Month: December 2025

  • প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যে হাদির বিচারবিষয়ক নীরবতা মহলের হতাশা

    প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যে হাদির বিচারবিষয়ক নীরবতা মহলের হতাশা

    শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে বিচারবিষয়ক স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার (২১ ডিসেম্বর) মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওসমান বিন হাদির শাহাদাতের স্মরণে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    পরওয়ার বলেন, গত জুলাই মাসে সংঘটিত হাদির হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ‘প্যাকেজ প্রোগ্রাম’। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এমন পরিকল্পিত হামলা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। তিনি সরকারকে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

    এছাড়াও, তিনি সন্ত্রাসী হামলার পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ছয় ঘণ্টা সীমান্ত সীলগালা রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন। বলেন, গুলির ঘটনার পরে এত দীর্ঘ সময় কেন সীমান্ত বন্ধ রাখা হলো? কি কারণে গোয়েন্দা মহলে লুকিয়ে থাকা উগ্রপন্থী ও আধিপত্যবাদীরা খুনিকে পালানোর সুযোগ দিয়েছে, এ নিয়েও ভাবনা চিন্তার দরকার রয়েছে।

    তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, আগামী নির্বাচনে ‘রিফাইন আওয়ামী লীগ’ নামে কোনো ফ্যাসিস্ট সংগঠনকে পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না।

    শহীদ ওসমানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পরওয়ার বলেন, জীবিত ওসমানের চেয়ে শহিদ ওসমানের পরিবারকে সম্মান অনেক বেশি। এ কথা বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন, শহিদদের মর্যাদা বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

  • হাদির স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না ওমর বিন হাদি

    হাদির স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না ওমর বিন হাদি

    শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ভালোবেসে থাকলে, তার হত্যার বিচারের দাবি করলে, শাহবাগকে ফ্যাসিবাদমুক্ত ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে চাইলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার বড় ভাই ওমর বিন হাদি। তিনি বলেন, আমি কখনো শহীদের ভাই হতে চাইনি, আমি চাইতাম রাজপথে বিপ্লবী ওসমান বিন হাদির পাশে থেকে এই দেশকে স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদ মুক্ত করে ইনসাফের দেশ গড়তে। যতদিন পর্যন্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গঠন হয় না, আমি আন্দোলন থেকে সরে যাব না।최근 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ইয়াদে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির শাহাদত উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মহাস্থান, অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ নানা পর্যায়ের নেতারা। দোয়া ও স্মৃতিচারণের সময় তার বড় ভাই ওমর বিন হাদি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমি ওসমানের ভাই হিসেবে এখানে আসিনি, আমি ছিলেন তার সহযোদ্ধা। যখন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, আমি তার পাশে ছিলাম। ওসমান ডান পাশে বসে থাকাকালীন সময়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সে আহত হয়। আমার এই ক্ষুদ্র ভাইয়ের জন্য আমরা রাজপথে নামিনি, তবে হাদির অসাধারণ সাহস ও মূল্যবোধ আমাদের অনুপ্রেরণা। ওসমান যখন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন, তখন তাঁর সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবুও তিনি বলতেন, আমার আল্লাহই আমাকে রক্ষা করবেন, আমি নিজের জীবন বিপদে ফেললেও দেশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। তিনি বলতেন, ‘আমি যদি রবের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাই, আপনারা আমার পরিবারকে দেখবেন। আমি সেটাই চেয়েছি।’ ওমর বিন হাদি আরও বলেন, আমি কখনো শহীদ ভাই হতে চাইনি, আমি চাইতাম বিপ্লবের পাশে থেকে এই দেশের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি বলেন, আজ আমার ভাই চলে গেছেন। ওসমান জোহর নামাজ পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন। আমাদের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-ব্রাদাররা এই দুঃখের সময়ে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন, এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। আমরা স্বীকার করি, এই সংগ্রাম এবং শহীদ ওসমানের আন্দোলন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, আমরাও ওসমানের স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নিজের সবকিছু ছাড়িয়ে যাব। আমরা কোনো পারিবারিক আর্থিক অনুদান চাই না, শুধু চাই আন্দোলন অব্যাহত থাকুক। ওসমান হাদির শাবাগে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওমর বিন হাদি বলেন, ওসমান শাহবাগে দাঁড়িয়ে বলতেন, এই শাহবাগ থেকে ফ্যাসিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, এই স্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে এই দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্র সফল হয়। তিনি মহান দোয়া ও প্রার্থনা করেন যে, হাদির স্ত্রীর, সন্তান ও পরিবারের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আরও উল্লেখ করেন, ওসমানের ছোট বোন সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছে, মানসিকভাবে দুর্বল। দেশপ্রেমে উদ্বুব্ব হওয়া এই পরিবারের সদস্যদের জন্য সবাই দোয়া কামনা করেন। শেষত, তিনি বলেন, এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সকল অংশকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যেন এ দেশের যুবসমাজ সত্যিকার দেশপ্রেমে উদ্বেলিত হয়।

  • তারেক রহমানের আহ্বান: সামনের দিনগুলো কঠিন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন

    তারেক রহমানের আহ্বান: সামনের দিনগুলো কঠিন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন

    বিএনপি সহ সব গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানবিন্দুসংঘে দেশের স্বার্থে একসাথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। his বক্তৃতায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘আগামী দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জাপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে শহীদ জুলিও স্মরণে স্থাপিত ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি শহীদদের স্মরণ করে বলেন, শহীদ ওসমান হাদী তার মধ্যে অন্যতম, যিনি গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন এবং প্রমাণিত যে তিনি ভোটাভোটে বিশ্বাস করতেন। এই মনোভাবের জন্যই তিনি শহীদ হয়েছেন।

    তারেক বলেন, আমাদের উচিত শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো ও তাদের আদর্শকে অনুসরণ করে দেশের শান্তি ও উন্নতির জন্য কাজ করা। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তারা আমাদের প্রজন্মের তরুণ ছিল। এই যুগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইন্টারনেট, কিন্তু এর ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় সবকিছু সহজে সংযোগ করা যায় না। তবুও, আগামী নির্বাচনে যদি আমরা জনগণের সমর্থন পাই, তাহলে আমরা ইন্টারনেটের সুবিধা সহজতর করার চেষ্টা করবো, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য।

    স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার বিষয়ে তিনি জানান, নতুন পরিকল্পনায় দেশের এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে অনেক নারী থাকবেন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।

    দেশের আইটি পার্কগুলোর অপচয় ও অকার্যকারিতা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অতীতে কিছু ডিজিটাল পার্ক তৈরি হলেও, খুব কমই কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি এসব পার্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলার কথা বলেন, যাতে তরুণরা ডিজাইন, কন্টেন্ট এবং অনলাইন কাজের জন্য স্থান পায়।

    বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেন, যেখানে ভাষা শেখা ও বিভিন্ন ট্রেনিং প্রবৃদ্ধি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সহজে চাকরি পাওয়া সম্ভব হবে।

    বক্তব্যের শেষ দিকেও তিনি দলের ৩১ দফা ও নতুন স্লোগানকে গুরুত্ব দেন, যেখানে মূল কথা হল- দেশের গর্বে কাজ করা, প্রথমে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য যেন সব কর্মসূচীর কেন্দ্রে থাকে। বিকেল সময়ে অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা আরও বক্তব্য দেন, যেখানে জেলা অর্জনসমূহ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

  • অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন মির্জা ফখরুল

    অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন শুধু সচেতন থাকলেই হবে না, বরং অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা বিরোধী এক প্রতিবাদ সভায় এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রের ওপর হামলা দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এখন চাই শক্তিশালী প্রত্যাঘাত। আমি নিশ্চিত না আমরা কোন বাংলাদেশের দ্বারপ্রান্তে আছি। জীবনের স্বপ্ন ও সংগ্রাম ছিলো একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আজকের এই বাংলাদেশ আমি আগে ভাবিনি।’’

    বিএনপি নেতার ভাষ্যে, আজ শুধু ডেইলি স্টার বা প্রথম আলো নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত এসেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত চিন্তা করার, কথা বলার অধিকারও হুমকির মুখে। July যুদ্ধের মতো বলা হয়েছিলো জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আজ সেই যুদ্ধের স্থানেই আঘাত এসেছে।’’

    ফখরুল আরও যোগ করেন, ‘‘এখন সময় এসেছে সব গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংগঠনের এক হওয়ার। যারা অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসতে চান, যারা সত্যিকারভাবেই বাংলাদেশের একজন স্বার্থপর নাগরিক হিসেবে জীবনের দিক পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য এখন একটাই আহ্বান—সচেতন হতে হবে ও রুখে দাঁড়াতে হবে। এই মুহূর্তেই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি, কারণ অন্যথায় আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ কেউ দখল করে নেবে।’’

  • খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন থেকে খালেদা জিয়া এবং বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে তারেক রহমানের জন্য মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে শহরের গোহাইল রোডে অবস্থিত জেলা নির্বাচন অফিস থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার নির্বাচনি সমন্বয়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে তিনবারের সংসদ সদস্য। এবার তার জন্য বরাবরের মতোই ব্যাপক ভোটের প্রত্যাশা করছেন সবাই। সাধারণ মানুষও তাকে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

    অন্যদিকে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

    এসময় সাবেক জেলা বিএনপি সভাপতি একেএম মাহবুবুর রহমান, সাবেক আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ভিপি সাইফুল ইসলাম, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফতুন আহম্মেদ খান রুবেল ও দলের অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়নপত্র নেওয়ার পর রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তারেক রহমান বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আজ মনোনয়নপত্র উত্তোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনী আস্রয়ের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও জানান, বগুড়াবাসী ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

  • নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিযুক্ত হলেন নাহিদ, হাসনাত, সারজিস ও অন্যান্য

    নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিযুক্ত হলেন নাহিদ, হাসনাত, সারজিস ও অন্যান্য

    সরকার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং Juli আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে, Juli আন্দোলনে সম্মুখসারির কয়েকজন ব্যক্তিকে গার্ড ও গানম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও উত্তরের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। পাশাপাশি, আরও কিছু রাজনীতিক ও সংসদপ্রার্থী অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের দাবি করেছেন। জামায়াতের এরির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রধান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়েছেন।

    আবেদনকারীদের প্রেক্ষিতে, বেশ কিছু পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিরাপত্তা দিতে প্রদত্ত গার্ড ও অস্ত্রের লাইসেন্স শিগগিরই প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই। এর মধ্যে অন্যতম হলেন- গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, জাফির তুহিন, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

    অপরদিকে, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। হাদির এক বোন লাইসেন্স ও গার্ড পাচ্ছেন, এছাড়া অন্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। ভবিষ্যত সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে আসন্ন ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    বর্তমানে, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। শেখ হাসিনার দখলে থাকা ক্ষমতা থেকে নড়ে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে দেশে পশ্চিমবঙ্গ-সহ নানা হুমকি প্রদানের খবরও এসেছে। গত বছর ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দোসররা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলেছে। বিদেশে পলাতক নেতাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে, বিদেশ থেকে ক্ষতিকর হুমকিগুলি অব্যাহত থাকায় সন্দেহ হচ্ছে যে, সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

    সম্প্রতি, বিদেশি নম্বর থেকে ওসমান হাদিকে হত্যার হুমকি ও গুলি করার ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত চলছে, যেখানে তাকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে হত্যা করে চিকিৎসাব্যবস্থা দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকার বুঝতে পেরেছে, যতটা সম্ভব তালিকা করে তাদের জীবন রক্ষায় আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের আরও অনেকে জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, যেমন এ বি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্য রাজনীতিক ও আন্দোলনকারীরা। অধিকাংশ হুমকি ও জঙ্গি হুমকির সঙ্গে এই বাস্তবতাও রয়েছে।

    অতএব, দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আন্দোলনকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য গার্ড ও অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন বাড়ছে। তবে, পরিস্থিতি বিবেচনায়, সব আবেদনকে সমানভাবে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ অনেক আবেদনের সঙ্গে যোগ্যতা ও পরিবেশগত সমস্যা জড়িত। বেশিরভাগ আবেদনকারী শিক্ষার্থী ও ছোট ব্যবসায়ী, যাদের নিজস্ব যানবাহন বা গার্ড নেই, তারা নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সরকারও এসব বিষয় বিবেচনা করে অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে তাদের দাবি বিবেচনা করছে।

    প্রসঙ্গত, ভবিষ্যত নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, কিছু প্রার্থী লিখিতভাবে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এই প্রক্রিয়ায়, সাময়িকভাবে অনেক আবেদনের উপর ভিত্তি করে অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তবে সব আবেদনকে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না কারণ পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সীমিত সংখ্যক গার্ড ও অস্ত্র সরবরাহ সম্ভব।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, অনেকে নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক আবেদন করেছেন, যাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু গার্ড ও অস্ত্রপ্রাপ্তি হয়েছে, তবে সব সদস্যের জন্য নয়। আগামী দিনগুলোতে, মূলত বিচার বিশ্লেষণ ও যাচাই করে, প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করবে।

  • আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন

    আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা-১০ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নাগরিক নেতা এবং সমাজকর্মী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা অফিস থেকে এই ফরম গ্রহণ করেন। ঢাকা-১০ আসনটি ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ অঞ্চল নিয়ে গঠিত, যেখানে এই অঞ্চলের ভোটাররা স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন।

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দেড় বছর কাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মুখ খুলেছেন। পাশাপাশি তিনি জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেন।

    আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, যার কারণে অন্যান্য প্রার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি জানান, নিয়মিত গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা পাওয়া যাচ্ছে, যা তার নির্বাচনি প্রচারণায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

    তিনি একথাও উল্লেখ করেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের দায়িত্ব হলো প্রতিটি প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন ঝামেলা করতে চাইছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার সহকর্মী মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, এই আসনে বিএনপি থেকে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজ্ঞ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার। এখন পর্যন্ত দেশের অন্যান্য প্রার্থী হিসেবে এই আসনে কোনও ঘোষণা দেয়নি ұлттық নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

  • পুলিশ রিপোর্ট আসার ৯০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে: আইন উপদেষ্টা

    পুলিশ রিপোর্ট আসার ৯০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে: আইন উপদেষ্টা

    পুলিশের রিপোর্ট পাওয়ার পরে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ (সোমবার, ২২ ডিসেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি এ কথা জানান।

    তার পোস্টে তিনি লিখেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ এর ১০ ধারা অনুসারে, পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার একটুনে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে।’

    অন্যদিকে, শহীদ হাদির বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার শাহবাগের ‘শহীদ হাদি চত্বরে’ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

    সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, এই ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা নির্বাচনের আগে হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান এবং বলেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং প্রয়োজনে এফবিআইর সহায্য নিতে হবে।

    তাদের মতে, গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়। এর এক দিন পর, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড়ে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অগ্রগণ্য চিকিৎসা জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অবস্থা গুরুতর হওয়ায়, ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, তিনি মারা যান। তার মরদেহ গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়। এরপর মরদেহটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রাখা হয়, এবং পরদিন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আবারো হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয়।

    অবশেষে, দুপুরে জানাজার পূর্বে মরদেহটি জাতীয় সংসদ ভবনের এলাকায় নেওয়া হয়। হাদির মৃতদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের শোক প্রকাশ করা হয়।

  • ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

    ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে রাশিয়ান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চাই না। তবে পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ, এটি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি একটি ভূরাজনৈতিক ব্যাপার, যার নেতিবাচক প্রভাব এলে ফলপ্রসূ সমাধান না হলে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। এটা জোর দিয়ে তিনি বলেন, এটাই এখন অত্যন্ত জরুরি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে খোজিন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের বড় অবদান ছিল এবং তখন রাশিয়াও সমর্থন দিয়েছিল। সেই সময় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি, বিশেষ করে মাইন পরিষ্কারের ক্ষেত্রে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি মনে করি যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা কমানো উচিত।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ বেছে নিতে পারি না। ইউক্রেনের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের উদ্বিগ্ন করে—আবার এখানকার পরিস্থিতি নিয়েও আমরা গভীর উদ্বেগে রয়েছি।

    এ সময় তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের এই অবস্থান লক্ষ্য করেছি যেখানে তিনি সব পক্ষের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উত্তেজনা কমানো যায়।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজির কথা তুলে ধরে খোজিন বলেন, আমরা একটি ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ, অহিংস এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বলেন, বিভিন্ন অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনাগুলি দেখা যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশে উত্তেজনা কমাতে আমরা আগ্রহী, যা নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে তিনি জানান, আমরা স্বাগত জানাই— তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসা জরুরি। নির্বাচন কমিশনই এই বিষয়ে দায়িত্বশীল। তৎপরতার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।

    পূর্বের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে খোজিন বলেন, রাশিয়া যখন অন্য দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে, তখন আমাদের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, সামাজিক সংস্থার সদস্যরা বা কখনো উচ্চ মাধ্যমিক দপ্তরের প্রতিনিধিরাও থাকেন। অতএব, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না এলে আমরা অপেক্ষা করব।

  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে যে কোনো মূল্যে

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে যে কোনো মূল্যে

    দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল অনুষ্ঠিত হয় এবং আজ (সোমবার) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ বিষয়টি জানিয়েছে।

    এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের আগামীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব—বিশেষ করে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখতে সকল বাধা-অবাধা উপায় অবলম্বন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী জানানো হয়, সম্প্রতি দুদুটি জাতীয় দৈনিক এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। এদের ছাড়াও আরও সন্দেহভাজনদের খুঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টাকারীদের মধ্যেও তিনজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রত গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এই নির্দেশনা দেওয়া হয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো অস্থিতিশীলতা এড়াতে।

    সংক্ষেপে, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য শক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।