Blog

  • ২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআরে বিশ্লেষণ: সংকটের চিত্র

    ২০২৪ সালে ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআরে বিশ্লেষণ: সংকটের চিত্র

    ২০২৪ সাল বাংলাদেশ ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জে ভরা সময়। বছরজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন প্রভাবের কারণে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকই নিট মুনাফা অর্জনে পিছিয়ে পড়ে। এমনকি, বেশ কিছু ব্যাংকই পুরোপুরি লোকসানে চলে যায়। এর ফলে, ব্যয় কমের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সামগ্রিকভাবে চরম অর্থনৈতিক চাপে পড়ে সিএসআরের জন্য কেবল ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ কম। এটি গত দশকে সর্বনিম্ন সিএসআর ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে, ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার মতো। অর্থাৎ, এক দশকের মধ্যেই এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকের বেশি কমে গেছে, যা একটি ভয়ঙ্কর নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় করা হয়েছে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। এই দুই বছরের মধ্যে মোট সিএসআর ব্যয়ের হার কমে গেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে এই অর্থনৈতিক তুলনায় অবনতির প্রভাব ছিল সর্বোচ্চ। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং পরবর্তী সরকারে পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে নানা ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট, অর্থ পাচার ও খেলাপি ঋণের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এর ফলে, ব্যাংকগুলোতে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়, যেখানে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, যেখানে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের চাপে পড়ে। এর ফলস্বরূপ, এসব দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে কিছু ব্যাংককে একীভবন বা মিউচুয়াল সমন্বয়ের পরিকল্পনা নেয়া হয়।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর খাতে ব্যয়ের ইতিহাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনও খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় নানা ধাপে ও চাপে ব্যাংকগুলোকে উন্নয়নমূলক কাজে অপচয় বা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতো। অনেক সময় এসব ব্যয় সরাসরি সিএসআর পরিকল্পনার আওতার বাইরে চলে যেত। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন ও আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পরে নানা ধরনের চাপ কমে গেছে এবং ব্যাংকগুলো এখন চিনাকী সিদ্ধান্তে ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক সময়ে ব্যাংকগুচ্ছ অব্যবহারযোগ্য ও অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় করে, যা মূল উদ্দেশ্য বা সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষতি করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশকে সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয়ের কথা বলা আছে। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য সামাজিক কাজের জন্য বরাদ্দ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ব্যাংক নানা কারণে এই নির্দেশনা মানেনি। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো মোট ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ ‘অন্য’ খাতে ব্যয় করেছে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতের জন্য সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসেনি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, বছরজুড়ে মোট ১১টি ব্যাংক কোনো অর্থ সিএসআরে বরাদ্দ করেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উপসংহারে, ২০২৪ সালে দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকের লোকসভা, দুর্বলতা, ও সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক হ্রাস একদিকে সবকিছুকে এক ধরনের সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো সঠিক দিশা খুঁজে পাওয়া ও টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে।

  • বিএনপি সরকারের পথনির্দেশ নতুন ফ্যাসিবাদ: জামায়াত আমিরের সতর্কতা

    বিএনপি সরকারের পথনির্দেশ নতুন ফ্যাসিবাদ: জামায়াত আমিরের সতর্কতা

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে এক ধরনের স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। তিনি এটিকে কার্যত একটি নতুন ফ্যাসিবাদামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা অলিখিত বাকশালের মতোই বলিষ্ঠ এবং চাপের মাধ্যমে সভ্যতা ও গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, অন্তরীপে বর্তমানে চালু স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পরেও সংশ্লিষ্ট দমনমূলক নীতি অব্যাহত রয়েছে। এই ধরণের অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য তিনি সরকারকে জরুরি সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন, অন্যথায় আরও কঠোর বিপদ দেখা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন। জামায়াতের এই নেতা গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদে অধিবেশনশেষে সংসদ মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি গুমের প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিলগুলো পাসের বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। শফিকুর রহমান জানান, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের Hak ও অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিরোধী দল তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিতে গেলে সংসদে তাদের কথা শোনার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বললেও বিরোধীদের জন্য নির্ধারিত সময় কয়েক মিনিটের বেশি রাখা হয় না, যা সাংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধের এক অপপ্রয়াস। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাইলেও বর্তমান সরকার এমন বিল পাস করছে, যা দিয়ে বিচারক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ কিছুটা স্বাধীন ছিল, তা বর্তমান সরকার বাতিল করে পুরনো ব্যাবস্থায় ফিরছে। এর ফলে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের অপ্রতিরোধ্য হস্তক্ষেপ স্পষ্ট হচ্ছে, যা অতীতে বিচারপতি খায়রুল হক ও মানিকের মতো বিচারকদের দলীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দমনমূলক পরিস্থিতি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে অংগীসভার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ভেঙে দেয়া হচ্ছে। বিএনপি তার ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় স্পষ্ট করে বলেছিল, নিরপেক্ষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কিন্তু বর্তমান সরকার অযৌক্তিক কারণ ছাড়া সব স্তরে দলীয়করণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এদিন শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন জামায়াতের এই নেতা, তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরার নির্বাচন যখন কলঙ্কজনক হয়ে ছিল, আজ শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে তেমনই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে। এই নির্বাচনও একটি নিঃসন্দেহে দুর্নীতিপূর্ণ ও অপ্রতুল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই নির্বাচনে দলের কর্মী খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমাদের একজন কর্মী হত্যা করা হয়েছে, আরেকজনের সুস্থতার জন্য দোষীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেন। ডা. শফিকুর রহমান আশ্বাস দেন যে, তারা সংসদে যাবে ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে কথা বলবে। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোন আইন পাস হয়, তারা প্রতিবাদে গর্জে উঠবে। তিনি বলেন, জনগণ অতীতে ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ আবার এমন করার অপচেষ্টা করে, জনগণের সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানো হবে ইনশাআল্লাহ। এই সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন শীর্ষ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা, আর জমা দেওয়ার সময় আগ্রহী প্রার্থীরা ৫০ হাজার টাকা জামানত দেবেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, আরিফা সুলতানা রুমা সহ অন্য নেতাকর্মীরা। রিজভী আরো বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে, নির্যাতিত ও ত্যাগী নারী নেত্রীদেরই বিএনপি মূল্যায়ন করবে সংরক্ষিত নারী আসনে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি গণতন্ত্রের ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, তিনি জানান, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। বিএনপির মুখপাত্র রিজভী বলেন, বিরোধী দল থাকায় বিএনপি নারী নেত্রীদের কারাবরণের পাশাপাশি নানা রকম নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন বোর্ড এসব বিষয় বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে—এটাই দলের প্রত্যাশা। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের সময় শিক্ষকতা, আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংসদে কার্যকরভাবে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।

  • শেরপুর ও বগুড়ায় ভোট ডাকাতি ও বিশৃঙ্খলা: গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ

    শেরপুর ও বগুড়ায় ভোট ডাকাতি ও বিশৃঙ্খলা: গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ

    শেরপুর ও বগুড়ায় উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘাটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এসব অরাজকতা বিএনপির জন্য এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে, যা একদিকে সরকার ও অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে হার মানিয়েছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা, বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শেরপুর-৩ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পরিবর্তে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, নির্বাচন পূর্বে বিএনপি বলেছিল, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা দুর্বারভাবে তা মানবে। কিন্তু ভোটের ফলাফল আসার পর তারা গোপনভাবে এই ভোটের ফলাফলের সাথে বেঈমানি করছে এবং আদেশ বাতিলের মাধ্যমে দেশপ্রেমের ওপর চরম আঘাত হানছে। তিনি এতে গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি শাসনামলে ‘মাগুরা মার্কা’ নামে পরিচিত নির্বাচন কAgain ফিরে এসেছে শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দৃশ্য মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার পরও কমিশন দাবি করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, যা দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা।

    জামায়াতের এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী রাখা সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে বিএনপিকে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

    সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হোসান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।

    নামাজের পরে, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় যা পল্টন মোড় এবং বিজয়নগর গোলচত্বরের দিকে গড়ায়। এই বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

  • বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট, সংসদে থাকলেও নাগরে নেই

    বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট, সংসদে থাকলেও নাগরে নেই

    দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “এনার্জিতে এখন হাহাকার। তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে তা নেই।” শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই সেমিনারটির আয়োজন করে এ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ, যেখানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী।

    শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না। এর ফলে কালোবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বল্পতার অসাধু সিন্ডিকেটের প্রভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এবং মাঝেমধ্যে কিছু অভিযান চালানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, যখন সংসদে ইনকামবেন্ট মন্ত্রী বা সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কেউ বক্তব্য দেন, তখন মনে হয় বাংলাদেশ তার জ্বালানি সম্পদ নিয়ে ভাসছে।

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দিকে লক্ষ্য রেখে তিনি পরামর্শ দেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যতই চলুক না কেন এর প্রভাব আরও কিছু মাস অব্যাহত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সমন্বিত পরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে হবে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনদের কাছে সিন্ডিকেটদের পোষণের অভিযোগ রয়েছে, আর উন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নিজেদের নির্ভরতা কমাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে এর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

    ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই খাতটি এখন লুটেপুটে খাওয়ার পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য জরুরি প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    সেমিনারে তিনি আরও বলেন, কৃষির অবনতি মানেই দেশের বিপর্যয়। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে হলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে ভবিষ্যতে উন্নতির আশার কথা ব্যক্ত করেন।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি এখন জনগণের কথা ভুলে গেছে। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য রাখেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, শ্রমিকেরা রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও অগ্রগতি সাধন করেছে। ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থান, এমনকি ২৪শে মার্চের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শ্রমিকদের সংখ্যাই বেশি। শ্রমজীবী মানুষের এই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, নতুন সরকার গঠিত হলেও তারা শ্রমিকদের রক্তের মূল্য না দিয়ে জনগণের আস্থা ও ভোটকে উপেক্ষা করেছে। এই সরকারের গণবিরোধী কার্যক্রমের জন্য জনগণ ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ।

    তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা কোনো অধ্যাদেশকে এখন আইন হিসেবে পরিণত করার বা সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি বিএনপি রাখতে পারেনি। এর ফলে রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়বে এবং শ্রমিকের অধিকার সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    নাহিদ দাবি করেন, বর্তমানে আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আছি। যেখানে আমাদের লক্ষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ তৈরি করা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের সবখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা, এবং নতুন বন্দোবস্তের ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের পথে আছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, শ্রমিকদের সতর্ক করে দেন, তারা যেন একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুতি নেয়। শুধুই সংসদ নয়, রাজপথেও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে যাতে জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকের অধিকার সকল দাবি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়।

  • দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা

    দূরপাল্লার ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা

    সরকার পর্যটন উন্নয়নে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে দেশের সব বিমানবন্দর এবং দূরপাল্লার ট্রেনে বিনামূল্যে ওয়াইফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরুর পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে, বর্তমানে দেশের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতেও বিনামূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হচ্ছে।তিনি জানান, দেশের সব বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশনসহ দূরপাল্লার ট্রেনগুলোর জন্য পর্যায়ক্রমে এই ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালুর কাজ শুরু হয়েছে। একই সাথে পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে এই সুবিধার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে, পর্যটকদের সাথে ব্যবসায়ী ও শহরের বাসিন্দারা সৌজন্যমূলক আচরণ করলে এই উদ্যোগে সফলতা আসবে।সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতেও গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা দ্রুত চালু করতে হবে। এতে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ ও জরুরি যোগাযোগ সহজ হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।সভায় প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব জোরদার করে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেটের বিস্তার, ফ্রিল্যান্সিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিখানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়।

  • স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার

    স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দপ্তরি গ্রেফতার

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক স্কুলছাত্রী অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তার শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম জানান, মেয়েটির শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, পরীক্ষায় ধর্ষণের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। অপরদিকে, এই ঘটনায় মেয়েটির মা শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে মিরপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন, যেখানে বিদ্যালয়ের দপ্তরি হামিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। শনিবার দুপুরে মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আর এম ও হোসেন ইমাম বলেন, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার শরীরের পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। গাইনি ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার সুষ্মিতা বিশ্বাস জানান, মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মিরপুর উপজেলার একটি স্কুল থেকে অচেতন অবস্থায় ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। প্রথমে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই দিন স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও ওই শিশু বাড়ি ফিরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ নিতে গিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দপ্তরির কাছ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিশুটির খোঁজ করেন।

  • সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আশ্বাস দিয়েছে: তারেক রহমান

    সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণের আশ্বাস দিয়েছে: তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জনগণকে আশান্বিত করেছে। তিনি রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর একটি দরবারে অংশগ্রহণকালে এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে সংগঠিত ছিলেন ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যরা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কখনও নির্বাচন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরো স্বচ্ছ ও পেশাদার হতে হবে।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সামরিক আধুনিকায়নে অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে কোনো শক্তি বাংলাদেশকে পরাস্ত করতে পারবে না। জিয়াউর রহমান যে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীতে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়। বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে তিনি জানান। তিনি মন্তব্য করেন, যদি বাহিনী শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

    তারেক রহমান আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও ঘটনাক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পরে নানা কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা বাড়ানো হয়।

    বিশেষ করে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সফলভাবে অংশগ্রহণ করানোর জন্য বিএনপি সরকারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো ব্যক্তির বা দলের সম্পত্তি নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে।

    অতিরিক্ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও সকল মানুষের উন্নয়নেও আমরা মনোযোগী। বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং এই সরকার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারেক রহমান শেষত: বলেন, দেশের সামগ্রিক স্বার্থে এবং মেরামতের লক্ষ্যে তারা এই কাজগুলো অব্যাহত রাখবে।

  • শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে নয়, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার

    শুধুমাত্র করোনার বিরুদ্ধে নয়, হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার দৃढ़ভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১৮টি জেলাকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ৩০টি উপজেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইলের এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকার বড় সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য এলাকায়ও এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ২০ তারিখ থেকে বাংলাদেশের সব জেলায় এই হামের টিকাদান অভিযান চালানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে আমাদের দ্রুত এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, আমরা সবাই একসঙ্গে এই মহামারি থেকে মুক্তি পেতে সংগ্রাম করছি। জনগণের স্বপ্ন ছিল, স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সেটি ধরে রাখতে আমাদের এই কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমরা জনগণের জন্য সব সময় নিবেদিত থাকি। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও তাদের কাজের ফল দেখানোর মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাস আরও জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা গভীরভাবে সচেতন।

    তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ বলে থাকেন, রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় উপস্থিত হয়, তারপর তারা কম যায়। এই ক্যাম্পেইনটি তাই এক সুযোগ, যাতে আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সত্যিকারের তথ্য পৌঁছে দিতে পারি।

    অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, সঠিক তথ্য দিয়ে যখন জনগণের কাছে যাব, তখন তারা সত্যটি বুঝতে পারবে। অতীতেও আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন।

    মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে দেখছেন, তাদের অবশ্যই এই টিকা দিতে হবে। এই টিকা কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করছে আপনার শিশুটি এই টিকা নিয়েছে কি না। এই টিকা ছাড়া আমাদের সন্তানের নিরাপত্তা সম্ভব নয়।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়, তাই সময়মতো টিকা দিয়ে এটি প্রতিরোধ করাও সহজ। এটি মূলত গোষ্ঠী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার বড় অংশকে টিকার মাধ্যমে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা হয়। বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকাদানে সফল হলে হাম করার সুযোগ কমে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনও জেনারেল হাসপাতাল নেই, তবে মহাখালীতে আমাদের একটি হাসপাতাল রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত। তিনি বলেন, আমরা চাই, এই হাসপাতালটি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করে সাধারণ জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সম্পন্ন করতে। এর জন্য আমরা পরিদর্শন করে সেখানে কিছু অব্যবস্থা নজরে এনেছি; একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলমান।

    উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধিদলের সদস্যসহ আরও অনেকে।