Blog

  • করদাতারা এবার পুরো বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা এবার পুরো বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এ বছর থেকে করদাতারা সারাবছরই নিজেদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘যেসব করদাতা আগে রিটার্ন জমা দিতেন, তারা এবার বিশেষ সুবিধা পাবেন।’ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তিনি নিশ্চিত করেন। এর পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন যে, আয়কর রিটার্ন দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন থেকে চার ধাপে বিভক্ত করা হবে, যা সহজ ও সুবিধাজনক হবে।

    এনবিআর চেয়ারম্যান আরো বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপর ঝুঁকির আশংকা কম। তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক বৃদ্ধি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বছরের জুনের শেষে এবং পরবর্তী বছরের নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, এবার সময়সীমা বাড়ানোর কারণে এ বছর মার্চের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পেরেছেন করদাতারা।

  • ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চে

    ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চে

    দেশে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি একক মাসের হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সংগ্রহের রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় এই পরিমাণে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি অর্জিত হয়েছে। একই সময়ের তুলনায়, গত বছর মার্চে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা এই বছরের মার্চের চেয়েও কম ছিল।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২১ সালে, যেখানে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ডিসেম্বর, যেখানে রেমিট্যান্স গেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জানুয়ারি, যেখানে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    কর্তৃপক্ষের মতে, মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের এই বৃদ্ধি ঈদ উৎসবের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক থাকায় ভাবনা কম এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি বলে প্রবাসীরা তাদের পাঠানো অর্থের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

    তথ্য থেকে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে দেশের মোট রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশিই দেশের রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে, যা ৬৪ কোটি ডলারের বেশি। এর মধ্যে বিশেষ করে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এই সময়ে পাঠিয়েছে মোট ২৬৪ কোটি ডলার, যেখানে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে মাত্র ১ কোটি ২০ হাজার ডলার।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একইভাবে দেখা না হয়ে, ঝুঁকি বেশি থাকা ব্যাংকগুলোকে বেশি নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা, ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি, এ পদ্ধতি কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতে উন্নয়ন ও অস্থিরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মার্চ মাসেও অব্যাহত পতন, রপ্তানি আয় ১৮ শতাংশ কমেছে

    মার্চ মাসেও অব্যাহত পতন, রপ্তানি আয় ১৮ শতাংশ কমেছে

    বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে চলমান হতাশাজনক পরিস্থিতি মার্চ মাসেও অব্যাহত থাকল। গত মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ছিল গত বছরের একই সময়ে ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আজ এই তথ্য প্রকাশ করে।

    বর্তমান অর্থবছরের (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময় ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। এভাবে টানা আট মাস ধরে দেশের রপ্তানি আয়ে নিম্নমুখী ধারা চলমান।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের মূল রপ্তানি খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের অবনতি সবচেয়ে বেশি। এই খাতের আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর একই সময় এই আয় ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    রপ্তানির সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইপিবির মুখপাত্ররা জানান, বর্তমান অর্থবছরে বেশিরভাগ প্রধান রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে কিছু খাত— যেমন হিমায়িত ও তাজা মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য— ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এসব খাতের উন্নতি সামগ্রিক রপ্তানি খাতে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

    ইপিবি উল্লেখ করে, বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রভাবের কারণে দেশের রপ্তানি পরিস্থিতিতে চাপ অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোতে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক অর্ডার স্থগিত বা বাতিলের রিপোর্ট দেখা গেছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির উপর রয়েছে নেতিবাচক প্রভাব, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অপ্রতুল করে তুলছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

  • শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমিরের ভাষণে নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্ব

    শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমিরের ভাষণে নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্ব

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, আমাদের এই অবদান শুধুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি গভীর নৈতিক দায়িত্ব, যা আমাদের সকলের মাথায় অঙ্গীকার হিসেবে থাকা উচিত। এটি রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আচার, যেখানে সবার পক্ষ থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রকাশের জন্য সবাই উপস্থিত হয়েছেন।

    ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি প্রार्थনা ও মোনাজাতের পর সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন। ডা..shফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আমাদের বীর শহীদদের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যেন তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও শান্তি রক্ষা করেন, এবং রহমত বর্ষণ করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত এবং বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার, যার জন্য সকলকে সচেষ্ট হতে হবে।

    তিনি দেশের সকল মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আজকের এই মুহূর্তে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার যেন আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। এই উপলক্ষে তিনি সকল দেশবাসীকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও জামায়াতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।

  • প্রথমবারের মতো বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রথমবারের মতো বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমন ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীরা তাঁর স্বাগত জানাতে স্লোগান দেয়। এর আগের সময়ে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তাঁর গাড়িবহর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উল্লসিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন। এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সন্ধ্যার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

    তারেক রহমান যখন দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান, তখন তিনি গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেন। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার সন্ধ্যায়, তিনি কার্যালয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য্য ধারণ করে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে, সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসবো, তবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। মানুষের চলাচলে যাতে বিরুদ্ধতা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে আসলে সংগঠনের কাজ করা যায় এবং নেতাকর্মীদের সাথে দেখা করা সম্ভব হয়। আপনারা সহযোগিতা করলে আমি অফিসে আসতে পারব, না হলে পারবেন না।’

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে, আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থেকে কাজ করতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশের নানা সমস্যা রয়েছে, এগুলো মানুষকে বোঝাতে হবে এবং ধৈর্য্য ধারণে তাদের সহায়তা করতে হবে। তিনি যোগ করেন, ‘মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই কোনও কর্মকাাণ্ডের মাধ্যমে যেন মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রাস্তাগুলো পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেন, বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো রাস্তাগুলো ক্লিয়ার করা।’ পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দেন, ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না রাখা হলে তাঁর পক্ষে সেখানে আসা কঠিন হবে। এই অবস্থায়, সন্ধ্যার আগেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসে তাঁর অপেক্ষা শুরু করেন। ঘণ্টাকয়েকের বেশি সময় ধরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়, যেখানে তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে রাখে।

    দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরে, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, সেখানে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে একটি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    অতীতে, বিকেল থেকেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাঁরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকেন। নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন, যেমন ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগত’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ’, এবং ‘তারেক রহমানের নামে শুভেচ্ছা’। এই কারণে, নাইটিয়ংগেল মোড় থেকে নয়াপল্টন পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়, যেখানে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করছে। এক নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশ তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করত। আর আজ এই সুযোগ পেয়ে আমরা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।’ নিরাপত্তার কারণে সব কিছুই যেন আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠুক, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

  • ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ৫টি সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    প্রায় প্রত독 দেশজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা মূলত ঢাকার দুটোসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নগরীর নির্বাচনকেও কেন্দ্র করে। এই সিদ্ধান্তটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এনসিপি ইতিমধ্যেই তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। উল্লেখ্য, এই প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে এগিয়ে যাওয়া মেয়র প্রার্থী হলেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। সিলেট সিটি করপোরেশনে দলের সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতা মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র পদে লড়বেন।

    এনসিপি জানায়, এপ্রিলের মধ্যে আরেকটি সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তারা আশা করছে, ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে বিএনপি ইতিমধ্যে বলেছে, তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে, আর সিটি করপোরেশনের জন্য তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসকদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না এবং কোনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সবকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত-এনসিপি জোটের

    ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক জামায়াত-এনসিপি জোটের

    শনিবার রাজধানীতে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করবে জামায়াত-এনসিপি জোটের ১১ দল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ১১ দলের লিয়াজো কমিটির বৈঠকের শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। তারা সংবিধানে শুধুমাত্র সংশোধনী আনতে চায়, এবং এ জন্য জনগণের রাস্তায় আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন আযাদ। এর আগে, গত বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে তারা খুবই বিস্মিত, আহত ও মর্মাহত। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে, বিরোধী দল ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন সদস্যরা একত্রিত হয়ে ওয়াকআউট করে। মূল কারণ ছিল, জুলাই সনদ আদেশ জারি না করার সিদ্ধান্ত এবং বিরোধী দলের সদস্য ডা. শফিকুর রহমানকে মিসকোড করার অভিযোগ। সোমবার, বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তারা এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সংসদ ত্যাগ করেন। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শফিকুর রহমান বলেন, “প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টি কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান চাইছিলাম। আমরা একমত হয়েছিলাম, ভোটের সময় এই বিষয়ে সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং ভোটের ফল এসে আমাদের প্রত্যাশার ধারেকাছে পৌঁছায়নি। এটি দেশের জন্য হতাশাজনক এবং এর ফলে আমরা অবমূল্যায়িত হয়েছি। আমরা এই অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ জানাতে ওয়াকআউট করেছি।”

  • গণরায়ের বিরুদ্ধ গেলে জনতা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধ গেলে জনতা তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি অগ্রসর হতে চায়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না। গণরায়ের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া বা তার উপেক্ষা করলে ইতিহাসের পরম্পরায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এটা আপনি দেখেছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ক্ষমতাবান ও শক্তিশালী সরকার গঠন হয়েছে, কিন্তু যখনই তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে গেছে বা তার উপেক্ষা করেছে, তখনই তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলশ্রুতি মাঝেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তেমনি, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর দমন-পীড়নের পরে, যখন সরকার জনগণের রায়ের বিরোধিতা করে শাসনক্ষমতা ধারণের চেষ্টা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত জনতার আন্দোলনের সামনে তাদের হার মানতে হয়েছে।’

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘বর্তমানে যদি গণরায় বা গণভোটের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে জনগণ তা কখনোই মানবে না। গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ “হ্যাঁ” ভোট দিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছে, সে কারণেই আমাদের বলতে চাই, একাত্তরের রক্তের বিনিময়ে যে স্বপ্ন ও সংস্কার দেখা গেছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রায় মানা না হলে, ৭০ শতাংশ জনগণ যেন যেকোনো সময় রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।’

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অতএব, আমাদের সবাইকে জনগণের পক্ষে থাকতে হবে, যাতে প্রত্যেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর দেশ গড়ে উঠতে পারে। আর যদি সরকারের মানসিকতা বিপরীতমুখী হয়, তাহলে জনগণের শক্তিকে নিয়ে আবারো মাঠে নামতে হতে পারে, স্বাধীনতা রক্ষা করতে।’

  • ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, জামায়াতের আমিরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন

    ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, জামায়াতের আমিরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন

    মহান স্বাধীনতা দিবসের अवसरেআগেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি আসছি একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে। এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো আমাদের জন্য একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার। তিনি বলেন, আমরা সবাই মানসিকভাবে এই শহীদদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

    বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মোনাজাতের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথাগুলো বলেন তিনি।

    জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বীর শহীদদের জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি যাতে দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হয়। আমাদের প্রিয় দেশ যেন শান্তির সাথে অগ্রসর হয়, সেজন্য তিনি দোয়া করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি দেশের সকল নাগরিকের কাছে এই ভাষ্য প্রকাশ করেন, যাতে সবার মধ্যে ঐক্য ও Brotherhood তৈরি হয়। তিনি দেশের স্বস্তি ও উন্নতির জন্য সমবেতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ন্যায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং আরও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।