Month: November 2025

  • রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে: গভর্নর

    রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে: গভর্নর

    বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এর পাশাপাশি, দেশের রাজনীতির স্থিতিশীল অবস্থা অর্থনীতির সুষ্ঠু উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বৃহস্পতিবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হল রুমে আঞ্চলিক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সেমিনারটি আয়োজন করে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ) যাতে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সহজে ব্যাংকের অর্থ পৌঁছে দেওয়া যায়। গভর্নর আরও জানান, দেশের অর্থ পাচারকারীদের টাকা ফেরত আনার জন্য ইতোমধ্যেই বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ইংল্যান্ডের আইনজীবীদের সহায়তায় তাদের সাথে কাজ করছে, যাতে পাচার হওয়া অর্থের ক্লেমগুলো আরও দ্রুত স্থাপন করা যায়। যদি এই প্রচেষ্টা সফল হয়, তাহলে ফলাফল ইতিবাচকভাবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে এমআরএ’র নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, ব্রাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ আরো অনেক নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এনজিওর চেয়ারম্যানরাও এতে উপস্থিত ছিলেন, যারা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। উপস্থাপনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

  • আগামী সরকারই নেবে নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

    আগামী সরকারই নেবে নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থমন্ত্রী সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব আসন্ন সরকারকে প্রদান করা হবে। তিনি রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমার চূড়ান্ত আলোচনা ১৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। এই সংস্থার সাথে আমার সম্প্রতি জুমে কথাবার্তা হয়েছে, তারা জানিয়েছে আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তারা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে বলেছে।

    তিনি বলেন, আইএমএফের কিছু সুপারিশ রয়েছে যেমন রাজস্ব আয় বাড়ানো, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কম হওয়ার বেশ কারণ রয়েছে, কারণ আমাদের নাগরিকরা ট্যাক্স দিতে চায় না এবং অ্যাইএমএফের কিছু সময় নষ্ট হওয়ারও কারণ আছে। এরপর, সামাজিক সুরক্ষার জন্য আরও বেশি ব্যয় করার পরামর্শ রয়েছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং খাদ্য ক্ষেত্রে। তবে খাদ্য পরিস্থিতি বর্তমানে মোটামুটি ভালো।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের তিন মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে আমরা যতটুকু কাজ করেছি সেটাকে সংহত করব। সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে, যেহেতু এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। এই সংস্কারগুলো আরেকটি প্যাকেজিং করে আগামী সরকারের কাছে পৌঁছে দেব।

    তিনি উল্লেখ করেন, একজন স্বাধীন ইকনমিস্টের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে ট্যাক্সসংক্রান্ত রেকমেন্ডেশনের জন্য, যারা বিভিন্ন সুপারিশ দেবে।

    অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পে-কমিশনের ভবিষ্যত বিষয়ে। তিনি বলেন, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না, কারণ দেখা হবে কতদুর এগোতে পারে। আগামি সরকারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    ব্যাংক সেক্টর সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, এই ক্ষেত্রের পরিস্থিতি শুরু হয়েছে, বাকিগুলো ধীরে ধীরে সামাল দেওয়া হবে। এসব পদক্ষেপ আগামী সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়ার ব্যাপারে প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা দেখছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হয়। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে, তারা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে।

  • দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরো বেড়েছে

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরো বেড়েছে

    দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন ঘোষণাে জানিয়েছে, প্রতি ভরির ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫০৭ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তন মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিউর গোল্ডের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম সামগ্রিকভাবে নতুন দরে নির্ধারিত হয়েছে।

    নতুন দামে, ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা।

    এর আগে, ১ নভেম্বর এক আদেশে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৮০ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকায় নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

  • এক লাফে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার টাকা বাড়ল

    এক লাফে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার টাকা বাড়ল

    এক দফাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও প্রায় বিশাল পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ৪ হাজার ১৮৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রাইজ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ উচ্চতর মূল্যে।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার এই নতুন দামের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের একটি জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সবাই মতৈক্য পোষণ করেছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধি এবং দেশের কনজিউমার মার্কেটে অস্থিরতা বিবেচনা করে আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ক্যারেটে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট হলমার্ক স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হলো: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৮ টাকা।

    এছাড়া, রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের হলমার্ক রুপার প্রতি গ্রাম এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৬৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪৩৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি গ্রাম ২২৩ টাকা।

    বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, এই দামগুলো পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয় মূল্যতে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত সর্বনিম্ন ৬ শতাংশ মজুরির যোগ্যতা থাকতে হবে। গহনার ডিজাইন, মান ও তৈরি পদ্ধতির ভিন্নতার জন্য মজুরির পার্থক্য হতে পারে।

  • নিলামে বিক্রি হলো না উচ্চমূল্যের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাবে

    নিলামে বিক্রি হলো না উচ্চমূল্যের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাবে

    বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের বিদেশ থেকে আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই গাড়িগুলো আগে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করলেও, শুল্ক ও কর পরিশোধে অবহেলা এবং মূল্যবান থাকার কারণে এগুলোর ওপর নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। তবে নিলামে গাড়িগুলোর দাবি করা মূল্য বিড না করায় এগুলো বিক্রি হয়নি। এর ফলে, এসব বিলাসবহুল গাড়ি জনস্বার্থে সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য পরবর্তী পরিকল্পনায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি, যা আওয়ামী লীগ গত ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করেছিল। এই কর্মসূচিকে বাধা দেওয়ার জন্য, চারঠা দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আজ রাজপথে উপস্থিত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকলে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির সমস্ত নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী রাস্তায় নামবেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদ বিরোধী ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে একত্রিত করে শক্তি প্রদর্শন করা।

    অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেখানে আজ এই দলগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং জনগণকে রাজপথে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির সফলতা ও গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং আট দলের নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

  • গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোটের বিষয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তাতে দেশবাসীর প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে স্বচ্ছ ও সংকটমুক্ত নির্বাচন পূর্বাভাসের আশা করছিলেন সাধারণ মানুষ, কিন্তু আসলে সেটি সম্পন্ন হয়নি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোটের জন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটপেপার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে “হ্যাঁ” বা “না” ভোটের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা স্পষ্ট নয়। গণভোট ও নির্বাচনের ব্যালটের প্রকৃতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে ভাষণে যথেষ্ট ব্যাখ্যা বা স্পষ্টতা ছিল না।

    তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ে জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও এ সংক্রান্ত আদেশের ওপর ভিত্তি করে নভেম্বর মাসে গণভোটের আয়োজনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দেশের মধ‍্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ঝামেলা ও বিভ্রান্তি বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

    গেল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বস্ত দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামোতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে অন্যরা ছিলেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নেতা সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তর বিভাগের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, দক্ষিণ বিভাগের নায়েবে আমির অ্যাড. ড. হেলাল উদ্দিন ও মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

    গোটা আলোচ্য বিষয় হলো, দুইটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে, যা দেশের বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ বিশ্লেষণ করেছেন।

  • বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তাঁরা বিশেষ করে ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ব্যক্ত করে।

    অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা গুলশানে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

    সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনের দিন গণভোটের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

    ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, ১৭ অক্টোবর ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংবিধানের ওপর জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন ও শিগগিরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জুলাই মাসে সরকারের সিদ্ধান্তে গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে, কয়েকটি বাম ঐক্যধারার রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং সংবিধানের বাইরেও বলে মত প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার ভাষণের পর তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ এবং সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

    উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, তিনি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যা রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরে নিশ্চিত হয়েছে। তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং আদেশ জারি করা সংবিধানের বৈধতা না থাকায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ ও সাংঘর্ষিক।” তিনি আরো যোগ করেন, “গণভোট সম্পূর্ণরূপে সংবিধানবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয়, এর কোনও বাস্তবায়ন হওয়া উচিত না।”

    বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐকমত্য কমিশনের প্রধান একই ব্যক্তি, এটা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। গণভোটের প্রয়োজন নেই, এটা অর্থনৈতিকভাবে অসমর্থ এবং গরিব দেশে এর কোনও কোনোটাই দরকার নেই।“ তিনি বললেন, “এই গণভোট অপরিহার্য নয়, এর কোনও আইনি ভিত্তিও নেই। জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল না। এটির কোনও মূল্য নেই এবং সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের কোন বাস্তবতা নেই।”

    ফিরোজ আরও যোগ করেন, “বর্তমানে জনগণের মনোযোগ নির্বাচন কমিশন ও আগামী ভোটের দিকে, গণভোটে নয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় কোনও মন্তব্য না থাকা উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক দলগুলো এই সংক্রান্ত আলোচনা অগ্রাহ্য করেছেন এবং এখন মূল মনোযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায়।“

    বাসদ মার্কসবাদীর মাসুদ রানা বলেন, “নোট-অফ-ডিসেন্টও এড়িয়ে গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাও উপেক্ষা করা হয়েছে। চারটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটিতে সবাই একমত হলেও, একটিতে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগও থাকছে না। ফলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

    সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “সংবিধানে গণভোটের উপায় না থাকায় এখন এ বিষয়ে কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, গণভোটের দরকার নেই।”

    প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “গণভোট অপ্রয়োজনীয় এবং এর জন্য সংবিধানেও কোনও স্থান নেই। জাতীয় নির্বাচন বাদ দিয়ে অন্য কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাগুলো অগ্রহণযোগ্য, এসবের পক্ষে সংগঠন বা ব্যক্তির কোন সমর্থন নেই।”

    অবশেষে, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, “বর্তমানে সরকার এই বিষয়ে মতামত দিচ্ছে না এবং তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। এটা অগত্যা যে কোনও প্রতিক্রিয়া জারি করার আগে প্রক্রিয়াটি সবার কাছে পরিষ্কার করা দরকার।”

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বছর কৃষকরা সম্ভবত আলু নিয়ে বেশ বিপাকের মুখে পড়েছেন। এক একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গেলে রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যয় করে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাবে। এই পরিস্থিতিতে, চাষিদের জন্য আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া খুব জরুরি, গণভোটের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল যদি মনে করে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্বল এবং ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারে; বা জনগণের ভোটে বিএনপি জয় যেন রুখে দেওয়া যায়; তাহলে তা নিজের জন্য ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করলে উল্টো ফল হতে পারে।

    রাজপথের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টায় লিপ্ত, দয়া করে সেটা বন্ধ করুন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের প্রতি তিনি সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।

    তিনি আরো বলেন, বেশ কিছু দল বর্তমানে বিভিন্ন অজুহাতে জাতীয় নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা নিয়ে সুযোগ নিয়ে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চাকা ধাক্কা দিতে চাইছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, ভোটের মুখোমুখি হলেও দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে।

    তারেক রহমান আলু চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। এ বছর আলুর উৎপাদন ও সংগ্রহে খরচ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা কেজিতে পড়েছে। কিন্তু এখন চাষিরা বাজারে এই আলু বিক্রি করতে পারছেন অর্ধেক দামে বা তেমন লাভ নয়। ফলে, এ বছর কৃষকরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। রাষ্ট্রের জন্য এই আলুর ভাণ্ডার সংগ্রহ ও বিক্রির জন্য বাজেটে বিশাল টাকা ব্যয় করতে হবে, যা চাষিদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন—বিশ্বের মধ্যে সম্ভবত বাংলাদেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি যেন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মৌলিক সংস্কার শুরু করেছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার পিতার কাজের দিক থেকে শুরু করে অগ্রগতি আরো এগিয়ে নিয়ে যান; আমরা সব সময় আপনাকে সহযোগিতা করব।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    সভাপতিত্ব করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এপি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।