Month: November 2025

  • রানা প্লাজা ধস ‘আওয়ামী লীগের তৈরি ট্র্যাজেডি’: প্রেস সচিব

    রানা প্লাজা ধস ‘আওয়ামী লীগের তৈরি ট্র্যাজেডি’: প্রেস সচিব

    বিশ্বের ইতিহাসে এক অন্যতম ভয়ংকর শিল্প দুর্ঘটনা ২০১৩ সালে ঘটে সাভারের রানা প্লাজায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে ‘আওয়ামী লীগের তৈরি ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনায় মূল দায়ী হিসেবে ভবন মালিকের রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতিকে উল্লেখ করেন।

    প্রেস সচিব জানান, ভবন ধসের জন্য মূল দায়িত্বে থাকা ছিলেন ভবন মালিক সোহেল রানা। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার করে সরকারি নিয়মনীতি ও সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করেছিলেন। ভবনটির নির্মাণের এক দিন আগে প্রকৌশলীরা এটিকে ‘অপরিচালনাযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন, কিন্তু সোহেল রানা শ্রমিকদের জোরপূর্বক ভবনে ফিরিয়ে আনেন।

    শফিকুল আলম আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোপ্রধ weekly রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা গেছে, রানা ও তার রাজনৈতিক আশ্রিতদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি এবং স্থানীয় প্রচারমাধ্যম এই বিষয়টি প্রকাশে সংকুচিত হয়েছিল।

    তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি নির্দেশনায় স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে সীমাবদ্ধ থাকতে বলা হয়, যাতে রানা ও তার রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ না পায়। প্রশাসনও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সরাসরি কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

    প্রেস সচিব বলেন, সোহেল রানা একা নন; এটি একটি সাধারণ পরিস্থিতির ফলাফল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ১৬ বছরের শাসনামলে রাষ্ট্রক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে এক ধরনের স্থানীয় ‘দানবপ্রধান’ তৈরির প্রক্রিয়া চলে আসে। সোহেল রানা, নিজাম হাজারী ও শামীম ওসমান প্রত্যেকে নিজেদের অঞ্চলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও ‘আওয়ামী চেতনা রক্ষা’ এর নামে মেধাবী ছাত্রদের সহিংসতার মাধ্যমে এক ধরনের বিষাক্ত আনুগত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, এই ধরনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার মতে, এসব ঘটনা দেশের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অনিবার্য ফল।

  • হাইকোর্টের ২১ বিচারপতি শপথ নিলেন

    হাইকোর্টের ২১ বিচারপতি শপথ নিলেন

    আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠান মাধ্যমে হাইকোর্টের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ২১ জন বিচারপতি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সহ অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারপতিগণ উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নিয়োগপ্রাপ্ত ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন সরকার। এই নিয়োগের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট বিচারপতি মোঃ গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সৈয়দ এনায়েত হোসেন, মোঃ মনসুর আলম, সৈয়দ জাহেদ মনসুর, কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার মতো আরও বিচারপতি। তবে, তাদের মধ্যে বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন অসুস্থ থাকায় আজ শপথ নিতে পারেননি।

    এছাড়াও, এই নিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী, যিনি বয়সে ৪৫ বছর ছাড়াতে পারেননি। তাই তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাননি। তবে সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছে যে, ভবিষ্যতে তাকে স্থায়ী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ২৩ জন বিচারপতিকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর মধ্যে ছিলেন নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এই নিয়োগপ্রক্রিয়া চলাকালীন অনেক দিন আলোচনায় ছিল। এখন নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

  • সাবেক এমপিদের বিলাসবহুল গাড়ি নিলামে বিক্রি হয়নি, এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাবে

    সাবেক এমপিদের বিলাসবহুল গাড়ি নিলামে বিক্রি হয়নি, এবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাবে

    বাংলাদেশের সাবেক দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের বিদেশ থেকে আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি এখন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে হস্তান্তরের পথে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই গাড়িগুলোর শুল্কমুক্ত সুবিধা কি প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কাছ থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। এর জবাবে জানা যায়, গাড়িগুলোর খালাসে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে না, এবং আমদানিকারকেরা স্বাভাবিক হারেই শুল্ক ও কর পরিশোধ করে গাড়িগুলো খালাস করতে পারবেন। গত বছর ৮ ডিসেম্বর এই নির্দেশনা চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে দেওয়া হয়।

    শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা এই ৩১টির মোট শুল্ক-কর পরিমাণ জোড়া হয়েছে প্রায় ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকায়। উচ্চমূল্যের এই গাড়িগুলোর একক শুল্ককর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩০০ টাকা, আর সর্বনিম্ন শুল্ককর ৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা।

    তবে, সব শুল্ক ও কর পরিশোধের পরও এই গাড়িগুলো আমদানিকারকেরা খালাস করেনি। বাংলাদেশ কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারার আলোকে গাড়িগুলো নিলামে তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিলামকারী ঐ গাড়িগুলোর যৌক্তিক মূল্য bid না করার কারণে বিক্রি সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থা বিবেচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় জনস্বার্থে এই গাড়িগুলোর ব্যবহারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে, অতি মূল্যবান এসব গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাছে হস্তান্তরের জন্য এই বিশেষ আদেশ জারি করা হয়।

    আমদানিকারক যদি ভবিষ্যতে সব শুল্ক ও কর পরিশোধ করে এই গাড়িগুলোর আইনানুগ খালাস পায়, তাহলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস তাদের জন্য নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী শুল্কায়ন করে গাড়িগুলো আবার তাদের কাছে হস্তান্তর করবে। এরপর, এসব গাড়ি সরকারি যানবাহন হিসেবে দেশের সেবা কাজে ব্যবহার করা হবে।

  • আন্ডারওয়ার্ল্ড দ্বন্দ্বে ২ লাখ টাকার চুক্তিতে সন্ত্রাসী মামুনের খুন: ডিবি পুলিশ

    আন্ডারওয়ার্ল্ড দ্বন্দ্বে ২ লাখ টাকার চুক্তিতে সন্ত্রাসী মামুনের খুন: ডিবি পুলিশ

    রাজধানীর পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনের (৫৫) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই শুটারসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার দুই শুটার হলেন ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক এবং রবিন। আর তিনজন হলেন ইউসুফ, রুবেল এবং শামীম।

    ডিবি জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত জুটি ইমন-মামুনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব থেকেই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত রনি, যিনি একসময় মুদি দোকানি ছিলেন এবং বর্তমানে কাফরুলের বাসিন্দা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। রনি প্রথম থেকেই মামুন হত্যা করতে ইমনের হয়ে নিজে দুই লাখ টাকা দেন এবং অস্ত্র সরবরাহ করেন। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তার করা। তবে রনি এখনো পলাতক, তাঁকে খুঁজে বের করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

    আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) ডিবির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুজন পেশাদার শুটার। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল, নগদ টাকা এবং হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

    শফিকুল ইসলাম বলেন, ১০ নভেম্বর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গুলি চালায় দুই অস্ত্রধারী। এতে গুরুতর আহত হয় তারিক সাইফ মামুন। পরে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে ডিবি। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে সিলেট, নরসিংদী ও ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে নরসিংদীর ভেলানগর থেকে গ্রেপ্তার হয় ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেল। তাদের তল্লাশি করে এক লক্ষ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়, যা হত্যাকাণ্ডের পারিশ্রমিক হিসেবে রনি দিয়েছিলেন।

    ডিবি জানিয়েছে, ফারুক ও রবিন হত্যার পর রনি দ্বারা ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি রেন্ট-এ-কারচালক রুবেলের কাছে দিয়ে যায়। পরে রুবেল অস্ত্রগুলো পাইয়ে দেয় ইউসুফের বাসায় যেখানে লুকানো ছিল। ইউসুফের ঘর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি এবং দুটো ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। ইউসুফ ও রুবেল স্বীকার করেছেন, হত্যার দিন অস্ত্রভর্তি ব্যাগ ইউসুফের কাছে রেখেছিলেন।

    ডিবির অনুসন্ধানে জানা গেছে, মামুন হত্যার পরিকল্পনা অনেক দিন ধরে চলে আসছিল। শীর্ষ ত্রাস ইমনের ঘনিষ্ঠ রনি ও তাঁর সহযোগী ফারুক বেশ কয়েকবার মামুনকে হত্যা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তবে ১০ নভেম্বর, মামুনের আদালতে হাজিরার দিন, রনি এই হামলার জন্য পরিকল্পনা সম্পন্ন করে। তার আগে, ওঁরা একসঙ্গে পরিকল্পনার চূড়ান্ত নির্দেশনা দেন। সেই সকালেই রনি রবিনকে আদালত এলাকায় যেতে বলে। রবিন একটি মোটরসাইকেলে করে সেই এলাকায় পৌঁছে। একইভাবে, ফারুক, শামীম ও রুবেলও সেই স্থানে উপস্থিত হয়। প্রথমে সাবেক দায়িত্ব ছিল সুমন ও ফারুক গুলি চালানো। কিন্তু, রনির সঙ্গে সাবেক সহযোগী সুমনের বিবাদ হলে রনি তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল নিয়ে এই দুজনকে দেন।

    গবেষণায় দেখা যায়, রনির নির্দেশে মামুনের চলাফেরা মনিটরিং করেছিলেন কামাল। মামুন আদালতে পৌঁছালে, কামাল সংকেত দেয়। এরপর, ফারুক ও রবিন ধারাদিতে গুলি চালায়। গুলি চলে যাওয়ার পরে, তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে রায়েরবাজারে যায়। এরপর রনি নির্দেশ দেন, অস্ত্রগুলো রুবেলের কাছে জমা দিতে। পরে, রনি পারিশ্রমিক হিসেবে দুই লাখ টাকা দেয়।

    অর্থাৎ, পরিকল্পনাকারীরা ঢাকা ছেড়ে সিলেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। সিলেটে পৌঁছে ভারতের সীমান্ত পেরোবার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর, সাতক্ষীরার পথে ঢাকায় ফেরার সময়, গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েন।

    ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো দ্বন্দ্বেরই ফল। মামুন আর ইমন দুইজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী, যারা ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের দখল নিয়ে লড়াই করছিল। আমরা এই মূল পরিকল্পনাকারী রনি ও তার সহযোগীদের ধরার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’

  • মধ্য বাড্ডায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

    মধ্য বাড্ডায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

    রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় আজ সকালে এক ব্যক্তির মৃত্যু caused by electrocution. ঘটনাটি ঘটে মধ্য বাড্ডার কমিশনার গলির একটি দুইতলা টিনশেড ভবনের নিচতলায়। ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়রা ওই ভবনের নিচতলা থেকে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, ওই ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং সকালে নিজ বাড়ির পাশে ওই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের পাসপোর্ট এবং শরীর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তার নাম মামুন শিকদার (৩৯), বাবা আব্দুল মালেক শিকদার, বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আগলী গ্রামে।

    বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, এটি একটি দুর্ঘটনা, কিন্তু এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তি একজন শ্রমজীবী ছিলেন। তার কোনও পরিবার বা স্বজনরা এ ঘটনার বিষয়ে এখনও যোগাযোগ করেননি।

    ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • গোপালগঞ্জে গরু চুরির চেষ্টা চলাকালে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ৭

    গোপালগঞ্জে গরু চুরির চেষ্টা চলাকালে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ৭

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গরু চুরির সময় গণপিটুনিতে এক চোরের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও সাতজন আহত হয়েছে। এই ঘটনা সোমবার ভোরে মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নের হাজীবাগ গ্রামে ঘটে।

    নিহত গরু চোরের নাম শামিম মিয়া (৪২), তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ফুলারপাড়ার মুন্নু মিয়ার ছেলে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলার ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বরিশাল জেলার সদর উপজেলার হাশেমের ছেলে লিটন (৩০), একই জেলার উজিরপুর থানার সকরাইল গ্রামের ইসমাইল হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (৩২), বগুড়া জেলার সদর উপজেলার মালগ্রামের বাদশা শেখের ছেলে ফারুক শেখ (৪৫), নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার পাথড়া গ্রামের বিনোদ সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার (৩২), কিশোরগঞ্জ জেলার নানদাইল থানার পূর্বধলা গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে ফয়সাল মিয়া (৪৫), বোরর শ্যামগঞ্জের আব্দুল লতিফ সরদার (৩৫), এবং রসুলপুরের সোহাগ (৪১)।

    মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার ভোরে লখাইড়চর গ্রামের মো. ঝিল্লু কাজীর বাড়ির গোয়ালখানা থেকে গরু চুরির জন্য ট্রাক নিয়ে আটজনের একটি চোরের দল চেষ্টা করছিল।

    তখন তারা হাজীবাগ গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় জনগণ সন্দেহ করে গুলোর খোঁজ নিতে গিয়ে আটজন চোরকে আটক করেন। এরপর জনতা তাদের ধাওয়া দেয় এবং গণপিটুনিতে আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখে। খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শামিম মিয়াকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর আহত সাতজনকে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মৃতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা নেয়া ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনার ব্যাপারে মামলা করতে প্রস্তুতি চলছে।

  • ময়মনসিংহে ইঞ্জিনে আগুন, ট্রেন চলাচল বন্ধ detection

    ময়মনসিংহে ইঞ্জিনে আগুন, ট্রেন চলাচল বন্ধ detection

    ময়মনসিংহে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দর্শনার্থীবাহী বলাকা কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ময়মনসিংহ-নেত্রকোণা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ ও বিসকারের মাঝামাঝি এলাকায়। পুলিশ ও রেলথানার সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনও নাশকতা নয়, মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইঞ্জিনের ভেতরে আগুন ধরে যায়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি নেত্রকোণার জারিয়া যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শম্ভুগঞ্জ ও বিসকারের মাঝামাঝি আসতেই ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেয়, ফলে হঠাৎ করে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় ও ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ট্রেনের চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা আতঙ্কে পড়েন এবং তড়িঘড়ি করে ট্রেন থেকে নামতে বাধ্য হন। খবর পেয়ে দ্রুত বিকল্প ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়া এখনও সম্ভবপর হয়নি।

  • সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বৃদ্ধি

    সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বৃদ্ধি

    আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাপ্টেন ও তার উপরে পদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আরও সাড়ে তিন মাসের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার হবে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এই পদক্ষেপটি মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেওয়া হয়েছে। এই ইজারার মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানের ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব জব্দ, ফ্রিজ করা হলো

    সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানের ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব জব্দ, ফ্রিজ করা হলো

    দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বিমান বাহিনী পরিষদের সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানের দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং তার দশটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই জব্দ হওয়া ফ্ল্যাট দুটি ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে, ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮৩ টাকা রয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার তদন্তকালে দুদকের একজন সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এই মামলার অভিযোগে জানা গেছে যে, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান অস্বচ্ছ ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি তার নিজেস্ব নামে ও স্বার্থে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

    তদন্তে দেখা গেছে, সাবেক এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান তার অবৈধ সম্পদ গোপন করার জন্য তার কাছের একজন সানজিদা আক্তারের নামে বিভিন্ন সম্পদ ক্রয় করেছেন। এর মধ্যে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার নিকুঞ্জে তার নামে ৯৫ লাখ টাকার দুটি ফ্ল্যাট, আরও বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা এফডিআর (অর্থ ছড়িয়ে রাখা) রয়েছে। পাশাপাশি, তল্লাশি চালানোর সময় তার বাসা থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকার বিভিন্ন দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়, যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না।

    তদন্তে আরো জানা গেছে, সানজিদা আক্তার এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর বা স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। ফলে, এই সম্পদগুলো দ্রুত জব্দ ও ফ্রিজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে যদি এই অর্থ বা সম্পদ বিক্রয় বা স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই জন্যই আদালত এগুলো জব্দ ও ফ্রিজের আদেশ দেন।

  • বসতঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বসতঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলায় এক এ যেন দম্পতির মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। মোড়ক উন্মোচন করেছে পুলিশ, যখন তারা একটি বসতঘর থেকে স্বামী সিরাজউদ্দিন খান (৭৫) ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগমের (৬৫) মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারপুর গ্রামেব নিজের বাড়িতে।

    মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ারপুরের পাশ্ববর্তী আন্ধারমানিক নদীর তীরে একটি ঝুঁপড়িঘরে বসবাস করতেন। সিরাজউদ্দিনের বাড়ি মূলত মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের হলেও, তিনি নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজেও যাননি সিরাজউদ্দিন ও আকলিমা। ভোর ৬টার দিকে প্রতিবেশীরা তাঁদের খোঁজ করতে বাড়িতে যান। তবে ঘরের দরজা খোলা পেয়ে মনে হয় কিছু অঘটন ঘটে গেছে। ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, চৌকিতে আকলিমা মৃত অবস্থায় শুয়ে আছেন, নিচে সিরাজউদ্দিনের মরদেহও রয়েছে। পরে জানা যায়, সিরাজউদ্দিনের গলার নিচে ও শরীরের নানা স্থানে কালো দাগ এবং আকলিমার শরীরেও রক্ত জমাট অবস্থার চিহ্ন রয়েছে।

    অঞ্চলের মানুষ মনে করছেন, এ ঘটনায় হয়তো সামাজিক বা পারিবারিক কারণ থাকতে পারে। ওসি মাহমুদ হাসান আরও বলেন, স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। রহস্য উদঘাটনে সিআইডি টিম ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে, যাতে এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা যায়।