বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুসারে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাংকটি বলেছে, বঙ্গবন্ধু রেজল্যুশন আইন, ২০২৫ এর ধারা ৪০ অনুযায়ী, যদি কোনও তফশিলি ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিকুইডেশনের (পরিসমাপ্তি) আওতায় আসে এবং শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন, তাহলে তাদের ক্ষতির পরিমাণে তারতম্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য একটি পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শেষে কাজ করবে। এছাড়াও, সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করতে বিশেষ ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এই ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওইসিডি’র মতামত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এসেছে। অধ্যাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন দাবিদার যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থা ‘ইকুয়েটর’ কর্তৃক পরিচালিত পরিদর্শন ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদ মূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু) ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জরুরি সভা করে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এই পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের ক্ষতি বহন করবেন। রেজল্যুশন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অংশীদার—শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ মূলধনধারী, টিয়ার ২ মূলধনধারী এবং সাব-অর্ডিনেটেড ডেটহোল্ডার—সহ বিভিন্ন পক্ষের উপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ধারাসমূহ বিবেচনায় সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে অর্থাৎ তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: বাসস
Month: November 2025
-

গভর্নর বললেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনীতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সুসंगঠিত ও স্থিতিশীল থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও প্রবৃদ্ধিশীল হবে। তিনি আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির আয়োজনে টাঙ্গাইলের ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হল রুমে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা জানান। এ অনুষ্ঠানে দেশের দরিদ্র গ্রাম্য জনগোষ্ঠীর মতো সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকের অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা চালানো হয়।
গভর্নর আরও বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। এর জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠিয়েছে এবং বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিগুলোর ক্লেমগুলো দ্রুত প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চলছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে খুব শীঘ্রই কার্যকর ফলাফল দেখতে পাবো।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, ব্রাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ দেশের বিভিন্ন এনজিওর চেয়ারম্যানগণ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
-

পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আসন্ন সরকারের মাধ্যমে: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আসন্ন সরকারের ওপর থাকবে। তিনি আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এই তথ্য করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, আইএমএফের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা আগামী ১৫ তারিখে হবে। এর আগে, আইএমএফের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা হয়েছে, যেখানে তারা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশংসা করেছেন। ওরা ზოგ কিছু সুপারিশ করেছে, যেমন রাজস্ব আয় বাড়ানো জরুরি—এ বিষয়ে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে—লোকেরা ট্যাক্স দিতে চায় না, এবং এনবিআর দুই মাস বন্ধ থাকায় সমস্যা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার চেষ্টা করছি। আইএমএফ আরও বলেছে, সামাজিক সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বেশি ব্যয় করতে হবে—এ বিষয়েও কাজ চলছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, নির্বাচনের তিন মাস আগে আমরা যা কিছু করেছি, তা নিশ্চিত করব। সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং এগুলোর প্যাকেজিং করে আগামী সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ট্যাক্সের ব্যাপারে একটি আলাদা কমিটি কাজ করছে, যেখানে কিছু স্বতন্ত্র অর্থনীতিবিদ পরামর্শ দিচ্ছেন। হালকা করার জন্য, তিনি বলেছেন, পে-কমিশন সম্পর্কিত বিষয়গুলো এখনই বলা সম্ভব নয়; দেখছি কতদূর এগোতে পারে, সম্ভবত আগামী সরকারের জন্য তারা সিদ্ধান্ত নেবে। ব্যাংক সেক্টর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে ইতোমধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ধাপে ধাপে এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। শেষ দিকে, তিনি উল্লেখ করেছেন, যেখানে আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে তিনি বলেছেন, এখন এ জন্য কোন জরুরি প্রয়োজন নেই। তারা অপ্রয়োজনীয় রিভিউ শেষ করেছে, তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারির দিকে বিস্তারিত মূল্যায়ন করবে আইএমএফ।
-

এক দিনেই সোনার দাম সাড়ে চার হাজার টাকা বাড়াল বাজুস
আজকের দিনে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অবাক করার মতো ঘটনা। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৪ হাজার ১৮৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটির স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এবং দেশের বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই নতুন দাম কার্যকর হবে আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দামে বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেট হলমার্ক স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দামের জন্য নির্ধারিত মূল্য হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৮ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের হলমার্ক রুপার দাম প্রতি গ্রামে ৪৩৬৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৪৩৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২২৩ টাকা প্রতি গ্রাম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরির যোগফল যোগ করে ক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। আরও উল্লেখ করা হয়, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। এই দামগুলি עד নতুন ঘোষণা এড়িয়ে চলবে এবং সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে।
-

দেশে স্বর্ণের দাম বেড়েছে
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে দাম ঘোষণা করে জানিয়েছে যে, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আগের থেকে ২ হাজার ৫০৭ টাকা বেশি।
বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত সোয়া রাতের মধ্যে এই নতুন দামের কার্যকরীতা শুরু হবে, যা আগামী মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি। এর ফলে, স্বর্ণের সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির কারণে এই মূল্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন দামে আরেকটু বিস্তারিত বললে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা, যেখানে ২১ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দরে ভরি প্রতি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এদিকে, এর আগে, ১ নভেম্বর, বাজুস ঘোষণা করে ছিল যে, একই ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ হাজার ৬৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
-

গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: দিল্লির ষড়যন্ত্রে ১৩ জানুয়ারি লকডাউনের নামে আ.লীগের নাশকতা পরিকল্পনা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দিল্লির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আগামী ১৩ জানুয়ারি লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ নতুন ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে। আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে পাচঁ দফা দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে পল্টন মোড়ে একটি বৃহৎ ও ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ milestones হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরো বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আজ বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে। সরকার গঠনের জন্য সাধারণ ঐক্য ও সংবিধান সংশোধনের জন্য বেশ কিছু সংস্কার হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। তবে ডিসেম্বরের নির্বাচন ঘোষণা করার পর থেকে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
জামায়াতের এই নেতা সরকারের প্রতি আবেদন করে বলেন, যারা দাবি করছে, একদিনের গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হবে, তাদের এই বিষয়ে পুনরায় ভাবতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে যে সংবিধানে সংস্কার হয়েছে, এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দলের প্রধান ও সরকারের প্রধান পৃথক হওয়া, সাংবিধানিক পদে নিয়োগের স্বাধীনতা, পার্লামেন্টের কাঠামো পরিবর্তনসহ নানা সংস্কার রয়েছে। যদি এই পরিবর্তনগুলো সংবিধানসম্মতভাবে না হয়, তাহলে কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে?
তিনি আরও বলেন, অনেক সংবিধান বিশ্লেষক মনে করেন, হাইকোর্টের আর্টিকেল ১০৬-এর আওতায় সরকারের বৈধতা প্রমাণের জন্য গণভোট অপরিহার্য। কারণ, এই আইনের ভিত্তি শক্তিশালী না হলে, নির্বাচন ও সংস্কারগুলি বৈধতা পাবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা পাঁচ দফা দাবি করেছিলাম মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তির, তার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। নভেম্বরে কিছু অপরাধীর রায় আসার আশঙ্কা থাকলেও, ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশজুড়ে ককটেল ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে।
সরকারী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করুন এবং জুলাইয়ের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করুন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকার এই কাজে জনগণের সহযোগিতা নিতে প্রস্তুত।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
-

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না: জামায়াতের আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না যদি জুলাই সনদকে বৈধভাবে স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেন, আমাদের মূল দাবি হলো জুলাই সনদ ও বিপ্লবের স্বীকৃতি। প্রথমে এই সনদকে আইনি ভিত্তি প্রাপ্ত করতে হবে এবং এর ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আইনি স্বীকৃতি ব্যতিরেকে কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না।
সমাবেশটি মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত হয়, যেখানে আটটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এই বছর, আন্দোলনকারীরা দাবি করেন যে, এপ্রিলের বিপ্লবের স্বীকৃতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবার সম্মতি জরুরি। যদি সবাই একমত হয়ে গণভোটের জন্য পরিষ্কার তারিখ দেওয়া হয়, তাহলে আইনি ভিত্তি স্থাপন হবে এবং এর ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচন হবে সক্ষম ও বিশ্বাসযোগ্য। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই ফেব্রুয়ারির আগে রমضانুল রহমানের আগে অর্থাৎ শীঘ্রই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। অন্যথায় অন্ধকারে চলে যাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের আশা এবং দাবি পরিষ্কার—জুলাই সনদ ও বিপ্লবের স্বীকৃতি ব্যতীত কোনো নির্বাচন হবে না। সেই সঙ্গে উপস্থিত নেতারা বলছেন, জনগণের ঐক্য ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন অথবা দাবির প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্য ভবিষ্যত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা জনগণের মুক্তি চাই এবং তাদের স্বপ্নের আলো দেখে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু আমাদের দাবিগুলো অক্ষুণ্ন থাকবেই। কারণ এগুলো জনগণেরই দাবি, কোনো দল বা ব্যক্তির নয়। এই দাবি যেমন বিপ্লবের জন্য, তেমনই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। জনগণ এই চাপাবাজি, অন্যায় ও অসাংবিধানিক দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।
আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর আন্দোলনের জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এই নেতৃবৃন্দ। সামনের দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা শিগগিরই জানানো হবে।
এর আগে, মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদকে কেবল কাগজের সনদ বলেই না, বরং ভবিষ্যতের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই সনদে দেশের মূল কাঠামো বদলের উদ্যোগ গৃহীত হবে, যাকে আইনি প্রতিষ্ঠা দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, সময়ে সময়ে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ সনদ গ্রহণ না করলে বাংলার মাটিতে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়।
জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই মানদণ্ডে চললে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সূচী ঘোষণা সম্ভব হবে। এটি দেশের শান্তি, স্থায়িত্ব ও সম্মান বৃদ্ধির জন্য আবশ্যক বলে তিনি উল্লেখ করেন। আর সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই বিশাল সমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে এবং মুসলিম উম্মার ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রমাণ হিসেবে টিকে থাকবে।
-

ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না, মির্জা ফখরুলের সংকেত
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যদি নির্বাচন পেছানো হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। যারা মুনাফেকি করে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পিআর পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়; এই পদ্ধতিতে দলের বাহিরে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না।
মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে আমরা একমত, তবে কিছু জোর করে চাপানোর চেষ্টা হলে এর תיקা সরকারকেই নিতে হবে। আমরা এমন কাজ করব না, কারণ তাহলে জনগণ আমাদের তাড়িয়ে দেবে।’
প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজনেসে ক্ষমতায় গেলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্ব autónমূলক করা হবে।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষকদের বাদ দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন, কারণ এতে শিক্ষাব্যবস্থায় অসংগতি সৃষ্টি হচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি উজ্জ্বল নাম। তার দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক, তিনি নতুন রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা করেছিলেন।’
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য ওটাই অর্থাৎ যে, ওদের যা বলতে বলা হয়, সেটাই করতে হবে। তা না করলে ভোট হত না—এমনটি বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভাই, এত ভয় কেন ভোটের? কারণ জানো যে, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এই কারণে তোমরা ভোট এবং নির্বাচনকে ভয় করো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকায় কোনও এনসিপির দেখা মেলেনি। তারপরও তারা কীভাবে ভোট পাবে? এজন্য ওরা জামায়াতের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে। তারা পিআর চায়, জনগণ পিআর বোঝে না; এটা হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস সংস্কারের নামে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরও যদি অমীমাংসিত বিষয়গুলো চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে এর দায় বিএনপি নেবে না। দায়টি সরকারকে নিতে হবে।
শেষে তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড চালু করা হবে।
অবশেষে দলটির নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যতের আন্দোলন আরও জোরদার করার জন্য একতাবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
-

আট দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা: জুলাই সনদ ও নির্বাচনের দাবি
বাংলাদেশের আটটি রাজনৈতিক দল, যার মধ্যে রয়েছে জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা দাবি করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেওয়া অপরিহার্য। এই পাঁচ দফা দাবির জন্য তারা তিন দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা রোধ ও জেলা-এলাকায় সমাবেশ করা। এছাড়া, দাবি না মানা হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি দেবে তারা, যার জন্য আল্টিমেটামও দেয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১টায় রাজধানীর পল্টনে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এর আগে, দেশটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব দল হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি। বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুজিবুর রহমান।
তিনি আরও জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী জনসমর্থনে নেতারা সরব হতে রাজপথে নামবেন। একই সঙ্গে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোকেও ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আসার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে, ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার, কেন্দ্রীয়ভাবে তালিকা অনুযায়ী পাঁচ দফা দাবির জন্য জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ ও মিছিলের আয়োজন হবে।
আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় জনসভা ও আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের পর, দাবি মানা না হলে বিকেল সাড়ে ১২টার দিকে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার, চার মাস ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই আট দল সমাবেশ করে। সেখানে নেতারা স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য জরুরি হল—a গত জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি আর গণভোটের আয়োজন। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি এই দাবি মানা না হয়, তবে কোনো নির্বাচনই হবে না।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একথা বলেছেন, ‘যারা জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দেবে না, তাদের জন্য ২০২৬ সালে নির্বাচন হবে না। ২০২৬ সালের নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে, কারণ তবেই এই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা হবে। ।’
তাদের পাঁচ দফা মূল দাবি হল:
১. জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের আয়োজন;
২. আগমন জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু;
৩. সবার জন্য স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত;
৪. আওয়ামী লীগের জুলুম ও নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার করুন;
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করুন। -

বিএনপির ফাঁকা ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির তাসনিম জারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির অব্যবহৃত ঢাকা-৯ আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ডা. তাসনিম জারা। গতকাল সোমবার রাতে তিনি রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
বেশকিছু দিন ধরেই বিএনপি ঢাকা-৯ আসনটি ফাঁকা রেখেছে, যেখানে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। তার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এই আসনে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছিল। এই গুঞ্জনকে আরও সেই দিকে ঠেলে দিয়েছে, যখন তাসনিম জারা মনোনয়নপত্র গ্রহণের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, তারা এবার এই আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকের ধারণা, বিএনপির এই সিদ্ধান্তে গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে।
ঢাকা-৯ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত। এতে রয়েছে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড, যা সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আসনে এখনো বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি, তবে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কবির আহমদ।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর, তাসনিম জারা বলেন, ‘দলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৩ তারিখের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আমি সেই প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছি। যদি সুযোগ পাই, তাহলে এনসিপি থেকে আমরা পরিবর্তন এনে সফল হতে পারবো বলে আশা করছি।’
এনসিপি ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে, যা চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা, তবে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষরা এটি ২ হাজার টাকায় সংগ্রহ করতে পারবে।
