাসিস্ট প্রবণতা প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, সরকার সংবিধানীয় সংস্কারকে গলে-ঠেকিয়ে শুধুমাত্র সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, তাই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাজপথেই আন্দোলন করা ছাড়া জোটের কোনো বিকল্প নেই।

    তিনি জানান, ওই বিক্ষোভ সমাবেশ বায়তুল মোকার্রম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষ নেতাদের একটি সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে বলেও আযাদ জানান।

    এর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় সংক্রান্ত সরকারি দলের কাজকর্মে তারা বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত।

    সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বিরোধী দলীয় নেতারা ওয়াকআউট করেন। মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে ‘জুলাই সনদ আদেশ’ জারি না করার অভিযোগ এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ তুলে তারা বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে কক্ষে থেকে বেরিয়ে যান।

    স্পিকারের কাছে প্রতিকার চাওয়ার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর বলেন, এটি কোনো দলের স্বার্থসংক্রান্ত বিষয় নয় — নির্বাচনের আগে বিষয়টিতে সরকারি ও বিরোধী সব পক্ষ একমত ছিলাম এবং আমি নিজেও এটি সমর্থন করে প্রচারণা করেছি। তবে আমাদের প্রতিকার না মেলা এবং জনগণের রায়ের যথাযথ প্রতিফলন না হওয়ায় আমরা এ অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না; তাই আমাদের প্রতিবাদ হিসেবে ওয়াকআউট করা ছাড়া উপায় ছিল না।

  • করদাতারা এখন থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা এখন থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা সারা বছর জুড়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, “এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে যেসব করদাতা আগে রিটার্ন জমা দিবেন তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।”

    চেয়ারম্যান জানান, রিটার্ন জমা প্রদানের প্রক্রিয়াটি চারটি ধাপে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে। এই চার ধাপ কীভাবে কার্যকর করা হবে ও প্রতিটি ধাপে করদাতাদের কি সুবিধা বা প্রত্যাশিত শর্ত থাকবে তা পরবর্তী সময়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।

    এনবিআর আশা করছে, চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, “আগামী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে,” — যার মাধ্যমে দ্রুত আয়ের জোগান বাড়ানো হবে বলে তারা বিশ্বাস করছে।

    আগে প্রতি বছর অর্থবছর শেষ হওয়ার পর—জুনের শেষের পর—পরবর্তী বছরের নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও এবছর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এনবিআর নতুন व्यवस्था করে করদাতাদের সুবিধা দিতে এবং রিটার্ন সংগ্রহ আরও সুষ্ঠু ও সহজতর করতে চায়।

  • মার্চে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স: প্রবাসীরা পাঠালেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    মার্চে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স: প্রবাসীরা পাঠালেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

    দেশে সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন—যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    রিপোর্ট অনুসারে, মার্চে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার। এটি এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি (ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার)। গত বছরের একই সময়ের (মার্চ ২০২৫) তুলনায় এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি; গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উল্লেখ করা হয়েছে, আগে দেশের এক মাসে যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ধরা পড়েছিল তা ছিল গত বছরের মার্চে—সেখানে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩.২৯ বিলিয়ন)। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল ডিসেম্বরে—৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার; তৃতীয় সর্বোচ্চ জানুয়ারি মাসে, যা ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চে রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে বড় কারণ হলো ঈদের আগের সময় হওয়া অর্থ প্রেরণ এবং প্রবাসী কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর বাজারে কাজের সুযোগ এখনো বজায় আছে। জীবনযাপনের ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে না যাওয়া থেকেও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

    ব্যাংকভিত্তিক ভেঙে দেখা গেলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে মার্চে ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এ তালিকার মধ্যে একটি বিশেষ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (কৃষি ব্যাংক) থেকে এসেছে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ১ কোটি ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ: আরব উপসাগরে আটকা ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ

    ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ: আরব উপসাগরে আটকা ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ

    হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে আরব উপসাগরে বুধবার অন্তত ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই সংখ্যা-র মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাস ট্যাংকার রয়েছে। করিডরটি এখন কড়া নিয়ন্ত্রণে থাকায় শুধুমাত্র সীমিত ও অনুমোদিত জাহাজগুলিই চলাচল করতে পারছে, জানায় আরব নিউজ।

    আটকা থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি খুব বড় গ্যাসবাহী জাহাজ (ভিএলজিসি) এবং ৫০টি খুব বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছেন। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে—যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাফেরা করত।

    যেসব জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের অনুমোদিত করিডোর ধরে পাঠানো হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকেই অন্তত ৪৮টি জাহাজ এই করিডোরটি ব্যবহার করেছে; এসব জাহাজের বেশিরভাগই ইরান বা তেহরানের মিত্র দেশের মালিকানাধীন।

    বার্তা সূত্র জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলের কোনো হামলার পর থেকে ইরান প্রণালিটি নিয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, তাই এই নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

    যেসব জাহাজকে চলতে দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে প্রণালী ব্যবহার করার জন্য ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে—যা স্থানীয়ভাবে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোর জন্য এই ফি মওকুফ করা হতে পারে; ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে মালয়েশিয়ার মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জাহাজের ওপর টোল আরোপ করা নাও হতে পারে।

    মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছে যে পেট্রোনাস, সাপারা এনার্জি ও এমআইএসসি-এর মতো কোম্পানির Several ট্যাংকার বর্তমানে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। তেহরান কুয়ালালামপুরকে আশ্বস্ত করেছে যে তাদের সঙ্গে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে কোনো টোল আরোপ করা হবে না। তবু কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নোঙর করে থাকা জাহাজের বিশাল সংখ্যার কারণে যাতায়াতে বড় বিলম্ব হতে পারে।

    চীন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে; জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে দুইটি কনটেইনারবাহী জাহাজ উপসাগর ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম কোনো ইরানি নয় এমন কনটেইনার জাহাজ উপসাগর ত্যাগ করেছে।

    আরও কয়েকটি জাহাজও চলতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি গ্রিক-পরিচালিত ট্যাঙ্কার এবং জরুরি সরবরাহ বহনকারী কয়েকটি ভারতীয় পতাকাবাহী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) জাহাজ।

    নাবিকরা মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন—কিছু নাবিক রাতে জাহাজ চালাচ্ছেন কিংবা ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছেন। ইরানের সেই কড়া অবস্থার ফলে সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর জ্বালানি রফতানি কার্যত সঙ্কুচিত বা বন্ধ রয়েছে এবং শত শত জাহাজ ও আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক উপসাগর ও আশেপাশে আটকা পড়ে আছেন।

    প্রণালী অতিক্রম করে তেলবাহী একটি পাকিস্তানি জাহাজ বুধবার দক্ষিণের বন্দর নগরী করাচিতে পৌঁছেছে এবং অন্য একটি জাহাজ বিকল্প পথ ধরে বন্দরে এসেছে; পাকিস্তানী কর্মকর্তারা জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও চালান আসতে পারে।

    এই সংকট কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করেছে। ব্রিটেন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার সুন্দর সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছে।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি অবরোধ না তুলে নেয় তাহলে ওয়াশিংটন শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

  • ট্রাম্পের দাবি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘প্রকৃত বিনিয়োগ’

    ট্রাম্পের দাবি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মার্কিন শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘প্রকৃত বিনিয়োগ’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধটি মার্কিন শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘প্রকৃত বিনিয়োগ’। এই মন্তব্য তিনি হোয়াইট হাউস থেকে রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় করেন।

    বক্তৃতার শুরুতেই ট্রাম্প নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফলভাবে পাঠানোর জন্য অভিনন্দন জানান এবং নভোচারীদের সাহসের প্রশংসা করেন। এরপর তিনি এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ এবং এর নানামুখী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনীকে নিষ্ট করা এবং তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করা। তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন যে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপ্রতিরোধ্য’ এবং এই সংঘর্ষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

    প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘‘আমরা ইরানের দুষ্ট শক্তিকে আমেরিকা ও বিশ্বের জন্য চূড়ান্তভাবে শেষ করার প্রান্তে আছি। আমাদের সব কার্ড আছে, তাদের কিছুই নেই।’’ তিনি আগামি কয়েক সপ্তাহে ইরানকে ‘চরমভাবে আঘাত’ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘‘আমরা তাদের এমন অবস্থায় ফিরিয়ে আনব, যা তারা প্রাপ্য।’’

    ভাষণে ইরান ছাড়াও ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ তুলে নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত গ্রেফতারের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, মাদুরোর গ্রেফতার অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বৈদেশিক তেল আমদানি বন্ধ করে নিজে থেকে শক্তি জোগাতে সক্ষম।

    ট্রাম্পের মন্তব্যের পর জ্বালানি তেলের বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। তিনি বলেছিলেন গ্যাসের সাময়িক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে; তবে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটেনি। তথ্য অনুযায়ী, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে এবং সংঘাত শুরুর পর থেকে তেল–গ্যাস ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হয়েছে, ফলে তেলের দাম বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ সপ্তাহে গ্যাসের গড় দাম প্রতি গ্যালন চার ডলার ছাড়িয়ে গেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    যুদ্ধ ও সংঘাতে মানুষের প্রাণহানির পরিমাপ ভিন্ন উৎসে ভিন্নাভাবে দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ইরানে অন্তত প্রায় ১,৯০০ জন নিহত এবং প্রায় ২০,০০০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননে মৃতের সংখ্যা ১,৩০০-এর বেশি বলে জানানো হয়েছে; সেখানে নিহতদের বেশিরভাগই নাগরিক, তবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে তাদের ফেলোয়ারদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে এপর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ৫১৫ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও কমপক্ষে ১৩ সেনা নিহত এবং সেকানেক শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউর’ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের মধ্যে ১২,৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। একই সময়ে সংঘাতকালীন অনেক তথ্য—বিশেষ করে হতাহতের সংখ্যা ও লক্ষ্যবস্তুর ক্ষতির পরিমাণ—স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা কঠিন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের শুরু থেকে সময়ের বিভিন্ন সময়ে মিশ্র ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নেতৃত্ব স্থায়ীভাবে অস্ত্রবিরতি চাইছে; তেহরান সেই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ এখনো চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামলা–প্রতিহামলা জারি থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।