Blog

  • সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল পথে গেলে নারী এমপিরাও সোচ্চার হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিরোধীদলের অন্যান্য সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে সোচ্চার হবেন। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    আযাদ বলেন যে জোটভিত্তিক ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যে সম্মিলিত তালিকা তারা জমা দিয়েছেন, সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকার কথা নেই। এই ১৩টি আসনই প্রত্যেকটিতে তালিকা ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাঁরা নির্বাচিত হওয়ার আশা রাখেন। তিনি কমিশনের সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা হয়েছে এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সংসদ এখন কার্যক্রমে রয়েছে; মনোনীতরা যদি সময়মতো পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারেন, তাহলে নারীর অংশগ্রহণসংক্রান্ত জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ হবে। এজন্য কমিশন যেন ভিন্ন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে তারা আশাবাদী এবং কমিশনও আশ্বস্ত করেছে।

    আযাদ আশা প্রকাশ করেন যে মনোনীত ১৩ জন নারী সংসদ সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের ও জাতির স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সব বিষয়ে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের সকল প্রিভিলেজ ও কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করবেন, এবং সংবিধান তাঁদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, নিয়মানুগ অবস্থান থেকে বিরোধীদলের কাতারে বসে এই নারী সদস্যরাও দেশ গঠনে ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পার্লামেন্টে বিরোধীর ভূমিকা ও নীতিবাদী অবস্থান প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা সেটাই অনুসরণ করবেন ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।

    আযাদ আরও বলেন, ‘‘যদি সরকার ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের অন্যান্য বিরোধীদলীয় সদস্যরা যেমন সোচ্চার থাকবেন, আমাদের নারী সদস্যরাও একইভাবে বিরোধীদলের সাথে যুক্ত হয়ে আন্দোলনে অংশ নেবেন। ৭৭ জনের সাথে ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’

    গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘গণভোটের রায়ে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকা সত্ত্বেও তা গঠিত হয়নি। এই অনুশাসন না থাকায় আমরা ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রায় উপেক্ষা ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছি এবং সামনে ও করব।’’

    মনোনয়ন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে পরিবারের মধ্যে একে অধিক দুজন সংসদ সদস্য রাখার নীতি না থাকার কারণে দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এর বদলে শহীদ পরিবারের এক মাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’’

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূরণের বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন।

    নির্বাচন তফসিল সম্পর্কে তিনি জানান—মনোনয়নপত্র বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চারটি মনোনয়ন দিলো বিএনপি

    সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু চারটি মনোনয়ন দিলো বিএনপি

    বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মোট চার নারীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

    মনোনয়ন পাওয়া চারজন হলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার ও মাধবী মারমা। দলের বিবৃতি অনুযায়ী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আওয়াস পার্লামেন্টে পৌঁছাতে পারে।

    নাটোরের বাসিন্দা আন্না মিনজ ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম)। তিনি দীর্ঘদিন উন্নয়ন খাতে কাজ করছেন এবং আদিবাসী ও ওরাও সম্প্রদায়সহ সুবিধাবঞ্চিত খ্রিস্টান ও অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। আন্নার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সুবর্ণা সিকদার গোপালগঞ্জ থেকে মনোনীত হয়েছেন। তিনি শিক্ষক ও মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। তার মনোনয়ন প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক কমিটি নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ায়। এসব সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আমি বিএনপির একজন সমর্থক; কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।” তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    দলীয় শীর্ষ নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বহুজাতিক ও বহুজাতিক অংশগ্রহণের রাজনৈতিক পরিবেশ গড়াই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই মনোনয়নগুলি পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করবে।

  • রেমিট্যান্সের ঢলে উত্থান: ১৯ দিনে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে

    রেমিট্যান্সের ঢলে উত্থান: ১৯ দিনে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানান।

    মুখপাত্র জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ব্যাংকটির প্রকাশ করা তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    এর আগে গত মার্চে একক মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে highest রেকর্ড ছিল। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার ও ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রা মার্কেটেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপক্ষে ডলারের বিনিময়হার বেড়ে গেছে, ফলে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠালে তুলনামূলকভাবে বেশি টাকার পাবার সুযোগ পাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হয় তবে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখা ও তদারকি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে এ যেন প্রায় ২২ হাজার ১৪০ কোটি টাকার সমতুল্য। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৬.২ শতাংশ বেশি ছিল — রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময় এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার, ফলে আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০.২ শতাংশ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি রেমিট্যান্স আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেছে।

    মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় ছিল যথাক্রমে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার এবং মার্চে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

  • ট্রাম্প: আলোচনা ছাড়া ইরানের কোনো বিকল্প নেই

    ট্রাম্প: আলোচনা ছাড়া ইরানের কোনো বিকল্প নেই

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানো ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    ট্রাম্প আশা ব্যক্ত করেন যে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ‘‘একটি চমৎকার চুক্তি’’ করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমরা তেমন সততাপূর্ণ বা সৎ লোকদের সঙ্গে লেনদেন করছি না, তবে সেটি সফলভাবে এগোচ্ছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সব বন্দরে চালানো মার্কিন নৌ-অবরোধকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

    আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তিনি তা করতে চান না। পরে আরও বলেন, তিনি বোমা হামলার প্রত্যাশা করছেন এবং মনে করেন সেটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শক্ত অবস্থান তৈরি করার পথ।

    ট্রাম্প সতর্ক করে দেন যে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সময় খুব কম। তবু তিনি ইরানের জন্য আশার কথা বলেন—যদি তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়, তা হলে ইরান নিজেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে।

    অন্যদিকে পাকিস্তান এখনও ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে যে তারা ইসলামাবাদের পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ গ্রহণ করবে কি না। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, দেশটি কূটনীতি ও সংলাপের পথেই এগোচ্ছে, তবে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শিগগিরই শেষ হওয়ার মুখে রয়েছে।

    সূত্র: ডন

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করল পাকিস্তান

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে সতর্ক করল পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা শীঘ্রই শুরু হতে পারে—তবে ঠিক কখন তা এখনও অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আবেদন করা হয়েছে যে, প্রেসেটে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন জনসমক্ষে অতিরিক্ত কড়া বা বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষা ব্যবহার না করেন।

    দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ থেকে এই বার্তা ট্রাম্পের দলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনাকে সফল করার চেষ্টা করছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শান্তচিত্তে এবং সংযতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ইরান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা আশা করছি আগামীকাল বা পরদিনের মধ্যে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেবে।’’

    পাকিস্তান জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষত চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়া করবেন না, এরপরও দাবি করেছেন দ্রুতই একটি চুক্তি হবে এবং তা ২০১৫ সালের জেসিপিওএ-র চেয়ে ভালো হবে। ট্রাম্প বলছেন, ক্যামেরার সামনে ইরান দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে—এবং ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা পরিত্যাগ করতে হবে; এতে কোনো ছাড় থাকবে না। তিনি যুঝ্‌তে হতে পারে এমন সম্ভাবনাও উত্থাপন করেছেন।

    তেহরান এর বিপরীতে পরিষ্কার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া তারা কোনো আলোচনা করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ ও অবৈধ আচরণ কূটনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’’

  • মহানবী (সা.)-কে কটুক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) আটক

    মহানবী (সা.)-কে কটুক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) আটক

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটুক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তিনি দিঘলিয়া উপজেলার মণ্ডল জুট মিলের কোয়ার্টার থেকে গ্রেফতার হন।

    অভিযুক্ত শ্যামল গাইন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালী গ্রামের বাসিন্দা এবং সুপ্রভাত গাইনের ছেলে। ঘটনার সময় আগের থেকেও ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে তাকে আটক করে।

    দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, বিষয়টি পৌনে ১১টার দিকে তাদের নজরে আসে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

    মামলার প্রস্তুতি চলছে; শ্যামল গাইনের বিরুদ্ধে থানায় প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান। তদন্ত চলছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

  • সুন্দরবনে অভিযান: ৪১টি হরিণশিকার ফাঁদ জব্দ

    সুন্দরবনে অভিযান: ৪১টি হরিণশিকার ফাঁদ জব্দ

    বন বিভাগের সদস্যরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ৪১টি হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করেছেন। অভিযানটি সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ির অধীনে ব্যারাকখাল এলাকায় পরিচালিত হয়। এ সময় কোনো চোরা শিকারী আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জায়গাটিতে কিছু চোরাশিকারের সন্দেহজনক উপস্থিতি আছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযানকালে বনাঞ্চল থেকে হরিণধরার জন্য ব্যবহার করা ৪১টি ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করা হয়। বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযানে সন্দেহভাজনরা গভীর বনভূমির দিকে পালিয়ে যায়।

    সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষারため নিয়মিত টহল ও অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকৃত ফাঁদগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং অভিযোগ ও সূত্র অনুসন্ধান করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

    বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট কর্মকর্তা ফজলুল হক সাধারণ জনতাকে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যদি কেউ খবর পান দ্রুত বন বিভাগকে জানালে অবৈধ শিকার দমন করা সহজ হবে এবং সুন্দরবনের প্রাণিকোষ রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে।

    বন বিভাগ জানায়, এই ধরনর অভিযানে নিয়মিততা আরও বাড়ানো হবে এবং স্থানীয় ও ভ্রমণকারী সম্প্রদায়কে সচেতন করে অচিরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

  • ডোপিং ঝুঁকিতে ভারত: এআইইউ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে তুলেছে এএফআই

    ডোপিং ঝুঁকিতে ভারত: এআইইউ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে তুলেছে এএফআই

    অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ) গতকাল প্রকাশিত তালিকায় ভারতের নাম শীর্ষেই উঠে এসেছে। এআইইউয়ের নতুন তালিকায় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এএফআই)কে ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে ঝুঁকিপূর্ণতর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ক্যাটাগরি ‘এ’ তে থাকা মানে ভারতীয় অ্যাথলেটদের উপর এখন থেকে বাড়তি নজরদারি থাকবে — আরও বেশি ডোপিং টেস্ট, কড়া নিয়মকানুন এবং বাড়তি রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। বিশেষত আউট-অফ-কমপিটিশন টেস্ট এবং ‘হোয়্যারআবাউটস’ সিস্টেমে কঠোরতা লক্ষ্য করা হবে, যাতে আরোপিত নিয়ম না মানলে সার্বিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

    এআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অ্যাথলেটিকসে ডোপিং আইন লঙ্ঘনের ঘটনার বিচারে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এআইইউ চেয়ারম্যান ডেভিড হাউম্যান জানিয়েছেন, ‘‘ভারতে ডোপিং অবস্থা অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। এএফআই ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল ঠিকই, তবে বাস্তবে সেরকম পরিবর্তন দেখা যায়নি।’’

    এআইইউ একটি স্বাধীন সংস্থা; এটির কাজ হলো অ্যাথলেটিকসে ডোপিং ও অন্যান্য অনিয়ম রোধ করা। ক্যাটাগরি ‘এ’ তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এখন ভারতও রয়েছে — যেখানে আগে ছিলেন রাশিয়া, বেলারুশ, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলো।

    ভারত ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক হওয়ায় এই রিপোর্টটি দেশটির জন্য আরও চিন্তার বিষয়। আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং কড়া নিয়মমানা না হলে আয়োজক হিসেবে বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

    আপাতত এএফআই, ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও কোচিং নেটওয়ার্ককে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—শিক্ষামূলক কর্মসূচি, নিয়মিত টেস্টিং ও স্বচ্ছতা বাড়ানো অবিলম্বে জরুরি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী ভারতীয় তীরন্দাজ প্রথমেশ জয়করকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা নতুন সতর্কবার্তাও বয়ে এনেছে।

    সংক্ষেপে, এআইইউর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভারতের ক্রীড়া পরিচালনায় বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে, না হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিষেধাজ্ঞা ও সুনামের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়বে।

  • পিএসএলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেলেন দাসুন শানাকা

    পিএসএলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পেলেন দাসুন শানাকা

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সোমবার ঘোষণা করেছে যে শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার দাসুন শানাকাকে এক বছরের জন্য পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী শানাকা গত মাসে একতরফাভাবে পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন এবং পরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন—এই ঘটনার কারণেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    পিসিবি জানিয়েছে যে তদন্তে দেখা গেছে শানাকা পিএসএল থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য এমন অজুহাত দিয়েছেন যা চুক্তিভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে স্বীকৃত নয়। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এই একতরফা সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়াভঙ্গকে গুরুত্ব দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    এটির ফলে শানাকা হলেন জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানির পর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার যাকে পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে যোগদানের কারণে শাস্তি দেওয়া হলো; মুজারাবানিকে ইতোমধ্যে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পিএসএল এবং আইপিএল প্রায় একই সময়ে হওয়ায় একই মৌসুমে লিগ বদল করাকে পিসিবি কঠোরভাবে দেখছে।

    শানাকা, যিনি এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন, একটি বিবৃতিতে গভীর অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে পিএসএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল অন্য লিগে যোগ দেওয়ার—এমনটি তার পরিকল্পনায় ছিল না। শানাকা আশা প্রকাশ করেছেন ভবিষ্যতে নতুন উদ্যমে এবং ভক্তদের আস্থা নিয়ে পিএসএলে ফিরে যেতে পারবেন।

    পিসিবি জানিয়েছে যে এই নিষেধাজ্ঞা আগামী পিএসএল মৌসুম থেকে কার্যকর হবে। মাঠের বাইরের এই আইনি জটিলতার মাঝেও শানাকা বর্তমানে আইপিএলের রাজস্থান রয়্যালস শিবিরে অবস্থান করছেন, তবে এখনও তিনি আইপিএলে মাঠে নামেননি।