Blog

  • ভেনেজুয়েলার নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ

    ভেনেজুয়েলার নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ

    মার্কিন বাহিনীর অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduroকে আটক করার ঘটনার জের ধরে, ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার প্রকাশিত এই আদেশে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট Maduroর অনুপস্থিতিতে সরকার চালাতে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রদ্রিগেজকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ঘটনায় দেশটির আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

    সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব নিরাপদ রাখতে এই আইনি ব্যবস্থা জারি করা হয়। আদালত আরও জানায়, কতদিন এই দায়িত্ব থাকবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার।

    উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার সরকার যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও গ্যাং সদস্য পাঠাচ্ছে। এই অভিযোগের জের ধরে, গতকাল ভেনেজুয়েলে মার্কিন সেনারা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট Maduro এবং তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। তাদেরকে ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে ‘আমেরিকান বিচারকার্যের মুখোমুখি’ করার প্রস্তুতি চলছে, জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    মাদুরোর আটক শতӯш পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের এক সভায় ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো আটক হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলকে কিছুটা দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সরকারগুলো এই হামলার ঘটনায় হতবাক, এটি নিঃসন্দেহে জায়নিস্ট ইঙ্গিত রয়েছে। এটা সত্যিই লজ্জাজনক।’

    অপর দিকে, হোয়াইট হাউসের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এর ভেতর দিয়ে মাদুরোকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভেনেজুয়েলার জন্য ‘লেভেল–৪: ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতাও জারি করেছে।

    ডেলসি রদ্রিগেজ সম্পর্কে জানা যায়, তিনি ভেনেজুয়ের সমাজতান্ত্রিক সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরোর কাছাকাছি ছিলেন, আর মাদুরো তাকে ‘টাইগার’ বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন, যিনি বর্তমানে জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট।

    ডেলসি রদ্রিগেজ ১৯৬৯ সালের ১৮ মে ক্যারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লিগা সোশ্যালিস্তা নামে বামপন্থী গেরিলা ও বিপ্লবী দলটির প্রতিষ্ঠাতা জর্জে আন্তোনিও রদ্রিগেজের মেয়ে। পেশায় তিনি একজন আইনজীবী, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন।

    ২০১৩-২০১৪ সালে তিনি যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪-২০১৭ সালে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও কাজ করেছেন। ২০১৭ সালে কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি’র প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান, যা মাদুরো সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ সালে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

    বর্তমানে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি অর্থ ও তেলখাতের দায়িত্বে রয়েছেন, এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে তেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

  • বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপি’র নেতা নন, দেশের মানুষের নেত্রী: বকুল

    বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপি’র নেতা নন, দেশের মানুষের নেত্রী: বকুল

    খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা রাকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের নেত্রী হিসেবে না, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একজন সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে দেশের মানুষের হৃদয়ে intricately স্থান করে নিয়েছেন। তিনি চাইলে বিদেশের আরাম-আয়েশে থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি নির্বাচন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজপথে থেকে অবিচলভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার এই আন্দোলনে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরেই নিরবে লড়াই করে যাচ্ছেন এবং অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছানো সত্ত্বেও কখনো অপশক্তির সাথে মতবিরোধ করেননি। গতকাল শনিবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অটল নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের শান্তির জন্য দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    বকুল আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন কোনো আপসের ইতিহাস বহন করে না। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নেবে তারা মনে করবেন না তারা সত্যিকার দেশপ্রেমিক। বাংলার জনগণ তখন দেখেছিল কারা সত্যিকারভাবে দেশপ্রেমে বিশ্বাসী এবং কারা রাজনীতির নামে বেঈমানি করেছে। নেত্রীর কাছ থেকে আমরা শিখেছি কিভাবে জনসেবার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। তিনি বলেন, ভোট হলো মানুষের এক মূল্যবান অধিকার, এই অধিকার রক্ষা করতে দেশের নেতাকর্মীরা হারিয়েছেন অনেক আত্নীয়-স্বজন, ঘরবাড়ি, তবে তিনি কখনো পিছু হটেননি। সকলকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সংগতভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সবাই দায়িত্বশীল হতে হবে যেন দেশের মানুষ নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট প্রদান করতে পারে।
    বিএনপি প্রতিষ্ঠার আগে ও পরে জিয়া পরিবার যে অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে, তা বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই বলে মন্তব্য করেন বকুল। নিজে ছাত্রজীবনে ও এলাকার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের উল্লেখ করে আবেগের সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমি এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের ফল যাই হোক, আমি আগের মতোই জনগণের পাশে থাকবো এবং সবার কাছে একজন আদর্শ সন্তান ‘বকুল’ হিসেবে থাকতে চাই।
    উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খালিশপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট মোঃ মোহাম্মদ আলী বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান বিশ্বাস সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও দেশের উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি সকালে খালিশপুরের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন, বিকেলে খানজাহান আলী থানার কিবরিয়া মেম্বারের বাড়িতে স্থানীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। রাত সাড়ে ৮টায় দৌলতপুর থানার বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রকিবুল ইসলাম বকুল। অনুষ্ঠানে দৌলতপুর থানার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাত জেলায় মৃদু শীতের শৈত্যপ্রবাহ চলমান

    সাত জেলায় মৃদু শীতের শৈত্যপ্রবাহ চলমান

    সারা দেশে শীতের অনুভূতি কড়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাতটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই প্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়াও, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কেমন করে শীত পড়বে, তারও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আজ রোববার ভোরে প্রকাশিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেটের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি চলমান থাকতে পারে। এ সময় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, আর দিনভর তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েও যেতে পারে। এছাড়া, কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের মাত্রা এখনো বেশ গোড়ায় রয়েছে, ফলে সারা দেশে শীত অনুভূতি বজায় থাকবে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃত অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার সংলগ্ন এলাকার ওপর অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে এবং এর একটি অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    অতিরিক্তভাবে, আজ সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, যেখানে তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • শৈলকুপায় মধ্যরাতে সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক নদীতে, নিহত ২

    শৈলকুপায় মধ্যরাতে সেতুর রেলিং ভেঙে ট্রাক নদীতে, নিহত ২

    ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে কুমার নদীতে পড়ে গেলে নিহত হন চালকসহ দুই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দাহ পুরাতন ব্রিজে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে যশোর থেকে একটি ডালবোঝাই ট্রাক পাবনা যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, যখন ট্রাকটি বড়দাহ ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোরে মুবারক হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, এরপর সকাল ৮টার দিকে চালকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। তাঁরা দুজনের বাড়ি পবা উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামে।

    ওসি হুমায়ন কবির বলেন, রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটার খবর পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হয়। ট্রাকের হেল্পার মুবারক হোসেনের মরদেহ ভোরের দিকে উদ্ধার হয়, এবং চালকের লাশ সকালে উদ্ধার করে দ্রুত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

  • খুলনা আসনে মনোনয়ন বৈধ ৩৫জনের, বাতিল ১১জন

    খুলনা আসনে মনোনয়ন বৈধ ৩৫জনের, বাতিল ১১জন

    খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাই পর্যায়ে বিভিন্ন ত্রুটি ও শর্ত পূরণ না করায় ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই চার দিনের প্রক্রিয়ায় बुधवार (৩১ ডিসেম্বর) থেকে রোববার (৪ জানুয়ারি) খুলনা জেলা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, খুলনা–১ আসনে ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন সেটি দাখিল করেন। যাচাই শেষে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। তবে, কিছু প্রার্থী বৈধ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, বিএনপির আমির এজাজ খান, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় এবং জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার ও অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।

    খুলনা–২ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরে, সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনের প্রার্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম। এখানে কোনো মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

    খুলনা–৩ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই শেষে, তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এই আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আ. আউয়াল, বিএনপির রকিবুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীয়ের মো. মাহফুজুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুরাদ খান লিটন ও মঈন মোহাম্মদ মায়াজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের জনার্দন দত্ত, খেলাফত মজলিসের এফ. এম. হারুন অর রশিদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেখ আরমান হোসেন ও জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল রউফ মোল্লা, মো. আবুল হাসনাত সিদ্দিক ও এস. এম. আরিফুর রহমান মিঠু।

    খুলনা–৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে, চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বিএনপির এস. কে. আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস. এম. সাখাওয়াত হোসাইন ও জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী এস. এম. আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়।

    খুলনা–৫ আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই শেষে চারজনের মনোনয়ন বৈধ হয়। প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলদার, জামায়াতে ইসলামীয়ের মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার ও খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাইয়ুম। এই আসনে জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমীন) ও ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

    খুলনা–৬ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এতে তারা হলেন বিএনপির এস. এম. মনিরুল হাসান (বাপ্পী), জামায়াতে ইসলামীর মো. আবুল কালাম আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল। বাতিল হয়েছেন জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাস।

  • যশোরে জুলাই যোদ্ধা এনামকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা

    যশোরে জুলাই যোদ্ধা এনামকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা

    যশোরে Juliya Joddha এনাম সিদ্দিকীকে উপর হামলা করে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে ইয়শোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে ঘটে। কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আহত এনাম সিদ্দিকী এনায়েতপুর এলাকার মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

    স্বজনরা জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে 8টার দিকে প্রতিদিনের মতো হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে বের করেন। এ সময় এনায়েতপুরের পীরবাড়ির সামনে অজানা দুজন ব্যক্তি তার পথ রোধ করে। তখন দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এরপর ডান বুকে, বাম হাতের ডানায় এবং কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। ফলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন এবং আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে, তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

    এদিকে, এই ঘটনা শোনার পর বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসে এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

    এ ঘটনায় পুরো এলাকা এখন চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে আক্রান্ত। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

    কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে

    চলতি বছর বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোতে বেশ কিছু পরিমাণ ডলার জমা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য ফেরাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডলার কিনতে শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে রোববার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলার বিক্রির রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বর মাসে তারা মোট ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন।
    আরেকদিকে, ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সে হিসাবে প্রবাসী আয় প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    অর্থাৎ, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চলতি অর্থবছরে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে ১,৫২১ কোটি ডলার যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১,৩১২ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়ছে।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
    অন্যদিকে, গত নভেম্বর মাসে দেশত্যাগী প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।

  • টানা ৮ দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমলো

    টানা ৮ দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমলো

    বিশ্ব বাজারের প্রভাব এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সোনার দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বলেছে, টানা আট দফা মূল্য বৃদ্ধির পরে এবার তারা সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।

    মাননীয় বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে এ পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়, এবং আগামী মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত চাহিদা কিছুটা স্বাভাবিকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। খবরসূত্র জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমেছে, যা বিশ্বের পরিস্থিতির প্রতিফলন।

    নতুন দামে দেশের বাজারে ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হবে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির বা পুরানো ধরনের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোনার বিক্রয়ের সময় সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা এবং মান অনুযায়ী এই মজুরিতে তারতম্য হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২৮ ডিসেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা করে ছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। এছাড়াও, তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

    এখন পর্যন্ত চলতি বছরে মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২ বার; দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৭ বার।

    অপরদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম স্থির রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ধরা হয় ৫ হাজার ৮৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির টাকা ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ৩ বার কমানো। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ বার।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেছে

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় পরিকল্পনার মুনাফার হার আবারও কমিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার রাখা হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, এ হার আবারও কমানো হয়েছে গত জুলাই মাসেও।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার বেশি থাকছে, অর্থাৎ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বা তার কম বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার বেশি হবে। আর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমে আসবে।

    বিশেষ করে, এই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে। এই সঞ্চয়পত্রে, পূর্বে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য মেয়াদকাল শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। আবার, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, যা এখন থেকে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে পরিবর্তিত হয়েছে।

    পাঁচ বছরের মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হারে পরিবর্তন এসেছে। এখানে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ; আগে ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আর, বেশি বিনিয়োগের জন্য, মুনাফার হার আগে ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন সেটা ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

    আরো জানিয়ে গেলে, তিন মাসের ভেতরে মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে, মুনাফার হার কমে এসেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে, মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ; এখন তা কমে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে আগে ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এখন তা পড়ে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে।

    আগামী ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ক্ষেত্রে, সেই সময়ে নির্ধারিত মুনাফার হারই কার্যকর থাকবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, নতুন তারিখের মুনাফার হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে আবারো মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

  • বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    বছরের প্রথম দিনেই সোনার দাম ভরিতে কমল ১৪৫৮ টাকা

    নতুন বছরের শুরুতে দেশের বাজারে আবারও সোনার মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। এই প্রথম দিনের ঘটনায়, বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের সর্বোচ্চ মানের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা। ফলে এই ধরনের সোনার নতুন মূল্যে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দামের পরিবর্তনের জন্য নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম কার্যকর হবে শুক্রবার, ২ জানুয়ারি থেকে।

    বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে, কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এর পাশাপাশি, অন্যান্য মানের সোনার মূল্যও নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের জন্য প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আসতে হবে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত 6 শতাংশ মূল্য সংযোজন। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুসারে মজুরির হার পরিবর্তিত হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন, ভরিতে ২৭৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের প্রকারের মূল্য ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    ২০২৫ সালে, দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বাড়ানোর সংখ্যা ছিল ৬৪ বার এবং কমানোর ছিল ২৯ বার।

    এছাড়া, রুপার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্যান্য মানের জন্য দাম যথাক্রমে, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    এটি ছিল দেশের বাজারে প্রথম রুপার দাম সমন্বয়। গত বছর, রুপার দাম ১৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়েছিল।