Month: November 2025

  • একদিনে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা

    একদিনে স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা

    একদিনের ব্যবধানে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দামে ৪ হাজার ১৮৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দামের ঘোষণা দেয়। সংস্থাটির স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির কারণে এবং দেশের বাজারে চলমান অস্থিরতা বিবেচনায়, এই দাম আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। বাজুস আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সব ধরনের ক্যারেটে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত দাম ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৮ টাকায়। বাজুস আরও জানিয়েছে, রুপার দামেরও সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের হলমার্ক রুপার দাম প্রতি গ্রাম নির্ধারিত হয়েছে ৪৩৬৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৩৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২২৩ টাকা প্রতি গ্রাম। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না করা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই দাম বহাল থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে।

  • নিলামে বিক্রি হয়নি, সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পেতে যাচ্ছে

    নিলামে বিক্রি হয়নি, সাবেক এমপিদের ৩১ বিলাসবহুল গাড়ি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পেতে যাচ্ছে

    বিলুপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের বিদেশ থেকে আমদানি করা ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার (১২ নভেম্বর) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, এই গাড়িগুলোর শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে কিছু প্রশ্ন ওঠে—বিশেষ করে বিলুপ্ত এই সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করেছিলেন কিনা। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে এর ব্যাপারে নির্দেশনা চাওয়া হয়। এর জবাবে জানা যায়, এই গাড়িগুলোর খালাসের জন্য কোনো শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য নয়; বরং আমদানিকারকদের সাধারণ হারে শুল্ক ও কর দিতে হবে। গত বছর ৮ ডিসেম্বর এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, শুল্কমুক্ত এই ৩১টি বিলাসী গাড়ির মোট শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা। এক গাড়ির সর্বোচ্চ শুল্ক পরিশোধের হার ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩০০ টাকা, আর সর্বনিম্ন শুল্ক ৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা।

    এ কারণে, সব শুল্ক ও কর পরিশোধের পরও গাড়িগুলো আমদানিকারকরা খালাস করেনি। এ কারণে, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারা ৯৪(৩) অনুসারে, এই গাড়িগুলো নিলামে তোলা হয়। কিন্তু নিলামকারীরা জোথযুক্ত মূল্য বিড না করায় গাড়িগুলোর বিক্রি সম্ভব হয়নি। কম দাম হওয়ার কারণে মেয়াদকালের মধ্যে বিক্রি সম্ভব হয়নি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর এই বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এসব অতি মূল্যবান গাড়িগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।

    অন্যদিকে, ভবিষ্যতে যদি আমদানিকারকরা নিয়ম মেনে সব শুল্ক ও কর পরিশোধ করে এসব গাড়ি খালাস করতে চান, তাহলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ ও আইন অনুসারে কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এর মাধ্যমে গাড়িগুলো আইনানুগভাবে খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুল্ক ও কর আদায় সম্পন্ন হলে, এই গাড়িগুলো সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে, এই বিলাসবহুল যানবাহনগুলো সরকারি কাজে ব্যবহৃত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

  • সোনার দাম ভরিতে কমলো ৫৪৪৭ টাকায়

    সোনার দাম ভরিতে কমলো ৫৪৪৭ টাকায়

    দেশের বাজারে কয়েক দফা দাম বৃদ্ধির পর হঠাৎ করে সোনার মূল্য আবার লাফিয়ে কমে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে, এবার থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, যা আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে। স্থানীয় বাজারে সোনার চাহিদা ও বিক্রয় পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামের তালিকায় দেখা যায়, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের ভরি এখন ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির বা ঐতিহ্যবাহী গহনা জন্য ভরি মূল্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, এর আগে ১৩ নভেম্বর এই মূল্য ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা (সেরা মান), ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের ওপর সরকার দ্বারা নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মান ও ভরাটের প্রকৃতি অনুযায়ী মজুরির দরে ভিন্নতা আসতে পারে।

    বিরতির পরও রূপার দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির রূপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।

  • ২০২৬ সালে কত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে জানুন

    ২০২৬ সালে কত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে জানুন

    আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে সারাদেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো কত দিন বন্ধ থাকবে, তার বিস্তারিত তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ছুটির দিনগুলো দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য একযোগে কার্যকর হবে।

    আজ রোববার (১৬ নভেম্বর), বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব সাইড সুপারভিশন এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করে এবং সেটি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ২৮ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। প্রথম সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হবে শবে বরাতের দিন, যেখানে ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এছাড়াও, ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এরপর, ১৭ মার্চ শবে কদর উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ, অর্থাৎ পাঁচ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনও রয়েছে। ঈদের দিন, ঈদের আগের দুদিন ও ঈদের পরের দুদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তারপর, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের জন্য ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    চৈত্র সংক্রান্তি বিশেষভাবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার জন্য প্রযোজ্য, ওই দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বাংলা নববর্ষের উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল, মে দিবস ও বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে ১ মে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এছাড়াও, ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ঈদুল আজহার ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকবে, যেখানে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন রয়েছে।

    আশুরা, ব্যাংক হলিডে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), জন্মাষ্টমী, দুর্গাপূজা, বিজয় দিবস, বড়দিন ও আরও কিছু দিবসের জন্য ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এই ছুটির তালিকা কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ব্যাংকে ছুটির দিন ছিল ২৪, ২০২৫ সালে ২৭ দিন, এবং আগামী ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে মোট ২৮ দিন।

  • সরকারের মোট ঋণ ২১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    সরকারের মোট ঋণ ২১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাল

    দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ও অর্থনীতির চাহিদার কারণে সরকারের ঋণের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমবারের মতো, বাংলাদেশের মোট ঋণ ২১ ট্রিলিয়ন টাকা বা ২১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অর্থ বিভাগএর ঋণ বুলেটিনে জানানো হয়, জুনের শেষে এই পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।

    বিশেষ করে, বৈদেশিক ঋণের আনুপাতিক অংশ বাড়ছে। সেটি এখন ৯ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে বৈদেশিক ঋণ আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    অভ্যন্তরীণ ঋণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা, যা এখন বেড়ে ১১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন টাকা দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন টাকা।

    পরিসংখ্যান বলছে, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ঋণের থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। এই ঋণ বৃদ্ধি বা কারণ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, করোনার মহামারির পর উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো থেকে পাওয়া বাজেট সহায়তা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকা মেট্রো রেল, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বড় বড় প্রকল্পে বেশকিছু ব্যয়।

  • জামায়াতে সরকার গিলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা: রফিকুল ইসলাম

    জামায়াতে সরকার গিলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা: রফিকুল ইসলাম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে দেশের কোনও দ্বিমত নেই এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত সবাই সম্মত।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের এই সমাবেশে শুধু বাংলাদেশের মুসল্লিরা নয়, গোটা মুসলিম বিশ্ব থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। সবাই কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু হাদিসে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি একমাত্র শেষ নবী, তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। এই আস্থা এবং বিশ্বাস ইসলামি উম্মাহর অটুট অংশ। যদি বাংলাদেশের মানুষ আমাদের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করে, তবে ইনশাআল্লাহ, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

    এ মহাসম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত আলেমরা যোগ দিয়েছেন, এর মধ্যে সৌদি আরব, ভারত ও পাকিস্তানের আলেমরা রয়েছেন। এটি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন হচ্ছে।সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহামুর্তি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হেফাজত ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেকসহ দেশের শীর্ষ আলেম ও রাজনীতিবিদরা।

    আGastধ বিদেশি অতিথিরা মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, ইন্টাৰন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইব্রাহিম।

    মহাসম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদ এর আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • জনগণ সহজে ভোট দেবে না: মির্জা ফখরুল জামায়াতকে সতর্ক

    জনগণ সহজে ভোট দেবে না: মির্জা ফখরুল জামায়াতকে সতর্ক

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই দেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়, ধর্মের প্রতি উৎসাহী। তারা আল্লাহর নবীকে ভালোবাসে, বিশ্বাস করে, কিন্তু ধর্মান্ধ বা সাম্প্রদায়িক নয়। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের হিসেব করে দেখেছেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোটের পরিমান মাত্র পাঁচ-ছয় শতাংশ। রাতারাতি তারা ৫১ শতাংশ ভোট পাবেন, এ ধরনের কল্পনা একেবারেই অযৌক্তিক। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সহজে আপনারা কোনোভাবেই ভোট দেবে না, কারণ তারা আপনার প্রতি বিশ্বাস করেনা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আন্দোলনে মুসলমানরা অংশ নিয়েছিল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। অধিকাংশ মানুষ মুসলিম বলে তাদের সংগঠন জামায়াতও এই আন্দোলনে অংশ নেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যায় যোগ দিয়েছিল। তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, এই দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে এসেছি, তাই বুঝি এই বিষয়গুলো আমি স্পষ্ট বলতে পারি। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ায় অযৌক্তিক কথা বলেও বাংলাদেশের শেকড় ও ঐতিহ্যকে ভাঙা যাবে না। মির্জা ফখরুল আরো জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় বলেছেন, এই নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, যত দেরি হচ্ছে, দেশের অবস্থা তত খারাপ হচ্ছে; জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনও সরকার সফলতা অর্জন করতে পারে না। জামায়াতের উদ্দেশে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিষ্কার করে জানিয়ে দেয়, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বিএনপি। কেন মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন? বড় বড় বিলবোর্ড ও পোস্টারে অন্য দলের তুলনায় বেশি দেখতে পাচ্ছেন, অথচ তা বিশ্বাস করা হয় না। ভোট ছাড়াই তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে হবে, নির্বাচন হলে তারা পরাস্ত হবে বলেই চায় না। বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, যতক্ষণ না পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছেন, ততদিন আন্দোলন চলবে। যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে গঙ্গা ব্যারাজ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের ফসল রক্ষা করবে বিএনপি। তিনি আরও বলেন, ভারতের গোপনীয়ভাবে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার ফলে পদ্মা ও অন্যান্য নদীর পানি সংরক্ষণে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

  • বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের স্পষ্ট ও বিবেকপ্রসূত অবস্থান প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। শনিবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, অনেক বাংলাদেশি—যাঁরা তাদের মধ্যে আছেন—অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, কারণ তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তাদের এই বিবেকবান বক্তব্য আমাদের গভীর প্রত্যয় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন, এবং বাংলাদেশের মানুষ যাতে নিরাপদে ও ন্যায্যভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে তাদের আন্তরিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ।

    তিনি আরও জানান, বাংলাদেশজুড়ে অনেক নাগরিক উদ্বিগ্ন, কারণ তারা এমন একটি পরিস্থিতির প্রহরায় রয়েছেন যেখানে নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং নিরাপদ হবে। তারা আশা করেন যে, নির্বাচনকালে ভয় বা বাধা ছাড়াই মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। এই উদ্বেগ সাধারণ জনগণের কাছ থেকে এসেছে, যারা শান্তিপূর্ণ, ন্যায্য ও বিশ্বাসযোগ্য এক নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার চাচ্ছেন।

    তারেক রহমান বলেন, এই সময়ে অস্ট্রেলীয় সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করার জন্য যে আহ্বান জানিয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে সংগতিপূর্ণ। এই বার্তা সেই সত্যকেই স্বীকৃতি দেয়, যা দেশের বহু মানুষ কয়েক মাস ধরে উচ্চারিত করে আসছেন—গণতন্ত্র সবসময়ই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন তা অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও সহিংসতা ও ভয়ভীতি মুক্ত থাকে।

    তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এই উদ্বেগগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন। তাঁদের অবদান ও মাতৃভূমির প্রতি অটুট টান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। দেশের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য তাঁদের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে বৈশ্বিক পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করছে।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ পরস্পরকে সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অস্ট্রেলীয় এমপিদের প্রতি আমরা অন্তর থেকে কৃতজ্ঞ। তাদের এই সমর্থন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের অঙ্গীকার একত্রে রক্ষা করা আমাদের যৌথ দায়িত্ব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যখন দেশগুলো একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন শান্তি, ন্যায় এবং অগ্রগতির পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে পারি।’

  • শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে এক কতৃপক্ষ: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে এক কতৃপক্ষ: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশের মধ্যে বর্তমানে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটির এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। একদিকে চলছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে একটি ইচ্ছাকৃত গোষ্ঠী এই অস্থিরতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক হতাশা ও অন্ধকারের মাঝেও দেখা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে সম্ভবত নির্বাচন হবে। সেই কারণে, বিলম্ব না করে সবাইকে একত্রিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের মতো নয় এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে হলে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন জরুরি। তিনি বলেন, এবার যদি একটি বৈধ সরকারের হাতে ক্ষমতা না থাকে, তাহলে দেশের সমস্যার সমাধান হবে না। এক্ষেত্রে, তিনি দেশের জনগণের Vote ফিরিয়ে আনার জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

    অপরদিকে, আগামীকাল সোমবার শোনা হবে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার রায়। বিএনপি নেতারা মনে করেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি মহল দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাচ্ছে। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশজুড়ে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই পরিস্থিতি অপব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি সবাইকে এই চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ করে, মওলানা ভাসানীর জাতীয় উন্নয়নে অবদান স্মরণ করে বিএনপি নেতা বলেন, তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছেন এবং একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার চিন্তা করেছিলেন। তবে, তিনি তার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেখার সুযোগ পাননি। তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রতি বিএনপির একগণ্য দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে তিনি দোয়া করেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর চাচাতো ভাই মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে বলেছিলেন।

    এছাড়াও উল্লেখ্য যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা হবে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার চলছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায়ের তারিখ নির্ধারিত করেছেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    সর্বোপরি, এই রায়ের প্রতি দেশের মানুষ ও পরিবারগুলো গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি এই রায়ের সম্প্রচার করবে, এর পাশাপাশি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় এই ঘোষণা প্রচারিত হবে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও সরাসরি দেখানো হবে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়।

  • রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া যায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত নিরপেক্ষ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া যায়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সরকার ও তার তিন উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। তাঁর মতে, এই ‘ভুল পথনির্দেশ’ এর কারণেই এখনো সম্পূর্ণভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা আটটি দল মেনে নিয়েছে। তাই, তারা ঘোষণা দিয়েছে— যতক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকারভাবে সমান সুযোগ নিশ্চিত না হবে, তখন পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন চলতেই থাকবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানী মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,সব কথা সব সময় প্রকাশ করে বলতে হয় না; প্রয়োজন হলে, আমরা তিন উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করব। আমাদের কাছ কাছে তথ্য ও প্রমাণ আছে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সরকার এখনই সতর্ক না হলে, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। প্রশাসনের অনেকগুলো জায়গায় এখনো দলীয় পক্ষপাত দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই তিন উপদেষ্টার প্রভাব–প্রতিপত্তি ও সরকারের পক্ষপাতিত্ব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে বলে তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

    এদিকে, আট দলীয় জোটের দাবি আদায়ে, নির্বাচনকে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করার জন্য তারা মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না তৈরি হবে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

    জামায়াতের এই নেতা আরও জানান, তাদের মূল তিনটি দাবি এখনো পূরণ হয়নি— এক, নিরপেক্ষ ও সমান সুযোগের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি; দুই, ফ্যাসিবাদের দোষীদের বিচার; তিন, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব ও পক্ষপাতিত্ব রোধ। এই ইস্যুগুলো নিয়ে আট দলের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেবে।

    তারা মনে করে, আন্দোলন বা কর্মসূচি নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বরং, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সক্ষম হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে না।

    এদিকে, নির্বাচনের বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে গণভোট ইস্যুতে তাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। তারা সংবিধান ও মৌলিক সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশনের মূল সংস্কারসমূহের পক্ষে তারা শুরু থেকে অবস্থান নিয়েছে। এসব সংস্কার সহজভাবে ভোটারদের তুলে ধরতে হবে, যাতে সবাই বোঝে কেন এগুলো জরুরি। সরকারের বা নির্বাচন কমিশনের উচিত যেন স্পষ্ট করে বলে দেয়— এই সংস্কারগুলো কেন প্রয়োজন, না হলে জনগণের একটা বড় অংশ বিষয়টি বুঝতে পারে না।