Blog

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা জোরদার

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা জোরদার

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক অবিরত তদারকি আরও জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে এবং তা নিরীক্ষা বছরের শেষের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। একই নিয়মে ২০২৫ সালের জন্য ও পরবর্তী বছরগুলোর প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

    এছাড়াও, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানের উন্নত করতে সুপারভিশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চালু হয়েছে ঝুঁকির ভিত্তিতে নজরদারি বা রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস)। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকের মধ্যে ঝুঁকি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা বা অনিয়ম অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘটার আগে চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।

    বিশেষ করে, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি, ঋণের ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাড়বে।

  • ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়: এক ঘণ্টা কমে কার্যক্রম চলবে এখন থেকে

    ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময়: এক ঘণ্টা কমে কার্যক্রম চলবে এখন থেকে

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যাংক সময়সূচি ঘোষণা করেছে। এর ফলে লেনদেনের সময় এখন থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত থাকবে, যেখানে আগে এটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলত। ব্যাংকের অফিস সময়ও পরিবর্তিত হয়ে এখন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এই নির্দেশনা শনিবার, ৪ এপ্রিল, জারি করা হয়েছে।

    স্বাভাবিক অবস্থায়, ব্যাংকের লেনদেনের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত থাকলেও, আগে ব্যাংকের অফিস সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই ভবিষ্যত পরিবর্তন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার ঘোষিত নতুন অফিস সময়সূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

    এছাড়াও, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরের এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায়) ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে আগের মতোই।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ২ এপ্রিল, মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত রোববার, ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যকাল এখন থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত থাকবে। এছাড়াও সন্ধ্যা ৬টার পরে শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ করতে বলা হয়েছে, এবং বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশ জারি হয়েছে, যা সমগ্র দেশের জন্য কার্যকর।

  • করদাতারা বছরজুড়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    করদাতারা বছরজুড়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান ঘোষণা করেছেন যে, এবার থেকে করদাতারা বছরের কোনো দিনই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তিনি বলেছেন, এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে করদাতারা সহজে এবং সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, এবং যারা প্রথমে রিটার্ন জমা করবেন, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন থেকে চার ধাপে বিভক্ত করা হবে, যাতে করদাতাদের জন্য এটি আরও সহজ হয়।

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে এখনও রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন তিন মাসে দেশের রাজস্ব আদায় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রথমদিকে, প্রতি বছর জুনের মধ্যে পরবর্তী নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, এবার সময়সীমা বাড়ানোর ফলে করদাতারা ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এই পরিবর্তনের ফলে করদাতাদের জন্য আয়কর প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে মার্চে

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে মার্চে

    বর্তমানে বাংলাদেশে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে মার্চ মাসে। এ মাসে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের সব সময়ে সর্বোচ্চ প্রবাহের রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের বাইরে থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। গত বছরের মার্চের চেয়েও এটি প্রায় ৪৬ কোটি ডলার বেশি। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স ছিল ৩০২ কোটি ডলার, এবং গত বছরের মার্চে ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২২ সালের মার্চ মাসে, যখন প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩৩২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাহ ছিল ডিসেম্বর মাসে, যেখানে প্রবাহ ছিল ৩২৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জানুয়ারি, যেখানে রেমিট্যান্স ছিল ৩১৭ কোটি ডলার।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মার্চে রেমিট্যান্সের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি সাধারনতই স্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখনও কাজের সুযোগ রয়ে গেছে এবং বেকারত্বের হার খুব বেশি বেড়েছে বলে মনে হয় না। পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচও খুব বেশি বৃদ্ধি না পাওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা বজায় রেখেছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে মোট ৬৪ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে। এর মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ এসেছে কৃষি ব্যাংকের কাছ থেকে, যা ছিল ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬৪ কোটি ডলার, এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন এক কোটি ২০ হাজার ডলার।

  • মার্চ মাসেও অব্যাহত রপ্তানি আয়ে পতন, হ্রাস ১৮ শতাংশ

    মার্চ মাসেও অব্যাহত রপ্তানি আয়ে পতন, হ্রাস ১৮ শতাংশ

    বাংলাদেশের এপ্রিলে রপ্তানি আয়ে অব্যাহত পতন দেখা গেছে। গত মাসে রপ্তানি আয় ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য জানিয়েছে।

    অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যার আগে এই সময়ে ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই সময়ে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে।

    প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক শিল্পে হতাশাজনক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতের রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার।

    রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ইপিবি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বেশিরভাগ প্রধান রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য খাতে সামান্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা সামগ্রিক রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

    অন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের রপ্তানি চাপে পড়েছে বলে ইপিবি উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, উপসাগরীয় অঞ্চলের অনিশ্চয়তা, এবং দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান রপ্তানি গন্তব্যগুলোতে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।

    এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংস্থাটির মতে, এই পরিস্থিতি দেশের রপ্তানি উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে তুলেছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশ খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরীক্ষা বছরের নবম মাসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে যথাযথ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জমা দেবে। ২০২৫ সাল এবং পরবর্তী সময়ের সকল প্রতিবেদনও একই নিয়ম অনুসারে দাখিল করতে হবে।

    এছাড়া, নার্নির সার্কুলারে জানানো হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি মান আরো উন্নত করতে সুপারভিশন কাঠামোয় স্বতন্ত্র পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে মনিটরিং (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একভাবে মূল্যায়ন না করে, যেসব ব্যাংকের ঝুঁকি বেশি, তাদের ওপর নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগাম চিহ্নিত সম্ভব হবে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিশেষ করে ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি, এই ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন বজায় রাখলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

  • ব্যাংক লেনদেনে নতুন 시간: এক ঘণ্টা কমানো ঘোষণা

    ব্যাংক লেনদেনে নতুন 시간: এক ঘণ্টা কমানো ঘোষণা

    বাংলাদেশ ব্যাংক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ব্যাংকের কার্যক্রমের সময় এক ঘণ্টা কমিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন কার্যক্রম চালাবে, যা পূর্বের চেয়ে এক ঘণ্টা কম। অফিস সময়ও আবার পরিবর্তিত হয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন নভেম্বর ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে, এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ হয়। আগে ব্যাংকের অফিস ছিল সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, তবে এখন নতুন সিদ্ধান্তে সময় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

  • জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়তে যাচ্ছেন

    জোনায়েদ সাকি দলীয় পদ ছাড়তে যাচ্ছেন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতা জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণা দেওয়ার জন্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এতে জানানো হয়, প্রধান সমন্বয়কারীর দলীয় দায়িত্বের বিষয়ে অবহিত করার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। খবর অনুযায়ী, জোনায়েদ সাকি নিজে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া, দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দিন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার ও হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত বছর ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত সংগঠনের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচিত হন। এই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

  • গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে সাকি এক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। জানা গেছে, মূলত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সুবিধার্থে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই ঘোষণা দেন জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করে রাখতেই আমি এ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

    এছাড়া, জোনায়েদ সাকি জুলাই মাসে বাস্তবায়নযোগ্য Juliya সনদ ইস্যুতে বলেন, ‘এই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সে নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামতই প্রাধান্য পাবে।’

    উল্লেখ্য, জোনায়েদ সাকি গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পাঁচম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নির্বাচন হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গণসংহতি আন্দোলন জাতীয় নিবন্ধন লাভ করে। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

    বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন। এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে তাকে শুধুমাত্র পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য তিনি পদত্যাগ করেন, দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

  • নাহিদ ইসলামের ডাক: ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান

    নাহিদ ইসলামের ডাক: ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান

    বিএনপি বিরোধী নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি বলেন, দেশের সাম্প্রতিক সংস্কার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে আরো কঠোর আন্দোলন ও সচেতনতা জরুরি। তিনি দৃঢ়ভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তিনি রাজপথে নেমে এই আন্দোলনে অংশ নেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কিছু সংস্কার প্রকৃতপক্ষে জনগণের স্বার্থে ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়নে তারা সফল হননি। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করতে হলে নেতৃত্বের অঙ্গীকার ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    শনিবার দুপুরে হজের ওমরাহ শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাহিদ বলেন, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া এখন যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে সংসদে সমাধান না পাওয়ায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন ক্ষমতা দখলের জন্য পুরোনো ধ্যানধারণা থেকে সরে এসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর না করে এলে দেশের সার্বিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ এভাবে চলতে থাকলে স্বৈরশাসন আর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বৃদ্ধি পাবে।

    নাহিদ বলেন, “বিএনপি এখন সংস্কারবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত। তারা গত ১৬ বছর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিপীড়িত হয়েছে, কিন্তু জনগণের মধ্যে তাদের আস্থা কমে গেছে। তারা সত্যিকার অর্থে দেশের পরিবর্তন চায় না, বরং নিজের স্বার্থে রাজনীতি চালাচ্ছে।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি এই পরিস্থিতিতে, যদি জনগণের আস্থা সরকারের উপর থেকে না যায়, তবে বিএনপি সরকারের পরিচালনা কার্যকর হবে না। এজন্য তিনি সকল অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান, এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার হবেন। “অ্যাডভাইজার ড. ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের দায়িত্ব হলো মানসিকতা বদলানো, লুকানো ষড়যন্ত্র থেকে সরে এসে জনগণের কথা শুনা। তাদের উচিত হলো নিজেদের স্বার্থের জন্য নয়, দেশের স্বার্থে কথা বলা।”

    তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ওমরাহ পালন শেষে তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে উষ্ণ স্বাগত গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ও দেশের স্বার্থে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। সূত্র মতে, তিনি তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথে আগামীর সংকটে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।