Blog

  • নতুন অর্থমন্ত্রী জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী জানান, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পৃষ্ঠপোষকতা ভিত্তিক অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অর্থনীতিতে সত্যিই গণতন্ত্র আসা জরুরি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এই মন্তব্য করেন।

    আমীর খসরু জানান, আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাই সবচেয়ে আগে আমাদের লক্ষ্য হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কিভাবে সম্ভব, সেটা নির্ধারণ করা। তিনি আরও বলেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব উপাদান না থাকলে আমাদের বড় কোনও পরিকল্পনাই কাঙ্ক্ষিত ফল দান করবে না।

    নতুন অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য সমান সুযোগের সৃষ্টি করতে হবে। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে, এবং তার ফলাফল যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

    তিনি দ্রুত এগুলোর জন্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানোর দিকে নজর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। বর্তমান বাংলাদেশে সরকারি নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি থাকায় অর্থনীতির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, অর্থনীতি উন্নয়নে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে, বা বলতে পারেন, ডিরেগুলেটেড করতে হবে। একে তিনি ‘অবাধ ও মুক্ত’ করতে চান।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ঘোষণা দিয়ে আমীর খান বলেন, লিবারালাইজেশন বা মুক্ত করণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লক্ষ্য হলো এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণ করে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা প্রত্যেকের দিগন্তে পৌঁছে। অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এই পরিবর্তনগুলো অর্থনীতির ভাগ্য উন্নত করবে এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।

    উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সাংসদ। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি আরও জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডিফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অফিস শুরু করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এই এফোর্ট চালিয়ে যেতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন এবং জানান, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অবশ্য, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়টি নিয়ে নোটিশ পাঠানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে তারা।

    রপ্তানি কার্যক্রমের সাম্প্রতিক দুর্বলতার বিষয়ে আলোচনায়, তিনি জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো এক seuls পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য যোগ করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে চান, তাদের যথাযথ সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারের লক্ষ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের জন্য এটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, দেশের মার্জিন অব এরো খুবই কম, ভুলের সুযোগ খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীর গতি দেখতে পাওয়া এই অর্থনীতিকে দ্রুত উদ্ধার করতে সরকার শক্তি দিয়ে কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজানের সময় ও পরের দিনগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথাযথ মজুদ রয়েছে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে। তাই বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    রমজানের মধ্যে কিছু পণ্যের দামের সাময়িক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নে, তিনি জানান এটি মূলত এককালীন চাহিদার বৃদ্ধির ফল। মানুষ মাসজুড়ে একসঙ্গে বড় পরিমাণে বাজার করায় হঠাৎ দাম বেড়ে যায়, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী নয়।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে, তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মাঝে বিনিয়োগ আসে না; বিনিয়োগের জন্য একটানা স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। দেশে বড় জনগোষ্ঠী শ্রমশক্তিতে ভরপুর, প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ ক্ষীণ হওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় বিপদ দেখা দিতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে রমজান শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তিনি। বলেন, এই রমজান যেন সফলভাবে কর্মায়ন হয়—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়। তিনি আরও বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, নানা দেশের স্বার্থ জড়িত বিষয়; তাই দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সবাইকে সহযোগিতা কামনা করেন এবং ভুল হলে মনে করিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান, একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ আরও উন্নতি করবে।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর জন্য উৎসাহিত হচ্ছে বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে। এর ফলেই ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে মোট ২ বিলিয়ন (অর্থাৎ দুই শ কোটি) ডলারর বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ও রমজান ঘিরে পারিবারিক খরচ বাড়ার কারণে প্রবাসীরা বেশ বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এ পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড। এর আগে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং মার্চ ২০২২ সালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা এখনো দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    ২০২৫ অর্থবছরে দেশবাসীর মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিবেচনায় তা কমে ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরে প্রবাসী আয়ের গতি বাড়তে শুরু করে, বিশেষ করে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে যাওয়ায়। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আরও ধাপে ধাপে বৈধ পদ্ধতিতে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এই সব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করার আশায় দেখা যাচ্ছে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা নেওয়া এবং বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম এখন বন্ধের মুখে। এর কারণ হলো কাঁচা পাটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে শুরু করেছে, যা আচ্ছন্ন করে দিয়েছে চাষীদের ও উদ্যোক্তাদের। উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়ে গেছে, যার ফলে অনেক মিলই পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সংকটের মুখে পড়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলো আর্থিক ক্ষতিতে পড়ে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    দৌলতপুরের দৌলতপুর জুট মিলসহ বেশ কিছু মিল প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলে এসে সময় কাটাচ্ছেন কিন্তু কোনো কার্যক্রম চলছেনা। একদিকে পাটের সংকট, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। অসংখ্য শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

    দৌলতপুরের এই জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রায় দেড় মাস ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি, কিন্তু এখন কিছুই হচ্ছে না। কাঁচা পাটের অভাবে মিল চালানো সম্ভব নয়, কেউ যদি অন্য কোনও কাজ খুঁজে নিতে হয়, তাহলে কীভাবে সংসার চালাবো?” অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, “মালিক আমরা থেকে প্রতিদিন ২ টাকা লাভ করে হলেও শ্রমিক হিসেবে আমাদের পেছনে টাকা দেওয়া হয়; গত তিন বছর ধরে মিলটি সুসম্পন্ন ছিল, কিন্তু এখন সবাই বসে আছি। যদি সরকারের উদ্যোগ না হয়, তাহলে এই সংকট আর কতদিন চলবে?”

    মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল পরিবহন ও সংগ্রহে সাধারণত ৩,২০০ টাকায় মণ, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫,২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেছে। তবে বাজারে পণ্য বিক্রির মূল্য এই দামে ওঠে নি। আর এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

    উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলিক বলছেন, “অতিরিক্ত দামে পাট কিনে উৎপাদন চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে আমরা ৩,২০০ টাকায় পাট কিনে এক বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়, এখন দরে ৪,০০০ টাকা হলেও লাভের দেখা নেই। বিপৎসঙ্কের মধ্যে মিল চালাতে বাধ্য হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দরকারি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন বন্ধ করে রাখতে হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাটের artificially সংকট তৈরি করা হয়েছে, যা আসলে অপ্রচুর নয়। গত দুই বছরে বিভাগীয় পর্যায়ে পাটের উৎপাদন কমেনি, বরং কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। সরকার যদি টহল না দেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।”

    অর্থনৈতিক ও কৃষি বিভাগ বলছে, গত দুই বছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও नড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় কাঁচা পাটের উৎপাদন মোটামুটি একই রেখেছে। কৃষি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯,৩৩৪ হেক্টরে ৯৪,৬৬৬ টন এবং ২০২৫-২৬ সালে ৩৮,২৬৮ হেক্টরে ৯১,১৩৫ টন কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়েছে। এই তথ্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া হলেও, মিল মালিকরা অভিযোগ করছেন যে কিছু সিন্ডিকেট চক্র অপ্রকাশিতভাবে পাট মজুত করে দাম বাড়াচ্ছে।

    বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, “বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানো জরুরি। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মজুত করছে পাট, যা বাজার অস্থির করে দিয়েছে। সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে এই অসাধু কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের ঋণও পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না, সবকিছুর সমাধান দ্রুত দরকার।”

    পাট অধিদফতর বলছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের তত্ত্বাবধান চলছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, “একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন এবং এ নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, দ্রুত বাজারের অবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

    খুলনা অঞ্চলের মোট ২০টি ইজারা ও বেসরকারি পাটকলের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, এর একটি বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে, চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানিসহ খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি একান্তই সময়ের দাবি অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে একতন্য সমর্থন দিয়েছে, সেই আশানুরূপ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য দল দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জুলাই সনদে যে অঙ্গীকারগুলি করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠন করার পর থেকেই নিরলস কাজ শুরু হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া বারোটার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা করেন, এই ‘জুলাই সনদ’ এক ধরনের রাজনৈতিক ঐতিহাসিক দলিল, যা দেশের বিভিন্ন অংশের মতামত ও স্বার্থের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত। তিনি বলেন, জনগণের রায় ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে ও দেশের উন্নয়নে সংসদই হবে মূল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। সেই জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া অগ্রসর করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনও সদস্যের শপথ পড়ানোর ক্ষমতা নেই। এজন্য এ ধরনের কোনও প্রক্রিয়াও গ্রহণ করা হয়নি। আমরা সবকিছু সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনেই করেছি। ভবিষ্যতেও মানসম্পন্ন সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনা — সবই সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের নেতা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকারের গঠনের জন্য চিঠি প্রদান করা হয়েছে।

    শপথপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোট ও জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তারপর তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম যোগ করার বিষয়টি সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ২(ক) ধারায় বলা আছে, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অক্ষম হন বা অনুপস্থিত থাকেন, তবে তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। এর না হলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে এই কাজ করবেন। এই বিধান অনুযায়ীই শপথ পড়িয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

    শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকেই দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্তির জন্য চিঠি পাঠানো হয়। সালাহউদ্দিন জানিয়ে geven, এই সিদ্ধান্তে দলের সকল সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।

    সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দুটি নির্দেশনা দেন — প্রথম, কোনও সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না; দ্বিতীয়, সরকারি প্লট বা জমি গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, আজ থেকে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের ধারণা এখন থেকে বদলে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্তে দৃঢ় বিশ্বাস, জনস্বার্থের উন্নয়নের জন্য সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

  • হাসিনাসহ আসামিদের ফেরত এনে বিচার করা সরকারের জরুরি দায়িত্ব

    হাসিনাসহ আসামিদের ফেরত এনে বিচার করা সরকারের জরুরি দায়িত্ব

    জুলাইয়ের গণআভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করাই সরকারটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ সকল আসামিকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে দেশের বিচারালয়ে আনা অপরিহার্য। এটি সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনভাবেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি বা বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মূল আসামিদের এখনও গ্রেফতার করে বিচার কার্যক্রম শুরু না করা আমাদের ব্যর্থতা। এই দায় এড়ানোর জন্য বিএনপি সরকারকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।’

    এছাড়াও, সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিএনপির শপথ না নেওয়ার বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘শপথ না নেওয়া প্রমাণ করে যে, বিএনপি শুধু নিজেদের পক্ষে সংস্কার প্রস্তাব আনবে। তারা শুরু থেকেই সংস্কারের বিরোধী ছিল। জনরোষের মুখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য তারা প্রচারণা চালিয়েছে।’

  • সরকারি দল গণরায়কারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য

    সরকারি দল গণরায়কারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য

    নানামুখী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের স্বপ্ন ছিল দেশের সংসদ ও সংবিধানের সংস্কার। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, তারা গণভোটের মাধ্যমে একটি সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা দেশের গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এক মন্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রথমদিন থেকেই গণপ্রত্যাশার সঙ্গে প্রতারণা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান ও মন্ত্রিসভার শপথের দিনজনকেই স্বীকৃতি দিয়ে, মূলত তাদের নিজেদের স্বার্থে আদর্শিক অসঙ্গতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, যারা জনগণের خيار হিসেবে গণভোটে হ্যাঁ বলে মত দিয়েছিল, তাদের সবার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি পর্ব। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বহু শহীদের রক্তের মূল্য দিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক পথের ওপর অগ্রসর হয়েছি বলে তার অভিমত। তিনি আশা করেছিলেন, এ দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কার হবে, ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে কিছু কারচুপির অভিযোগও আনেন তিনি, তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হয় বলে তারা এসে নির্বাচনের ফল মানছেন।

    তবে, তিনি জানান, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সময় এক ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। সংবিধান অনুসারে, সংসদ সদস্য ও এই পরিষদের সদস্যরা একই দিনে শপথ নেবে—এমনটাই নির্ধারিত ছিল। এই শপথে একই ব্যক্তি পতাকা হাতে থাকবেন, ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে এই পরিষদ গঠন করবেন যাতে তারা দেশের সংস্কার প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধন করতে পারেন। কিন্তু, নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, কিছু ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির কারণে এই প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। সংবিধানের প্রতি অবমাননা করে মূলত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ না নিয়ে বিরত থাকেন। এর ফলে, দেশের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির কাজে অকার্যকর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে শপথ নেবেন এবং এই সংবিধান সংস্কারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে—প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশা পূরণ করবে। অন্যথায়, তিনি আরও বলেছেন, এই জাতীয় সংসদ ও সংসদীয় কার্যক্রমের মূল্য অনেক কম। তিনি অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন, সেই দিনের জন্য যখন এই প্রতারণা অবসান হবে, দেশের স্বার্থে সত্যিকার পরিবর্তন আসবে, এবং বাংলাদেশের মানুষ আবার নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপভোগ করবে।

  • আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে যাবেন জামায়াতের আমির

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে যাবেন জামায়াতের আমির

    আগামীকাল শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। অর্থাৎ, তিনি এই বিশেষ দিনে ভাষা শহীদদের সমাধিতে সমবেত হবেন। রাত ১২ টা ১ মিনিটে দিবসের প্রথম প্রহরে, রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে, ওই শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও, যারা এই মহান দিবসে শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানাবেন।শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর, ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে যান ভাষা শহীদদের মাজার জিয়ারত করতে। সেখানে তিনি তাদের রুহের শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন। এই ধরণের কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব তথ্য প্রকাশ করেছেন।

  • জামায়াত আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ চলছে

    জামায়াত আমিরের অভিযোগ: গণমাধ্যমের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ চলছে

    সরকার বিরোধী দলগুলোর পরামর্শ না মানলেও সংসদে কঠোর protest গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, গণমাধ্যমের ওপর অপ্রয়োজনে এবং নির্লজ্জভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে এতিমদের জন্য আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, কেউ যদি কেবল দলের পরিচয় বা স্বার্থের কারণে শিকার হন জুলুমের, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র দলীয় স্বার্থের কারণে যেন কেউ অন্যায়ের শিকার না হয়, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে। যদি কেউ জুলুমের শিকার হন, আমরা সেই অন্যায়কে সহ্য করবো না, বরং এর বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করব।

    তিনি আরও বলেন, সরকার এবং বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের মানুষের অধিকার আরও ভালভাবে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সাধারণ মানুষের স্বার্থে দু’পক্ষকেই কাজ করে যেতে হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন।

    এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও যোগ করেন, যে কাজগুলো আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন করে— সেগুলোই আমাদের করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। বিশেষ করে এতিম শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই তাদের থেকে মনোমুগ্ধকর তরুণ তৈরি করতে, যারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, সম্প্রতি চারজন টিভি সাংবাদিকের চাকরি হারানো বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, এটা সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর এক ভয়ঙ্কর আঘাত। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, এই চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের আবার চাকরি দেওয়া হোক। তা না হলে তিনি মনে করেন, সরকার একনায়কতন্ত্রের পথে হাঁটছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।

    সেলিম উদ্দিন বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম ও কোরআনের প্রতি গভীর আসক্ত। তারা বিশ্বাস করে, কোরআনের চেতনাই দেশের উন্নতির মূল চালিকা শক্তি।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অবু.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, থানা আমির ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

  • গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

    গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, একুশের মূল চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে এই চেতনাকে ধারণ করে দেশ এক সময় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে আরও দৃঢ় ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আগামীকাল মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত। আমি বাংলাভাষা, দেশের সকল ভাষাভাষী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা তাদের আত্মদান দিয়ে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী একুশে ফেব্রুয়ারিকে আমাদের জাতীয় জীবনের এক অসামান্য অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বৈষম্য ও শোষণের অবসান ঘটিয়ে পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান তৈরি হয়। মাতৃভাষার এই আন্দোলন কেবল ভাষার স্বীকৃতি এনে দেয়নি, এটি আমাদের স্বাধিকার, গণতন্ত্র এবং সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে। একুশের এই রক্তক্ষয়ী পথই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার পথ সহজ করে দেয়।

    তিনি emphasizing করেন, বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তঃজাতীয় মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আমাদের মাতৃভাষার প্রতি ভালবাসা ও ত্যাগের স্বীকৃতি। আজ বিশ্বজুড়ে একুশের চেতনা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সংরক্ষণে বৃহৎ আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

    তারেক রহমান যোগ করেন, ‘আমরা ভাষা শহীদদের, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের এবং ২০২৪ এর স্বাধিকার সংগ্রামের সকল মহত্ত্বের চেতনা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। আমাদের দেশে ভাষার বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা ও সমুচিত ব্যবহারে সবাই সচেতন হয়ে উঠি।

    শেষে, তিনি সকল ভাষা শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি সফলতা কামনা করেন।