ঈদের আনন্দের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহ প্রেমীদের জন্য একটি দুঃখের সংবাদ আসছে। রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাস ঘোষণা করেছে যে, ৫ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে তাদের সব সিনেমার শো বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি তাদের জন্য একটি জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি সাম্প্রতিক নির্দেশনার কারণে প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধের নির্দেশনা থাকায় সিনেমা হলের মূল সময়ের শোগুলোতেও বাধ্য হয়ে স্থগিত করা হচ্ছে। সাধারণত, সন্ধ্যার পরের শোগুলো প্রেক্ষাগৃহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ সময় माना হয়। এই সময়ের শো বন্ধ হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও হতাশা। বিশেষ করে, যারা ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের প্রত্যাশা ভঙ্গের ঘটনা। ব্লকবাস্টার সিনেমাসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যার পরের শোতে আগাম টিকিট কাটা থাকলেও, ওই টিকিটগুলো অন নিয়মে ফেরত দেওয়া হবে। অন্যদিকে, দেশের আরেক বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা এই সরকারি নির্দেশনা তার দৃষ্টিতে দেখছে এবং আপাতত ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পরের সকল সিনেমা স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। এছাড়া, অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করায় দর্শকদের রিফান্ডের জটিলতা এড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, শুধু বড় মাল্টিপ্লেক্স নয়, দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহগুলোও এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা চলমান সিনেমা বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।
Blog
-

ধুরন্ধর ২ : ১৭ দিনে আয় হয় কত টাকা, ধরাছোঁয়ার বাইরে কেমন সফলতা
বলিউডের স্পাই থ্রিলার সিনেমা ধুরন্ধর ২ তিন সপ্তাহ পার হলেও বক্স অফিসে সফলতার শিখরে অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি স্যাকনিল্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির মুক্তির তৃতীয় শনিবারে প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এই সংখ্যা দেখিয়েছে, সিনেমাটি এখনও দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম সপ্তাহের শেষের দিকে সিনেমাটির কালেকশন ছিল প্রায় ৬৭৪.১৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সপ্তাহে তার মোট আয় যোগ হয় ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। এই সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতে সিনেমাটির মোট আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
আশার কথা, চলমান ধারাটি ধরে রাখতে পারলে খুব দ্রুত সিনেমাটি ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্য রারআরআর, কল্কি ২৮৯৮ এডি, কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২, জওয়ান, পাঠান, স্ত্রী ২ ও অ্যানিমেল-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর মোট আয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বা তার থেকেও এগিয়ে গিয়েছে এই সিনেমা। যেখানে এই সিরিজের প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে আয় করেছিল ১,৩০০ কোটি টাকার বেশি।
প্রথম কিস্তিতে রণবীর সিং হামজার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, একজন ভারতীয় গুপ্তচর। এবার দ্বিতীয় কিস্তিতে মূলত জাসকিরাত সিং রঙ্গির সংগ্রামের গল্প দেখানো হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে কিভাবে সে বিভিন্ন পরিস্থিতির মাঝে অস্ত্রের বদলে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য রূপান্তরিত হয়।
অদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিং ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এছাড়াও, দানিশ পান্ডো, উদয়বীর সান্ধু ও অন্যান্য শিল্পীর উপস্থিতি থাকলেও এক বিশেষ আকর্ষণ যোগ করেছে পরিচালক অদিত্য ধরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যামিও। এটি সিনেমা প্রেমীদের জন্য একটি বিশাল বিনোদন ও প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।
-

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আরএস ফাহিমকে
হত্যাচেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় যুক্ত থাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টান্ট রাইডার আরএস ফাহিম চৌধুরীকেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
আদালতে আসামি ফাহিমকে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তার গ্রেপ্তারি হওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানুভব আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তার পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে পুলিশ তাকে পুলিশি পাহারায় আদালত হাজতখানায় নিয়ে যায়।
এর আগে, রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলের দিকে রাজধানীর মিরপুরে চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে। পরে সেখানে থাকাকালে তাকে শাহ আলী থানায় সোপর্দ করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ গুলশান থানার মো. ইমরান হত্যা মামলায় তার নাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের বচিলা এলাকায় র্যাবের কোয়ার্টারের সামনে মিছিলের সময় গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে আহত হন মাসুদ হোসাইন, যার চিকিৎসা এখনো চলমান এবং বুকে ইনফেকশনের কারণে অপারেশনও করতে হয়েছে।
অতীতে, গত বছরের ২৪ আগস্ট, আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বেসরকারি টেলিভিশনের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আরেস্ট করার পর তাকে একই বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নিহত আসাদুল হক বাবু হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনার পর থেকেই তরুণ প্রজন্মের স্টান্ট রাইডার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নাম শোনা যায়। গত বছর জুলাই থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে তার নাম উঠে এসেছে, যা সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
-

সালমান খান মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন
ঘাড়ের ওপর পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলা নিয়ে নিজেকে জড়িয়ে অনেক দিন ধরেই চাপে ছিলেন সালমান খান। একের পর এক শুনানি এড়িয়ে যেতে থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তবে এবারে তিনি অল্প সময়ের জন্য হলেও থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল সালমানের। কিন্তু রাজস্থানের হাই কোর্ট এই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়, ফলে তিনি নির্দিষ্ট দিনে কমিশনের সামনে হাজিরা দিতে পারলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হয়নি।
সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল, যিনি বলেন, একটি পানমশলা বিজ্ঞাপনে কাজ করার জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটিতে বলা হয়, পণ্যগুলোকে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ ও ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ হিসেবে দেখানো হলেও আসলে তা সে রকম নয়। এই দাবি ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে চেয়েছিল পণ্যগুলো সবুজ এবং নিরাপদ হিসেবে।
বছর শুরুতেই উপভোক্তা কমিশন এই পণ্যগুলোর প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো হয়। কিন্তু পরে জয়পুর এবং কোটা শহরে বিলবোর্ডসহ নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যা কমিশনের নির্দেশ অমান্য বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, সালমান বর্তমানে তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত, যার শুটিং ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এই ছবির প্রথম নাম ছিল ‘ব্যাটেল অফ গলওয়ান’, তবে ছবি মুক্তির সময় এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
-

অভিনেত্রী বিপাশার বলিউড প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন কারণ বাংলাদেশের মানুষকে তারা ভালোবাসেন
জনপ্রিয় রম্য অভিনয়শিল্পী, গুণী চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত বাংলাদেশের একজন পরিচিত নাম। নব্বই দশকের সময়কার আলোচিত অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। সম্প্রতি তিনি বিদেশের মাটিতে থাকাকালীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসে দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক আইএফপি পডকাস্টে অংশ নেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনের অনেক সন্ধিক্ষণ, চলচ্চিত্রে অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
অন্য এক প্রশ্নে সঞ্চালক জানতে চান, সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ এর প্রস্তাবের পাশাপাশি কি বলিউড থেকেও কোনও সম্ভাবনা ছিল। এর উত্তরে বিপাশা জানান, বলিউডের যে প্রস্তাবটি তাঁর কাছে এসেছিল, তা তখনকার বিষয় নয়, বরং পরে এসেছিল। তিনি বলেন, বলিউডে তখন তাকে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। যদিও সিনেমার নাম মনে করতে পারছেন না, তবে সেই চলচ্চিত্রের এক অভিনেতার ফোন নম্বর তিনি এখনো সংরক্ষিত রেখেছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগও হয়েছে।
বিপাশা জানান, তিনি বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কারণ তিনি মনে করতেন—তাকে তার দেশের মানুষ ভালোবাসেন এবং তারা তার অভিনয়কে মুল্যবান মনে করেন। তিনি বলেন, তখন তাঁর মন ছিল—প্রথমত, তিনি দেশের মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসা হারাতে চান না। দেশের মানুষ তাঁকে যে ভালোবাসে, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চান তিনি। তিনি আরও বলেন, তারকা হিসেবে নয় বরং তিনি একজন পাবলিক ফিগার। এই দায়িত্বের বড় সাহসী দায়িত্ববোধ রয়েছে তাঁর ওপর, যা তিনি মনোযোগ সহকারে পালন করতে চান। মানুষের ভালোবাসা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ, যেখানে সব ভয়-ভীতি, কোন্দল আর দ্বন্দ্বের পেছনে রয়েছে এই ভালোবাসার শক্তি।
অতএব, তিনি মনে করেন—তিনি বাংলাদেশের মানুষকে তার জীবনের কিছু সময় দিয়ে সুখী করতে পারেন, বলিউড বা অন্য কোন জায়গায় গিয়ে সাধারণ চরিত্রে অভিনয় করে কি তার ধারণা ছিল না। এই বিশ্বাসই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করে, যে তার দেশের মানুষই তার মূল পরিচয় ও মর্যাদার জায়গা।
-

দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং জাতি গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, কারণ এ শিক্ষা সন্তানদের নৈতিক, চারিত্রিক গুণাবলী উন্নত করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসাটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সন্তানদের জন্য সুখ、安全 ও শিক্ষাকার্যক্রমের সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন করতে হবে, যেন তারা নিশ্চিন্তে তাঁদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করতে উৎসাহিত হন।
বুধবার দুপুরে নগরীর খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত এই মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, এদের আন্তরিকতা ও সততার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরও প্রথমস্থান লাভ করবে। তিনি শিক্ষকদের উৎসাহিত করে বলেন, পাঠদানে আরো মনোযোগী হতে হবে যেন তারা সকলের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারেন।
উল্লেখ্য, কেসিসি পরিচালিত এই মাদ্রাসায় ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে। এ বছর ৫ম শ্রেণিতে ৯ জন এবং ৮ম শ্রেণিতে ২ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষাকার্যক্রমের মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।
মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক, মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
-

বুলবুলের অভিযোগে নীরব আইসিসি, তামিমের কমিটিকে আশাবাদী দেখছে ভারত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তামিমের অধীনে বোর্ডটি ভারতের জন্য বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হচ্ছে, যা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মনোভাবের পরিবর্তন সূচিত করছে।
বিশেষ করে, এই উদ্যোগ মূলত দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের বিপর্যস্ত সম্পর্কের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে, ভারতের বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি ঢাকার নতুন প্রশাসনের কূটনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক আবার ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রসঙ্গত, গত কিছু সময়ে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, যখন নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। ভারতের ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ফলে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই ১১ সদস্যের কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বোর্ডের প্রশাসনিক সংস্কার ও পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বুলবুল আইসিসির কাছে হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলেছিলেন, তার অপসারণ সরকারি হস্তক্ষেপ ও আইসিসির নীতিমালা লঙ্ঘন। যদিও আইসিসি সূত্রগুলো বলছে, এই আবেদনের গুরুত্ব বেশ কম, কারণ তার অবস্থানে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বুলবুল আইসিসিকে জানিয়েছিলেন, সরকারি নির্দেশনায় দল ভারতে যেতে পারেনি। এখন একই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আইসিসির সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন।
আইসিসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটি সত্যিই অবাক করা পরিস্থিতি। এই একই বোর্ডের সভাপতি কয়েক বছর আগে আইসিসির চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকারের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেননি। এখন আবার সরকারি হস্তক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে আইসিসির সুরক্ষার জন্য আবেদন করছেন—এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
-

টাইব্রেকারে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে আসছে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত ডিসিপ্লিন হলো পুরুষ হকি। এবারে জাপানে অনুষ্ঠিত হওয়া আইচি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকির অংশগ্রহণের ব্যাপারে বেশ উদ্বেগ ছিল, কারণ তারা স্থান নির্ধারণী কাপের প্লে-অফে হংকংয়ের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। তবে শেষমেশ টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ দল, ফলে তারা এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের জন্য নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচটি ছিল নাটকে ভরা। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ৪-৪ গোলে ড্র করে, তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম শটে বাংলাদেশের রকি ব্যর্থ হলে হংকং এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে হকিতে না খেলার ঝুঁকি দেখা দেয়। তবে বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর দুর্দান্ত সাফাই করে দুটি শট বন্ধ করে দেন, ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। চতুর্থ শটে যদি বাংলাদেশ সফল হতেন, ম্যাচ তারা সহজে জিতে যেতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ, হংকং আবার সমতা আনে পঞ্চম শটে। শেষ শটে বাংলাদেশ সফল হলে তারা জয় লাভ করে এবং এশিয়ান গেমসের বাছাই পর্বের মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। তাতে করে ছয়টি দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে, যার ফলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়।
প্রথমে বাংলাদেশের দলে খেলোয়াড় রকি ও আমিরুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। তবে হংকং প্রথম কোয়ার্টারে একটি গোল শোধ দেয়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোন দল লক্ষ্য করে না, ফলে বাংলাদেশ ২-১ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায়। তৃতীয় কোয়ার্টারে হংকং গোল করে সমতা আনলেও, চতুর্থ কোয়ার্টারে আশরাফুলের গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার লিড নেয়। কিন্তু সেই লিড বেশিদিন টেকা হয়নি, হংকং চতুর্থ কোয়ার্টারের শেষের দিকে আবার সমতা ফেরায়। আশরাফুল পুনরায় গোল করলেও হংকং এক মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি স্ট্রোকে সমতা আনে। শেষের দশ মিনিটে বাংলাদেশের তিনটি পেনাল্টি কর্নারও গোল হয়নি, যার ফলে খেলা টাইব্রেকারে যায়।
টাইব্রেকারে বাংলাদেশ থেকে পঞ্চম শটটি নিয়েছিলেন রাব্বি, তিনি গোল করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয় দেশের জন্য বড় স্বস্তির কারণ, কারণ দেশের ইতিহাসে বহুবার তারা এশিয়ান গেমসে হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে এবারে দল বেশ বাজে পারফরম্যান্স করলেও, শেষ পর্যন্ত দরকারি জয় তুলে এনে তারা নিশ্চিত করেছে তাদের অংশগ্রহণের মর্যাদা।
-

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন
চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে হওয়া ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের সবকটি ম্যাচ ছিল আগে দিবারাত্রির, কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে সময়সূচি পরিবর্তনের।
আজ বৃহস্পতিবার, বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে ওয়ানডে সিরিজের সবকটি ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে। একই সঙ্গে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের পরে টি-টোয়েন্টি সিরিজও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সব ম্যাচ হবে দিনকে আলোয়। এই ম্যাচগুলো শুরু হবে দুপুর ২টায়।
গতকাল বুধবার, বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই সময়সূচি পরিবর্তনের। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে ম্যাচগুলো ১১টা বা সাড়ে ১১টায় হতে পারে, আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো দুপুর ২টা বা আড়াইটায়।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে দর্শকদের জন্য নতুন সময়ে খেলা উপভোগের সুযোগ বাড়ছে এবং স্মার্ট সঞ্চালন নিশ্চিত হচ্ছে।
-

নাহিদ রানা ও শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পেশাওয়ার জিতল করাচি কিংস
পিএসএল-এর অভিষেকের পর প্রথম ম্যাচে খরচের জন্য সমালোচিত হন নাহিদ রানা। তবে দ্রুতই তিনি বদলে যান এবং পরের ম্যাচে নিজের গতির ঝড় তুলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশি পেসার শরিফুল ইসলামও তার নিখুঁত আঁটসাঁট বোলিং দিয়ে দলের জন্য বিশাল সফলতা অর্জন করেন। যার ফলে তাদের দল করাচি কিংস বিশাল এক জয় তুলে নেয়।
করাচি কিংসের প্রতিপক্ষ ছিল পেশাওয়ার জালমি, এবং এই ম্যাচে জালমির জয় নিশ্চিত করতে তারা ২৪৬ রানের লক্ষ্য অর্জন করে। বল হাতে দুর্দান্ত কৌশলে একে একে বলিঙিং করতে থাকেন জালমির পেসাররা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়েন নাহিদ রানা, যিনি চার ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৭ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। তার ২৪ বলের মধ্যে ২০টিতে ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারেননি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ স্পিনার ইফতিখার আহমেদও তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শরিফুল ইসলামও দারুণ বোলিং করেন, তিন ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারকে আউট করেন।
শ্রীলঙ্কার কুসাল মেন্ডিস ম্যাচের সেরা ছিলেন। তিনি ৫২ বলে ১০৯ রান করে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেন চার চার ও চার ছক্কা সহ। অধিনায়ক বাবর আজমও ৫১ বলে ৮৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং দেখা গেছে। প্রথম ওভারে ইফতিখার ওয়াসিমকে আউট করেন, এরপর শরিফুল ওয়্যার্নারকে ডেলিভারির মাধ্যমে ফেরত পাঠান। বোলাররা সঠিক সময়ে সঠিক ডেলিভারির মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের ধীর করে দেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কিছু দিন আগেই ওয়ার্নার দেশে ফিরে যান, এমনকি সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে এই ম্যাচে তিনি প্রথম বলে আউট হন।
শরিফুলের প্রথম ওভার ছিল ১১ রান, এরপর তিনি আরও দুটি বাউন্ডারির মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন বোলিং চালিয়ে যান। হাফটাইমের পরে নাহিদ প্রথম উইকেটের দেখা পান, শর্ট বল পুল করার চেষ্টা করে সাদ বেগের তালুবন্দী হন। তার শেষ ওভারে তিনি কোনো রান না দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন।
বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকা কিংসের ইনিংস শেষ হয়ে যায়। ১৪তম ওভারে নাহিদ আবারও বল হাতে নেওয়ার সময় কোনও রান দেননি। তিনি খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জ্যাম্পারকে আউট করেন এবং একমাত্র রান নিয়ে নিজের শেষ বলটি করেন।
প্রথম দিন পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অভিষেকের সময় ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন নাহিদ। শরিফুলের আগের দুই ম্যাচে উইকেট পাননি, তবে আজ তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে চেহারা বদলে যায়।
