বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তামিমের অধীনে বোর্ডটি ভারতের জন্য বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হচ্ছে, যা সম্ভবত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মনোভাবের পরিবর্তন সূচিত করছে।
বিশেষ করে, এই উদ্যোগ মূলত দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেটের বিপর্যস্ত সম্পর্কের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে, ভারতের বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি ঢাকার নতুন প্রশাসনের কূটনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক আবার ফিরিয়ে আনা যায়।
প্রসঙ্গত, গত কিছু সময়ে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, যখন নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। ভারতের ম্যাচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ফলে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে, যা দুই দেশের ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই ১১ সদস্যের কমিটিকে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বোর্ডের প্রশাসনিক সংস্কার ও পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে, যেখানে সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বুলবুল আইসিসির কাছে হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলেছিলেন, তার অপসারণ সরকারি হস্তক্ষেপ ও আইসিসির নীতিমালা লঙ্ঘন। যদিও আইসিসি সূত্রগুলো বলছে, এই আবেদনের গুরুত্ব বেশ কম, কারণ তার অবস্থানে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বুলবুল আইসিসিকে জানিয়েছিলেন, সরকারি নির্দেশনায় দল ভারতে যেতে পারেনি। এখন একই সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আইসিসির সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছেন।
আইসিসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটি সত্যিই অবাক করা পরিস্থিতি। এই একই বোর্ডের সভাপতি কয়েক বছর আগে আইসিসির চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকারের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেননি। এখন আবার সরকারি হস্তক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে আইসিসির সুরক্ষার জন্য আবেদন করছেন—এটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
