ওহাইও অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হওয়া বা জীবনের ঝুঁকি থাকায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা নিশ্চিত করতে চাইছে যে, এই হামলা কোনও মূল লক্ষ্যবস্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল কি না। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সজাগ অবস্থানে রয়েছেন এবং সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সিক্রেট সার্ভিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ভ্যান্স এবং তাঁর পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, বাসভবনের ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ওহাইওতে ভ্যান্সের বাসভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কিভাবে বা কেন জানালাগুলোর গ্লাস ভেঙে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং তার লক্ষ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রধানত এই ঘটনা রোববার ঘটেছে। সিনসিনাটির পুলিশ বলেছে, রাত প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটে সিক্রেট সার্ভিসের সহায়তা জন্য ডাকে। গোয়েন্দারা তখন এক ব্যক্তিকে দৌড়ে যেতে দেখেছে, পরে দ্রুত সেখানে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করে। বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সতর্কতাকে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: সিএনএন।
Month: January 2026
-

মালয়েশিয়ার প্রবীণ নেতা মাহাথির মোহাম্মদ হাসপাতালে ভর্তি
মালয়েশিয়ার ১০০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আজ ঘরের মধ্যে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে তার এক ঘনিষ্ঠ সহকারী বার্তাসংস্থা এএফপিকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি)। প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা আগের বছরগুলোতে বেশ দেখা গেছে। গত জুলাইয়ে তার শততম জন্মদিনের উদযাপনের সময় হারিয়ে যান তিনি, তখনও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সহকারী সাহা রফিকুল ইসলাম এএফপিকে বলেছে, ‘ঘরের বারান্দা থেকে শোবার ঘরে যাওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। পরে তাকে জাতীয় হার্ট ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। তার জ্ঞান রয়েছে, তবে বর্তমানে তার পরিস্থিতি কেমন, সেটা স্পষ্ট নয়। আমি এখনও জানি না, তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হবে কি না।’
তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘পরে জানা গেল, তিনি ওঠার সময় পড়ে যান। তবে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।’
মাহাথিরের হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল, যার জন্য তার বাইপাস সার্জারি হয়। মালয়েশিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত নেতাদের মধ্যে তিনি একজন, যিনি তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে উন্নতির পথে নিয়ে গেছেন। দীর্ঘ দিন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—১৯৮১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, এরপর আবার ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, যখন তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল ৯৪ বছর, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ নির্বাচিত নেতা হিসেবে পরিচিত করে তোলে। মালয়েশিয়ায় তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
-

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে ‘অস্ত্র হাতে নিতে’ প্রস্তুত
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার সরকার বা দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি অস্ত্র হাতে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। পূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেন তিনি। এক্সে এক পোস্টে পেত্রো মাদক পাচার বিরোধী তার সরকারের উদ্যোগ এবং সেই সঙ্গে ট্রাম্পের সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়ায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে এতে শিশুপালনের ঝুঁকি তৈরি হবে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন সদস্য যোগানোর সুযোগ তৈরি হবে। গুস্তা আরও বলছেন, ‘এমন একটি প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করলে, যার প্রতি দেশের বড় অংশের সমর্থন ও সম্মান রয়েছে, সেটি গণঅভ্যুত্থান ডেকে আনতে পারে।’ একুশের গেরিলা গোষ্ঠীর সাবেক সদস্য হিসেবে গুস্তা বলেন, তিনি নিজেও দেশ রক্ষা করতে লড়াই করবেন। যদিও আগে তিনি শপথ করেছিলেন, আর কখনো অস্ত্র হাতে নেবেন না, তবে দেশের জন্য আবার অস্ত্র ধরার সংকল্প ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: সিএনএন।
-

দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন
খুলনা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলি আসগার লবি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনড় ও অসাম্প্রদায়িক নেত্রী। তিনি একজন দৃঢ় নেত্রী হিসেবে দলীয় বা ব্যক্তিগত অস্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কখনো আপোষ করেননি। এর ফলশ্রুতিতে তাকে জেলো, নানান অপপ্রচার, প্রচুর মিথ্যা মামলা, গৃহবন্দি থাকা ছাড়াও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক হিংসে-বিদ্বেষের শিকার হতে হয় তাকে। তবে মৃত্যুর পর তার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দেশবাসীর হৃদয়ে তিনি এক স্বর্ণময় স্থান পেয়েছেন। এই সব কিছুই স্পষ্ট করে দেয় যে, খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জন্য একজন অবিচল ও প্রিয় নেত্রী। সোমবার দিনব্যাপী উপজেলা বিএনপি ও শ্রমিক দলের আয়োজনে পৃথক তিনটি শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। দুপুর ১টায় উপজেলা শ্রমিক দলের আয়োজন করা ফুলতলা বিএনপি কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবাদুল হক রুবায়েত, জেলা বিএনপির নেতা এস এ রহিমান বাবুল, ওয়াহিদ হালিম ইমরান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মনির হাসান টিটো, যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদারসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা জাহিদ হাসান লাভলু, বকুল ভূঁইয়া, ইসমাইল হোসেন মোড়ল, তুহিন খন্দকার, আবুল কালাম, ইলিয়াজ হোসেন ভূঁইয়া, চান মিয়া, বোরহান গাজী, কালাম হাওলাদার, হান্নান সরদার, লুৎফর হাওলাদার, হাবিবুল্লাহ, শাহাবুদ্দিন, সোহেল, মামুন প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মোঃ আঃ মতিন। পরে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করেন, যার মধ্যে রয়েছে মোঃ আকতার মাহমুদ মোড়লের সভাপতিত্বে এবং ৬ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১১টায় প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ইউএনও সুচি রানী সাহার সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ ইছহাক, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক হাওলাদার, মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, আইসিটি কর্মকর্তা অজয় কুমার পালসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ ও বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
-

খালেদা জিয়া একান্তন গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন
মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের জন্য তার অসাধারণ অবদান এবং দেশ ও জনগণের প্রতি তার ত্যাগ সব সময় আমাদের স্মৃতিতে বিরাজ করবে। তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন নেতা, যিনি প্রতিনিয়ত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিয়েই সংগ্রাম করে গেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে একটি স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এড. শফিকুল আলম মনা। দোয়া অনুষ্ঠানে মরহুম নেত্রীর রুহের শান্তি এবং দেশ ও জাতির অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইফতেখার হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ আরও অনেক নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্নয়ের পাশাপাশি অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ নেতাকর্মীরা। সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা জানান, দেশ ও মতের শান্তি ও স্বস্তির জন্য।
-

খালেদা জিয়ার জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়া: নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে নানা অনুষ্ঠান পরিচালনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সাধারণ গৃহিণী থেকে দেশের নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, যা তার দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। তিনি সর্বদা আপোষহীন ছিলেন এবং মানুষের হৃদয়ে নিজেকে অমোহন করে তুলেছেন।
সোমবার জোহর অৱধি শতরূপা মোড়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই দোয়ায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আসাদুজ্জামান।
এরপর, আসর নামাজের পরে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে পুরোনো ইমাম ও খতিব হাফেজ মোঃ মাকসুদুর রহমানের জানাজার মাধ্যমে তার শেষ বিদায় জানানো হয়। এছাড়া তিনি ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে ফেরিঘাট জিন্না মসজিদে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অংশ নেন। সেই সাথে, কুবা মসজিদে মরহুমা নেত্রীর রুহের শান্তির জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
এছাড়া, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমানের উপস্থিতিতে মরহুমার জন্য দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ ও দোয়া পরিচালনা করেন মারুফ বিল্লাহ। অনুষ্ঠান শেষে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।
এমন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজী মোঃ রাশেদ, রেহেনা ঈসা, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, আনোয়ার হোসেন, এডভোকেট গোলাম মওলা, ইউসুফ হারুন মজনু, জালাল শরীফ, একরামুল হক হেলাল, গিয়াস উদ্দিন বনি, আল জামাল ভূঁইয়া, মারুফ আল রশিদ, নাজমুল হক মুকুল, শাসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, রবিউল ইসলাম রবি, মহিউদ্দিন টারজান, মোজবাহ উদ্দিন মিজু, আজিজুর রহমান আজিজ, মঞ্জুর হাসান অপু, আসিফ ইকবাল লিটন, মেহেদী হাসান সোহাগ, তরিকুল ইসলাম সোহান, রিয়াজুর রহমান রিয়াজ, বাচ্চু মীর, শাহানুর কবির অয়ন, এডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফিজ, খাঁন শহীদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম বাবু, আলমগীর হোসেন আলম, মিজানুজ্জাক তাজ, ইকবাল হোসেন, নাহিদ মোড়ল, জাবির আলী, মোস্তফা কামাল, মনিরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আব্দুল হাকিম, মোস্তফা জামান মিন্টু, গোলাম নবী ডালু, লিটু পাটোয়ারী, শাকিল আহমেদ, মোল্লা ফিরোজ, ওয়াহাব শরীফ, সুলতান মাহমুদ সুমন, শামীম খান, শরিফুল ইসলাম সাগর, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফিরোজ আহমেদ, মুশফিকুর রহমান অভি, তালুকদার রাজিব, মিজানুর রহমান মিজান, ইমরান হোসেন, রাজিবুল আলম বাপ্পি, মহিদুল হক টুকু, মাহমুদ হাসান মুন্না, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, শহিদুল ইসলাম লিটন, এ আর রহমান, সেলিম বড় মিয়া, হারুন হাওলাদার, সুলতান হোসেন, সজল আকন নাসিব, রোকেয়া ফারুক, শামীম রেজা, জাহাঙ্গীর হোসেন, খান রাজিব, মাসুদ রানা, এরশাদুল হক চান, মানিক, ইকবাল হোসেন, মাহবুবুর রহমান লিটু, দুলাল চৌধুরী, শাহানা রহমান, বিলকিস বেগম প্রমুখ।
-

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে তাপমাত্রা পড়ে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
চুয়াডাঙ্গা জেলা তীব্র শীতের কবলে পড়েছে, যা জীবনযাত্রাকে চাপের মধ্যে ফেলেছে। এই শীতকালীন আবহাওয়ায় মানুষের জীবন অচল হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে শ্রমজীবী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই শীত আরও বেশি দুর্ভোগের কারণ बने।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) ভোর ৯টায়, স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গেছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার হার ছিল ৯৭ শতাংশ। এই শীত মৌসুমে এটাই জেলাটির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
শীতের এই তীব্রতায় সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড এবং চায়ের দোকানসহ আড়ত-পথে অগ্নি জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা নিবারণে ব্যস্ত মানুষজন। অনেকেরই মত, এই ঠাণ্ডায় স্বাভাবিক জীবনে চলা অনেক কষ্টের হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের জন্য ভোরে কাজে বের হওয়া অনেকটাই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, হাত-পা এখনও বরফের মতো জমে যাচ্ছে, যেন ঠান্ডা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকছি। তবুও পেটের দায়ে কাজের জন্য বের হতে হয়। কাজ না পেলে খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে।
শীতের এই দাপটে শিক্ষার্থীও বিপাকপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ভোরে স্কুল বা কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কষ্টকর আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। এক শিক্ষার্থী বলছে, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে করে যেতাম, এখন শীতের কারণে লম্বা হাঁটাপথ পার হতে হচ্ছে। হাত-পা জমে যাচ্ছে, তবে হাঁটলে শরীর গরম হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, আগামী ১১ বা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
-

মোংলায় পর্যটক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট, সুন্দরবনে ভ্রমণে দুর্ভোগ
মোংলার সুন্দরবনে পর্যটক পরিবহন নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে নাুমোংলা নৌযান মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে সব ধরনের জালিবোট, ট্রলার ও পর্যটকবাহী নৌযান বন্ধ রয়েছে, যার ফলে আটকা পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।
নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, রবিবার নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হঠাৎ অভিযান ও হয়রানির প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের ঘোষণা তারা দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, কিছুদিন ধরেই অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অনিচ্ছারভাবে নানা অনুমতিপত্র ও লাইসেন্সের জন্য চাপ দেন, এমনকি অতিরিক্ত টাকা ঘুষের দাবি করে থাকেন। পরে রবিবার বিকালে হঠাৎ নৌপরিবহন কর্মকর্তারা ও প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালায়, যেখানে মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর, নৌযান কেটে নিয়ে যায় ও শ্রমিকদের বিরক্ত করে হয়রানি করে। এমনকি শ্রমিকদের ভয় দেখানো হয় মামলা ও গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে।
এরপর থেকেই মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে আড়াই থেকে তিনশোর বেশি নৌযান বন্ধ করে দেন। সুন্দরবনের গহীন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের জন্য এই বন্ধের ফলে সারিবদ্ধভাবে থামানো হয়েছে শত শত জালি বোট ও ট্রলার, নদীঘাটে ভিড় জমেছে অসংখ্য পর্যটক। আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বলছেন, সুন্দরবনের প্রকৃতি দেখার বড় স্বপ্ন ছিল, কিন্তু এখন সব অন্ধকারে ডুবে গেছে।
যশোর থেকে আসা স্বর্ণা আক্তার বলেন, ‘আমরা পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছি। এখন দেখলাম নৌযান মেয়াদ বন্ধ, তাই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।’ একইভাবে ঢাকার মিরপুর থেকে আসা আফরোজা বেগম বলেন, ‘একদমই ভালো লাগছে না, আর যেতে পারছি না। অনেক আশা ছিল, অনেক টাকা খরচ করলাম, এখন ফিরে যেতে হচ্ছে।’ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ৫৪ জনের বাসে এসেছিলাম, কিন্তু এখন সব বন্ধ। শিশুসহ সবাই অপেক্ষায়, কীভাবে সুন্দরবন দেখব বুঝে উঠতে পারছি না।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংগঠনের নেতা মোঃ সোহাগ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে নৌপরিবহন দপ্তরের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সব নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছি। জরুরি শর্ত ও অতিরিক্ত ফি চাপানোর জন্যই এই ধর্মঘট, যা পর্যটনশিল্পের জন্য বড় ধাক্কা। এখনো অজুহাত দেখিয়ে কর্মকর্তারা নানা শর্ত চাপাচ্ছেন, যা মানা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও সময়ের জন্য ধর্মঘট চলবে।’
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, ‘সোমবার ভোর থেকে কোনও পর্যটক বা নৌযান আসতে পারেনি। নৌপরিবহন দপ্তর রোববার অভিযান চালিয়েছে বলে জানি, তাই মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’
নৌপরিবহন দপ্তর খুলনার পরিদর্শক মোঃ রাশেদুল আলম জানান, ‘জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমণের আয়োজন করা, এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমরা হয়রানি করতে চাই না, বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, বোটে ১৬ হর্স পাওয়ার কম ইঞ্জিন চালানোর জন্য ট্রেড রাইসেন্স ও পোর্ট ডিউস লাগলেও, বোট সার্ভে নামে হয়রানি করছে ডিজিশিপিং। এই সব কারণেই তারা এই অস্থায়ী ধর্মঘট শুরু করেছেন।
-

ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি
দিন দিন দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পথে প্রেরিত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এই অর্থের বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকার হার ধরে গণনা করা হয়)। এটি এখন পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার মতো। আর আগের অর্থবছরে একই সময়ের মধ্যে তা ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই সময়ের রেমিট্যান্সে প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বা ৩১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে প্রবাসী পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার। এই সময়ের মধ্যে মোট রেমিট্যান্স বেড়ে গেছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা, এবং ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নয়ন রেমিট্যান্সের অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেখানো হলো: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
অপর দিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সর রেকর্ড প্রবাহ দেখা গেছে। ওই অর্থবছর শেষে দেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।
-

বছরের প্রথম দিনেই সোনার ভরির দাম কমে ১৪৫৮ টাকায়
নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশের বাজারে আবারো সোনার মূল্য কমানো হয়েছে। সর্বোচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমেছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা, যার ফলে এখন একটি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।
