Blog

  • আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যে কেন যাননি সালমান-শাহরুখ?

    আশা ভোঁসলের শেষকৃত্যে কেন যাননি সালমান-শাহরুখ?

    সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয় — পুরো বলিউড শোকের ঢেউয়ে ভেসে উঠেছিল। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পী শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন; রণবীর সিংসহ বহু তারকা শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে এলেও দুই সুপারস্টার—সালমান খান ও শাহরুখ খান—অনুপস্থিত ছিলেন, যা অনেকের কাছে বিস্ময় ও ক্ষোভের কারণ হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়ই মুম্বাইতেই ছিলেন সালমান ও শাহরুখ। কিন্তু জনসমক্ষে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তারা শেষকৃত্যে যাচ্ছেন না—এমনটাই বলা হচ্ছে। তাদের পক্ষে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    তবুও তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। শাহরুখ লিখেছেন, “এটা খুবই দুঃখের যে আশা তাই চলে গেছেন। তার কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার একটি স্তম্ভ ছিল এবং আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত গোটা বিশ্বে তার ছাপ থাকবে।” অন্যদিকে সালমান লিখেছেন, “এটি ভারতীয় সংগীতের জন্য একটি বিশাল ক্ষতি। আশা জির কথা শুনে আমি মর্মাহত। এক অপূরণীয় কণ্ঠ—তাঁর গান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”

    আশা ভোঁসলে গত 12 এপ্রিল মারা যান। তার আগে 11 এপ্রিল শারীরিক অস্বস্তি বোধ করে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে; তখন আশার দ্রুত সুস্থ হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। দেশের ও শিল্পজগতের শোকের মুহূর্তে তার অবদানের কথা স্মরণ করে শিল্পসাহিত্যিক ও শ্রোতারা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

  • জুমার খুতবা চলাকালে মসজিদে লুটিয়ে পড়ে মুসল্লির মৃত্যু

    জুমার খুতবা চলাকালে মসজিদে লুটিয়ে পড়ে মুসল্লির মৃত্যু

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে জুমার নামাজের খুতবা চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ায় আসলাম হোসেন (৫৬) নামে এক মুসল্লি মারা গেছেন।

    ঘটনাটি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঘটে। মৃত আসলাম শহরের নতুন বাবুপাড়া এলাকার সিংগি পুকুর মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজের জন্য মসজিদে উপস্থিত থাকা অবস্থায় খতিবের বয়ান চলছিল। ওই সময়ে আসলাম হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা মুসল্লিরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মনতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘‘জুমার বয়ান চলাকালীন এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু আমাদের জন্য অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু পবিত্র দিনের আল্লাহর ঘরে ইবাদতের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা এক বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।’’

    খতিব আরও জানান, এশার নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে তাকে হাতিখানা কবরস্থানে দাফন করা হবে।

  • মোহাম্মদপুরে রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ; পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে

    মোহাম্মদপুরে রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ; পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে করা আপত্তিজনক মন্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে তীব্র বিক্ষোভ হয়। এলাকায় একত্রিত হওয়া বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সঙ্কটাপন্ন রূপ নেয়।

    উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভের সময় রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে জনি নন্দীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভ মোকাবিলায় উপস্থিত থেকে উত্তেজনা ঠেকাতে তৎপর থাকে এবং আশেপাশের এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, রাশেদ প্রধানের মন্তব্যের বিরোধিতায় অনেকেই রাস্তায় নেমে বসেন; অভিযোগ ওঠে যে জনি নন্দী সেখানে জনতাকে উসকানি দিয়েছিলেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছিল। এ ঘটনার পর পুলিশ তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

    পুলিশ বিষয়টি জোরালোভাবে তদন্ত করছে এবং আরও কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জারি রাখা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ যে সিদ্ধান্ত নিবে তা পরে জানানো হবে।

  • সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা পেল না বিরোধীদল: জামায়াত আমির

    সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা পেল না বিরোধীদল: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সংসদের প্রথম দিনের স্পিকারের ভাষণ থেকে যে নিরপেক্ষতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবে বিরোধীদল বিলকুলই পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে তাদের সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হতে হয়েছে, তিনি জানান।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনা করে শেষ করা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটি এসব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মত ছিল, তথাপি তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয়ে আলোচনা রাখা হয়।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘‘এসব অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’’ তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি।

    সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক হয় না, দুই মিনিটে শুধু মন্তব্য পাস করা যায়,’ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষে দীর্ঘসময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, অভিযোগ জানান তিনি।

    ব্যাংকিং খাত নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া সত্ত্বেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ আটকে দেওয়া হয়েছে, তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এরপর তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে। ‘‘ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে,’’ বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার আলাদা চিত্র থাকায় অসংগতি তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকার যেখানে বলছে জ্বালানির সংকট নেই, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং ও জ্বালানির অভাবে মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফার্নেস অয়েলের ঘাটতি অনেক শিল্পকারখানাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে, পরিবহন খরচ বেড়ে জনজীবনে ও দ্রব্যমূল্যে চাপ বাড়ছে এবং চাঁদাবাজির কারণে মানুষ অতিরিক্ত বোঝা অনুভব করছে বলে জানান তিনি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুল থেকেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তাই জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যে সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো আনা হয়েছিল সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে সরে এসে সমাধান খুঁজতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

    শেষে ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সঙ্কটের সৃষ্টি করতে পারে।

  • প্রেসিডেন্ট হ্লেইং সু চির সাজা সাড়ে চার বছর কমালেন

    প্রেসিডেন্ট হ্লেইং সু চির সাজা সাড়ে চার বছর কমালেন

    মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রনেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কমিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। সু চির আইনজীবীর বরাত দিয়ে রয়টার্স গত শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে।

    আইনজীবী জানিয়েছেন, বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় ৮০ বছরের এই নেত্রীকে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল; যার মধ্যে এক-ষষ্ঠাংশ, অর্থাৎ সাড়ে চার বছর (৪.৫ বছর) কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকার গঠন করলেও ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং, যিনি পরে সামরিক সরকারের প্রধান হন। অভ্যুত্থানের পর সু চি ও তার দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী — এমনকি এমপি ও মন্ত্রীরাও — গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

    সু চির বিরুদ্ধে নেইপিদোর একটি সামরিক আদালতে নানা অভিযোগের বিচার চলতে থাকে এবং সব বিচার মিলিয়ে তাকে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সু চির সাজা কমানোর পাশাপাশি মিন অং হ্লেইং নেতৃত্বাধীন সরকার মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে এনএলডি নেতারা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে থাকা উইন মিন্টও আছেন।

    মিয়ানমারে নববর্ষ থিনগিয়ান উপলক্ষে কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ঐতিহ্য আছে; এ রীতি মাথায় রেখেই সম্ভবত ছাড়পত্রগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এই সংবাদের সূত্র রয়টার্স।

  • শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত

    ভারত বাংলাদেশ সরকারের এক অনুরোধ খতিয়ে দেখছে, যাতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবেরত আনার আবেদন সংক্রান্ত বিষয়টি রয়েছে। এটি বাংলাদেশের চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে ভারতীয় পক্ষের কাছে এসেছে এবং বর্তমানে পর্যালোচনার ধাপে আছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনুরোধটি আমরা খতিয়ে দেখছি। বিষয়টি নিয়ে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে ভারত।’

    জয়সওয়াল আরও জানান, তারা ঘটনাপ্রবাহ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় যে, দুইপক্ষই চলমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে গভীর করার নানা প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল আশা ব্যক্ত করেন যে উভয় দেশের বিস্তারিত মতামত জানার জন্য শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    দেশ দুটির আলোচনায় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ইস্যু, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেতে পারে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় পর্যবেক্ষণ ও আকস্মিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী যে কোনো বিবৃতি বা সিদ্ধান্ত দুই দেশের কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

  • ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ নিহত, অন্তত ৩০ আহত

    ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ নিহত, অন্তত ৩০ আহত

    ফকিরহাটে গত সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক মাত্রায় বাড়ছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে ২ জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে অন্তত ১১ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি; মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দুর্ঘটনার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) খুলনা–মোংলা মহাসড়কের পিলজঙ্গের শ্যামবাগাত এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী সুবীর দে (৬৫) নিহত হন। ঘটনাস্থলে আরও একজন আহত হন।

    এর আগে ২ জানুয়ারি ফকিরহাট উপজেলার পালেরহাট এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে; এ দুর্ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার মোঃ সেলিম শেখ (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় বাস চালক মোঃ মুরাদ হোসেন (৪১) ও যাত্রী সোহাগ হাওলাদার (৪৪) গুরুতর আহত হন।

    ১৬ জানুয়ারি দুপুরে টাউন–নওয়াপাড়া এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাইসাইকেল চালক আবিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কৃষক মারা যান। ২২ জানুয়ারি বড় খাজুরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক অজ্ঞাতনামা পথচারী (প্রায় ২৫) নিহত হন।

    ২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় রূপসা–বাগেরহাট পুরাতন সড়কের ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক কৌশিক দেবনাথ (২০) নিহত হন।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ফকিরহাট বিশ্বরোড মোড়ে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ১৫ জন কম-বেশি আহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ফকিরহাট মহাসড়ক এলাকায় বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) মারা যান; এসময় তার স্বামী আতিয়ার রহমান (৫৫) গুরুতর আহত হন।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় বিশ্বরোড মোড়ে কভারভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হাসিব মolla (২৫) নিহত হন। ৭ মার্চ বেলা ১১টায় কাকডাংগা এলাকায় কালভার্টের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় মোটরসাইকেল চালক কে এম ইশতিয়াক আহমেদ (৩৪) নিহত হন।

    ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় টাউন–নওয়াপাড়া মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হন। ১ এপ্রিল সকালে বৈলতলী এলাকায় বাসের চাপায় মোঃ ছাহাদ (১১) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। ৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় পাগলা–শ্যামনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাইক চালক মোঃ ইয়াছিন শেখ (৫৫) মারা যান।

    স্থানীয় সচেতন মহল এবং নিহতদের পরিবারগুলো বলছেন, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, অপর্যাপ্ত দক্ষতা সম্পন্ন চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফকিরহাট বিশ্বরোডে বিভিন্ন রুটের ভারী যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটে; ট্রাফিক আইটেম যেমন ট্রাইব্রেকার বা ওভারব্রিজের অভাবও সমস্যাকে জোর দিচ্ছে। স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানিয়েছেন, বিধি-বিধান ও আইন অমান্য করা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোই অনেক দুর্ঘটনার মূল কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান। স্থানীয়রা চাইছেন — কড়া আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বাড়ানো, সড়ক সংস্কার ও নিয়মিত টহল দিয়ে দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ প্রয়োজন।

  • খুলনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    খুলনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম।

    প্রধান অতিথি উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। তিনি বলেন, এমন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব, উদারতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে ওঠে। এই প্রতিযোগিতা থেকেই উঠে আসবে একঝাঁক উদীয়মান খেলোয়াড় যারা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটকে সামনে নিয়ে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লক্ষ্য থাকা দরকার। আমাদের সততার অভাব না থাকলেও পৃষ্ঠপোষকিত্ব ঘাটতি হচ্ছে, যা মোকাবিলা করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পরিচিতি ক্রীড়া, বিশেষত ক্রিকেটের মাধ্যমে স্থাপিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের সুস্থ থাকতে, নিয়ম-কানুন মেনে চলতে এবং সবাইকে সম্মান জানাতে হবে—এগুলোই সফলতার চাবিকাঠি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শেখ দিদারুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মোস্তাক উদ্দীন, সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক এ্যাডভোকেট মোল্লা আফুরুল ইসলাম, বিসিবির কোর্স মেহরাব হোসেন (অপি), এবং বিকেএসপির কোর্স আছাফুল হক টুলটুল প্রমুখ।

    উদ্বোধনী পর্বে অতিথিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের প্রতি উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য রাখেন। খুলনা বিভাগে মোট ১০টি দল গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচে বিকেএসপি বনাম রংপুর বিভাগ মুখোমুখি হয়। খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় এই টুর্নামেন্ট পরিচালনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

    উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন বিভাগে ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কয়েক জন প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভবিষ্যতে দেশের হয়ে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখার যোগ্যতা প্রমাণ করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

  • ১৫ বছর পর দেশে ওয়ানডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া; জুনে সিরিজের দিনপঞ্জি বদল

    ১৫ বছর পর দেশে ওয়ানডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া; জুনে সিরিজের দিনপঞ্জি বদল

    বাংলাদেশে আক্ষরিকভাবে ১৫ বছর পর ফের ওয়ানডে খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশের মধ্যে শেষ ওয়ানডে সিরিজটি হয়েছিল ২০১১ সালে, তখন সিরিজটি হয় বাংলাদেশের মাটিতে। এবারও মিরপুরে হবে তিনটি ওয়ানডে, তার পর চট্টগ্রামে তিনটি টি-টোয়েন্টি—মোট ছয় ম্যাচে শহীদ হবে সিরিজটি।

    আগের সেট সূচি অনুযায়ী ওয়ানডেগুলো হওয়ার কথা ছিল ৫, ৮ ও ১১ জুন এবং টি-টোয়েন্টিগুলি হওয়া উচিত ছিল ১৫, ১৮ ও ২০ জুন। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আজ জানায় সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী মিরপুরের শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনটি ওয়ানডে হবে ৯, ১১ ও ১৪ জুন। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশের দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে ভেন্যু বদলাতে হবে— তিনটি টি-টোয়েন্টি হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে, তারিখ ১৭, ১৯ ও ২১ জুন।

    ওয়ানডে তিনটি হবে দিবারাত্রির ফরম্যাটে এবং মিরপুরে প্রতিটি ম্যাচ বেলা ২টায় মাঠে শুরু হবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজন করা হবে; সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিটি হবে দিনের আলোতেই, সেটিও বেলা ২টায় শুরুর কথা রয়েছে।

    ইতিহাসও দেখলে দুই দলের সমীকরণ আকর্ষণীয়—সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যান্টিগায়, যেখানে বৃষ্টির নিয়মে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ২৮ রানে হারিয়েছিল। শেষ সিরিজ হিসেবে টি-টোয়েন্টি আদলে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০২১ সালে, তখন অজিরা বাংলাদেশ সফরে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল।

    জাতীয় দলের বর্তমান কর্মসূচিও চোখে রাখা জরুরি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড—মিরপুরে আজ থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়েছে, সোমবার দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরেই এবং তৃতীয় ওয়ানডে খেলানো হবে চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল। এছাড়া প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি ভেন্যুও চট্টগ্রাম, যেখানে ম্্যাচগুলো হবে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল; তৃতীয় টি-টোয়েন্টি মিরপুরে নির্ধারিত আছে ২ মে।

    উল্লেখ্য, জুনে অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ সিরিজের নতুন সূচি নিশ্চিত হওয়ায় ভক্তদের জন্য পরিকল্পনা ও টিকিটসংক্রান্ত বিষয় শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে। ক্রিকেটর ভক্তরা এখন থেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও টিকিটের জন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি নজর রাখতে পারবেন।

  • চোখ ভাসছে: পুণ্যভূমিতে চিরবিদায় আশা ভোঁসলের

    চোখ ভাসছে: পুণ্যভূমিতে চিরবিদায় আশা ভোঁসলের

    ভারতীয় উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে শান্তভাবে মুখাগ্নি দেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে — এই মুহূর্তে নিভে গেল সুরের এক দীপ্ত আলোকরেখা। (সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)

    গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোওয়ার পারলেতে আশা ভোঁসলের বাসভবন দর্শনার্থী ও শ্রদ্ধাসমাগমে পরিণত হয়। আলোর মতো ভিড় ছিল না, বরং পুরো পরিবেশে বিরাজ করে ছিল অগাধ শোক এবং মহৎ শ্রদ্ধার ছায়া। তাঁর বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের কনিষ্ঠ বোন মীনা খাড়িকর সহ আত্মীয়-নাতি অনেকে এসে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

    বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরাও শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন — অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেট সুপারস্টার সচীন টেন্ডুলকার, সংগীতজ্ঞ এ.আর. রহমান, গাইলেন জাভেদ আলী, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নিতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফসহ বহু তারকা। রাজনৈতিক মঞ্চের প্রবীণ নেতৃবৃন্দও শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন।

    বাসভবন থেকে মরদেহ নিয়ে যেয়ে শিবাজি পার্ক শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। আশা ভোঁসলের প্রিয় সাদা ও হলুদ ফুলে শববাহী গাড়িটি সজ্জিত ছিল এবং রাস্তার দু’ধারে অবস্থান করছিল অসংখ্য ভক্ত ও অনুরাগী। তারা চোখের জলে, ফুলের ঢল নিয়ে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানায়।

    আশা ভোঁসলাকে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর।

    আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন দীর্ঘ ও বর্ণিল। ১৯৪৩ সালে যখন তিনি কর্মজীবন শুরু করেন, তখন থেকে আটদশক ধরেই তিনি সংগীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। কেবল হিন্দি নয়, আরও প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষায় এবং কয়েকটি বিদেশি ভাষায়ও তিনি গান রেকর্ড করেছেন। সিনেমার জন্য মোট ৯২৫টিরও বেশি ছবিতে গান গাওয়ার রেকর্ড রয়েছে, আর অনেকে মনে করেন তিনি মোটামুটি ১২ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন।

    ভারত সরকার তাকে ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে ‘সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী’ হিসেবে স্বীকৃত করে।

    ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোঁসলে প্রথম বিয়ে করেন গণপতরাও ভোঁসলে—তাঁর বয়স তখন ১৬, আর গণপতরাও ছিলেন প্রায় ৩১ বছর বয়সী। এই দাম্পত্য জীবন ১৯৬০ সালে শেষ হয়। পরে ১৯৮০ সালে তিনি গায়ক ও সুরকার আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; ১৯৯৪ সালে আর.ডি. বর্মন মৃত্যুবরণ করেন।

    সংগীতের জগতে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আজ সেই ধারা ক্ষীণ হলেও আশা ভোঁসলের গাওয়া শতশত গাথা হৃদয়ে বেঁচে থাকবে—এই শিল্পীর অমর সুরানুপ্রেরণা চিরকাল সঙ্গী থাকবে কোটি শ্রোতার।