বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছে ব্যবসায়ীদের সাথে। এই বৈঠকে তারা দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উঁচু সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি। তারেক রহমান তাদের বিষয়গুলো শুনে আশ্বাস দেন যে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয় এবং রাত সাড়ে ৯টায় শেষ হয়। বৈঠকের শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা তাদের কাছে যা সমস্যা রয়েছে তা তুলে ধরেন, যা শুনে তারেক রহমান আন্তরিকভাবে মনোযোগ দেন এবং আশ্বাস দেন যে, দেশের জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসা বাণিজ্যের সমস্যা পুরোপুরি সমাধানে চেষ্টা করবেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন, যার কারণ হলো চাঁদাবাজি, ব্যাংকের উঁচু সুদ, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও নানা ধরনের দুর্নীতি। এর ফলে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং বিনিয়োগরহণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বিদেশিরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সব সমস্যার সমাধান হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা জানায়, তারা দেশের অর্থনীতি এবং বেকারত্ব কমানোর জন্য অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি মনে করেন। বিএনপির নেতা এবং অর্থনীতিবিদরা এই আলোচনা দেখেছেন এবং ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আনোয়ারুল উল আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি স্থির করতেই হলে ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি emphasized করেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো সরকার এলে তাদের দায়িত্ব নিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সাথে একমত হয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি যদি ক্ষমতা ফিরে পায়, তারা রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এই পরিকল্পনাগুলো সত্যিই ইতিবাচক। তারা প্রত্যাশা করেন, নতুন সরকার ব্যবসার জন্য কর ও ব্যয় কমানোর নীতি গঠন করবে, স্টক মার্কেট উন্নত করবে এবং ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, মব কালচার থেকে মুক্তি পেতে হবে, অন্যথায় ব্যবসা চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
সবশেষে, মীর নাসির হোসেন মন্তব্য করেন যে, তারেক রহমানের দেহভঙ্গি এবং মনোভাব দেখে মনে হয়েছে তিনি আন্তরিক। তিনি উল্লেখ করেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের উন্নয়নের জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।
Leave a Reply