Month: November 2025

  • শেষ বিকেলে স্পিনারদের দৃঢ় বোলিংয়ে স্বস্তি ফিরল বাংলাদেশে

    শেষ বিকেলে স্পিনারদের দৃঢ় বোলিংয়ে স্বস্তি ফিরল বাংলাদেশে

    দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ দল দুর্দান্তভাবে উইকেট তুলে নিতে শুরু করে। প্রথম ওভারেই গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের তারতাহত কিছুটা বাংলাদেশের পক্ষে থাকলেও, প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট পতন হয়নি। এই সময়ে আইরিশ ব্যাটাররা পল স্টার্লিং ও ক্যাড কারমাইকেলের জোড়া ফিফটিতে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলে। তবে শেষ বিকেলে স্পিনাররা দুর্দান্ত ফুটপ্রিন্ট দেখিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তির দিশা দেখান। হাসান মুরাদ ও মেহেদী মিরাজের ধৈর্য্য ও নিখুঁত বোলিংয়ে দিন শেষ করে স্বাগতিক দল।

    সিলেট টেস্টের প্রথম দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭০ রান। দলের হয়ে বেন মেকার্থি ৫৬ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের জন্য তিনটি উইকেট শিকার করেন মেহেদি মিরাজ।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতেই ব্যাটিং শুরু করে আইরিশরা। প্রথমেই তারা উইকেট হারায়, বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ অ্যান্ডি বালবির্নিকে আউট করেন। এরপরই বাংলাদেশের ফিল্ডাররা বেশ কিছু ভুল করে, যার সুযোগ নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা আক্রমণ চালায়। পল স্টার্লিং তার ফিফটি তুলে নেন, এক উইকেটে ৯৪ রান সংগ্রহ করে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় আয়ারল্যান্ড।

    দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ফিরে এসে ম্যাচের ঘুরব PTOপ্র, স্টার্লিংকে আউট করেন নাহিদ রানা। ৬০ রান করে তিনি ফিরেন। এরপর হ্যারি টেক্টর মাত্র ১ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর ক্যাম্ফার ও কারমাইকেল জুটিতে কিছুটা ধীর রপ্তানি হয়। তারা ৫৩ রানে যোগ করেন, কিন্তু এই জুটিতে বাংলাদেশ স্পিনার মিরাজ দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। কারমাইকেল অবশ্য রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচে পরিণত হন, যা লেগ স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্ত ধরেন।

    বিরতির আগে, কারমাইকেল ৫৩ বলে ৫৩ রান করে আউট হন। তার ফিরে যাওয়ার পর, লরকান টাকার কেও নিয়ে ৫৩ রানের একটি জুটি গড়েন ক্যাম্ফার। কিন্তু দলীয় ২০৩ রানে ক্যাম্ফার সাজঘরে ফিরে যান, তার ব্যক্তিগত অর্ধশতক থেকে ৬ রান দূরে। এরপর টাকারও আউট হন। আয়ারল্যান্ডের জন্য জোড়া জুটি গড়ে খেলতে থাকেন বেন ম্যাকার্থি ও জর্ডান নিল। দিনশেষে, জর্ডান নিলকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশ অষ্টম উইকেট পায়। এই জুটিতে তারা ৪৮ রান যোগ করে, ফলে আইরিশরা দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ২৭০ রান সংগ্রহ করে।

  • মাহেদির ব্যাটিং নৈপুণ্যে খুলনা জয়, চট্টগ্রামকে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে বিভাগটি

    মাহেদির ব্যাটিং নৈপুণ্যে খুলনা জয়, চট্টগ্রামকে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে বিভাগটি

    জাতীয় ক্রিকেট লীগে ২৭তম আসরের তৃতীয় রাউন্ডের শেষ ম্যাচে মহান কৌশল ও অনুপ্রেরণাদায়ক batting পারফরম্যান্সের জন্য খুলনা বিভাগ শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে। স্পিন অলরাউন্ডার মাহেদি হাসান বিশেষ দক্ষতার সাথে ব্যাট চালিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। এই জয়ে খুলনা ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগ মোট ৩ ম্যাচে ১ জয়, ১ ড্র এবং ১ হার নিয়ে ১০ পয়েন্টে রয়েছে, যা তাদের তৃতীয় স্থানে রেখেছে।

    চট্টগ্রামে যানকা বন্ধু শহিদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রথমে বল করে ২৩৭ রান টার্গেট দেয় খুলনাকে। এর জবাবে, খুলনা শুরুতেই দিন শুরু করে ৫২ রানে অমিত মজুমদার ও সৌম্য সরকার ৮৫ রানে জুটি বেঁধে। সৌম্য সাধারণত ৯০ বলে ৭১ রান করেন, যাতে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত। অপরাজিত থাকেন মাহেদি হাসান ৫০ রান করে, আর রানা ২ রান করে।

    খুলনার জন্য মধ্যম অর্ডার এ উপযুক্ত সংগ্রামের পর, নাইম হাসান ৫ উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের বোলিং কার্যক্রমে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন। চট্টগ্রামের স্পিনার নায়েম হাসানের ৫ উইকেটের পাশাপাশি, শুরুতেই খুলনার উইকেট পতনের পর ম্যাচে নাটকীয় মনোভাব দেখা যায়। মাহেদি ও নাহিদুল ইসলাম মধ্যমে জুটি গড়ে ৫৭ রান করে, যা দলের জয়ের মূল ভিত্তি। মাহেদি শেষ পর্যন্ত ৫০ রান করে অপরাজিত থাকেন, দলের জয়ের সূচনা করে। সৌম্য এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ম্যাচের সেরা হন। এই জয়ে খুলনা বিভাগ বর্তমান সময়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে।

  • সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সাথে ক্রিকেটার মুস্তাফিজের সাক্ষাৎ

    সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সাথে ক্রিকেটার মুস্তাফিজের সাক্ষাৎ

    সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের খ্যাতনামা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান। এই সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই কৃতী সন্তানকে স্বাগত ও সম্মান জানান।

    সাক্ষাৎকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে দেশের জন্য তার অসাধারণ ক্রীড়া অবদানের জন্য প্রশংসা করে। তারা আলোচনা করেন জেলার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণদের মধ্যে খেলাধুলায় আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা, এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মুকিত হাসান খান, ডিএসবি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর মোঃ সাইফুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    সাক্ষাৎ শেষে, জেলা পুলিশ পক্ষ থেকে ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে একটি উপহার সামগ্রী, ওয়ালমেট প্রদান করা হয়, যা তার প্রতিক্রিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মুহূর্ত করে তোলে।

  • প্রথম চার ব্যাটারীর ৮০ ছাড়ানো ইনিংসে বাংলাদেশের রেকর্ড

    প্রথম চার ব্যাটারীর ৮০ ছাড়ানো ইনিংসে বাংলাদেশের রেকর্ড

    আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে চলমান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে সিলেটে মাঠে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসের খেলায় তারা এখন পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৫৮৩ রান সংগ্রহ করে, যার মাধ্যমে তারা ২৯৭ রানের বিশাল লিড নিতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রাধান্য বাংলাদেশের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ম্যাচের পরিস্থিতি একদিকে ঝুঁকে পড়েছে।

    প্রথম ইনিংসের এই বিশাল সংগ্রহের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটার। তারা একসঙ্গে ১৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে, যেখানে ওপেনার সাদমান ইসলাম ৮০ রান করে দলের রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন। যদিও সেঞ্চুরি করার সুযোগ হয়নি তার, তবে অন্য ওপেনার মাহমুদুল হাসান ১৭১ রান করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এরপরের দুই ব্যাটার, মুমিনুল হক ও নাজমুল শান্তও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

    মুমিনুল হক ৮২ রান করে আউট হলেও নাজমুল শান্ত আক্ষেপ ছাড়াই ১০০ রান করেন, যা প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটারের জন্য ৮০ ছাড়ানো ইনিংসের ইতিহাসে প্রথম। এই ঘটনা দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ১১তম ঘটনা। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে প্রথম চার ব্যাটার ৮০ রানের বেশি করে থাকলেন।

    অতিরিক্তভাবে, এই প্রথম চার ব্যাটার ছাড়াও আরও একজন উপমহাদেশের ক্রিকেটার – লিটন দাস – প্রথম ইনিংসের ফিফটি ছাড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছেন। এটিই পঞ্চমবারের মতো যে বাংলাদেশের ব্যাটাররা এমন কীর্তি স্থাপন করলেন। বিগত সময়ের মতো সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এই ধরনের কীর্তি হয়েছে ৮৩ বার।

    সার্বিকভাবে, এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে চারজনের জন্য ৮০ বা তার বেশি রান করার নজির স্থাপন করলেন। এই অর্জন দলের জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তারুণ্য ও পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও বড় সফলতা ঝুলিতে ভরাতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • জয়ের সেঞ্চুরি ও মুমিনুলের ফিফটিতে বাংলাদেশে দারুণ দিন

    জয়ের সেঞ্চুরি ও মুমিনুলের ফিফটিতে বাংলাদেশে দারুণ দিন

    আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে। দ্বিতীয় দিন মাঠে গিয়ে তারা পুরো ম্যাচের দিকপাল হয়ে উঠেছে। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের সঙ্গে সাদমান ইসমালের ৫০ প্লাস ফিফটি এবং মুমিনুল হকের সেঞ্চুরির সঙ্গে আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    আজ ব্যাটিংয়ে নামে আয়ারল্যান্ড লম্বা লড়াই করতে পারেনি, শুরুতেই তাদের কয়েকটি উইকেট পড়ে। প্রথম দুই ওভারে তারা মাত্র ২.২ রান করতে সক্ষম হয়। এরপর বাকি সময়ে তাদের ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি সংগ্রহ করতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত তারা প্রথম ইনিংসে ২৮৬ রান করে, এর মধ্যে দুই উইকেট হারায়।

    এরপর, বাংলাদেশের ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় এবং সাদমান ইসলাম দুর্দান্ত শুরু করেন। তাদের পাওয়া ১৬৮ রানের জুটি বাংলাদেশের কথার মতো করে উপভোগ্য করে তোলে। সাদমান ১০৪ বলের মোকাবিলায় ৮০ রানে অবসর নেন।

    মাহমুদুল হাসান জয় ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ১৪টি চার ও ৪টি ছয় মারেন। এটি তার ক্যারিয়ার সেঞ্চুরি, যা দেশের মাটিতে তার প্রথম। অন্যদিকে, মুমিনুল হক অপরাজিত থাকেন ৮০ রানে, ১২৪ বলে। এই দলের বড় ধরনের পারফরম্যান্সের ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৩৮ রান, এবং দিনশেষে তাদের লিড বেড়ে হয় ৫২ রানে।

    জয়ের ৭৭তম ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা রান করে যাত্রা শুরু করেন। এরপর, তিনি আরো ধারাবাহিকভাবে ব্যাট করেন। কোঁচ উপভোগ্য দুই ছক্কা ও চার মারেন কুর্টিস ক্যাম্ফারকে, যার মাধ্যমে তিনি দেড়শো পার করে যান। প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ১৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

    মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হকের পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। জয় গত ছয় ইনিংসে খুব বেশি ফর্মে ছিলেন না, তবে আজ তিনি প্রথম স্পেশাল ইনিংস খেলতে পারলেন। ৭৭তম ওভারে ৭৭ রান করে ক্যারিয়ার সেরা অর্জন করে নিলেন। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে চাপমুক্ত হয়ে তিনি আরো রানের রেকর্ড গড়েন। এই ইনিংসে তিনি ৯টি চার ও ১টি ছয়সহ ১৬৯ রান করেন।

    অন্য দিকে, মুমিনুল হক এই ম্যাচে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখিয়েছেন। প্রথম সেঞ্চুরির পর তার সর্বোচ্চ ফর্ম ছিল ৪৭ রান, তবে আজ তিনি ৭৫ বলে ২৩তম ফিফটি করে উন্নতি করেন। তার এই অনন্য সফলতার জন্য তার আত্মবিশ্বাস আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আসলে, জয় আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের দলে, এবং আজকের এই অসাধারণ শতকের মধ্য দিয়ে তার প্রত্যাবর্তন পূর্ণতা পেল। ২০২২ সালের মার্চে ডারবানে টেস্টে নিজের চতুর্থ ইনিংসে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন জয়। আবারও ১৯০ বলে দ্বিতীয় শতক তুলে নেন তিনি।

    সেঞ্চুরি করে জয় প্রমাণ করেন যে তিনি এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। ওপেনিংয়ে তার সঙ্গী সাদমান শতক পেয়েছিলেন না হলেও, জয় এই পথে হেঁটেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছয়।

    প্রথম সেঞ্চুরির পর, জয় ৩০ ইনিংসে মোট কেবল তিনটি হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন, যা তার ধারাবাহিকতার অভাবের প্রমাণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় তাকে দলে ফেরানো হয়। সেই ফর্ম এখন তার প্রথম ও দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে পরিণত হলো। তাদের উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৮ রান, যা সম্প্রতি ১০ বছরের মধ্যে সব থেকে উচ্চ।

    এর আগে, জয়-সাদমানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জুটি ভেঙে যায় বাঁহাতি আইরিশ স্পিনার ম্যাথু হামপ্রিসের বলে। কিছুটা বাইরের বল কাট করতে গিয়ে সাদমান ভুল করেন। বল তার ব্যাটের আলতো ছোঁয়া নিয়ে উইকেটরক্ষক লরকান টাকারের হাতে ধরা পড়ে। আম্পায়ার initially অস্বীকৃতি দিলেও, পরে রিভিউয়ে জীবনের প্রথম হারেন তিনি। ১০৪ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় তিনি ৮০ রানে থামে।

  • পাকিস্তানের ফের হামলা আশঙ্কা আফগানিস্তানে

    পাকিস্তানের ফের হামলা আশঙ্কা আফগানিস্তানে

    আফগানিস্তানে আবারও আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার পর এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সাম্প্রতিক এই হামলার পর পাকিস্তান তার সীমান্তের ভিতরে আফগানিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলা চালানোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। তিনি আতঙ্কের ষড়যন্ত্রের জন্য আফগান তালেবান সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেন, এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর পৃষ্ঠপোষকতাও রয়েছে সেখানে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর)।

    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত দুই দিনে পাকিস্তানে দুটি বড় সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার একটির ঘটনা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানা ক্যাডেট কলেজে, অন্যটি রাজধানী ইসলামাবাদে। এই হামলার ঘটনায় পুরো পাকিস্তানে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তার আলোচনায় জানান, এই হামলার পর সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে অভিযান চালানোর সুযোগও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তিনি আফগান তালেবান সরকারকে আঙুল দিয়ে বলেন, তাদের আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসাঙ্গঠনগুলোই পাকিস্তানের ওপর অব্যাহত হামলার জন্য দায়ি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তালেবানের আশ্রয়ে থাকা গোষ্ঠীগুলোই বারবার আমাদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।’

    খাজা আসিফ আরও বলেন, যদি ভারত বা আফগানিস্তান এই ধরনের দুঃসাহস দেখায়, তবে পাকিস্তান তার দাঁত নাড়ানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান কখনোই আগ্রাসন চালাবে না, তবে যদি তার ওপর হামলা হয়, কঠোর জবাব দেবে।

    পাকিস্তানের রাজধানীতে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত ও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে উত্তপ্ত হয়েছে। এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্সে (অর্থাৎ সাবেক টুইটার) এক ঘোষণা দিয়ে খাজা আসিফ বলেছেন, ‘আমরা এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে আছি। যারা ভাবছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু সীমান্তে লড়ছে, শনিবারের আত্মঘাতী হামলাও তাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী এই সংগ্রাম পুরো দেশের যুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনীর ত্যাগই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

    হামের পর তিনি এক বিবৃতিতে আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কাবুলের নেতৃত্ব চাইলে পাকিস্তানে সন্ত্রাস রোধ করতে পারে, তবে ইসলামাবাদের বার্তা স্পষ্ট— কাবুল থেকে হামলার যোগসূত্র রয়েছে।’

    সাংবাদিকদের সাথে আলাপের সময় তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আগেই এই হামলার আশঙ্কা করেছিল। ইসলামাবাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ‘তাদের সব অঞ্চলের হামলার জন্য তালেবানই দায়ি।’ শেষদিকে, তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান সীমান্ত বা শহর— কোথাও কোন ধরনের সন্ত্রাস সহ্য করবে না এবং প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

  • জর্জিয়ায় তুরস্কের সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২০ সেনা

    জর্জিয়ায় তুরস্কের সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২০ সেনা

    জর্জিয়ায় তুরস্কের একটি সামরিক পরিবहनকারী বিমান বিধ্বस्त হওয়ার ঘটনায় ২০ সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এখন দুর্ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার, যখন এই কার্গো বিমানটি আজারবাইজানের গাঞ্জা শহর থেকে উড্ডয়নের পরপরই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমাদের বীর সহযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন।’

    তরিকদলের সূত্রে জানা গেছে, জর্জিয়ার কাখেতি অঞ্চলের সিগনাগি এলাকায় বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি দেশের সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঘটে। এটি ২০২০ সালের পর তুরস্কের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সামরিক বিমান দুর্ঘটনা।

    জর্জিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সাকারোনাভিগাৎসিয়া জানিয়েছে, বিমানটি দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং কোনো বিপদ সংকেত পাঠায়নি।

    আজারবাইজানি গণমাধ্যমের এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর আকাশে কালো ধোঁয়া বিশাল স্তম্ভ উঠছে এবং চারপাশে বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়েপ এরদোয়ান এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

    অন্যদিকে, আজারবাইজান ও জর্জিয়ার নেতারা, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও শোক জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন, যেটি এই বিমানটির নির্মাতা, এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তুরস্ক ও জর্জিয়াকে তদন্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা দেবে।

    সি-১৩০ হারকিউলিস হলো চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ পরিবহন বিমান, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী হিসেবে জনবল, সরঞ্জাম ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করে থাকে।

  • ইসলামাবাদে হামলায় ভারতীয় সংশ্লিষ্টতা প্রত্যাখ্যান নয়া দিল্লির

    ইসলামাবাদে হামলায় ভারতীয় সংশ্লিষ্টতা প্রত্যাখ্যান নয়া দিল্লির

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, এই হামলার পেছনে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে এমন চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগকে তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “তারা উন্মাদ হয়ে যাননি, বরং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ভারত এই ধরনের অপপ্রচার মেনে নেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পাকিস্তানে সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানে এই কারসাজির পেছনে বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য কী, তারা বিভ্রান্ত হবে না।” মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১২:৩৯ মিনিটে ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হামলাকারী বিস্ফোরণের ঠিক আগে প্রায় ১২ মিনিট আদালতের বাইরে ছিল। প্রথমে আদালতের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা করতে না পেরে পুলিশ ও আশপাশের গাড়ির লক্ষ্য করে আঘাত করে। তিনি আরও বলেন, «তদন্ত চলছে এবং হামলাকারীকে শনাক্ত করা আমাদের অগ্রাধিকার। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কিছু রেশ থাকতে পারে, যার উপর আমাদের নজর রাখতে হবে এবং খুব দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে।» এই ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযোগ করেন, ভারতের সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই হামলার সঙ্গে জড়িত। কোনও সন্দেহ না রেখে তিনি বলেন, “ভারত এই অঞ্চলে সন্ত্রাসের মতো জঘন্য অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।” এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘ভারতের সন্ত্রাসী প্রক্সির মাধ্যমে পাকিস্তানের নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা খুবই দুঃখজনক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে সতর্ক থাকুক এবং ভারতের এসব অপকর্ম বন্ধ করতে বলি।’ তিনি আরও জানান, এই তদন্তের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তোলে মন্তব্য করেন, ‘কাবুলের শাসকেরা পাকিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারে, কিন্তু তারা এই ধরনের যুদ্ধের বার্তা পাঠিয়েছে যা পাকিস্তান পুরোপুরি মোকাবিলা করবে।’ আরেক দিকে, ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। গোষ্ঠীটি সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের হামলা চালানো হবে। এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, ‘আমাদের যোদ্ধারা আদালত প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছে। যারা ইসলামাবাদের বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের রায়ের জন্য দায়ী, তাদের লক্ষ্য করে এই হামলা।’ আরও হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তাদের লক্ষ্য যে মুসলিম প্রধান পাকিস্তানে ইসলামী শরিয়া আইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।’ সূত্র: এনডিটিভি, ডন

  • পেরুতে বাস উল্টে খাদে পড়ে ৩৭ নিহত

    পেরুতে বাস উল্টে খাদে পড়ে ৩৭ নিহত

    পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেকুইপা অঞ্চলে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনায় একটি বাস পাহাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে ২০০ মিটার নিচে খাদে পড়ে গেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বুধবার (১২ নভেম্বর), স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটে ঐ অঞ্চলের ওকোনা জেলার পানামেরিকানা সুর হাইওয়েতে সকাল সকাল। প্রথমদিকে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন ও আহতদের উদ্ধার করেন। আরেকুইপার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলা হয়, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।

    ওয়ালথার ওপোর্তো, আরেকুইপার আঞ্চলিক স্বাস্থ্যপ্রধান, বলেন, বাসটি একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেওয়ার পরে রাস্তার কিনারে উল্টে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। জানা গেছে, ওই বাসে মোট ৬০ জন যাত্রী ছিলেন।

    সরকারি সূত্র বলেছে, আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই ট্রাজেডি দেশের সমবেদনা ও সহানুভূতির জোয়ার সৃষ্টি করেছে।

  • জলবায়ু সংকটই এখন প্রধান স্বাস্থ্যের হুমকি: ডব্লিউএইচও

    জলবায়ু সংকটই এখন প্রধান স্বাস্থ্যের হুমকি: ডব্লিউএইচও

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি মন্তব্য করেছে যে জলবায়ু সংকট এখন মূলত একটি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিতে শুরু করেছে। সংস্থার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের উপর পড়ছে, যা গভীর উদ্বেগের কারণ। এটা এখনও সময়ের ব্যাপার যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে স্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা শুরু হয়।

    ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে, যেখানে কার্ডিয়াক রোগ থেকে শুরু করে নানা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    গত সপ্তাহে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ-৩০ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস উপস্থিত ছিলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা কালে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সবচেয়ে বড়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি উপেক্ষিত থাকা হয়েছে।”

    টেড্রোস আরও যোগ করেন, “মানুষের নিজেদের বা সন্তানদের স্বাস্থ্য রক্ষা করাই সবচেয়ে সহজ ও জরুরি। হিমবাহ বা জীববৈচিত্র্য রক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যেমন জরুরি, তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি মানুষের কাছাকাছি।”

    তিনি জানান, কপ-৩০ এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হতে যাচ্ছে যা স্বাস্থ্য বিষয়ক দিবস হিসেবে পালন করা হবে। ব্রাজিল এই দিন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনা ঘোষণা করবে, যা অন্য দেশগুলোকে নিজেদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাপত্র জোরদার করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

    টেড্রোস স্পষ্ট করে বলেন, “জলবায়ু সংকট সত্যিই এখন একটি স্বাস্থ্য সংকট।”

    অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও’র পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রধান রুডিগার ক্রেখ বলেন, “যদিও এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, তথাপি এখনও কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থান তৈরি হয়নি।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এখনই সময় হয়েছে স্বাস্থ্যকে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ করে নেওয়ার এবং আমরা আশা করি, আগামী বছর কপ-৩১-এ এই পরিবর্তনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে।”