চাল আমদানির জন্য সম্প্রতি সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা বর্ধিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় মালবাহী স্থলবন্দর বেনাপোলের মাধ্যমে এই সময়ে মাত্র তিনদিনের মধ্যে ছয়টি চালানে প্রায় ১২৫৯ মেট্রিক টন (নন বাসমতি) মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা এসব চালানের খালাস কার্যক্রম ইতোমধ্যেই বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিন মেয়াদে চলাকালে, মাত্র তিন কার্যদিবসে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মাধ্যমে এই চালগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। বেনাপোল বন্দরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হল মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ ও লাইবা ওভারসিস। চালগুলো বন্দর থেকে ছাড়ানোর জন্য কাজ করছে মেসার্স রাতুল ইন্টারন্যাশনাল।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চালের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে ও আমদানির পরিমাণ কম থাকার ফলে সরকার নতুন করে চাল আমদানি সময় বাড়িয়েছে। এই জন্য ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ ৪০ দিন বৃদ্ধি করা হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে মাত্র তিনদিনে ৬টি চালানে এই পরিমাণ চাল আমদানি সম্ভব হয়। এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে মোট ৫,৫০০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়। ওই সময় সরকার ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দুটি লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করার অনুমতি দেয়, যার মেয়াদ ছিল ১০ মার্চ পর্যন্ত।
চাল আমদানির এই সকল কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যেও, গতকাল সোমবার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নতুন কোনো সময়সীমা বৃদ্ধি বা নির্দেশনা জারি করা হয়নি।
জানানআদর্শিকভাবে, নওয়াপাড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন বলেন, বর্ধিত এই ৪০ দিনের মধ্যে মাত্র তিনদিনে ভারত থেকে আনা হয়েছে ৩৪ ট্রাকের মাধ্যমে প্রায় ১২৫৯ মেট্রিক টন মোটা চাল। তিনি বলেন, চালের প্রতি কেজি খরচ বাবদ বন্দরের মাধ্যমে খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। এর বাজারমূল্য কেজিতে বিক্রি হবে প্রায় ৫১ টাকা।
শামীম হোসেন আরও জানান, বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ৪০ দিনের সময়কালে দুইজন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই চাল আমদানি করেছেন। চালের অর্ডারগুলো ইতোমধ্যেই বন্দরে খালাস নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চালের বাণিজ্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগামী দিনেও কি ধরনের ব্যবস্থা নেবে, তা দেখার বিষয়।
