Blog

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন ২৮ নারীসহ মোট ৩৬ জন মনোনীত

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন ২৮ নারীসহ মোট ৩৬ জন মনোনীত

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি সোমবার (২০ এপ্রিল) এক প্রস্ততি ঘোষণা করে ৩৬ জনের চূড়ান্ত মনোনয়ন। রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নামগুলো ঘোষণা করেন।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই তালিকায় বেশ কিছু নতুন মুখের স্থান রয়েছে। এ বছর বিএনপি প্রথমবারের মতো ২৮ জন নারী মনোনয়ন পেয়েছেন, যার ফলে তারা সংসদে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে, ৮ জন আগে সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, রেহানা আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ ও নেওয়াজ হালিমা আর্নি।

    তালিকায় এমনও দুই নারী রয়েছেন, যাদের স্বামী বা পিতার সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে। যেমন, বিএনপি নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী—যাঁর বাবা সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্য একজন হলেন শিরিন সুলতানা, যার স্বামী খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

    অতিরিক্ত, প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনয়ন পেয়েছেন ওই তালিকায়।

    সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে পরাজিত কিছু প্রার্থীও এবার মনোনীত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন রয়েছেন।

    তবে মহিলা দল থেকেও কিছু সদস্য মনোনয়ন পেয়েছেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

    এছাড়া, বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার।

    ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি থেকে তিনজন মনোনীত হয়েছেন: ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠান—যাঁরা সক্রিয় রাজনীতি করেছেন।

    অপর দিকে, বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তারও মনোনয়ন পেয়েছেন, যিনি এই সংরক্ষিত আসনের সবচেয়ে তরুণ। তাঁর বাবা প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

    বিএনপির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিছু মনোনীত নারী সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও পেয়েছেন সুযোগ। এদের মধ্যে একজন হলেন, মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও জহরত আবিদ চৌধুরী।

    বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে শায়রুল কবির খান জানান, এই মনোনয়নে অভিজ্ঞ রাজপথে আন্দোলিত ও নিপীড়িত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি এবং দলের নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • সোচ্চার হবেন নারী সংসদ সদস্যরা, ভুল পথে গেলে সরব থাকবেন হামিদুর রহমান আযাদ

    সোচ্চার হবেন নারী সংসদ সদস্যরা, ভুল পথে গেলে সরব থাকবেন হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার যদি কোনো ভুল পথে হেঁটে জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয় বা অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যবস্থা নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও সমানভাবে মুখ তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি এ কথা বলেছেন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি জানান, ‘আমরা আশাবাদী যে, নারী আসনে আমরা যে কম্বাইন তালিকা দাখিল করেছিলাম, সেখানে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকছে না। এই ১৩টি আসনের জন্য সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা, আর আশা করছি এর ফলাফলও তাই হবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের প্রতি আস্থা রয়েছে যে, ভোটের নিয়ম অনুসারে প্রার্থীরা সময়মতো পার্লামেন্টে যোগ দেবেন। এর ফলে, নারী প্রতিনিধিত্বের ওই প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং নারীরা তাদের অধিকার উপভোগ করবেন। হামিদুর রহমান আযাদ আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত ১৩ জন নারী সংসদ সদস্য ১১ দলের জাতীয় ঐক্য থেকে সংসদে অংশ নেবেন। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণের জন্য, জাতির স্বার্থে আইন তৈরি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা সমান অংশগ্রহণ করবেন, যা সংবিধান তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত এই ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও তারা বিরোধী দলের দলের কাতারে বসে দেশ ও জাতির উন্নয়নে দায়িত্ব পালন করবেন। হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, পার্লামেন্টে আমাদের নীতি ও উদ্দেশ্য হল ন্যায় প্রতিষ্ঠা, জনকল্যাণে কাজ করা এবং দেশের স্বার্থে সচেতন ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা। তিনি জানান, এটি শুরু থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াতের নেতাদের ঘোষণা। তিনি বলেন, ‘যদি সরকার ভুল পথে যায় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমাদের বিরোধীদলীয় সদস্যরা সোচ্চার থাকবেন। পাশাপাশি, নারীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করে বিরোধিতা করবেন। বলা চলে, ৭৭ জন বিরোধী সদস্যের সাথে আরও ১৩ জন যুক্ত হয়ে মোট ৯০ জন ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদলীয় সদস্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।’ গণভোটসংক্রান্ত প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার কমিটি গঠনের কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এই অপূর্ণতা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা পার্লামেন্টে ও রাস্তায় অবস্থান করছি এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে প্রত্যয়ী।’ তিনি যোগ করেন, ‘জামায়াতের নীতির সঙ্গে পরিবারে দুই সংসদ সদস্য থাকার বিষয়টি জড়িয়ে থাকায়, আমিরের স্ত্রীর পরিবর্তে শহীদ পরিবারের একজন মায়ের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সমাজের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য বিভিন্ন বিধান রয়েছে, বিশেষ করে নবীন প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে অনেক শর্তের মধ্যে থাকবেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের কোনো আশা নেই। তফসিলে উল্লেখ আছে, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল; আপিল শুনানি ২৬ এপ্রিল; আপিলের সিদ্ধান্ত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল; প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল; প্রতীকের বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল; আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ মে।

  • সংখ্যালঘুকণ্যা চার নারী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

    সংখ্যালঘুকণ্যা চার নারী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ে এই মনোনয়ন ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত চারজন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার এবং মাধবী মারমা।

    বিএনপির এই মনোনয়নে সামাজিকভাবে বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে, উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত এবং আদিবাসী ও অন্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের প্রতিনিধিত্ব মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে। এর মধ্যে আন্না মিনজ, যিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম), উল্লেখযোগ্য। তিনি নাটোরের বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ওঁরাওয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। তার স্বামী, জন গোমেজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সংরক্ষিত আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্য দুজন মনোনীত হয়েছেন সুবর্ণা সিকদার এবং মাধবী মারমা। সুবর্ণা গোপালগঞ্জ ও মাধবী বান্দরবান থেকে নির্বাচিত হবেন। সুবর্ণা মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা ও একজন শিক্ষিকা। তার এই মনোনয়নের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে কেউ কেউ দাবি করছেন যে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন। তবে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি বিএনপি’র সমর্থক, কোনও কমিটিতে আছি না।’ তার স্বামী, পদ্মনাভ ঠাকুর, এক ժամանակ যুবদলের নেতা ছিলেন।

    অপর দিকে, মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

    দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই মনোনয়ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এক harmonous ও সমন্বিত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

  • সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব নিয়ে আত্মসমালোচনায় তাসনিম জারা

    সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তাব নিয়ে আত্মসমালোচনায় তাসনিম জারা

    তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে অনেক তরুণ নারী নেতৃত্ব তাদের স্থান পেয়েছেন। তবে এই আসনের জন্য প্রস্তাব পানেও তা ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা। মঙ্গলবার বিকেল ৭টা ২৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি একটি পোস্টে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। পোস্টে তিনি কোনও দল থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করেননি।

    তাসনিম জারা বলেন, আজ ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী দুঃখ প্রকাশ করে, সহানুভূতি জানিয়ে মনে করেছে আমি সংসদে থাকছি না। তিনি বলেন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সংরক্ষিত আসনে যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা ফিরিয়ে দিয়েছি।

    তিনি যুক্ত করেন, সংসদে গিয়ে মানুষের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার এই সুযোগ আমি সহজে ছেড়ে দিতে পারিনি। তবে আমি ঐকমত্যে জানিয়েছিলাম যে, সংরক্ষিত নারী আসন থাকা উচিত, তবে সেটি সরকারি দার্থে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। এর পক্ষে আমি যুক্তি দিয়েছি, ক্যাম্পেইন করেছি এবং স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছি। তবে এমপি হওয়ার কোনও প্রস্তাব তার পর পরিবর্তিত অবস্থানে যাওয়াটা আমার জন্য সম্ভব হয়নি। আমি যে প্রার্থীরা সংসদে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য আমি শুভকামনা জানাই।

    তাসনিম জারা বলেন, আমি মূলত সিস্টেম নিয়ে কথা বলি। যিনি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসেন, তিনি তার ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। প্রয়োজনে দলের বিরুদ্ধেও মুখ খোলার অধিকার থাকে। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে যাওয়া প্রার্থীদের কোনও নির্বাচনী এলাকা বা ভোটার থাকেন না। এটি কোনও ব্যক্তির সততার প্রশ্ন নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতা। একজন সংসদ সদস্যই শেষ পর্যন্ত মানুষের আস্থা ও স্বার্থ রক্ষা করেন। বাংলাদেশে নারী জনসংখ্যা অর্ধেকের বেশি। তাদের পারদর্শিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থাকা উচিত। সংরক্ষিত আসনগুলোও যেন জনমত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, সেই দাবি তিনি তুলেছেন।

    আবার তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মাত্র ১৯ দিন প্রচারণায়, পোস্টার ছাড়াই, মিছিল বা প্রচারমূলক খরচ সীমিত রেখেই ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। তবে নির্বাচনের সময় যে অসঙ্গতিগুলো ঘটেছিল, তার জন্য তিনি দলিলসহ সব কিছু রেখেছেন এবং ফলাফল মেনে নিয়েছেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি সংসদে যেতে চান, তা জনগণের ভোটে হবেন। বাইরেও সমাজের কাজে তিনি অব্যাহত থাকবেন।

    প্রসঙ্গত, ডা. তাসনিম জারা ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ওই দলের হয়ে প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের কারণে তিনি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ওই আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

  • ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, সতর্কতা জারি

    ১৪ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে, সতর্কতা জারি

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের চারteen জেলায় চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে ছয় জেলা এবং রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ যা এখনো অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ ঝোড়ো বাতাস চলতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য সব জেলাতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বৃহস্পিতবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের আবহাওয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুষ্ক থাকবে, তবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এর করণে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে।

    শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থান এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    এছাড়াও, শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে সোমবার (২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। অপরপ্রান্তে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রায়শই শুষ্ক থাকবে। তাপমাত্রা কিছুটা কমবে, বিশেষ করে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সামগ্রিক তাপমাত্রাও আরও কমতে পারে।

  • পদ্মায় টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ

    পদ্মায় টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ

    পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের ওপর অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়া জেলার হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদীর উপকূলে টহলদুটির সময়।

    ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে।

    অহতরা হলেন লক্ষীকুন্ডা নৌফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান এবং মানিক মিয়া। সবাই একই কর্মস্থলে কাজ করেন।

    আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে জ্বরের কারণে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত টহলের সময় নৌফাঁড়ির একটি দল হরিপুরের দিকে যাওয়ার সময়ে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।

    পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান নিশ্চিত করেছেন এই ঘটনা, তিনি বলছেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত মোতায়েন হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

  • প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেবে সরকার

    প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেবে সরকার

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশীয় পণ্যপ্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগের আওতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগামী জুলাই মাস থেকে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে এ পাটজাত ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে প্রত্যাশা রয়েছে, মোট এক লাখের বেশি শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তিনি।

    মাহদী আমিন বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মাধ্যমে চালু করা হবে প্রতি মাসে দুটি করে উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশসম্মত পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের উৎপাদিত পণ্যগুলোর গৌরব প্রশংসা ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশের সমাজে সমতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা। এতে ধনী- দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্যের অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত এই ধরনের পোশাক, ব্যাগ ও অন্যান্য পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের ভিশন বাস্তবায়িত হবে, যেখানে বাংলাদেশের সম্পদ ও উৎপাদিত পণ্যগুলো দেশের বাইরে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে।

    অতিরিক্তভাবে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের জন্য ভালো এমন পাটজাত পণ্য ব্যবহারে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। পাটের গৌরব ফিরে আনার এতে আরো একধাপ এগিয়ে যাওয়া যেতে পারে। পাটজাত ব্যাগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাসের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব জ্ঞান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পাটের ঐতিহ্যেও নতুন করে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হবে।

  • সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পাঁচ বিভাগের শিলাবৃষ্টির আভাস

    সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পাঁচ বিভাগের শিলাবৃষ্টির আভাস

    সারাদেশে সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা সহ ৯টি জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ চলমান রয়েছে। একইসাথে দেশের পাঁচটি বিভাগের ওপর দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়াবিদ ড. মোঃ ওমর ফারুকের সই করা এই পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়, প্রথম দিনে (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এছাড়া রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মধ্য থেকে উচ্চমাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও বজ্রসহ ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একইসাথে চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    তৃতীয় ও চতুর্থ দিন (২৩ ও ২৪ এপ্রিল) পূর্বাভাসে জানানো হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২৪ এপ্রিল থেকে দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

    অন্যদিকে পঞ্চম দিনে (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে রাজশাহী বিভাগেও কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই পাঁচ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন: আগের গাঢ় নীল ও জলপাই রং ফেরানো হচ্ছে

    পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন: আগের গাঢ় নীল ও জলপাই রং ফেরানো হচ্ছে

    বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং পুনঃনির্ধারণ নিয়ে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে চলা আলোচনা-সমালোচনার পর পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর কিছু বিধি সংশোধনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে পুলিশের পুরনো রং — গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) — ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতেই এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগে জারি করা একটি এসআরও অনুযায়ী পুলিশের শার্ট ছিল গাঢ় ধূসর এবং প্যান্ট গাঢ় নীল না রেখে শার্ট লৌহ রং ও প্যান্ট কফি রঙে পরিবর্তন করা হয়েছিল। মাঠপর্যায়ে সেই পরিবর্তন নিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং বাহিনীর ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা দেখা দেয়।

    নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত অনুযায়ী, সব মেট্রোপলিটন (মহানগর) পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ/জলপাই রঙের। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের শার্টে গাঢ় নীল রং ফিরিয়ে আনা হবে। উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ হিসেবে টিসি টুইল খাকিকে প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এই পরিবর্তন কার্যকর করতে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর একাধিক বিধি সংশোধনের ধারাক্রম প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পোশাক সরবরাহযোগ্যতার ভিত্তিতেই রং নির্ধারণ করা হবে, তাই সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না।

    প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা চূড়ান্ত করা হবে; অনুমোদন হলে নতুন রং প্রয়োগ শুরু হবে। পুলিশ ইউনিফর্মের রং নিয়ে চলা বিতর্কের পরবর্তীতে কবে ও কীভাবে পরিবর্তন কার্যকর হবে সে বিষয়ের চূড়ান্ত তথ্য মন্ত্রণালয় বা পুলিশের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতেই পাওয়া যাবে।

  • অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

    অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশ করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে কারো অনুমতি ছাড়া মোবাইল বা ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে এ তথ্য জানান।

    প্রশ্নটি করেছেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনানুমানিক ভিডিও ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে হুমকি-চাঁদাও সম্পৃক্ত হচ্ছে—এটির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় কী প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পরিকল্পনা রয়েছে তা জানতে চান।

    জবাবে মন্ত্রী জানান, সংসদে গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের উদ্দেশ্যে তথ্য, ভিডিও বা চিত্র প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচারণা একটি অপরাধ হিসেবে নির্ধারিত। এ ধারা (২৫) অনুযায়ী সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড, আর ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা বিশ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চাঁদাদির বিষয়টি সাইবার স্পেসে প্রতারণা (ধারা ২২) হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে কঠোর সাজা—সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড—নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত ও কার্যকর প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও ন্যাশনাল সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লকের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করতে পারবেন (ধারা ৮, ৯)। জরুরি ক্ষেত্রে পরোয়ানা ব্যতীত তল্লাশি, কম্পিউটার ও অন্যান্য উপকরণ জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও আইন দিয়েছে (ধারা ৩৫)।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে আইনগত কাঠামো আরও শক্ত করা, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্টিফায়েড বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির ক্ষমতা ও মনিটরিং বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো শক্ত করা রয়েছে। ব্লক বা অপসারণকৃত কন্টেন্ট সম্পর্কে স্বচ্ছতার স্বার্থে তৎক্ষণাৎ ট্রাইব্যুনাল অনুমতি নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

    তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে এজেন্সির অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে, যাতে ভিডিওর উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও ডিভাইস দ্রুত নির্ণয় করা সম্ভব হবে। আইন অনুসারে তদন্তের সময়সীমা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত থাকায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে (ধারা ৩২)। বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধ শনাক্ত ও বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ানো হবে; প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সহায়তা আইন প্রয়োগ করে অপরাধীকে সনাক্ত করে দায়ের আওতায় আনা হবে (ধারা ৪৮ ও ৪(২))।

    মন্ত্রী লিখিত জবায়ে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ ও প্রচার রোধে আইনি, প্রযুক্তিগত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মিলিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এসব অপরাধ রোধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুততর তদন্ত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।