বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করে আসছে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত ডিসিপ্লিন হলো পুরুষ হকি। এবারে জাপানে অনুষ্ঠিত হওয়া আইচি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হকির অংশগ্রহণের ব্যাপারে বেশ উদ্বেগ ছিল, কারণ তারা স্থান নির্ধারণী কাপের প্লে-অফে হংকংয়ের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। তবে শেষমেশ টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ দল, ফলে তারা এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের জন্য নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচটি ছিল নাটকে ভরা। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ৪-৪ গোলে ড্র করে, তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম শটে বাংলাদেশের রকি ব্যর্থ হলে হংকং এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে হকিতে না খেলার ঝুঁকি দেখা দেয়। তবে বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক বিপ্লব কুজুর দুর্দান্ত সাফাই করে দুটি শট বন্ধ করে দেন, ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। চতুর্থ শটে যদি বাংলাদেশ সফল হতেন, ম্যাচ তারা সহজে জিতে যেতে পারতেন। কিন্তু সেই সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ, হংকং আবার সমতা আনে পঞ্চম শটে। শেষ শটে বাংলাদেশ সফল হলে তারা জয় লাভ করে এবং এশিয়ান গেমসের বাছাই পর্বের মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। তাতে করে ছয়টি দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারবে, যার ফলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়।
প্রথমে বাংলাদেশের দলে খেলোয়াড় রকি ও আমিরুলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। তবে হংকং প্রথম কোয়ার্টারে একটি গোল শোধ দেয়। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোন দল লক্ষ্য করে না, ফলে বাংলাদেশ ২-১ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায়। তৃতীয় কোয়ার্টারে হংকং গোল করে সমতা আনলেও, চতুর্থ কোয়ার্টারে আশরাফুলের গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার লিড নেয়। কিন্তু সেই লিড বেশিদিন টেকা হয়নি, হংকং চতুর্থ কোয়ার্টারের শেষের দিকে আবার সমতা ফেরায়। আশরাফুল পুনরায় গোল করলেও হংকং এক মিনিটের মধ্যে পেনাল্টি স্ট্রোকে সমতা আনে। শেষের দশ মিনিটে বাংলাদেশের তিনটি পেনাল্টি কর্নারও গোল হয়নি, যার ফলে খেলা টাইব্রেকারে যায়।
টাইব্রেকারে বাংলাদেশ থেকে পঞ্চম শটটি নিয়েছিলেন রাব্বি, তিনি গোল করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয় দেশের জন্য বড় স্বস্তির কারণ, কারণ দেশের ইতিহাসে বহুবার তারা এশিয়ান গেমসে হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে এবারে দল বেশ বাজে পারফরম্যান্স করলেও, শেষ পর্যন্ত দরকারি জয় তুলে এনে তারা নিশ্চিত করেছে তাদের অংশগ্রহণের মর্যাদা।
