Blog

  • খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত

    খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত

    খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে এক অভিনেত্রিক (sic) ঘটনা ঘটেছে; ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত হয়েছেন।

    ঘটনা শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সাড়ে আটটার দিকে সংঘটিত হয়। নিহত মিম্মি বেগম (৪৪) স্থানীয় বাসিন্দা ও হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিবাদ বাড়তেই মামলায় নামাজকরা—নাদিম ইসলাম তার মাকে আক্রমণ করে। তিনি পাশের গাছের ডাল দিয়ে মিম্মি বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মারা যান।

    স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মিম্মিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে অভিযুক্তকে ক্যাম্পে নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলের সুরক্ষার্থে পুলিশকে কাছেই থাকা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে; নিহত মিম্মির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই হঠাৎ ঘটনার কারণে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়

    জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়

    ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির পার্লামেন্টের পরিবেশ বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা সফর করেছে। সফরের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রতিনিধি দল নগরীর এক অভিজাত হোটেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়।

    বৈঠকে কেসিসি প্রশাসক অতিথিদের খুলনার জনগণের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান দরকার বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

    প্রশাসক মঞ্জু জার্মান সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, ২০১০ সাল থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন জার্মান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করে এসেছে এবং শহরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য আগত প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানান।

    ফেডারেল জার্মান সংসদের পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধি দলটি ৭ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে সফর করে আসছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরাঞ্চলে থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা। বিকেলে তারা জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় খুলনায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের স্থানীয় ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।

    সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে জার্মান সরকারের কাছে আগামী কার্যক্রমে সমর্থন চাইতে বলা হয়—বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, প্রকৃতি নির্ভর সমাধান, উন্নত ড্রেনেজ ও পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোতে।

    বৈঠকে অংশগ্রহণকারী জার্মান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট সদস্য ও পরিবেশ বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মাইকেল থিউস। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য সাচছা ভান বিক, ম্যানুয়েল ক্রাউথাউসেন, ড. ফ্রানজিসকা কার্সটেন, জুলিয়া ছানেইদার, ভাইওলেটা বুক এবং পলিসি অফিসার ইলেফদেরিওস আসলানিডিস। বাংলাদেশে যোগদানের সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, এডভাইজার শেখ মাহমুদুল আহসানসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ জাকির হোসেন।

    প্রতিনিধিদল এবং কেসিসির এই সংলাপটি খুলনার জলবায়ু প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় বদলে, সব ম্যাচ হবে দিনের আলোতে

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম ঘোষণায় সিরিজের সবকটি ম্যাচ দিবারাত্রির—that is, রাতের আলোতে—খেলা হবে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সময়সূচি বদলিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিসিবি জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১১টায়। ওয়ানডের পর যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটি হবে, সেটিও দিন খেলায় করা হবে এবং এসব ম্যাচ দুপুর ২টায় শুরু হবে। এর ফলে ফ্লাডলাইট ব্যবহার ন্যূনতম রাখা হবে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য ত্বরান্বিত হবে।

    বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তের আগেই বুধবার বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন—ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা, টি-টোয়েন্টি বেলা ২টা অথবা আড়াইটায় হতে পারে।’

    বিসিবির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য খেলার অভাব ছাড়াই বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা, পাশাপাশি দর্শক ও সম্প্রচারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময় দেওয়া। নতুন সময়সূচি মেনে মাঠে গড়ালে ম্যাচগুলো দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত হবে এবং খেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হবে।

  • ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানার ৩ উইকেট, শরিফুল পেলেন ১

    পিএসএল ম্যাচে পেশাওয়ার জালমি একদমা বিধ্বংসী ক্রিকেট খেলেছে—বিধ্বস্ত করেছে করাচি কিংসকে। জালমি ২৪৬ রানে ইনিংস গড়ে ভারতের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখানোর পর কিংসকে মাত্র ৮৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৫৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়।

    জয়ের মূল কারণ ছিল বোলিংয়ে ধারাবাহিক ওয়ান-টুচারের কাজ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার শীতল ও কনসেন্ট্রেটেড বোলিং দেখবার মতো ছিল। ৪ ওভার বল করে তিনি মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন এবং ২৪ বলে ২০টি ডট বল গড়া তার প্রভাব স্পষ্ট ছিল—ব্যাটসম্যানরা ধরাছোঁয়ার সুযোগই পেল না।

    অফ স্পিনে ইফতিখার আহমেদও দুর্ধর্ষ ছিলেন—৩ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৯ রানে। এছাড়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামও পাওয়ার প্লেতে আঁটসাঁট বল করে ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ডেভিড ওয়ার্নারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দলের ভালো শুরু এনে দেন।

    বাতিল করে দেওয়ার মতো এক ব্যাটিং কীর্তি ছিল কুসাল মেন্ডিসের। ৫২ বলে ১৪ চার ও ৪ ছয় দিয়ে তিনি ১০৯ রান করে ম্যাচসেরা হলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক বাবর আজম ইনিংস জুড়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৫১ বলে অপরাজিত ৮৭ রানে থাকেন, যা দলকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।

    কিংসের ইনিংস শুরুতেই সমস্যা। প্রথম ওভারে ইফতিখার মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে ফেরান। পরের ওভারে শরিফুলের প্রথম বলেই ডেভিড ওয়ার্নার আউট হওয়া ম্যাচের অন্যতম মোড়—ওয়ার্নারকে তার ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারিতে থামাতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, বেটের ওপর থেকে বাউন্ডারি উদ্দেশ্যে গিয়ে অফ সাইডে লেগে যায়। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দৌড়ে এসে ফারহান ইউসুফ দুর্দান্ত ডাইভ করে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন। এ ম্যাচের আগে ওয়ার্নার সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন—আরও একদমই দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় ছিল তার জন্য, কারণ এদিন তিনি প্রথম বলেই ফেরেন।

    কিংসের চেজ শুরু থেকে ধারাবাহিক উইকেট হারায়। নাহিদের প্রথম ওভারে (ইনিংসের পঞ্চম ওভার হিসেবে) আজম খান একমাত্র রান নেন; দ্বিতীয় ওভারেই নাহিদ সাদ বেগকে শর্ট বল টপ করার চেষ্টা করতে গিয়ে ওপরে তুলে দেন এবং নিজেই ক্যাচ ধরেন—এটাই নাহিদের দ্বিতীয় ওভার থেকে তার প্রথম উইকেট। পরে ১৪তম ওভারে তিনি খুশদিল শাহকে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়তে দেন এবং একই ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকেও সরাসরি বোল্ড করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। নিজের কোটার শেষ ওভারে নাহিদ কেবল এক রান খরচ করে বোলিং শেষ করেন।

    মোটের ওপর ইফতিখার ও নাহিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শরিফুলের পাওয়ার প্লে আক্রমণই কিংসকে ভেঙে দিয়েছেন। নাহিদের আগের ম্যাচে (হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে) ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন—তবে আজ তিনি চমক দেখালেন। আর আসরে শরিফুলও আগের দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন; আজ তাঁর বোলিং ফের দলের জন্য ফলপ্রসূ প্রমাণিত হল।

    মোটকথা, পেশাওয়ার জালমির ব্যাটিং–বোলিং মিলেই এ দারুণ জয়। কিংসের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক, আবার জালমির হয়ে কুসাল মেন্ডিস ও নাহিদ রানার প্রদর্শন বিশেষভাবে দৃষ্টিগ্রাহ্য ছিল।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপনের একটি মামলায় সুপারস্টার সালমান খান সাময়িক রেহাই পেয়েছেন। অনুপস্থিত থাকার কারণে একাধিক শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন-২ এ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশকে রাজস্থান হাই কোর্ট স্থগিত করেছেন, ফলে আপাতত комиссии হাজিরা থেকে তিনি মুক্তি পান।

    এই মামলাটি করেছিলেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল। অভিযোগ ছিল, একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনটিতে পণ্যকে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ এবং ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ বলা হলেও তা বাস্তবে সেভাবে মিশ্রিত ছিল না এবং এই ধরনের দাবি গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে। অভিযোগ তুলে বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন পুরো পণ্যের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে জয়পুর ও কোটা শহরে বিলবোর্ডসহ বিজ্ঞাপন পড়ে, যা দেখে কমিশন মনে করেছে তাদের নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে।

    এদিকে সালমান বর্তমানে নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত; শুটিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। রাজস্থান হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ যতক্ষণ বলবৎ থাকবে, ততদিন কমিশনে হাজিরার বাধ্যবাধকতা মুলতুবি থাকছে।

  • বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী, গুণী চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত তার সময়ের সর্বাধিক প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে পরিচিত। নব্বই দশকে মঞ্চ থেকে টিভি ও সিনেমা—সব মাধ্যমেই দর্শককে মুগ্ধ করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হন বিপাশা। আলাপকালে তিনি তার ক্যারিয়ার, ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সিনেমা সংক্রান্ত নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন।

    সঞ্চালক জানতে চান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সময়ের পর বলিউড থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন কি না। বিপাশা জানান, বলিউডের যে প্রস্তাব এসেছিল তা সময়তাড়াতাড়ি নয়, বরং পরে এসেছে। সেটি ছিল একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। যদিও সিনেমার নাম তিনি মনে করতে পারেননি, ফোন করে যে ব্যক্তিটি যোগাযোগ করেছিলেন—তার নম্বরটি এখনো বিপাশার ফোনে সেভ আছে এবং তাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বলিউড প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিপাশা বলেন যে তিনি কখনোই তার দেশের মানুষকে ছোট করতে চাননি। দর্শক যারা তাকে এতোটাই গ্রহণ করেছেন, তাদের ভালোবাসা তিনি অত্যন্ত মূল্যবান মনে করেন। যদি কাউকে দেখাতে হয় যে তিনি বিদেশে ছোট বা তুচ্ছ কোনো চরিত্রে যাচ্ছেন, তখন তিনি তা বরণ করতে রাজি নন।

    তিনি আরও বলেন, নিজেকে তিনি এক ধরনের পাবলিক ফিগার হিসেবে দেখেন এবং এই ভূমিকার সঙ্গে একটি বড় দায়বোধ জড়িত। প্রতিটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব বহন করা উচিত—এটাই তার নীতিমালা। মানুষের ভালোবাসা তাঁর কাছে “অত্যন্ত পবিত্র” এবং সেই ভালোবাসার মূল্য ধরে রাখতে তিনি সচেষ্ট থাকেন।

    পডকাস্টে বিপাশার কথাগুলো থেকে স্পষ্ট হলো, বিদেশি প্রস্তাব থাকলেও তিনি সবসময় নিজের দেশের দর্শক ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে ফিরে তিনি আবারও শিল্পের নানা কাজে মনোনিবেশ করবেন বলেই ইঙ্গিত দেন।

  • সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ ঘোষণা

    সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ ঘোষণা

    ঈদের আনন্দের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহ প্রেমীদের জন্য একটি দুঃখের সংবাদ আসছে। রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাস ঘোষণা করেছে যে, ৫ এপ্রিল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে তাদের সব সিনেমার শো বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি তাদের জন্য একটি জরুরি পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি সাম্প্রতিক নির্দেশনার কারণে প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধের নির্দেশনা থাকায় সিনেমা হলের মূল সময়ের শোগুলোতেও বাধ্য হয়ে স্থগিত করা হচ্ছে। সাধারণত, সন্ধ্যার পরের শোগুলো প্রেক্ষাগৃহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ সময় माना হয়। এই সময়ের শো বন্ধ হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক ও হতাশা। বিশেষ করে, যারা ঈদের ছুটিতে সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের প্রত্যাশা ভঙ্গের ঘটনা। ব্লকবাস্টার সিনেমাসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যার পরের শোতে আগাম টিকিট কাটা থাকলেও, ওই টিকিটগুলো অন নিয়মে ফেরত দেওয়া হবে। অন্যদিকে, দেশের আরেক বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা এই সরকারি নির্দেশনা তার দৃষ্টিতে দেখছে এবং আপাতত ৫ ও ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পরের সকল সিনেমা স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। এছাড়া, অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করায় দর্শকদের রিফান্ডের জটিলতা এড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, শুধু বড় মাল্টিপ্লেক্স নয়, দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহগুলোও এই সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা চলমান সিনেমা বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

  • ধুরন্ধর ২ : ১৭ দিনে আয় হয় কত টাকা, ধরাছোঁয়ার বাইরে কেমন সফলতা

    ধুরন্ধর ২ : ১৭ দিনে আয় হয় কত টাকা, ধরাছোঁয়ার বাইরে কেমন সফলতা

    বলিউডের স্পাই থ্রিলার সিনেমা ধুরন্ধর ২ তিন সপ্তাহ পার হলেও বক্স অফিসে সফলতার শিখরে অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি স্যাকনিল্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটির মুক্তির তৃতীয় শনিবারে প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এই সংখ্যা দেখিয়েছে, সিনেমাটি এখনও দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম সপ্তাহের শেষের দিকে সিনেমাটির কালেকশন ছিল প্রায় ৬৭৪.১৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সপ্তাহে তার মোট আয় যোগ হয় ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। এই সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতে সিনেমাটির মোট আয় প্রায় ১২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

    আশার কথা, চলমান ধারাটি ধরে রাখতে পারলে খুব দ্রুত সিনেমাটি ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দ্য রারআরআর, কল্কি ২৮৯৮ এডি, কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২, জওয়ান, পাঠান, স্ত্রী ২ ও অ্যানিমেল-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর মোট আয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বা তার থেকেও এগিয়ে গিয়েছে এই সিনেমা। যেখানে এই সিরিজের প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে আয় করেছিল ১,৩০০ কোটি টাকার বেশি।

    প্রথম কিস্তিতে রণবীর সিং হামজার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, একজন ভারতীয় গুপ্তচর। এবার দ্বিতীয় কিস্তিতে মূলত জাসকিরাত সিং রঙ্গির সংগ্রামের গল্প দেখানো হয়েছে এবং দেখানো হয়েছে কিভাবে সে বিভিন্ন পরিস্থিতির মাঝে অস্ত্রের বদলে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য রূপান্তরিত হয়।

    অদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিং ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন রামপাল, মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এছাড়াও, দানিশ পান্ডো, উদয়বীর সান্ধু ও অন্যান্য শিল্পীর উপস্থিতি থাকলেও এক বিশেষ আকর্ষণ যোগ করেছে পরিচালক অদিত্য ধরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের ক্যামিও। এটি সিনেমা প্রেমীদের জন্য একটি বিশাল বিনোদন ও প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আরএস ফাহিমকে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আরএস ফাহিমকে

    হত্যাচেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় যুক্ত থাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্টান্ট রাইডার আরএস ফাহিম চৌধুরীকেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    আদালতে আসামি ফাহিমকে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তার গ্রেপ্তারি হওয়ার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানুভব আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তার পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে পুলিশ তাকে পুলিশি পাহারায় আদালত হাজতখানায় নিয়ে যায়।

    এর আগে, রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলের দিকে রাজধানীর মিরপুরে চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে। পরে সেখানে থাকাকালে তাকে শাহ আলী থানায় সোপর্দ করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ গুলশান থানার মো. ইমরান হত্যা মামলায় তার নাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

    সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের বচিলা এলাকায় র‌্যাবের কোয়ার্টারের সামনে মিছিলের সময় গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে আহত হন মাসুদ হোসাইন, যার চিকিৎসা এখনো চলমান এবং বুকে ইনফেকশনের কারণে অপারেশনও করতে হয়েছে।

    অতীতে, গত বছরের ২৪ আগস্ট, আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বেসরকারি টেলিভিশনের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আরেস্ট করার পর তাকে একই বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নিহত আসাদুল হক বাবু হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনার পর থেকেই তরুণ প্রজন্মের স্টান্ট রাইডার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নাম শোনা যায়। গত বছর জুলাই থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে তার নাম উঠে এসেছে, যা সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

  • সালমান খান মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন

    সালমান খান মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন

    ঘাড়ের ওপর পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলা নিয়ে নিজেকে জড়িয়ে অনেক দিন ধরেই চাপে ছিলেন সালমান খান। একের পর এক শুনানি এড়িয়ে যেতে থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তবে এবারে তিনি অল্প সময়ের জন্য হলেও থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল সালমানের। কিন্তু রাজস্থানের হাই কোর্ট এই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়, ফলে তিনি নির্দিষ্ট দিনে কমিশনের সামনে হাজিরা দিতে পারলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হয়নি।

    সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল, যিনি বলেন, একটি পানমশলা বিজ্ঞাপনে কাজ করার জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটিতে বলা হয়, পণ্যগুলোকে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ ও ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ হিসেবে দেখানো হলেও আসলে তা সে রকম নয়। এই দাবি ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে চেয়েছিল পণ্যগুলো সবুজ এবং নিরাপদ হিসেবে।

    বছর শুরুতেই উপভোক্তা কমিশন এই পণ্যগুলোর প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো হয়। কিন্তু পরে জয়পুর এবং কোটা শহরে বিলবোর্ডসহ নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যা কমিশনের নির্দেশ অমান্য বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।

    অন্যদিকে, সালমান বর্তমানে তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত, যার শুটিং ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এই ছবির প্রথম নাম ছিল ‘ব্যাটেল অফ গলওয়ান’, তবে ছবি মুক্তির সময় এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।