Blog

  • অচেতন অবস্থায় সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

    অচেতন অবস্থায় সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস

    ইউরোপের সিনেমা জগতে এক অনিবার্য শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জনপ্রিয় ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেসের অকাল মৃত্যু সিনেমার পর্দার বাইরেও যেন এক বিষাদের ছন্দ বুনে দিয়েছে। তার জীবনযাত্রার এক নাটকীয় অধ্যায় আজ ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে।

    ১৬ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এই দুর্ভাগ্যজনক খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই ইউরোপীয় চলচ্চিত্র মহলে শোকের রঙে রঙিন হয়ে গেছে পরিস্থিতি।

    পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কেন্দ্রের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেন উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার, তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। لكن সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে তার জীবন শেষ হয়।

    ফরাসি প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা লে ফিগারো জানিয়েছে, এই ঘটনায় তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, আপাতত মনে হচ্ছে এটিতে কোনো অপরাধের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

    নাদিয়া ফারেস আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের জন্য, বিশেষ করে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’ চলচ্চিত্রে। এছাড়া, তিনি ‘মার্সেই’ সিরিজেও অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তার দারুণ পারফরম্যান্স দর্শকদের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করে।

    তিনি ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কাটে ফ্রান্সের নিস শহরে। এরপর স্বপ্নের পেছনে প্যারিসে এসে ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে যোগ দেন এবং অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন।

    অভিনয় সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও, ২০০৯ সালে প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করার পর কিছুদিনের জন্য মিডিয়া থেকে দূরে থাকেন। পরে ২০১৬ সালে আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সে পুনরায় সক্রিয় হন। তার এই জীবনযাত্রার গল্প অনুপ্রেরণামূলকভাবে আমাদের জন্য বিদায়ী এক স্মৃতির পাতায় সমৃদ্ধ হয়ে থাকছে।

  • ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ২০ বছর পূর্তি, প্রকাশ্যে এল নতুন অজানা গল্প!

    ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ২০ বছর পূর্তি, প্রকাশ্যে এল নতুন অজানা গল্প!

    অনুরাগ বসু পরিচালিত বলিউডের কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা ‘গ্যাংস্টার: এই লাভ স্টোরি’ মুক্তির ২০ বছর পূর্তি হতে চলছে। ২০২৬ সালে এটি সেই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করবে। এই আধুনিক ক্ল্যাসিকের জন্মের পেছনের গল্প এবং অজানা সূচনার কাহিনী এখন প্রকাশ পেয়েছে, যা দর্শকদের মনে কৌতূহল আরও বাড়িয়েছে।

    ‘গ্যাংস্টার’ মুক্তির পর থেকে বলিউডের অন্যতম স্মরণীয় সিনেমা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এই সিনেমার পেছনের গল্পগুলোও যেন এক নতুন সিনেমা। সম্প্রতি এর নির্মাতা ও পরিচালক অনুরাগ বসু তার অভিগ্নতায় মুগ্ধ করে সাধারণ দর্শকদের জন্য অজানা কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    অনুরাগ বসু জানিয়েছেন, সিনেমাটির মূল ধারণাটি এসেছিল প্রখ্যাত নির্মাতা মহেশ ভাটের কাছ থেকে। তিনি নিজের এক দর্শনীয় উক্তিতে বলেছিলেন, ‘একজন গ্যাংস্টার তার প্রেমিকা ধোঁকা দিচ্ছে’— এই ভাবনা থেকেই ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার গল্পের সূচনা।

    প্রথমে ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন অনুরাগ। তবে কাজের বিরতিতে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি নিজের মাথায় এই নতুন গল্পটি উদ্ভাসিত করেন এবং দ্রুত তা সম্পন্ন করে ফেলেন।

    সিনেমার ‘সিমরান’ চরিত্রে কঙ্গনা রানাউতকে চূড়ান্ত চয়েস করেছিলেন অনুরাগ। অনেক অডিশন পর, তার মনে হয়েছিল, এই তরুণ অভিনেত্রীই এই রোলের জন্য উপযুক্ত। তবে চিন্তা করা হয়েছিল, আরও ভাল কেউ পাওয়া যায় কি না, এজন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করেছিলেন। অবশেষে, কঙ্গনাই এই চরিত্রের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠেন।

    আশ্চর্যজনকভাবে, এর শুটিং শুরুর সময়ে অনুরাগ বসু ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি মেডিক্যাল ট্যাবুলেশন সত্ত্বেও নিজেকে জেদ ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুটিংয়ে নিয়ে যান।

    ‘গ্যাংস্টার’র আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, সিনেমার বাজেট ছিল মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই কম খরচে কাজ চালানোর জন্য একটি ছোট ইউনিটের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। অনুরাগ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমরা কম বাজেটে কাজ করছিলাম, তাই নিজে হাতে রান্নাও করতাম। আমি ডাল রান্না করতাম আর কঙ্গনা পেঁয়াজ কাটত।’

    অল্প বাজেট, শারীরিক অসুস্থতা এবং নতুন প্রতিভাদের নিয়ে শুরু হলেও, ‘গ্যাংস্টার’ আজ বলিউডের অন্যতম স্মরণীয় সিনেমা। অনুরাগের সাহসী পরিচালনা এবং কঙ্গনা-ইমরান হাশমীর অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে।

    মুক্তির পরপরই ২০০৬ সালের ২৮ এপ্রিল এটি বক্স অফিসে চরম সফলতা অর্জন করে। মাত্র ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬.৮৫ কোটি টাকার বেশি আয় করে।

    গানপ্রিয় দর্শকদের মধ্যে এর সুর বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, বিশেষ করে ‘ইয়া আলী’ গানটি আজও কালজয়ী। এই সিনেমার জন্য কঙ্গনা রানাউত ৫২তম ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে ‘সেরা নবাগত অভিনেত্রী’ পুরস্কারও অর্জন করেন।

    অন্যদিকে, ধারণা করা হয় যে এই সিনেমাটি আংশিকভাবে ভারতের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেমের জীবনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি, মনিকা বেদীর বাস্তব জীবনের সম্পর্কের কিছু দিকও এই সিনেমায় ছায়া ফেলে দেখানো হয়েছে, যা কালজয়ী ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমাকে আরও গভীরতা ও আকর্ষণ যোগ করেছে।

  • বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগে নুসরাতকে তলব

    বাংলাদেশে গম পাচারের অভিযোগে নুসরাতকে তলব

    বাংলাদেশে গম ও খাদ্যশস্যের অবৈধ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানকে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সম্প্রতি তলব করেছে। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, রেশন দুর্নীতি এবং সীমান্ত পথে অবৈধ খাদ্যশস্যের পাচারের একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইডির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের সূত্র বলছে, কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্থানে থেকে বিপুল পরিমাণ গম ও চালের ট্রাক আটক করা হয়, যেখানে অভিযোগ ওঠে এই সামগ্রীগুলো বাংলাদেশে অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল। নুসরাত জাহান তখন বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন, ফলে তার ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা বিষয়ক তদন্ত চলছে। তবে, এই তলব কোনো গ্রেপ্তারি নির্দেশনা নয়; এটি শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এখনো নুসরাতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় গম ও রেশন দুর্নীতির বিষয়টি আবারো আলোচনায় এসেছে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার বিরুদ্ধে।

  • হলিউড তারকা অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে আলোচনায় নেট দুনিয়া

    হলিউড তারকা অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে আলোচনায় নেট দুনিয়া

    সিসেমি স্ট্রিটের লাল পুতুল এলমোরের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা নিয়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু হয়েছিল, ঠিক তখনই হলিউডের প্রভাবশালী অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুসলিম ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ‘ইনশাআল্লাহ’ ব্যবহার করে সবাইকে মানষিকভাবে ভাবিয়ে তুললেন।

    সম্প্রতি ‘পিপল’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে 자신의 জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলছিলেন এই অস্কারজয়ী তারকা। এই পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটাতে, ইনশাআল্লাহ। এই কথাটি আমি বিশ্বাসের সঙ্গে বলছি।’

    হ্যাথাওয়ের এই শব্দ উচ্চারণে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো চমক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেলে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। ভক্তরা মন্তব্য করেন, হ্যাথাওয়ে যেন এই শব্দটির অর্থ গভীরভাবে বোঝেন এবং সঠিক উচ্চারণে ব্যবহার করেন, যা তার ধর্মীয় সচেতনতার প্রমাণ।

    তবে এই সাক্ষাৎকারে শুধুমাত্র ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেই থেমে থাকছেন না হ্যাথাওয়ে। তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং অর্জিত প্রজ্ঞা শেয়ার করেছেন। চার দশকের জীবনে পেয়ে যাওয়া শিক্ষাগুলো থেকে তিনি দেখেছেন, ৪০ বছর বয়সে ফিরে তাকালে বোঝা যায় পূর্বের সিদ্ধান্তগুলো বর্তমান জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের জন্য একটা দিকনির্দেশনা পেয়ে যান।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নিয়ে বলেন, ‘আমি এখন জীবনকে সহজভাবে গ্রহণ করতে শিখেছি। কেউ কেউ বার্ধক্যকে ভয় পেতে পারেন, আবার কেউ অকাল মৃত্যুকেও। আমি আমার জীবনকে কৌতূহলের সঙ্গে গ্রহণ করতে পছন্দ করি’।

    অ্যান হ্যাথাওয়ের মতে, বয়স ১১ থেকে ৪৩—জীবন সবসময়ই অনিশ্চিত এবং অজানার অধীন। তাঁর মতে, ‘পরের মোড়ে কী অপেক্ষা করছে, তা কখনো জানা যায় না।’ এই জীবন দর্শনই তাঁকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

    নেট দুনিয়ায় হ্যাথাওয়ের এই নম্রতা ও ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দের ব্যবহার এখন ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মুসলিম ভক্তরা এই তাঁর উদারতা ও মানসিকতাকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

  • ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    খুলনায় ইয়ং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহবায়ক হুরে জান্নাত প্রধান অতিথি হিসেবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ আলীমুজ্জামান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ গ্রুপের খেলোয়াড় বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট খেলার এই কমিটির সম্পাদক শাহীদ আসিফ হোসেন, সাবেক সদস্য মোঃ বেলাল হোসেন, এস এম জাকির হোসেন, বিসিবির বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় নির্বাচক মেহেরাব হোসেন অপি, মোঃ ইলিয়াছ সানি ও এস এম আজাদসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দলের কর্মকর্তাগণ। অনুষ্ঠানে প্রতিটি দলে খেলোয়াড় নির্বাচনে ব্যাপক আলোচনা ও পরিকল্পনা অনুষ্ঠিত হয়, যা এই টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

  • জুনেই হবে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

    জুনেই হবে বিসিবির নির্বাচন: তামিম

    অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ সীমিত, তাই তামিম ও তার টিম চান, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হোক। এটি হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ক্রিকেটে নতুন কেলেঙ্কারি: বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে ভারতীয় গ্যাংস্টারের সম্পৃক্ততা

    ক্রিকেটে নতুন কেলেঙ্কারি: বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে ভারতীয় গ্যাংস্টারের সম্পৃক্ততা

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-مار্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় কানাডা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিসরে বিস্তৃত এই তদন্তের মধ্যে নতুন করে বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ টেলিভিশন এবং সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইর নেতৃত্বে একটি গ্যাং বিশ্বকাপের কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসি বর্তমানে এই গ্যাংয়ের সঙ্গে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম সন্দেহের জন্ম হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ ম্যাচে বাজওয়ার অস্বাভাবিক ও ব্যয়বহুল একটি ওভার দেখানোর পর। এর পরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ডাকার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। কানাডিয়ান জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র সিবিসির এক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, লরেন্স বিষ্ণোইর গ্যাংয়ের সঙ্গে তার যোগসাজশের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই গ্যাং একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং এর বিরুদ্ধে সিধু মুসেওয়ালা হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

    প্রতিবেদন আরও জানিয়েছে, বাজওয়ার অকালশন অধিনায়ক হওয়ার পেছনে এই গ্যাংয়ের মূল ভূমিকা ছিল। বলাবাহুল্য, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের এক রেস্টুরেন্টে প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিলেন, যেখানে এক সাংবাদিকতা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, দুই ব্যক্তি নিজেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন — যদি দিলপ্রীত বাজওয়া ও অন্য একজন তরুণ ক্রিকেটারের উন্নতিতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তাদের পরিবার ভয়ানক পরিণতিতে পতিত হবে।

    এছাড়াও ‘নোয়া’ নামে এক ব্যক্তি এই অপপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পছন্দের লোক বসানোর জন্য হুমকি-ধমকি চালাচ্ছিল। বিশেষ করে, বাজওয়াকে বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ আগে অধিনায়ক পদে বসানোর সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে; অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের জন্য হুমকি দিয়েই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে এবং নেতৃত্বে বসানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে প্রকাশ, ‘নোয়া’ বলেছেন, “আমি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম। ৪০ মিনিটের মধ্যে একই নম্বর থেকে একটি মেসেজ পাই, যেখানে একটি ছবি ছিল, যা আমাকে আতঙ্কিত করে তোলে।” সিবিসি প্রতিবেদনে কানাডার ক্রিকেটের বর্তমান সভাপতি অরবিন্দর খোসার নামও উঠে এসেছে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এ সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা তাঁর সুনাম নষ্ট করার জন্য।

    তদন্তে জানা গেছে, তিনি সাবেক সভাপতি আমজাদ বাজওয়ার সঙ্গে রেস্টুরেন্টে একটি ঘটনায় আলোচনা করেছিলেন, যদিও আমজাদ বিষয়টি অজানা থাকার দাবি করেন। এ ছাড়াও বলা হয়েছে, তিনি ওই সময় বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবের একজন মূল উপদেষ্টা ছিলেন। ‘নোয়া’ বলছেন, “আমার মনে হয় তারা ম্যাচ ফিক্সিং করে অর্থ উপার্জনের জন্য এই পরিকল্পনা করেছিল। অন্যথায়, এত দূর এগিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী?”

    আরও জানা যায়, কানাডার সাবেক কোচ খুররম চোহান ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ম্যাচের কিছু অংশ ফিক্সিংয়ের জন্য তদ্বির চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ও চাঁদাবাজির পর কানাডার সরকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

  • পিএসএলে এক বছর জন্য নিষিদ্ধ শানাকা

    পিএসএলে এক বছর জন্য নিষিদ্ধ শানাকা

    জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানির পর এবার শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা أيضًا পাকিস্তান সুপার লিগ থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিদ্ধান্ত নেয় যখন তিনি চলতি মৌসুমে পিএসএল থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে যুক্ত হন। এই পরিবর্তনের জন্য সোমবার তার উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

    পিএসএল এবং আইপিএল প্রায় একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, পিএসএল ছেড়ে ভারতীয় লিগে যোগ দেয়ার জন্য প্রথমে মুজারাবানির ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর শানাকার ক্ষেত্রেও এই জটিলতা দেখা দেয়, যিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এবং এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অধিনায়কত্বও করেছেন।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী শানাকা গত মাসে একতরফাভাবে পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন, যা তাদের তদন্তে বেঙ্গুতর হলো। তদন্তে দেখা গেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চুক্তির শর্তাবলীর আওতায় না থাকা কিছু অজুহাত ব্যবহার করা হয়েছে।

    এবারের আইপিএল মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের জন্য মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা শানাকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তার এই সিদ্ধান্তে তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত। তিনি বলেন, যখন তিনি পিএসএল থেকে সরে দাঁড়ান, তখন তার অন্য কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে নতুন উদ্যমে এবং ভক্তদের আস্থা নিয়ে পিএসএলে ফিরবেন।

    উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞা আগামী আসরের জন্য কার্যকর হবে। মাঠের বাইরেও আইনি জটিলতা থাকলেও, বর্তমানে তিনি আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

  • ভারতের একেবারে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ডোপিং পরিস্থিতি

    ভারতের একেবারে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ডোপিং পরিস্থিতি

    ভারত বর্তমানে ডোপিং পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে অ্যাথলেটিক্স ইন্টег্রিটি ইউনিট (এআইইউ)। গতকাল এই সংস্থাটি একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেখানে দেখা গেছে এশিয়ার দেশটি এখন দেশটির অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনকে (এএফআই) ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে। এর অর্থ হলো, ভারতীয় অ্যাথলেটরা এখন থেকে আরও কঠোর ডোপিং পরীক্ষা ও নিয়মতান্ত্রিক নজরদারির মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হবে। গত ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে, অ্যাথলেটিক্সে ডোপিং লঙ্ঘনের ঘটনায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে থাকায় এই সতর্কতাটা এসেছে বলে এআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ভারত। এআইইউর চেয়ারম্যান ডেভিড হাউম্যান বিবৃতিতে বলেন, “ভারতে ডোপিং পরিস্থিতি অনেক দিন ধরেই বেশ চরম ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও এএফআই ডোপিংরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছিল, কিন্তু তা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।” এআইইউ একটি স্বনির্ধারিত সংগঠন, যার কাজ অ্যাথলেটিক্সে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ডোপিং প্রতিরোধ করা। এখন ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ভারত যুক্ত হয়েছে, যেখানে রয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলোও। ভারত ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যা এই প্রতিবেদনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। তবে এটিই সত্যি যে, অ্যাথলেটিক্সে ডোপিং কেলেঙ্কারির শেষ নয়। সম্প্রতি এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় তীরন্দাজ প্রথমেশ জয়কর দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির জন্য এটা একটি বড় অস্বস্তির বিষয়।

  • ইরানে যুদ্ধ চান না সাবেক মার্কিন সেনারা, বিক্ষোভে আটক ৬০

    ইরানে যুদ্ধ চান না সাবেক মার্কিন সেনারা, বিক্ষোভে আটক ৬০

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা সদস্যরা ইরানে নতুন করে যুদ্ধের পক্ষে কোনো সমর্থন দিচ্ছেন না। এই অভিমত প্রকাশের জন্য তারা ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন কংগ্রেস ভবনের সামনে এক বিক্ষোভে অংশ নেন। সোমবারের এই কর্মসূচিতে তারা দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে যথাসম্ভব যুদ্ধ এড়াতে হবে। বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ফলে পুলিশ দ্রুত বাধ্য করে অনেককে সেখান থেকে চলে যেতে। তবে তাদের মধ্যে বেশ 일부 অবস্থান ধরে থাকায় পুলিশ তারাও ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করে। অবশেষে অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

    এবং এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় ‘অ্যাবাউট ফেস’ নামের একটি সংগঠনের মাধ্যমে, যেখানে ওয়াশিংটনের ক্যানন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ের সামনে বিভিন্ন সাবেক সেনাসদস্য কেন্দ্রীভূত ছিলেন। মূলত, তারা দাবি করেন, বর্তমান মার্কিন সরকারের যুদ্ধের নীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শক্তিশালী ভূমিকা থাকা জরুরি।

    বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, যেনো তারা অসহায়ভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, ইরাক যুদ্ধের সময়ের মতোই এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা থাকার বৈধতা নিয়ে নানা অজুহাত ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, যা অতীতে যুদ্ধের কারণ হয়েছিল। তারা মনে করেন, দ্রুত আরেকটি রাজনৈতিক সমাধান না হলে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাবেক সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সেনাদের পরিবারের সদস্যরাও যে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে, তাঁদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা বলছেন, এই যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয় এবং অনেক ঝুঁকি নিয়েই চালানো হচ্ছে। তারা আশংকা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও বেশি প্রাণহানি হতে পারে।

    নিরাপত্তার কারণে কংগ্রেস ভবনের ভেতরে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।