ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে নয়াদিল্লি এবং শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ভারতের হাইকমিশনারকে তলবের পর একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ অকপটে এসব ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করে, সহিংসতা এবং ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য ভারতের প্রতি তীব্র নিন্দা জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব ঘটনা কেবল কূটনীতিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধের বিরোধী। সূত্রের ভাষ্য মতে, সকালে ৯টা ৪০ মিনিটে প্রণয় ভার্মা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে প্রবেশ করেন। কিছু সময়ে ভেতরে থাকাকালীন তারা কারো কাছ থেকে আসা-যাওয়া করেন, এরপর তারা দ্রুত মন্ত্রণালয় থেকে বের হন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আশপাশে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনার পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আরও বলা হয়, ভারতে থাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনের সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও আমরা অগ্রহণযোগ্য মনে করি। এই সব ঘটনায় গভীর তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বাংলাদেশ এই বিষয়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে, বিশেষ করে কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক দায়িত্ববোধ অনুযায়ী, ভারত সরকারকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড নিঃশঙ্কোচিতভাবে চলাচ্ছে এবং তাদের মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে।
Month: December 2025
-

শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর), দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সঙ্গে গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতে, অব্যাহতি চেয়ে করা আসামিদের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। এখনও গ্রেপ্তার হওয়া ও পলাতক আসামিদের নাম-পরিচয় পরিচিতি করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা হচ্ছে। অভিযোগের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং অভিযোগের ন্যূনতম ২১ দিনের মধ্যে বিচার পুরোপুরি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা।
আদালত পুরো দিনটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছিল। অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব-বিজিবি ও সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতায় আশপাশের এলাকা নিরাপদ ছিল। সকাল ১০টার পর ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন- র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সামিরুল আলম, মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরপ্রাপ্ত), র্যাবের সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
এ মামলায় প্রধান তিনজনসহ মোট সাতজন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।
এই গুমের মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য নির্ধারিত ছিল ২১ ডিসেম্বর। কিন্তু আসামি পক্ষের পক্ষে শুনানির জন্য আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, যিনি পরে আগাম তারিখের জন্য বলেন। ফলত, আদালত ঐ দিন থেকে দুই দিন পিছিয়ে ২৩ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, কারণ আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সময় বিলম্বের জন্য এভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে তার মন্তব্য।
আগে, ১৪ ডিসেম্বর, গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ, অন্যদিকে আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এম হাসান ইমাম। অন্য আসামিদের জন্য আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা আনেন তাদের আইনজীবীরা। তবে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবার অভিযোগ গঠনের জন্য বলা হয়।
অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয় ৩ ডিসেম্বর, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের আক্ষেপের মধ্য দিয়ে। তিনি এর মধ্যে গুমের মাধ্যমে কি কী ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করত—কেউ কারাগারে পাঠানো হত, কেউ অজানা স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে গুম করে রাখা হত।’
অন্যদিকে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনাল হাজির করানো হয়। শুনানির পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের জন্য প্রকাশনা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তৎক্ষণাৎ, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করে তাদের পক্ষের আইনজীবীর ব্যবস্থা করেন আদালত। এ মামলায়, ৮ অক্টোবর অভিযোগ দাখিলের পর, ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
-

একনেকে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ২২ প্রকল্পের অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সম্প্রতি সভায় ২২টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন ভবনে একনেকের সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটি চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সপ্তম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮তম সভা।
বৈঠকের শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুমোদিত ২২টির প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬,৪১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সম্পদায়ন হবে ৩০,৪৮২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে মোট ১,৬৮৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যয় হবে ১৪,২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় প্রশাসনিক অবকাঠামো, শিক্ষা, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সমাজকল্যাণ খাতে নানা প্রকল্প। এর মধ্যে অন্যতম হলো কর্ণফুলী টানেল থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে।
বৈঠকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে ডুগডুগি ঘোড়াঘাট পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে, যেখানে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে এখন মোট ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
দক্ষিণে, ঢাকা কাঁচপুর থেকে সিলেট ও তামাবিল মহাসড়কের চারলেন উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থবারের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীর অনুমোদন হয়েছে, যার ব্যয় এবার ৪০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।
নতুন প্রকল্প হিসেবে ঢাকা ওয়াসার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এলাকা ভিত্তিক অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা অবকাঠামো উন্নয়ন, ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, ও নার্সিং শিক্ষার উন্নয়ন।
শিক্ষা ক্ষেত্রে হাজী মোহাম্মদ দনেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধনী পাস হয়েছে। সমাজকল্যাণে দুস্থ শিশুর জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
পানি সম্পদ খাতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাসহ গঙ্গা–কপোতাাক্ষী সেচ প্রকল্প, সুরমা–কুশিয়ারা নদী উন্নয়ন ও জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার অধিদফতর অন্তর্গত জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সম্প্রসারণ, কৃষি উন্নয়ন, আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামো প্রকল্পের মতো অন্যান্য প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়।
এই যৌথ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
-

শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা যাত্রীর ছাড়া সকল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
আগামীকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে একদিনের জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া অন্য সকলের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদের এক বার্তায় নিশ্চিত করা হয়। তাদের এই ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের সব ধরনের সহযাত্রী, অতিথি ও ভিজিটর প্রবেশ স্বাধীনভাবে অনুমোদিত নয়। এ সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র টিকেটধারী ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত যাত্রীদের জন্য প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা লক্ষ্য করা হয়েছে। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরার কথা রয়েছে, যা কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের বিদেশ ফেরত এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও ব্যস্থতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোনও অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ প্রতিরোধ করা হবে।
-

প্রথম আলো ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৯ জন
দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে পরিচালিত হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে, সোমবার এই ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে আটক করা হলো।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৩১ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও মূল অপরাধীদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই হামলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাতে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় ১৫ জনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ডিএমপি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ১৮ ডিসেম্বর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয় ও ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনার পর ভাষ্য হলো, প্রথম আলো পক্ষ থেকে মামলা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ডেইলি স্টার কার্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান। সংস্থাগুলোর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত চলছে, এবং এখন পর্যন্ত ১৩ জন থানা পুলিশ, ৩ জন সিটিটিসি, একজন ডিবি কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ নাইম, আকাশ আহমেদ সাগর, আব্দুল আহাদ, বিপ্লব, নজরুল ইসলাম (অথবা মিনহাজ), মো. জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, মো. হাসান, রাসেল (অথবা সাকিল), আব্দুল বারেক শেখ (অথবা আলামিন), রাশেদুল ইসলাম, সোহেল রানা, শফিকুল ইসলাম, মো. প্রান্ত সিকদার (অথবা ফয়সাল), আবুল কাশেম, রাজু হোসাইন চাঁদ ও সাইদুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, সমাজ মাধ্যমে প্রকাশিত হামলাকারীদের ছবি ও ভিডিও এখনও গোপন। তবে পুলিশ ৩১ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে এবং তাদের মোট গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা আরও বলেছে, উস্কানি ও সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, রোববার রাতে এই হামলার জন্য তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলাটির দায়ের করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় তারা প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে, এবং পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা।
-

পিটিআই শীর্ষ নেতাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পাকিস্তানের লাহোরে ২০২৩ সালের ৯ মে ঘটে ঘটনাবহুল সহিংসতার মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শীর্ষস্থানীয় নেত্রী ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ওমর সরফরাজ চীমা, মাহমুদুর রশিদ এবং ইজাজ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে দীর্ঘ ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে দেশটির সন্ত্রাস দমন আদালত (এটিসি)। এই রায় ঘোষণা করা হয় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) লাহোরের কোট লাখপত জেল ভবনের আদালতে এটির বিচারক আরশাদ জাভেদ এর কাছ থেকে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ মে গোলবার্গ ও নাসিরাবাদ এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং কালমা চকে একটি কনটেইনারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। গোটা ঘটনায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় গোলবার্গ থানার চার্জশিটে। এই মামলায় ডা. ইয়াসমিন রশিদসহ সাতজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ২২ জন নির্দোষ মুক্ত ছাড়া পেয়েছেন এবং চারজন পলাতক রয়েছেন।
অপরদিকে, কালমা চক কনটেইনার অগ্নিসংযোগের মামলায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়, যেখানে ২৪ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচজনের খালাস হয়েছে এবং সাতজন পলাতক। এ মামলায় পিটিআই নেতা মিয়া আসলাম ইকবালকেও পলাতক ঘোষণা করেছে আদালত।
এর আগেও মে ৯–এর সহিংসতা সংক্রান্ত মামলার রায়ে ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ওমর সরফরাজ চীমা, মাহমুদুর রশিদ ও ইজাজ চৌধুরীকে বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল। সবশেষে, একদিন পরে, অন্য একটি এটিসি আদালত একই ঘটনায় তাদের ও আরও তিনজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।
তবে এই মামলায় পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিসহ মোট ১৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হলে তার সমর্থকরা ব্যাপক সহিংসতা শুরু করেন। এই সহিংসতায় লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউস, রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা আক্রান্ত ও ভাঙচুর করা হয়।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রাঙ্গণে দুর্নীতি মামলার অভিযোগে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার পর এ সহিংসতা আরও জোরদার হয়। যদিও অনেক পিটিআই নেতা-কর্মী এখন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, তবে এখনও অনেকজন কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে, শনিবারই এক আলাদা মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পেসি আদালত ঢাকায় ৮০টি শুনানির শেষে এ রায় প্রদান করেন। অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার কম দামে কেনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
রায়ে বলা হয়, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৪ ও ৪০৯ ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি তাদের উপর অতিরিক্ত সাত বছর করে সাজা দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।
-

ভারতে ছত্তিশগড়ে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা
ভারতের কেরালার পালাক্কাদ জেলায় এক দেহঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছত্তিশগড়ের একজন দলিত শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি সন্দেহে’ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম রামনারায়ণ বাঘেল (৩১), তিনি ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলা কারহি গ্রামের বাসিন্দা। কাজের খোঁজে ১৩ ডিসেম্বর তিনি কেরালার পালাক্কাদে আসেন এবং একটি নির্মাণস্থলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছিলেন।
রামনারায়ণের পরিবারের কাছে জানানো হয়েছে, তার দাদার দূরসম্পর্কের তৎকালীন আত্মীয় শশীকান্ত বাঘেলের অনুরোধে তিনি কেরালায় যান। তার স্ত্রী ললিতা ও দুই সন্তান, যারা আট ও নয় বছর বয়সী।
একটি সূত্রের মতে, সম্প্রতি এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি চুরির ঘটনার পর রামনারায়ণকে চোর সন্দেহে গণপ্রহার করা হয়। এই হামলায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
খবর পেয়ে তার স্ত্রী দ্রুত পালাক্কাদে উদ্দেশ্যে রওনা দেন, তবে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি বলেও জানা গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধের মূল কারণ ও অরজিন নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, আর মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
-

ভারত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি দেয়ায় মুখ খুলল ভারত
নতুন দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে একদল উত্তেজিত হিন্দু ব্যক্তির বিক্ষোভ শুরু হয়। তারা সব ধরনের নিরাপত্তা প্রাচীর অতিক্রম করে বাংলাদেশের হাইকমিশনের মূল ফটকের সামনে পৌঁছায় এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে শুরু করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর দ্রুত বিবৃতি পাঠিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা ক্ষতি হয়নি এবং ঘটনাটি একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মাত্র।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনেই জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি তোলে। তবে কোনো সময়ই হাইকমিশনের নিরাপত্তা প্রাচীর ভাঙার বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ দ্রুত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং এই ঘটনার যাবতীয় দৃশ্যমান প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র বলেন, ভারতে অবস্থিত সব বিদেশি মিশন ও কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায়, ভারতের ভূখণ্ডে থাকা আন্তর্জাতিক মিশন ও কূটনৈতিক কার্যালয়গুলির নিরাপত্তা ভারত সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি ভারতের গভীর নজরে রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ সময় তারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সব পক্ষকে সতর্ক করেছে এবং দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। সরকারীয় সূত্র বলেছে, এর প্রতিকার হিসেবে ঢ willow ও আগরতলায় ভিসা পরিষেবা সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছর ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এর আগে ২০০৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অবনতি হলে, এক উग्र হিন্দু সংগঠন বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করেছিল। তখন পুলিশ তাদের হাইকমিশন ভবন থেকে দুরে সরিয়ে দেয়। এছাড়াও, গত বছরের অক্টোবর মাসে আগরতলায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হামলা চালিয়ে অনেক ক্ষতি সাধন করে অগ্নিগোষ্ঠীরা।
-

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের আহ্বান হাইকমিশনের
শ্রীলঙ্কায় চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ হাইকমিশন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ক্যান্ডি এবং নুয়ারা এলিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ সতर्कতা ঘোষণা করে ‘লেভেল-৩ (লাল)’ সতর্কবার্তা জারি করেছে। এছাড়াও, বাদুল্লা, কুরুনেগালা এবং মাতালা জেলার কিছু অংশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘লেভেল ২’ সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকসহ সবাইকে নিরাপদে থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার এক সতর্কবার্তায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এই তথ্য জানিয়েছেন। হাইকমিশন আরও জানায়, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের নাগরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে। হাইকমিশন সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়, সবাই শান্ত থাকুন, নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন এবং সকল নির্দেশনা মেনে চলুন। আপনারা সকলের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।
-

ইমরান খানের সমর্থকদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবি সম্প্রতি তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় আদালত থেকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড শোনেন। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদ কায়সার এবং মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কারাবন্দি ইমরান খান তার পরের বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আমার কাছে কেউ কিছু চাইতে পারবে না, আমি আমার আদর্শে অটল থাকব।” তিনি পাশাপাশি নিজ সমর্থকদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।
মামলার বিষয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত উপহার নেওয়ার প্রতারণার অভিযোগে এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার ইসলামাবাদের অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের স্পেশাল জজ শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় প্রদান করেন।
২০২২ সালে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারানোর দেড় বছর পরে, ২০২৩ সালে আগস্টে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি প্রথমে পাঞ্জাবের অ্যাটকু কারাগারে ছিলেন, পরে সেপ্টেম্বরে তাকে আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। নিরাপত্তার কারণে এই আদালত আদিয়ালা কারাগারেই বসেছিল।
সাজার পাশাপাশি আদালত ইমরান ও বুশরাকে প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানারও আদেশ দিয়েছে। এর আগে, সেই মামলায় তাদেরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেই সাজা বাতিল করে।
