Month: November 2025

  • মির্জা ফখরুলের বললেন, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

    মির্জা ফখরুলের বললেন, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

    বাংলাদেশে আর কোনও নির্বাচন না হলে দেশটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, যা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তিনি সতর্ক করে দেন, যারা মুনাফেকি করছে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

    একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে পিআর (প্রতীকের নির্বাচন) পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই দলের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে না।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দল বৈধ ও সংস্কারের বিষয়গুলোতে একমত হলেও কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি এমন কর্মকাণ্ডে যাবে না, কারণ জনগণ যদি বুঝতে পারে ঝুঁকি হতে পারে;

    প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা ও সংগীত শিক্ষক বাদ দেওয়াকে তিনি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, এটা শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চতর মর্যাদার। তিনি রাজনীতিতে নতুন দর্শনের সূচনা করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।

    মির্জা ফখরুল ভাষ্য দেন, জামায়াতে ইসলামীরা বলছে, তারা যা বলছে সেটাই করতে হবে। তা না করলে ভোট হবে না, এমন ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোট ও নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের এত ভয় কেন? কারণ, ভোটে জয় না হলে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। এ কারণেই তারা ভোট ও নির্বাচনে ভয় পাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে একটাও এনসিপি (ন্যাশনাল অসোশিয়েশন অব পপুলার গ্রুপ) নেই। কিন্তু তারা কীভাবে ভোট পাবে? এজন্য জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রচার করে, পিআর চায়, যদিও মানুষ এই বিষয়গুলো বুঝতে পারে না। এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার এক কৌশল।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সংস্কার ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরেও কিছু অমীমাংসিত বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে, তার দুষ্ণা সরকারকেই দিতে হবে বলে জানিয়েছেন।

    অন্তর্বর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড তৈরির আশ্বাস দেন।

    শেষে, দলটির নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যতের আন্দোলনকে শক্তিশালী ও সফল করে তুলতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে যমুনার সামনে অবস্থানের ঘোষণা

    ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে যমুনার সামনে অবস্থানের ঘোষণা

    আটটি রাজনৈতিক দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং নভেম্বর মাসের মধ্যে এই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবিকে কেন্দ্র করে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) তারা জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনশক্তিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও রাজপথে তারা অবস্থান করবেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য, ১৪ নভেম্বর (শুক্রবার) সরকারবিরোধী ৫ দফা দাবিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। আর ১৬ নভেম্বর (রোববার) দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক বেলা ১১টায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে হবে, যেখানে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি জনগণের দাবি মানা না হয়, তাহলে সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে যে, যমুনার সামনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হবে অনড় অবস্থান কর্মসূচি।

  • তারেক রহমান চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    তারেক রহমান চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    চলতি মাসের শেষ দিকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করছে দলটি। আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তারা বিশ্বাস করেন যে, এই মাসের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরবেন। কিছুটা সময় বৈচিত্র্য হতে পারে, কিন্তু মূলত তারা আশাবাদী।

    ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। এরপর গত ১৭ বছর তিনি লন্ডনে বাস করছেন। জুলাই মাসে সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা জটিলতা থেকে মুক্তি পেলেও তিনি এখনও দেশে ফিরছেন না।

    বিএনপির বেশ কিছু সদস্য দাবি করছেন যে, তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, তবে কেউ নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলেননি। ৬ অক্টোবর বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই ফিরে আসার পরিকল্পনা আছে, ইনশাআল্লাহ।

    সাক্ষাৎকারে আরও জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের আগে তিনি দেশে থাকবেন কি না। তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার দায়িত্ব আছে, তাই নির্বাচনের সময় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে থাকবেন। তিনি আরও বলেছিলেন, জনগণের প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন হলে তিনি সেখানে থাকতে ইচ্ছুক এবং চেষ্টা করবেন।

    প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও কখনো সরাসরি নির্বাচনী মাঠে প্রার্থী হননি তারেক রহমান। তবে এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

  • আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আজ মাঠে থাকবেন জামায়াতসহ ৮ দল

    আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আজ মাঠে থাকবেন জামায়াতসহ ৮ দল

    আওয়ামী লীগ কর্তৃক ১৩ নভেম্বরের জন্য ঘোষণা করা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি প্রতিরোধের জন্য বৃহস্পিতবার রাজপথে জনসাধারণের অবস্থানের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন আট দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে তারা দেশব্যাপী জনগণের সহায়তায় রাজপথে থাকবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে, পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে রাজপথে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বছর কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা হলো আলু চাষ। একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গিয়ে সরকারের পক্ষে যদি গণভোট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তবে তা জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ব্যয় হবে। অথচ এই সময়ে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, যা তাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আরও বলেছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল যেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে বা ক্ষমতা দখলের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে; কিংবা জনগণের দ্বারা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে অপচেষ্টা চালায়— তবে তার ফল বিপরীত হতে পারে। এ বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি রাজপথের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতিকে আরও বিষিয়ে তোলা কেউ চাইছে কি না, তা লক্ষ্য রাখা দরকার। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু দল নানা শর্ত আরোপ করে জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার মানতে না চাওয়া।

    তারেক রহমান জনগণকে উৎসাহিত করে বলেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে সব গণতান্ত্রিক দল যেন শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মুখোমুখি হয়। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করেন— পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও সংহতিপূর্ণ পথে চলার জন্য।

    সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, এ বছর আলুর ব্যবসায়ীরা সম্ভবত সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আলুর উৎপাদনে খরচ প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা, কিন্তু বাজারে চাষিরা সচরাচর অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন। ফলে এর ফলে চাষিরা তিন হাজার কোটি টাকার মতো লোকসানে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল গণভোটের নামে এই অর্থ ব্যয় করতে চায়, তবে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া এই সময়ে এত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বে সম্ভবত বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চাললেও, সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুটি বিচ্ছিন্নভাবে দেখা বা গুরুত্ব না দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সংস্কার শুরু করেছিলেন, কিন্তু তার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে, আপনার পিতার কাজগুলো যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে শুরু করুন—আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতারা, কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

  • নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ

    নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ

    রাজধানীর শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসের পরিত্যক্ত ভবনের ব্যালকনিতে আগুন লাগানোর মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এসব অনুশীলন কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধরা, যারা বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা এই ঘটনায় দায়ী করে সরকারের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি, তারা ভবনের দেওয়ালে ভাঙচুর চালিয়ে ভাস্কর্যও ভেঙে ফেলেন। উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা মামলার রায় ঘোষণার দিন কলকরত্মের কারণে আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই দিনটি ধার্য করে।

  • রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন

    রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন

    আজ, বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই মাসে অনুমোদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বা নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই স্বাক্ষর মাধ্যমে তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার নতুন এক ধাপের সূচনা করে। এখন এই সনদটি কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা চলছে।

    অতিরিক্তভাবে, বিকেল দুইটা ৩০ মিনিটে একজন গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে ভাষণ প্রদান করবেন জাতির উদ্দেশে। এই ভাষণে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা এবং ভবিষ্যতের জন্য জাতীয় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়কার রাজনীতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে অনেক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

  • আশা, আইনজীবীর মতে, শেখ হাসিনা খালাস পাবেন

    আশা, আইনজীবীর মতে, শেখ হাসিনা খালাস পাবেন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা দেখা যায়নি বলে জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি আরও জানান, তারা দুজনের জন্য খালাস পাওয়ার আশা তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যনালের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমির হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রায়ের তারিখ ধার্য হয়েছে, আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) বিচারকাজের ফলাফল জানা যাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ক্লায়েন্টরা এই মামলায় খালাস পাবেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, কোন ধরনের যুক্তি বা তথ্য দিয়ে তারা খালাস পাবে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দির পরে জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক তথ্য উঠে এসেছে। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসা বিতর্কিত দালিলিক সাক্ষ্য ও ডকুমেন্টের মাধ্যমে সাক্ষ্যপ্রমাণে গুঁড়ো হওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেখ হাসিনা ও কামাল এই মামলায় খালাস পেয়ে যাবেন।

    বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আমির হোসেন বলেন, আমার দৃষ্টিতে বিচারতন্ত্রে কোনো অস্বচ্ছতা চোখে পড়েনি। কাউকেই হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু তিনি পেয়েছেন যথাযথ দলিল-দলিলাদি, কাগজপত্র, সেগুলোই তার প্রধান ভিত্তি। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে পাওয়া সকল দলিল তিনি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন।

    নিজেকে সমর্থনের জন্য শেখ হাসিনা ও কামাল এই আদালতে থাকাকালে ভরসা করেছিলেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও। এ দাবি করেছেন আমির হোসেন।

    এদিন দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে, জুলাইয়ে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য নির্ধারিত দিন ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এ দিন সংশ্লিষ্ট কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ আরও উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এছাড়া মামুনের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ইয়ায়েদ বিন আমজাদ।

  • সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের পরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের পরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই গণভোটের আয়োজন সম্পূর্ণভাবে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে দীর্ঘায়িত বা বাধাগ্রস্ত করবে না। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, ভবিষ্যত নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ভাগেই এই গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে দেশের পরিবেশ আরও উৎসবমুখর হবে এবং অর্থনৈতিক ব্যয়ও কমবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করা হবে যেন বিবাদের ঝামেলা এড়িয়ে দ্রুত অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংস্কার কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।

  • সোহেল তাজের বক্তব্য: অগ্নি-নাশকতা ও ককটেল হামলার幕后কারীরা কী?

    সোহেল তাজের বক্তব্য: অগ্নি-নাশকতা ও ককটেল হামলার幕后কারীরা কী?

    রাজধানীতে বাসে আগুন, অগ্নিসন্ত্রাস, ককটেল বিস্ফোরণ এবং লাশের রাজনীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোহেল তাজ। তিনি এই সমস্ত ঘটনা কারা করছে তা উ revelations করেন এবং কিছু বইয়ের উদাহরণ দিয়ে বিষয়গুলো বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেছেন। সোহেল তাজ লিখেছেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে এবং সত্য কথা বললেই যদি গালি খেতে হয়, তাহলে কি আমাদের কিছু করার নেই?”

    তিনি বলেন, “সাবেক (বেপরোয়া) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে ঘটে যাওয়া হত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি, টাকা পাচার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তার এবং দেশের ছাত্র/জনতা বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য যদি সত্য কথা বলেও গালি খেতে হয়, তাহলে এই লজ্জা কার?”

    বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, “সবাই একটু কষ্ট করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান রেন্টুর ‘আমার ফাঁসি চাই’ এবং ‘অন্তরালের হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রী’ এই দুই বই পড়ে দেখলে বুঝবে, আসলে বাসে আগুন, অগ্নিসন্ত্রাস এবং ককটেল, লাশের রাজনীতি কার খুব পছন্দের।”