প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটা প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেক রহমান দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উল্লাসে মুখর হয়ে তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটের দিকে তার গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছায়, এ সময় বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মী ফেটে পড়েন স্লোগানে, তাকে স্বাগত জানিয়ে। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারেক রহমান গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং তারপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি কার্যালয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো পরিস্থিতিতে যেন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ না হয়, সেই দিকে সবাইকে নজরদারি করতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, তবে রাস্তায় ভিড় ও যানজট সৃষ্টি করা যাবে না। মানুষের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এসে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা যায় এবং নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি দেখা সম্ভব। ‘আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, না হলে আসতে পারব না,’ এ কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের নানা সমস্যা নিয়ে মানুষের মাঝে বোঝানো ও তাদের ধৈর্য্য ধারণে সহায়তা করতে হবে। বক্তৃতা চলাকালে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে।’ তাই, যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা মানুষের কষ্টের কারণ হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক সরব রাখার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে রাস্তা যেন খালি রাখা হয়।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে তার জন্য তার উপস্থিতি কঠিন হয়ে পড়বে। সন্ধ্যার মূল সময়ের আগে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাসে তাদের স্বাগত জানান। দুপুর থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের আশেপাশে জড়ো হতে থাকেন, বিকেলে সড়কের চারপাশে মানুষের ঢল নামে। তারা বিভিন্ন স্লোগানে পরিপূর্ণ করে তোলে পুরো এলাকা—‘তারেক রহমানের আগমন উৎফুল্ল স্বাগত’, ‘প্রথম নেতা’ সহ নানা শ্লোগান। সন্ধ্যার সময় প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানকার নেতারা বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা করেন। এই দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে সিরাজুল ইসলাম সড়ক পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বড় বহর অবস্থান করে আছে, তাদের মাঝে দলের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিচ্ছেন—‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘তারেক রহমানের জন্য লাল গোলাপের শুভেচ্ছা’। সড়কের এ দৃশ্যের কারণে নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যেখানে যানবাহন লেন অনুসারে চলাচল করতে পারেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এক নারী নেতা বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না, পুলিশের কারণে গ্রেফতার হওয়া একটা রীতিতে রূপ নিয়েছিল। আজকের দিনটি সত্যিই আল্লাহর অশেষ কৃপায় সম্ভব হয়েছে।’ খবর: এইভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাদের মাঝে নতুন মাত্রায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে, যেখানে সাধারণ মানুষও উত্তেজিত ও আশাবাদী।
Blog
-

৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থীর ঘোষণা
ঢাকার দুটিসহ দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য দলীয় মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা সম্প্রতি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই ঘোষণা রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়, যেখানে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তরে দলের মহানগর উত্তর আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে আছেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। সিলেট সিটিতে রয়েছে দলের মহানগর সিলেটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আঞ্জুম, এবং রাজশাহীতে দলের মহানগর আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী। এই প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এনসিপি জানিয়েছে, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। তবে এখনো তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না। বিরোধী দলটি শহরগুলোৎ দলের নেতাদের প্রশাসক পদে বসানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বর্তমান খবরে দেখা গেছে যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা বিএনপির নয়। ফলে, এই পরিস্থিতিতে সবার আগে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনকালে প্রশাসকদের কে প্রার্থী হতে পারবে না, এবং কোনো দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়া যাবে না। এছাড়া, তিনি ছয় মাসের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নির্ধারিত প্রার্থী ছাড়াও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এর মধ্যে থাকেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্যরা।
-

ঢাকায় জামায়াত-এনসিপি জোটের বিক্ষোভ ডাক
শনিবার রাজধানীতে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের বিপুল সমাবেশ ও বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জোটের নেতারা বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সচিব মো. হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। তারা সংবিধানে শুধুমাত্র সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে, যা জনগণের ধারণাকে বিভ্রান্ত করে। তিনি জানান, এই বিক্ষোভ সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। আরও জানান, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক হবে। এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেত্রী ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারী কর্মকা-ে আমরা হতবাক ও মর্মাহত হয়েছি। সংসদ অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল বেপরোয়া আন্দোলনের মাধ্যমে জনস্বার্থের দাবি আদায়ে মাঠে নামার ঘোষণা দেয়। তারা দ্বিতীয় দফার আলোচনা শেষে ناقেআউট ও সংশোধিত নীতিমালা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা প্রতিকার চাই। বিষয়টি কোনও দলের নয়, বরং সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে এই অবিচার ও অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় उतरবো, কারণ দেশ ও জনগণের ভোটের মূল্যায়ন এখন অত্যন্ত জরুরি।
-

গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তবে জনগণ তা মানবে না। গণরায়ের অবজ্ঞা করে কোনও স্বৈরাচারী শাসন টেকসই হতে পারে না। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রতিরোধের জন্য শহীদাদের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের দেখেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু সরকার গঠনের জন্য গড়ে ওঠা শক্তিশালী শক্তিরা ক্ষণস্থায়ী হয়েছে, কারণ তারা যখনই গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা করে, তখনই তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যায়। গণরায়ের গুরুত্ব অস্বীকার করে ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। এই রায়ই আমাদের মুক্তির পথ নির্দেশ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়েও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোনলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ ১৭ বছর অপকর্মের পরও জনগণের রায় উপেক্ষা করে শাসন চালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের কাছে হার মানতে হয় তাঁদের। তাই এখন যদি সরকার জনগণের ভোটকে অবজ্ঞা করে আগানোর চেষ্টা করে, জনগণ তা একদম মানবে না।’
আসিফ মাহমুদ গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা তাঁদের বলব, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে, যারা এই স্বপ্ন দেখেছেন তাঁদের অবদান অবশ্যই মূল্যায়িত হবে। যদি এই জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে ৭০ শতাংশ জনগণের ভোট দাতারা রাস্তায় নামতে তৃতীয়বার ভাববে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতএব, আসুন সবাই জনগণের পক্ষে থাকি, যাতে আমরা সবাই মিলে সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে থাকি, তবে আবারও আন্দোলনে নামা আমাদের দায়িত্ব আসতে পারে। জনগণের স্বার্থে, জনগণের আশায় আমাদের পারস্পরিক সংহতি অব্যাহত রাখতে হবে।’
-

বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ড প্রতারণা: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক
বরগুনার পাথরঘাটায় ফ্যামিলি কার্ডের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম সুমন (৩০) নামে এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেতু সংলগ্ন তার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে हिरাছে নেয় পুলিশ। জানা যায়, রফিকুল ইসলাম সুমন পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কালমেঘা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ইউনুছ আকনের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, মাইকিং করে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে বলা হতো যে ফ্যামিলির সদস্যদের জন্য বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে কম মূল্যে চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে। কিন্তু এর সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কার্ড তৈরির নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। একি প্রত্যক্ষদর্শী রহিম মিয়া বলেন, “আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল ফ্যামিলি কার্ডের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে। আমি অন্যের সহায়তায় জীবন চালাই, তাই টাকা ফেরত চাচ্ছি। আমার মতো আরো অনেকের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে।” আসামিকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইতে ভুক্তভোগীরা পাথরঘাটা থানার সামনে জড়ো হন। তারা দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিরও দাবি জানান। পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ভাবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
-

প্রধানমন্ত্রীর চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চারজন বিশেষ সহকারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে নিয়োগ করা হয়েছে, একজনকে সচিব এবং আরেকজনকে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই দুজনের মধ্যে একজন হলেন সাবেক আমলা বিজন কান্তি, যিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক দপ্তর দায়িত্বে থাকবেন। অন্যজন হলেন তানভীর গনি, যিনি বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দুজনকে রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদের দায়িত্বের জন্য আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া, মোঃ শাকিরুল ইসলাম খানকে সচিব পদমর্যাদা দিয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মোঃ সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে গ্রেড-২ পদমর্যাদা দিয়ে যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই সকল নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
-

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। এই মন্তব্যের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় বলে মনে করে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান ফ্লোরে এসে বলেন, ‘সর্বোপরি আমি বলতে চাই, সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, আমরা বুধবার সংসদ থেকে চলে যাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার প্রতি বিশেষ কিছু বলেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন—আমি একটি অসত্য কথা বলেছি। তিনি দক্ষতার সাথে সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে পরিবেশন করতে পারেন, তার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
তখন স্পিকার উল্লেখ করেন, ‘বিষয়টি গতকালের (বুধবারের) জন্যই, আবার নতুন করে তুলে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।’
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা যুক্তি দেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা অসংখ্য অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন—‘মিথ্যা’। এটি অসত্য। আমি অনুরোধ করবো এটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘গেলো দিন বিরোধীদলীয় নেতা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম—তাঁর বক্তব্য অসত্য। কারণ, ওই সময় একজন বেসরকারি সদস্য একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, যা আগে পঠিত বা উপস্থাপিত হয়নি। এই কারণে আমি বলেছি, তার বক্তব্য আগে থেকেই ভুল ছিল।’
বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান আবারো দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আসলে বিভ্রান্তি হচ্ছে, একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যেটি গতকাল (বুধবার) ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই থাকলেও নাম বদলানো হয়েছে। আমি আগেরটি জানতাম, তাই বলেছি—কোনো ভুল তথ্য দিইনি।’
-

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করলেন, আমাকে নিয়ে কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ করেছিল
ওয়াজ মাহফিলে নারী সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক ও কুৎসিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়টি তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা বলেন, আমার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগে, আমার একজন সহকর্মী সংসদে বলেছিলেন—এটি অবশ্যই দুঃখজনক। এরপর তিনি একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে বলেন, “আমি আপনার দৃষ্টিতে আরেকটি খবর আনতে চাই। আজ প্রকাশিত হয়েছে যে, এই সংসদে আমি এবং আমার আরও দুই নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে অপমানজনক ও কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন একজন সংসদ সদস্য। এই কুৎসিত ভাষা ও বক্তৃতার জন্য আমি আপনার বিচার চাচ্ছি। আমি বিষয়টি পুরো সংসদে তুলে ধরেছি, স্পিকার, আপনি দয়া করে বিষয়টি দেখবেন।” স্পিকার তখন বলেন, “সংসদ সদস্য, আপনি রুলস অব প্রোসিডিউর পড়লে দেখবেন যে, সংবাদপত্রের রিপোর্টিং বিষয়ে কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার কার্যকর হয় না।”
-

এপ্রিল মাসে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা আরও বাড়ছে
চলতি এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই মাসে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে তীব্র কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি এবং তাপপ্রবাহের ঘটনাও ঘটতে পারে। এটি দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ৪১ ডিগ্রি Цেলসিয়াসে উঠতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, এপ্রিল মাসে সাধারণ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বঙ্গোপসাগরে এক বা দুটো লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়তে পারে। সেইসাথে, এই মাসে পর্যায়ক্রমে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা বা মাঝারি শিলাবৃষ্টির সঙ্গে তীব্র কালবৈশাখী এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন স্থানে ২-৪টি মৃদু (৩৬-৩৭.৯ ডিগ্রি Целসিয়াস) অথবা মাঝারি (৩৮-৩৯.৯ ডিগ্রি Целসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, এবং কিছু অঞ্চলে ১-২টি তীব্র (৪০-৪১.৯ ডিগ্রি Цেলসিয়াস) তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে, এ মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। পাশাপাশি এই মাসে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩-৫ মিলিমিটার এবং গড় সূর্য কিরণকাল ৫.৫ থেকে ৭.৫ ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে। এইসব পূর্বাভাসে আশা করা যায় যে, এপ্রিল মাসে আবহাওয়া পরিবর্তনশীল এবং চরম ঊষর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
-

বরগুনায় ফ্যামিলি কার্ড প্রতারণায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক
বরগুনার পাথরঘাটায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতানোর অভিযোগে রফিকুল ইসলাম সুমন (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সেতু সংলগ্ন একটি বাসা থেকে টাকা সংগ্রহের সময় স্থানীয় পরিবারের সদস্যরা সুমনকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তার হেফাজতে নেয়। যিনি পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং একই উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ইউনুছ আকনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইকিং করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কম মূল্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কথা প্রচার করা হচ্ছিল। এই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে কার্ড তৈরির নামে টাকা সংগ্রহ করছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি অন্যের সাহায্যে জীবন চালাই। এখন আমার টাকা ফেরত চাই। আমার মতো শত শত মানুষের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে।’ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে পাথরঘাটা থানার সামনে ভিড় জমায়। তারা দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান। পাথরঘাটা থানার ওসি এনামুল হক বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে সে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
