Month: January 2026

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল

    সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের হারগুলি আবারো চালু করেছে। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই পরিবর্তন ঘোষণা করে। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসূত্রে মুনাফা দেওয়া হতো, সেই হারগুলো দুই বছর মেয়াদে আবারো কার্যকর হবে। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভরশীল থাকায় এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ও ক্ষতিকর ছিল।

    সূত্রে জানা যায়, রোববার অফিস খোলার পরে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আবারো আগের হারগুলো ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর এ বিষয়ে chief advisor এর অনুমোদন নিয়ে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    বর্তমানে সরকার সঞ্চয়পত্রের চার ধরনের স্কিম চালু রেখেছে, যার মধ্যে পার্সোনাল, পরিবার ও পেনশনভিত্তিক সংকলন রয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত মুনাফা হার ছাড়াও, বৃহৎ বিনিয়োগের জন্য আলাদা হারে মুনাফা দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। এর পাশাপাশি, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যদি সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হয়, তবে মুনাফা কম পাওয়া সম্ভব।

    পরিবার সঞ্চয়পত্রে, ৫ বছরের মেয়াদে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের জন্য পূর্বে ১১.৯৩% মুনাফার হার ছিল, যা কিছু দিন আগে ১০.৪৪% এ নামানো হয়েছিল। তবে প্রজ্ঞাপনে এখন আবার সেটির হার আগের মতো রেখে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে।

    ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে। ৫ ও ২ বছরের মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সর্বশেষ নিলাম ভিত্তিক সুদ হার অনুসরণ করে সেটি নির্ধারণ হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ হার কমায়, ফলে গত বৃহস্পতিবার সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমে এসেছে।

    সাধারণ গ্রাহকরা মূলত: দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, যারা অর্থের অপ্রত্যাশিত প্রয়োজন বা জরুরি সময়ে সঞ্চয়পত্র ভেঙে থাকেন। পাশাপাশি, প্রতিমাসে সংসার চালানোর জন্য টাকা ছাড়াও এই বিনিয়োগ থেকে উপার্জিত মুনাফা তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে দাম বৃদ্ধির হার ৮-৯% এর কাছাকাছি থাকায়, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাজে ফেলে। বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার না কমানোই উচিত ছিল। প্রাথমিকভাবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এখনও এর স্থিতিশীলতা পুরোপুরি আসেনি, তাই নিয়ে সরকারের সমালোচনা চলছে।

  • একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় লাফ

    একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় লাফ

    বাংলাদেশে একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এ ঘোষণা দিয়েছে যে, দেশের বাজারে প্রতি ভরির সোনার মূল্য সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, উচ্চমানের সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

    বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। সংগঠনটির মতে, বিশ্ববাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্যও বেড়েছে।

    বিশ্ববাজারের ধাপগুনে স্বর্ণ ও রুপার দামের পরিবর্তন অনুযায়ী জানা যায়, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন ৪ হাজার ৪৪৫ ডলার। এই দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরির স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। অন্য কেরেটের স্বর্ণের দাম হলো— ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    অন্যদিকে, রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য পূর্বের তুলনায় বাড়ে ৫ হাজার ৯২৫ টাকায়। তদ্ব্যতীত, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য হয় ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা যোগসাজশে এলপিজির (সংকোচে লিপিজি) দাম বাড়িয়েছেন। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

    উপদেষ্টা বলেন, কিছু ব্যবসায়ী পরিকল্পিতভাবে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির জন্য সুযোগ নিচ্ছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেট্রোবাংলার মূল্য সূচক অনুযায়ী বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) ৫৩ টাকার পরিবর্তে আরো বেশি দামে বিক্রি করছে। এ অবস্থায় তারা দামের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই কারসাজি বন্ধ করতে উদ্যোগ করবেন।

    তিনি আরও জানান, গতকাল অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি উঠে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই সরকার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ এই অপ্রয়োজনীয় দামের অস্বাভাবিকতা বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    এ বিষয়ে তিনি বললেন, মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে এই কারসাজির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এইসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা।

  • দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল

    দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল

    দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের নাম নিশ্চিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে হযরত শাহজালাল ও শাহপরান রাহমতুল্লাহ আলাইহিমার মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।

    মির্জা ফখরুল জানান, ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রূপে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন সেই উত্তেজনাপূর্ণ প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, এবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ আসন্ন নির্বাচনের প্রচার কর্মসূচি সিলেট থেকেই শুরু হবে। বিএনপি মনে করে, দেশ আজ অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পৌঁছেছে যেখানে ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাটা আগের তুলনায় বেশ বেশি জরুরি। বহু আগে যারা ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এখন তাদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করছে দলটি।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে আমাদের দেশ যেন একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাই তার মূল স্বপ্ন।

    অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বর্তমানে এই সুযোগে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা চালাতে হবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না, আর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে উঠতেও সময় লাগে। তাই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সংসদ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    ব্যক্তিগত সফরে রোববার তিনি সিলেটে যান এবং হযরত শাহজালাল ও শাহপরান রাহমতুল্লাহ আলাইহিমার মাজার জিয়ারত করেন।

  • ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

    ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছে ব্যবসায়ীদের সাথে। এই বৈঠকে তারা দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উঁচু সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি। তারেক রহমান তাদের বিষয়গুলো শুনে আশ্বাস দেন যে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ৯টায় শেষ হয়। বৈঠকের শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের কাছে যা সমস্যা রয়েছে তা তুলে ধরেন, যা শুনে তারেক রহমান আন্তরিকভাবে মনোযোগ দেন এবং আশ্বাস দেন যে, দেশের জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসা বাণিজ্যের সমস্যা পুরোপুরি সমাধানে চেষ্টা করবেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন, যার কারণ হলো চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উঁচু সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও নানা ধরনের দুর্নীতি। এর ফলে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং বিনিয়োগরহণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বিদেশিরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সব সমস্যার সমাধান হবে।

    বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা জানায়, তারা দেশের অর্থনীতি এবং বেকারত্ব কমানোর জন্য অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি মনে করেন। বিএনপির নেতা এবং অর্থনীতিবিদরা এই আলোচনা দেখেছেন এবং ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    আনোয়ারুল উল আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি স্থির করতেই হলে ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি emphasized করেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, যেকোনো সরকার এলে তাদের দায়িত্ব নিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সাথে একমত হয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি যদি ক্ষমতা ফিরে পায়, তারা রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।

    অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো সত্যিই ইতিবাচক। তারা প্রত্যাশা করেন, নতুন সরকার ব্যবসার জন্য কর ও ব্যয় কমানোর নীতি গঠন করবে, স্টক মার্কেট উন্নত করবে এবং ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, মব কালচার থেকে মুক্তি পেতে হবে, অন্যথায় ব্যবসা চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

    সবশেষে, মীর নাসির হোসেন মন্তব্য করেন যে, তারেক রহমানের দেহভঙ্গি এবং মনোভাব দেখে মনে হয়েছে তিনি আন্তরিক। তিনি উল্লেখ করেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের উন্নয়নের জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।

  • প্রার্থিতা বাতিল: তুচ্ছ বিষয়ের ভিত্তিতে অভিযোগ জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার

    প্রার্থিতা বাতিল: তুচ্ছ বিষয়ের ভিত্তিতে অভিযোগ জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কিছু রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে তুচ্ছ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে প্রার্থিতা বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের আমলাকার্যক্রমে কিছু কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে, গুরুত্বপূর্ণ অথচ প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখানোর পরও অযুহাত দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা ঘটছে। মধ্যরাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়ন যাচাইয়ে নানারকম অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। নিরীহ প্রার্থীর মনোনয়ন এভাবেই তুচ্ছ বিষয় বস্তুতে বাতিল করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে, ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা নানা প্রকার বহিরাগত প্রভাবের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের প্রার্থিতো সুরক্ষিত হচ্ছেনা। অভিযোগ করেন, আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থী বাতিলের ঘটনা ঘটাচ্ছে রিটার্নিং অফিসাররা। তিনি মনে করেন, এই ধরণের অনিয়ম চলতেই থাকলে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ কারণে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা এড়ানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। যারা অযুহাত হিসেবে তুচ্ছ বিষয় দেখিয়ে প্রার্থিতা হারাচ্ছেন তাদের প্রার্থিতা যেন অবিলম্বে বৈধ ঘোষণা করা হয়। সকলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে একে বরাবরের মত সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান প্রকাশ করেছেন তিনি।

  • একাত্তরকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না: তারেক রহমান

    একাত্তরকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না: তারেক রহমান

    বাংলাদেশের স্থায়িত্ব ও স্বত্ত্বের জন্য মুক্তিযুদ্ধই মূল ভিত্তি—এ কথা আবারও দৃঢ়ভাবে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছাড়া দেশের অস্তিত্ব কল্পনা করাও দুষ্কর। সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যে নতুন বাস্তবতা ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিগত বাম দলগুলোর সঙ্গে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। এই বৈঠকে নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    তারেক রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধই আমাদের মূল ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না।” তিনি গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

    বৈঠকে বাম দলগুলোর নেতারা বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন আর কখনও বাংলাদেশে ক্ষমতা লাভের সুযোগ না পায়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    এদিকে, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তারেক রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে দেশের জনগণ বিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচন উপভোগ করতে পারে।

  • ঢাবি শিবিরের নতুন সভাপতি মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি আশিক

    ঢাবি শিবিরের নতুন সভাপতি মহিউদ্দিন, সেক্রেটারি আশিক

    ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুহা. মহিউদ্দিন। এর পাশাপাশি, শাখার নতুন সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আশিকুর রহমান (কাজী আশিক), এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হলেন মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের উপস্থিতিতে শহীদ মাহবুবুর রহমান অডিটোরিয়ামে একটি বৃহৎ সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশের আয়োজন কেন্দ্রীয় এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।

    এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতির স্বাক্ষরিত ভোটের ব্যালটের মাধ্যমে সদস্যরা ভোট প্রদান করেন। ভোট গণনার পরে, কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ঘোষণা করেন যে, শেখ মহিউদ্দিন খান সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন এবং তাঁর নামই নতুন সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীতে, নবনির্বাচিত সভাপতি মহিউদ্দিন খান শপথ গ্রহণ করেন।

    নির্বাচনের পরামর্শে, নতুন সভাপতি আশিকুর রহমানকে শাখার সেক্রেটারি এবং মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে মনোনীত করা হয়। সকলের মধ্যে এই নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

    শেষে, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে এই সদস্য সমাবেশ সমাপ্ত হয়, যেখানে সবাই সুস্থ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করেন।

  • গভীর সমুদ্রে গবেষণা বৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

    গভীর সমুদ্রে গবেষণা বৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

    বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রভাগের এলাকাগুলো যেখানে স্থলভাগের সমান আকারের, সেখানে এই সমৃদ্ধ সম্পদগুলো পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছি না। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এই গবেষণা জরিপ ও প্রতিবেদনটি ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ নামে গবেষণা জাহাজের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গোপসাগরের গভীর জলাশয়ে অবস্থিত জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত পরিস্থিতি যাচাই। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত বছর ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি জানায়, গবেষণায় ৬৫টি নতুন জলজ প্রজাতির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে, তবে সমুদ্রের পরিবেশে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, ‘বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য খুবই বেড়ে গেছে, যা পরিবেশের অস্থিতিশীলতার লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় দেখেছে, বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং কাছাকাছি দেখতে মাছের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০ থেকে ২৮০টি ট্রলার মাছ শিকার করছে, এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ চালাচ্ছে। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত আগ্রাসী, যা বড় মাছ ধরা হলেও ক্ষুদ্র জেলেদের জন্য ক্ষতি। এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘এ ধরনের টার্গেটেড ফিশিংয়ে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হতে পারে। সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ অন্যদিকে, গবেষণায় টুনা মাছের অগ্রগতি ও সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন। বৈঠকে আরো জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের ‘রয়েল নেভি’ এর বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন, যা সমুদ্র গবেষণায় শক্তি বাড়াবে। তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সক্ষম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেস্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

  • ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

    ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

    ঢাকার একটি আদালত সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদন মঞ্জুরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়।

    নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রয়েছেন সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খান্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব কামাল উদ্দীন আহমদ, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

    আদালত সূত্র জানায়, মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিরা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সভায় উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি পরিপন্থীভাবে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। তারা স্বার্থসংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো থেকে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণামূলকভাবে জমি ও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ হয় এবং ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশ না করেই বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়। পশ্চিমে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

    তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদি তারা দেশের বাইরে চলে যান, তবে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের দেশে থাকতেই দেশের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।