Month: November 2025

  • মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান: ১২৩ বিদেশি, আরও ৪৫ বাংলাদেশি সহ আটক

    মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান: ১২৩ বিদেশি, আরও ৪৫ বাংলাদেশি সহ আটক

    অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্য পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে ১২৩ জন বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানে জোহর অভিবাসন বিভাগ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে দেখা গেছে, একাধিক প্লাস্টিক কারখানায় অসংখ্য বিদেশি শ্রমিককে বৈধ পাস ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ৪৫ জন, মিয়ানমারের ৭১ জন, ভারতের ৪ জন, নেপালের ২ জন এবং পাকিস্তানের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এ সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুমতি না নিয়ে কাজ করা, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়া, এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়াও, এই অবৈধ নিয়োগে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই কারখানার একজন স্থানীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপককেও আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কারখানার ভেতরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কিছু শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করে, আবার কেউ লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইমিগ্রেশন ও নিয়ন্ত্রণে থাকা সদস্যরা পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেয়।

    জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছেন, অবৈধ বিদেশি কর্মীদের আড়াল বা সুরক্ষা দেয়ার সব কৌশলই সরকারী রাডার থেকে छাপা যাবে না। আটককৃত সকল সন্দেহভাজনকে আরও তদন্তের জন্য স্থানীয় সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

    জোহর বিভাগ বারবার জানিয়েছে, কর্মীদের অপব্যবহার রোধ এবং অভিবাসন আইন মান্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মেক্সিকোতে জেন-জিরা আন্দোলনে উত্তাল পরিবেশ

    মেক্সিকোতে জেন-জিরা আন্দোলনে উত্তাল পরিবেশ

    মাদকবিরোধী অভিযানে এক মেয়রের হত্যার ঘটনায় দেশটির জেন-জি আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছে মেক্সিকোতেই। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সহিংসতায় রূপ নেয়া এই আন্দোলনে কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে, প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে।

    প্রথমে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল জেন-জিরা নামে এক গ্রুপের প্রতিবাদ হিসেবে, তবে ধীরে ধীরে সব বয়সী মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করে। বিরোধী দলও এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।

    রাজধানী মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ বলেছেন, প্রথমে এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু কিছু মুখোশধারী দল সহিংসতা শুরু করে। বর্তমানে পুলিশ ও পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছে, এর মধ্যে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশের অভিযানে আহত হয়েছেন ২০ বিক্ষোভকারী।

    প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এই বছরের অক্টোবর থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং এরই মধ্যে তার জনপ্রিয়তা कायम রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল হত্যা ঘটনাসহ কিছু বিতর্কের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে, মিশোয়াকান রাজ্যের উরুয়াপান শহরের মেয়র মাঞ্জো রদ্রিগেজের হত্যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। উনি শহরে মাদক চোরাচালান গ্যাংদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন, তাই তাদের হাতে নিহত হন।

    এ দিকে, রোসা মারিয়া আভিলা নামে এক ৬৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বলেছেন, এই মেয়র ছিলেন সত্যিকারে একজন সাহসী নেতা, যিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাঠাচ্ছিলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় সংকল্প প্রমাণিত। অন্য একজন বিক্ষোভকারী আন্দ্রেস মাসা (২৯) বলেছেন, আমরা আরও নিরাপত্তা চাই।

    বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেসের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা ভবনটির চারপাশে থাকা লোহার বেড়াগুলো ভেঙে ফেলে। এরপর পুরো পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

  • গাজা গণহত্যায় ৬৩টি দেশ জড়িত, সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আইনি সতর্কতা

    গাজা গণহত্যায় ৬৩টি দেশ জড়িত, সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আইনি সতর্কতা

    অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গাজা গণহত্যার জন্য বিশ্ববাসীর চোখে এক নতুন জরুরি সত্য উদ্ঘাটন করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি সহ ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা গাজায় চলমান গণহত্যা ও ব্যাপক নৃশংসতার পেছনে জড়িত। আলবানিজ সতর্ক করে বলেছেন, এসব দেশের সরকার বা কর্মকর্তারা যদি এই গণহত্যার সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এই উদ্বেগ প্রকাশের সময় তিনি বিশেষভাবে বলেন, এই পরিস্থিতিতে কোন অবস্থাতেই চুপ থাকাটা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, গাজায় চলমান মানবাধিকার লংঘন ও গণহত্যার জন্য ৬৩টি রাষ্ট্র দায়ী, যারা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনে সহায়তা করছে। তিনি নিজের সর্বশেষ প্রতিবেদন “গাজা গণহত্যা: একটি যৌথ অপরাধ” এর ব্যাপক বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেছেন, যদিও গাজা ও পশ্চিম তীরে গণহত্যা ও নৃশংসতার প্রমাণ স্পষ্ট, ইউরোপের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলকে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আলবানিজ এও বলেন, ব্রিটিশ সরকারের শ্রোতাদের সামান্য কিছু ভূমিকা রয়েছে, যারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার বলে পরিচিত, কিন্তু বাস্তবে তাদের এই অবস্থান গণহত্যা বন্ধে বা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। তিনি বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের সমর্থনে ব্রিটিশ সরকারের জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করতে হবে। আলবানিজ দৃঢ়ভাবে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই সমর্থন গাজার মানুষকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের কাছে নানা প্রকার আবরণ বা সমর্থন দিচ্ছে, যা গণহত্যা ঠেকাতে এক বড় ধরনের অন্তরায়। বিশেষ করে জার্মানি ও ইতালির ভূমিকা নিয়ে তিনি দ.Crossত্য দিয়েছেন, এজন্য তারা হয়তো geçmişের ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। আলবানিজ বলেন, “গণহত্যা প্রতিরোধে এই দুই দেশের দায়িত্ব ব্যাপক। বিশেষ করে জার্মানির ইতিহাসের কারণে তাদের আরো বেশি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা আরও একবার ইতিহাসের ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মানবাধিকার ও গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্তের জন্য আলবানিজের ওপর জুলাই মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং তাঁর সম্পদ ব্যবস্থায় বাধার মুখে। ২৮ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদর দপ্তরে সরাসরি যোগ দিতে পারছিলেন না, তবে তিনি কেপটাউন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদান করেন। আলবানিজ বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা এবং সীমাবদ্ধতা সত্যিই দুঃখজনক। একজন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ও প্রতিবেদন প্রকাশের কাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অন্যান্য জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে থাকা তাদের কূটনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মোকদ্দমা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের নৃশংসতা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর ও তার ডেপুটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা। আলবানিজ এই সিদ্ধান্তকে ‘মাফিয়া-ধাঁচের’ অপপ্রচারে বলে সমালোচনা করেছেন, এবং বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আইসিসির তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, “তারা তদন্ত চালিয়ে যেতে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে এবং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে পারবেন; এই ব্যবস্থা প্রতিরোধের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে, আমাদের এটুকু জানা দরকার যে, এই বিষয়ে আমাদের অনেক অনেক কাজ ও ত্যাগের প্রয়োজন রয়েছে। এই দুর্দশার অবসান ঘটানোর জন্য, আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।” আন্তর্জতিক পরিস্থিতি কতটা সংকটাপন্ন, তা স্পষ্ট করে দিতে আলবানিজ আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে গণহত্যা ও মানবাধিকার লংঘন রোধ সম্ভব হয়।

  • মদিনা যাওয়ার পথে দুর্যোগে ৪২ ভারতীয় মুসল্লি নিহত

    মদিনা যাওয়ার পথে দুর্যোগে ৪২ ভারতীয় মুসল্লি নিহত

    সৌদি আরবে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে একটি ডিজেল ট্যাংকারের সাথে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ৪২ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। সৌদি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় নিহত ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন নারী ও ১১ জন শিশু।

    উপলব্ধ সংবাদ অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা রোববার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মক্কা-মদিনা রুটের মুহরাস বা মুফরিহাত এলাকায় ঘটে। মুহরাস থেকে মদিনার দূরত্ত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। অভিযুক্ত বাসের অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

    তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “মক্কা-মদীনা উপত্যকায় এই সড়ক দুর্ঘটনায় তেলেঙ্গানার ৪২ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় আমি গভীর শোকাহত। আমি রাজ্যপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা নিহতের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে, আমরা সৌদিতে যে কোনো সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।”

    এদিকে, হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এএনআই সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বাসে আগুন ধরে যায়। আমি সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন আবু মতিন জর্জের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নিহত ও জখম যাত্রীদের নাম-পরিচয় জানার জন্য আমরা হায়দরাবাদের দুটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। মরদেহ ফিরিয়ে আনা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি।”

  • ইসরায়েলি বাহিনী চালিয়েছে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি

    ইসরায়েলি বাহিনী চালিয়েছে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি

    লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সৈন্যরা। রোববার এক বিবৃতিতে শান্তিরক্ষীরা জানায়, ভারী মেশিনগানের গুলিটি তাদের বেশ কাছ থেকে, মাত্র ৫ মিটার দূরে আঘাত হেনেছে। আল জানিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলদার বাহিনী এক বছর ধরে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইউনিফিলের সূত্রে জানানো হয়, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের কাছ থেকে মেরকাভা ট্যাঙ্ক দিয়ে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি ছোড়া হয়। ভারী মেশিনগানের গুলি তাদের খুব কাছ থেকে আঘাত হানে, যার দূরত্ব মাত্র ৫.৫ গজের মতো। ইউএনফিল উল্লেখ করে, ওই ট্যাংকটি ইসরায়েলি অবস্থানের ভেতরে চলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পরে শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হয়। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের সৈন্যরা শান্তিরক্ষীদের টহলদলকে সন্দেহভাজন মনে করে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত করতে চান যে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের চলমান লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয়কালে উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা, কারণ এসব কর্মকাণ্ড উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। গত সেপ্টেম্বরেও ইউনিফিল জানিয়েছিল, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো দক্ষিণ লেবাননের শান্তিরক্ষীদের কাছে চারটি গ্রেনেড ফেলে; যার মধ্যে একটি এর কাছাকাছি অবস্থান সম্পন্ন একটি জাতিসংঘের কর্মী ও যানবাহনের কাছে পড়েছিল। ইউনিফিলের দাবি, এই গুলিবর্ষণগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব ১৭০১ এর গুরুতর লঙ্ঘন। বিবৃতিতে তারা আবারও ইসরায়েলি বাহিনীকে শান্তিরক্ষীদের ওপর বা কাছাকাছি যেকোনো আক্রমণমূলক আচরণ ও হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানায়। উল্লেখ্য, লেবাননের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আক্রমণে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, এর বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া, একাধিক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়েছে।

  • আ’লীগের নিজস্ব লকডাউন: হেলালের মন্তব্য

    আ’লীগের নিজস্ব লকডাউন: হেলালের মন্তব্য

    আওয়ামী লীগ এখন নিজেদেরই লকডাউন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ঘোষণা করা লকডাউন কর্মসূচি এখন ব্যর্থ হয়েছে, কারণ তারা নিজেই কলকাতা ও অন্যান্য বিদেশে লকডাউন অবস্থায় অবস্থান করছে। রোববার তেরখাদার সাচিয়াদাহ বাজারে এক নির্বাচনী সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। হেলাল বলেন, “ফ্যাসিস্ট মাফিয়া সরকার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পিছু হটছে এবং এখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে থেকে তারা অকারণভাবে জনগণের ওপর ‘লকডাউন’ ঘোষণা করছে, কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেই বিদেশে আটকে রয়েছে।”

    তিনি আরো অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে এখন জামায়াতও কৌশল পরিবর্তন করছে। হেলাল বলেন, “জামায়াত জোড় করে ভয় দেখানোর জন্য নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, কারণ তারা জানে হার মানতে হবে। তবে জনগণ এখন ভোটের দিকে মুখি, কোনো প্রকার বাধা এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।”

    সাচিয়াদাহ বাজারে রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করতে থাকা বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে হেলাল রাস্তার উপর রাখা চেয়ার-টেবিল সরিয়ে জনগণের অসুবিধা কমানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি কখনো জনসমাগমের উদ্দেশ্যে রাস্তা বন্ধ করে না, সব সময় জনগণের সুবিধার জন্য কাজ করে।”

    এছাড়াও, তিনি কাটেঙ্গা বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোনেন, রাস্তা উন্নয়ন করলে শতশত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিষয়ে হেলাল জানান, উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থেও এই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “যদি বিএনপি সরকার গঠনে আসতে পারে, তাহলে এখানে বহুতল সুপার মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হবে।”

    উপনিবেশের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ‘একটি বাড়ি একটি গাছ’ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, খায়রুল মোল্লা, তেরখাদা উপজেলা বিএনপি’র শাখা নেতা চৌধুরী কাওছার আলী, কামরান হাসান, বলু চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, নান্টা মোল্লা প্রমুখ।

    এছাড়াও, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আতাউর রহমান রনু, যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক গুলাম মোস্তফা তুহিন, আজিজুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, কালাম লস্কর, এমদাদ, জাহিদ, জাহাঙ্গীর লস্কর, মফিজুল ইসলাম, সোহাগ মুন্সি, টগর, দিন ইসলাম, শফিক, জাকির, লিমন সহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • ঘরে ঘরে ভালোবাসা দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রত্যাশা

    ঘরে ঘরে ভালোবাসা দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রত্যাশা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনগণকে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে মানুষকে ঘরে ঘরে পৌঁছে তাদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময় অনেক বিভ্রান্তি, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও একটি শুভ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কিছু গোষ্ঠী ও মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, যা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সবাইকে আরও দায়িত্বশীলভাবে ভোটের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সমাজের সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আঙুল তুলে একমত হয়ে রাজনীতির বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে হবে।

  • ঝিনাইদহে প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

    ঝিনাইদহে জমি নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে রবিকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শহরের আদর্শপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম সদর উপজেলার কালা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার এর ছেলে।

    ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, প্রবাসী মাহাবুব হত্যা মামলার মূল আসামি রবিকে সন্ধানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদর্শপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তখন তিনি পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবার সকালে কালা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কম্বোডিয়া প্রবাসী মাহাবুব গুরুতর কুপিয়ে আহত হন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার রাতে সদর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • খুলনায় শেখ হাসিনার ছবি ঝুলিয়ে জুতা নিক্ষেপ

    খুলনায় শেখ হাসিনার ছবি ঝুলিয়ে জুতা নিক্ষেপ

    জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে খুলনায় ব্যাপক প্রতিবাদের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ওই সময়, ছাত্রজনতা একটি জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করে এবং শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা ছুড়ে মারেন। এই ঘটনা ঘটার সময় অনেকে শেখ হাসিনার ছবি পদদলিত করেন।

    ১৭ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে, খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে ছাত্র সমাজের একটি দল জড়ো হয়। এই মামলার মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। রায় ঘোষণার সময়ে ছাত্ররা বিভিন্ন শ্লোগান দেন এবং রায়কে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং তাঁর ছবিকে পদদলিত করেন।

    খুলনার এক অন্যতম নেতা হামিম রাহাত বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট খুনী হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।’ তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রায়ের বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    অন্যদিকে, রায়কে কেন্দ্র করে খুলনায় পুরো নগরীতে কঠোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে।

    সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ‘শিববাড়ি মোড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আমরা চেকপোস্ট স্থাপন করেছি। সাদা পোশাকেও পুলিশ, র‌্যাব এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছেন।’ এই কড়া নিরাপত্তা措施 শহরজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে।

  • কালিগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    কালিগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর মুচিপাড়া এলাকায়। নিহত ছাত্রের নাম সায়মন ইসলাম তুর্য (১৬), তিনি ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মোমরেজপুর গ্রামের হতভাগ্য পুলিশ সদস্য রবিুল ইসলাম রবির ছেলে। তুর্য মোজাহার মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের diligent দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সান্ত্বনা শেষ করার জন্য তুর্য তার মামার মোটরসাইকেল নিয়ে সহপাঠী সিয়াম (১৬), যিনি পূর্ব নারায়ণপুরের জাহিদুর রহমানের ছেলে, সাথে নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় ভাড়াশিমলা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই তারা মুচিপাড়া এলাকার রাস্তার ওপর এসে পৌঁছালে, অন্য একটি মোটরসাইকেলের সাথে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলাই তুর্য মারা যায়। এ সময় তার সাথে থাকা সিয়াম এবং অন্য দুটি আরোহী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।