জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন এবং চেতনা রক্ষা না করা যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের বিজয়ে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করতে পারেনি, তখন ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। এই ইতিহাস থেকে আমাদের শেখার নিয়মিতই আছে, ভবিষ্যতেও এটি ঘটতে পারে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি সরকারের গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য দেয়া।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বিএনপি নেতাদের সংবিধান বললেও, তারা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারে প্রতিনিয়ত ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকাই উচিত, কিন্তু বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে নির্বাহী বিভাগকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি বিরোধী দলের হয়, তবে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাকে খর্ব করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি সংবিধানবিরোধী।
অপর দিকে, ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক এজেন্সির ওপর ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা থাকলেও, আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতাগুলো অনেকটা হ্রাস করে আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাতিল করে আবারও অনেক এজেন্সির হাতে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।
এনসিপি নেতারা বলছেন, অতীতে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণের লক্ষণ স্পষ্ট। যদি গণভোটের রায় মানা না হয়, তাহলে তাদেরকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করে দেয়া হবে। তারা উল্লেখ করেন, শুরু থেকে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় সকল শ্রেণি-পেশার সাথে বসে সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রস্তুত।
তবে, দ্রুত রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত তাদের বিরোধী জোটের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ গণভোটের নাটকীয়তা দেখে তারা আর স্থায়ী ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
