Month: November 2025

  • নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে কিশোর গুরুতর আহত

    নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে কিশোর গুরুতর আহত

    নগরীতে দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলা করে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনা ঘটে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে, নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন লতার মোড় ও লতার ব্রিজের পাশে। আহত শান্ত (১৫) নামের এই কিশোরকে দ্রুত তার বন্ধু-বান্ধবরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়, এরপর পরিস্থিতির অবনতি হলে সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। শান্ত নগরীর রায়েরমহল উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার পিতা ফয়সাল বিশ্বাস মন্টু।

    আড়ংঘাটা থানার ওসি তদন্ত প্রদীপ বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে খতিয়ে দেখছি। লতার মোড় থেকে লতার ব্রিজ পর্যন্ত এলাকার CCTV ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে, এখনও কোন রক্তের ছাপ বা ট্রেস পাওয়া যায়নি। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, শান্ত সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন না। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার খবর দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনার পেছনে কোন সম্ভাব্য কারণ বা অপরাধীদের সম্পর্কে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

  • বকুলের অভিযোগ: ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকেও বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যৎ লুট হয়েছে

    বকুলের অভিযোগ: ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকেও বাংলাদেশের জনগণের ভবিষ্যৎ লুট হয়েছে

    কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমানের কোন পরিবর্তন আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের লোভে জনগণের ভোট লুট করে ক্ষমতায় থাকা এই সরকারের সময় শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও তাদের অনুসারীরাই উন্নতির সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ আজও দারিদ্র্য ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি রোববার দুপুরে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন ৬ নং ওয়ার্ডের নারীনির্নীত ভোটারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

    বকুল উল্লেখ করেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ প্রদান করা হবে। প্রথম ধাপে এক কোটি শিক্ষিত যুবক-যুবতীর জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, সরকার যদি এই পরিকল্পনায় সামিল হয়, তাহলে পরিবারভিত্তিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ের মাধ্যমে কম খরচে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে। এছাড়াও, নারীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে। পাশাপাশি, নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে অনলাইনভিত্তিক কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন।

    সরকারের সমালোচনা করে বকুল বলেন, এই ১৭ বছরে দেশ শাসন করলেও মা-বোনদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি, বরং লুটপাটের জন্য মাথায় উঠে গেছে দুর্নীতি। টিসিবি কার্ড থেকে শুরু করে সরকারি ভাতা—all জায়গাতেই চলছে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট, জনগণের প্রাপ্য বরাদ্দ নিজের পকেটে তুলছে ক্ষমতাধারীরা। তিনি অতীতের ইতিহাস টেনে বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশের সুখ-শান্তির কথা ছিল। কিন্তু ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমার ভাগের কম্বলটি গেল কোথায়?’ এবং ‘সবাই সোনার খনি পাচ্ছে, আমি পাচ্ছি চোরের খনি’—এটাই ছিল দুর্নীতির শুরু।

    তিনি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেশের খারাপ সময়ে ত্রাণের ত্রাতা হিসেবে তুলে ধরেন। বলেন, যখন দেশ নেতৃত্বশূন্য ছিল, তখন জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, তিনি দুর্ভিক্ষে ভুগতে থাকা দেশকে স্বনির্ভর করে তুলেন। বিএনপি সব সময় দেশের মানুষের পাশে রয়েছে বলে ব্যাখ্যা করেন।

    জনগণের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বকুল বলেন, আমি ভোটের জন্য আসিনি, আসলে আপনাদের কথা শুনতে ও আমাদের পরিকল্পনাগুলি জানাতে এসেছি। যারা ভবিষ্যতে ভোটের জন্য আসবেন, তাদের প্রশ্ন করুন— এতদিন তারা কোথায় ছিলেন, আর আমাদের জন্য কী করেছেন? নিজেকে তিনি দেশের নেতা তারেক রহমানের বার্তাবাহক হিসেবে তুলে ধরেণ এবং বলেন, ‘আমাকে পাঠিয়েছেন আপনারা কেমন আছেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো থাকবেন জানাতে। বিএনপি অতীতেও জনগণের পাশে ছিলো, আজও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর থানা মহিলা দলের আহ্বায়ক সালমা বেগমের সভাপতিত্বে, মদিনা হাওলাদার, জিএম জাকারিয়া, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক শফিকুল ইসলাম হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি মুর্শিদ কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন। পরে বকুল মহেশ্বর পাশা মহাশ্মশান পরিদর্শন করেন এবং দৌলতপুর রেলিগেট মোড়ে বিএনপি’র ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের ভোটের জন্য গণসংযোগ করেন।

  • নির্বাচনে কোনো অপচেষ্টা বাধা দিতে পারে না: হেলাল

    নির্বাচনে কোনো অপচেষ্টা বাধা দিতে পারে না: হেলাল

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে কোনো শক্তিই নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। বিএনপি গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রবৃত্ত রাজনীতি বিশ্বাস করে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের সঙ্গে সাহসিকতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়বে। রবিবার বিকেলে তেরখাদা উপজেলার হাড়িখালি এলাকায় একটি নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, তেরখাদা বিএনপির উর্বর জমি। এই অঞ্চলের শরীফ বংশসহ বহু পরিবার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলিলের সঙ্গে জড়িত। যদিও অতীতে কিছু মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, এবার সব অসুবিধা ও বিভেদ ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি তেরখাদাবাসী বিপুল ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষকে বিজয়ী করবে। হেলাল আরও বলেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হবে। আখের উৎপাদনকে গুড়ে রূপান্তর করে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে। উন্নয়ন এবং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এই অঞ্চলের জনগণের প্রতিনিধিত্বকে জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের নির্দেশ দেন, দলটির ঘোষণা করা ৩১ দফা ও লিফলেটগুলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। তেরখাদা বিএনপির সার্চ কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী সভাপতিত্বে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের খুলনা জেলা আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী যেমন: ফকরুল ইসলাম বুলু চৌধুরী, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, আবদুল মান্নান সরদার, সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, নাইম, কালাম লস্কর, মিল্টন হোসেন মুন্সি, আজিবর শেখ, ইউসুফ মোল্লা, জাহিদ, মোবাশের মোল্লা, পিলু লস্কর, পলাশ মেম্বার, আজিজুল ইসলাম, লিটন মোল্লা, হুমায়ুন মোল্লা, সোহাগ মুন্সি, আমিনুল ইসলাম, সাব্বির আহমেদ লিমন, মেহেদি চৌধুরী প্রমুখ।

  • খুলনায় ছাত্রলীগ নেতা দীপ পান্ডে আটক

    খুলনায় ছাত্রলীগ নেতা দীপ পান্ডে আটক

    খুলনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা এবং খুলনা জেলা পরিষদ থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শেখ হারুন অর রশীদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) দীপ পান্ডেকে গ্রেফতার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে নগরীর ফরাজিপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, দীপ পান্ডে গত বেশ কিছু দিন ধরে গভীর গোপনায় ছিলেন। তিনি খুলনা জেলা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতারূপে পরিচিত ছিলেন। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৈমুর ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে—দীপ পান্ডে আসন্ন ১৩ নভেম্বরের নাশকতা পরিকল্পনায় জড়িত থাকতেন, যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের যুব সদস্যরা সংগঠিত হচ্ছেন। এই খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে ফরাজিপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওসি আরও উল্লেখ করেন, দীপ পান্ডে দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন, এবং ধারণা করা হচ্ছে—তিনি বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে, এবং সম্ভবত সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে আদালতে হাজির করা হতে পারে। উল্লেখ্য, দীপ পান্ডে প্রথম থেকেই খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তবে, সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি গোপনে সংগঠনটির কার্যক্রমে আপাতত সক্রিয় ছিলেন বলে জানা যায়।

  • রূপসা নদীতে ডুবে যাওয়া শেখ মহিদুল হক মিঠুর সন্ধান এখনও মেলেনি

    রূপসা নদীতে ডুবে যাওয়া শেখ মহিদুল হক মিঠুর সন্ধান এখনও মেলেনি

    ১৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রূপসা নদীতে ডুবে যাওয়া শেখ মহিদুল হক মিঠুর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে পূর্ব রূপসা ঘাটে ঘটে এই দুর্ঘটনা, যখন একটি যাত্রীবাহী ট্রলার পন্টুনে ধাক্কা লাগে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের মাধ্যমে গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবেনা

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের মাধ্যমে গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবেনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচ শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবা পর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটে না। এসব ব্যাংকের পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এ বিষয়ে এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও জানান, যদিও বোর্ড ভেঙে গেছে, তবে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। ব্যবসা কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসি সবই স্বাভাবিকভাবে চলবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিক পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং ধাপে ধাপে পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ এবং আইটি সিস্টেমের একীভূতকরণ সম্পন্ন করা।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা এবং প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে। লিকুইডেশন এড়াতে তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রথমে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে ব্যাংকগুলোকে একত্রিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় বলে ঘোষিত এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অস্থায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়েছে। সকাল থেকেই এসব ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা আর কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

    তিনি আরো জানান, দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পাঁচটি মিলেই গড়ে উঠবে নতুন প্রতিষ্ঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এই ব্যাংকের পেইড-অ্যাপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালনা হবে একেবারে বেসরকারি ব্যাংকের মতো। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো, এবং পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    গভর্নর বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে তিনি বলেন, শেয়ারমূল্য এখন নেগেটিভ হওয়ায় শেয়ারগুলোকে জিরো মনে করা হবে এবং কাউকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    অতিরিক্তভাবে, জনসাধারণকে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী পুরো অর্থ তুলে নিতে পারবেন। বড় অংকের আমানতের জন্য ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুবিধা থাকবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে সকলকে উত্সাহিত করে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় অর্থ তোলার প্রয়োজন নেই—শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করুন।

    নির্বাচনপরবর্তী পরিবর্তনের ধারায় বা নতুন সরকারের অধীনে এই প্রক্রিয়া বন্ধের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি-না—এমন প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর জানান, দেশের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিবর্তন আসলেও এই সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে।

    অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করেছে। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এ সকল ব্যাংককে একীভূত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।

    ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অ্যালার্ট করে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ নভেম্বর থেকেই পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং তারা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত হবে।

    এদিকে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারে এবং নতুন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিতে পারে। এর আগে, গত ৯ অক্টোবর সরকারি অনুমোদন নিয়ে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, যেখানে দেশের ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থা অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা করছে। এর ফলে, এদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেকবার ত্রুটিপূর্ণ পরিস্থিতিের জন্য সাহায্য দেওয়া হলেও, ব্যাংকগুলো কেবল আরও খারাপ হয়ে গেছে; শেয়ারবাজারে তাদের মূল্য কমে গেছে এবং তাদের নেট অ্যাসেট মূল্য অর্থাৎ এনএভি ঋণাত্মক হয়ে আছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করল পুঁজিবাজার

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করল পুঁজিবাজার

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, একীভূতির প্রক্রিয়ার কারণে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে ট্রেড হবে না, যতক্ষণ না নতুন করে কোন ঘোষণা আসে।

    শেয়ার লেনদেন বন্ধের তালিকায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। ডিএসই ও সিএসই থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণ হলো ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলো অ-কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ব্যাংকগুলো এখন থেকে এই নতুন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির আরও একটি চিঠিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গতকাল বলেছিলেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে অবস্থান করছে। সেই কারণে শেয়ারগুলোর মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং কোনো ক্ষতিপূরণ বা মর্যাদার পরিবর্তন করা হবে না।

    প্রতিটি ব্যাংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা বিভিন্ন হার রয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে শেয়ার সংখ্যা ১২১ কোটি ৮১ লাখ যার মধ্যে ৬৫ শতাংশের বেশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৯ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে শেয়ারের অবশিষ্ট ৬ শতাংশ।

    গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকে ৯৮৭ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে মোট ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এই শেয়ারের মালিকানা ৫৩ শতাংশ, এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ১৫ শতাংশ।

    ইউনিয়ন ব্যাংকের মোট ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রায় ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা প্রায় ১৪ শতাংশ, আর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫৪ শতাংশ।

    এক্সিম ব্যাংক, যার পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা, তার শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৯ শতাংশ, আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে থাকছে ৩২ শতাংশ।

    সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা, এবং শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৯ শতাংশ শেয়ার মালিকানা রাখেন। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১২ শতাংশ।

  • গভর্নর: রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দৃঢ় হবে

    গভর্নর: রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দৃঢ় হবে

    দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে। শনিবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হল রুমে আয়োজিত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরির উদ্যোগে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকের অর্থের সহজে পৌঁছানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যতে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি নিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপের কোম্পানিগুলোর ক্লেমগুলো স্থাপন করার চেষ্টা চলেছে, যা সফল হলে দ্রুত ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে। আরো বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, ব্রাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এনজিওর চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • আসন্ন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে পে-কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

    আসন্ন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে পে-কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভবিষ্যত সরকারের হাতে। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য তিনি প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা হবে ১৫ তারিখে। এর আগে, তিনি আইএমএফের সঙ্গে জুমে আলাপাচার করেছেন। আইএমএফ বলেছে, দেশটির সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তারা বেশ সন্তুষ্ট। তারা যতটুকু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আশা করছে।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইএমএফের কিছু সুপারিশ রয়েছে, যেমন কর রাজস্ব বাড়ানো। তিনি স্বীকার করেন, দেশের কর শনাক্তের হার কম আছে, এর কয়েকটি কারণও রয়েছে। দেশের মানুষ কর দিতে চায় না, আবার এনবিআর দুই মাস বন্ধ থাকার কারণেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইএমএফের আরেকটি সুপারিশ সামাজিক সুরক্ষার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্যক্ষেত্রে। বর্তমানে আমরা খাদ্য পরিস্থিতিতে ভালো আছি।

    পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের তিন মাস আগে যা কিছু করণীয়, তা আমরা সম্পন্ন করব। সংস্কার প্রক্রিয়াকে চালিয়ে যাব, যদিও এটি সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব নয়। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভবিষ্যত সরকারকে একটি সুন্দর নিয়োজিত প্যাকেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মূল সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। তিনি জানান, ট্যাক্সের বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করেছেন, যারা কিছু সুপারিশ দেবেন।

    অর্থাৎ, পে-কমিশনের বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছেন না, কারণ সেটি দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যত সরকারের জন্য সেটি মাধ্যমে নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ইনিশিয়েটিভ হিসেবে আমরা কিছু নিজ উদ্যোগ নিয়েছি।

    অর্থনৈতিক উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক সেক্টর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, বাকি অংশ ধীরে ধীরে সমাধান হবে। এই সব পরিবর্তন আগামী সরকার পরিচালনা করবে।

    আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পাওয়া যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আগেই জানিয়েছি, এখন কোনো জরুরী প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয় না। আইএমএফ তাদের রিভিউ সম্পন্ন করছে, কারণ তারা চায় যে, নতুন সরকার কতটা এই নীতিগত ভিত্তিতে কাজ করে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তারা আবার রিভিউ করবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পরিবর্তন আশাকরি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী, যদি কোনো তফশিলি ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিকুইডেশনের শেষ পর্যায়ে আসে এবং শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিকুইডেশনের চেয়েও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন, তবে তাদের ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।’ এর মানে, ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা তাদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাবেন।

    এ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়োগ করা একটি স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এছাড়াও সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্থাপিত হয়েছে। যেখানে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওইসিডির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন দাবিদার ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলো বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি, তাদের নিট সম্পদমূল্য ইতিমধ্যেই ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতিতে, ব্যাংকিং সেক্টরের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সমস্যা সৃষ্টির এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষতির ভার বহন করবেন।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন টুলস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, বিভিন্ন অংশীদারের ওপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। যার মধ্যে শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, টিয়ার ১ ও টিয়ার ২ মূলধনধারী, সাব-অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডাররা রয়েছেন।

    সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বর্তমানে ক্ষতিপূরণের সুযোগ না থাকলেও, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই বিষয়টি বিবেচনায় আনা হতে পারে। এই সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।