Month: November 2025

  • বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভদ্রা বসু মারা গেছেন

    বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভদ্রা বসু মারা গেছেন

    অভিনেত্রী ও নির্মাতা ভদ্রা বসু, যিনি পার্শ্ব বাংলার নাট্য থেকে বড় পর্দা পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা দেখিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, আর নেই। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৫ বছর।

    ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম recente কিছুদিন ধরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই প্রখ্যাত অভিনেত্রী। শুরুতে তার গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়লেও, অতিরিক্ত রক্তচাপ এবং হৃদরোগের কারণে তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকেরা ওষুধের মাধ্যমে সমস্যা সামলানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

    কিন্তু পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠে যখন হঠাৎ করে তিনি ঘরে পড়ে যান এবং মাথায় আঘাত পান। তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এর কিছু পরে তাকে কলকাতার বিখ্যাত এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

    সেখানে তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সেই সময় তার কিডনির সমস্যাও দেখা দেয়, যা চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। অবশেষে শুক্রবার রাতে তিনি চলে যান।

    ভদ্রা বসু ছিলেন প্রখ্যাত নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা অসিত বসুর সহধর্মিণী। মঞ্চ ও ক্যামেরার সামনে তাঁর অভিনয় ছিল অসামান্য। সম্প্রতি তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছিলেন। সেগুলির মধ্যে সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বেলা’ ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল।

  • অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    ঢাকার একটি আদালত মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। मामला হলো, পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, হুমকি, ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এই গ্রেপ্তারি নির্দেশ দেয়া হয়। মেহজাবীন ও তার ভাই আদালতে উপস্থিত না থাকায়, ১০ নভেম্বর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আফরোজা তানিয়া তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে, তাদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করা হয়। পুলিশ ও মামলার সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই মামলার বাদী তাদের পারিবারিক ব্যবসায় অংশীদার করার নামে প্রচুর অর্থ সরিয়ে নেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয় ও প্রলোভনের মাধ্যমে এই চুক্তি হয়, যেখানে তিনি নগদ অর্থ ও বিকাশে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। কিন্তু পরে দেখানো হয় যে, তারা অর্থের উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেননি। বাদী বারবার টাকা ফেরত চাওয়া শুরু করলে, মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘ সময় এড়িয়ে যায়। ঘটনা ঘটে ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে, যখন বাদী টাকা চাইতে গেলে, তাদের কথায় প্রকাশ পায় অশোভন ভাষা ও ভয়ভীতি। বিষয়টি পুলিশ ও আদালতের নজরে এলে, মামলার এজাহার হয় যে, তারা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই জন্য, মামলাটি দায়ের করেন নিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমিরুল ইসলাম। এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অপেক্ষা করছে আদালত।

  • মেহজাবীন মুখ খুলেছেন প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি মামলায়

    মেহজাবীন মুখ খুলেছেন প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি মামলায়

    জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী পরে তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকার এক আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই মামলা মূলত অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি ও ভীতিপ্রদানের অভিযোগে দায়ের করা হয়। বিচারক আফরোজা তানিয়া এ বিষয়ে এই আদেশ দেন।

    অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানোর একটি কুশীলবের কাজ বলে মনে করেন।

    এক পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, ‘আমি মেহজাবীন চৌধুরী। সম্প্রতি একটি ভুয়া ও মিথ্যা মামলার সংবাদ দেখে আমি খুবই বিস্মিত। আমি নিশ্চিত, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছুর অপপ্রচেষ্টা। আমি কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত নই, যেখানে আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে। যারা এই ভিত্তিহীন মামলাটি করেছেন, আমি তাদের চিনি না এবং আমি জানি না তারা কারা। আমার পরিচিতরা জানেন, আমি কেবলমাত্র আমার অভিনয় ও পেশাগত দায়িত্বে বিশ্বাসী।

    পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি দেশের আইন ও নিয়ম মেনে চলি। আমার আইনজীবী ইতোমধ্যে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন, যাতে এই ধরনের গুজব বন্ধ হয় এবং ভবিষ্যতে কেউ এই ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাতে না পারে।’

    মেহজাবীন আরও বলেন, ‘একজন শিল্পী ও নাগরিক হিসেবে আমি সবসময় দেশের আইন, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে এসেছি। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে আমি মিডিয়ায় কাজ করে থাকি, যা আমার দর্শক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দ্বারা স্বীকৃত।’

    সবশেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে অনুরোধ জানান, ‘ভিত্তিহীন তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করবেন না। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের বলছি—আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থা আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা। বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন, সত্যের পাশে থাকুন।’

  • অবশেষে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন

    অবশেষে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন

    বিগত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল মেহজাবীন চৌধুরী। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখতে দাবি করে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় মেহজাবীনচৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরী আজ (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর সামনে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত উভয়কে জামিনের আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী খোরশেদ আলম নিশ্চিত করেছেন, বিষয়টি বিচারকের খাস কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। মামলা সূত্র জানায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মামলার বাদীর সঙ্গে পরিচিত। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন ও তার ভাইয়ের পক্ষ থেকে নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে তাদের রেখে দেওয়ার নাম করে নগদ অর্থ ও বিকাশের মাধ্যমে একের পর এক টাকা গ্রহণ করে। টাকা নেওয়ার পর থেকে তারা বেশ কিছু দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু না করায় বাদী বারবার টাকা ফেরত চাওয়ায় তারা বারবার এড়ানো বা কালক্ষেপণ করে। শেষ পর্যন্ত, ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে টাকা ফেরতের জন্য গেলে, ওই দিন তারা জীবননাশের হুমকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে, তার ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনার পর বাদী ভাটারা থানায় অভিযোগ করলে, পুলিশ আদালতে মামলার জন্য নির্দেশ দেয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী আমিরুল ইসলাম নিজে এই ঘটনায় জড়িত হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক এক আইনগত মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ও মেহজাবীন চৌধুরী তাঁর প্রতি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে আদালত মামলার শুনানি ও পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

  • শাওনের দাবি, বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার দলকে ‘রাজাকার’ আখ্যা

    শাওনের দাবি, বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার দলকে ‘রাজাকার’ আখ্যা

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই মাসে অগাস্টের অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের দিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আরও দুটি বুলডোজার এনে হতদরিদ্র ও রাজনৈতিক অধিকারবঞ্চিত মানুষের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকে করে দুটি বুলডোজার নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ওই দলের কিছু তরুণ। তাদের সঙ্গে হাতে মাইক নিয়ে উপস্থিত ছিল কয়েকজন সক্রিয় কর্মী, যারা শ্লোগান দিচ্ছিলেন। তারা জানিয়েছে, ‘রেড জুনির’ নামে এক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বুলডোজার নিয়ে আসা হয়েছে।

    অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘৩২ নম্বরের সেই বুলডোজার নিয়ে যাওয়া দলকে আমি রাজাকার বলছি। এই ধানমন্ডির বাড়িকে নিয়ে যারা এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের অপসরল অংশ। বারবার ভেঙে, আগুন দিয়ে এই বাড়িকে পুড়িয়ে দেওয়ার পরেও আমাদের বুকের গভীরে সেই স্মৃতি অক্ষত রয়েছে, যা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। এই বাড়ির প্রতিটা ধূলিকণাই বাংলাদেশের সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে। রাজাকার বাহিনী, তুমি কি কখনও এর মানে বুঝবে?’

    শাওন এই পোস্টে হ্যাশট্যগ হিসেবে যোগ করেছেন #তুইথরাজাকার এবং #ধানমন্ডি৩২।

    এর আগে, ২০২২ সালের অাগষ্টে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করার পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার ছয় মাস পরে, ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, ‘বুলডোজার অভিযান’ নামে এক কর্মসূচির মাধ্যমে ঐ বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নেন, যারা বাড়ির আঙিনায় জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। রাতের অন্ধকারে ক্রেন আর এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়িটি ভাঙার কাজ শুরু হয়, সময় দিয়ে অনুযায়ী ঐ তিন তলা বাড়ির বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হয়।

    একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হলেও, সাধারণ ছেলেমেয়েরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়ায় তারা দ্রুত সেখান থেকে সরে যায়। মধ্যরাতে মাইক থেকে গান বাজানো হয় এবং কয়েকজন নাচতেও দেখা যায়। পরবর্তীতে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়, তবে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বচক্ষে অবস্থিত ছিল সেই সড়কে।

  • সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড, ৫৪ বলেই জিতে গেছে বাংলাদেশ

    সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড, ৫৪ বলেই জিতে গেছে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল হাবিবুর রহমান সোহানের নামে। সেই রেকর্ড এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও ভাঙলেন এই দ্রুতগতির ব্যাটার। কাতারে চলমান এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ এ দলের প্রথম মাঠের ম্যাচে হংকং, চায়না বিরোধী খেলায় মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করে তিনি দুর্দান্ত সুবিশাল ইনিংসের সূচনা করেন। এরপর দ্রুতগতিতে ঝড় তুলেন, শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে সমাপ্ত করেন তিন অঙ্কের মারকুটে ইনিংস। এটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলের মধ্যে প্রথম তিন অংকের মাইলফলক, যা স্বার্থকভাবে রেকর্ডের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

  • আসিফের মন্তব্যের জন্য বাফুফের কাছে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ

    আসিফের মন্তব্যের জন্য বাফুফের কাছে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সংগীত শিল্পী আসিফ আকবরের এক সংজ্ঞায়িত মন্তব্যের কারণে সম্প্রতি দেশের ক্রীড়াঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে رسمیভাবে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ের ব্যাখ্যা চাইেন।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিসিবি তাদের আনুষ্ঠানিক উত্তর দিয়েছে। সেই চিঠিতে, যা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষরে লেখা, আসিফের বক্তব্যের বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়, আসিফ আকবর বিসিবির সদস্য নয়, বরং জেলা প্রতিনিধিরূপে ওই মন্তব্য করেছিলেন।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে উল্লিখিত বক্তব্যটি আসিফ জেলা প্রতিনিধির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দিয়েছেন, বিসিবির 공식 অবস্থান নয়। বিসিবি সভাপতি মনে করেন, আসিফ তার জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও মাঠ ব্যবহারে দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে ব্যক্তিগত ক্ষোভে এই মন্তব্যটি করেন।

    বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেন, এই বক্তব্যটি আসিফের ব্যক্তিগত মতামত, যা কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের রায় বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যদি এই বক্তব্যের কারণে ফুটবলপ্রেমী বা সাধারণ দর্শকদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা আঘাত সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান।

    বিসিবি সভাপতি যদিও দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তবুও আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত মন্তব্যের কারণে ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ থাকায়, রাতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে সোনালী অতীত ক্লাবে যেখানে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    চিঠির শেষে, বিসিবি সভাপতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের অবদান স্বীকার করেন এবং ফুটবলের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খেলাধুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, পাশাপাশি এটি ঐক্য ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। সে কারণেই, বিসিবি সব ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

    উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ আকবর মন্তব্য করেছিলেন যে, ফুটবলের আধিপত্যের ফলে দেশের স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফুটবলাররা উইকেট ভেঙে ফেলছেন এবং ক্রিকেটকে আভিজাত্যের খেলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাঠের অধিকার নিয়ে মারামারির জন্য প্রস্তুত থাকছেন। তাঁর এই অসাধু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সাবেক ফুটবলার থেকে শুরু করে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।

  • ৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনে ইডেনে লজ্জাজনক হার

    ৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনে ইডেনে লজ্জাজনক হার

    ইডেন গার্ডেনসে যেন এক উলটপুরাণের মতোই পুরো ম্যাচের পরিণতি হয়ে গেল মাত্র তিন দিনে। স্বাভাবিক লক্ষ্য ছিল ১২৪ রান, তবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি। দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা একাদশের স্পিন-বোলিং আঘাতে ভারতের চেহারা বদলে দিল, মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেল। এই জয়ে তারা দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

  • ‘আমি স্বৈরাচারী নই’— জ্যোতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিলেন অধিনায়ক

    ‘আমি স্বৈরাচারী নই’— জ্যোতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দিলেন অধিনায়ক

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি নানা বিতর্কের মধ্যেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন। বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে জুনিয়র ক্রিকেটারদের মারধর ও সিনিয়ররা ধ্রুবকভাবে দলের ক্যারিয়ার নষ্টের অপবাদ দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে। এসব গুঞ্জন ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে দলের নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা জোরদার হয়।

    সম্প্রতি শিনবোন ইনজুরির রিহ্যাব নিচ্ছেন জ্যোতি। তখন তিনি বিকেএসপি-তে বসে ক্রিকবাজের সাথে এক খোলামেলা সাক্ষাৎকার দেন, যেখানে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন। ড্রেসিং রুমে ‘স্বৈরশাসন’ চালানোর অভিযোগ থেকে শুরু করে সিনিয়রদের সাথে সম্পর্ক, এমনকি ভারতোর বিপক্ষে সিরিজের আগের দলের পরিবেশ—সবকিছু তিনি পরিষ্কার ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। নিচে মূল কথোপকথনের শেয়ার করা হলো:

    জ্যোতি বলেন, আমি কোনোভাবেই স্বৈরাচারী নয়। ড্রেসিং রুমে সবাই নিজের স্থান আছে, আমি নিজেও। অধিনায়ক হিসেবে সম্মান পাই, তবে সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য সমান। কাদের এ কথা বলছেন বুঝতে পারছি, কারা এর পেছনে রয়েছে তা স্পষ্ট। দীর্ঘ দিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছি, সবাই আমার পছন্দ করবে এটা ভুল; তবে আমি জানি আমি দলের জন্য কি করছি।

    জাহানারা রুমানা-প্রেরণার অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোতি জানান, এই নিয়ে বেশ সময় থেকে শুনছি। আমি কি নির্বাচক? আমি ২০১৫ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলছি। কখনো ড্রেসিং রুমে ‘সিন্ডিকেট’ দেখিনি। ২০২১ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর ২০২৩ অস্ট্রেলিয়া সিরিজ পর্যন্ত আমি নির্বাচনী অধিবেশনে ছিলাম না। আমি এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা জানতাম না কে দল থেকে খেলবে, বোর্ডই ঘোষণা করত। সত্য জানার জন্য বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

    নিউজিল্যান্ডে হাসান তিলকরত্নের কোচ থাকাকালীন এক ম্যাচে রুমানা আপু, সালমা আপু এবং হয়তো জাহানারা আপু খেলেননি। সালমা আপু একবার বলেছিলেন, “তুমি আমাদের বসিয়ে দিয়েছ।” তখন আমি বলেছিলাম, “আমি একদমই এখনই জানছি টিমের একাদশ।” این কথোপকথনের মধ্যে ছিলো হাসি-ঠাট্টা ও অনেক কিছু।

    অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতি সাফ জানান, জুনিয়র ক্রিকেটারদের গালিগালাজ বা চড় মারার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি কেবল একজনের অভিযোগ, যা তিনি নিজে ব্যক্ত করেছেন। ম্যাচের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সবাই ‘কেন ধরলে না?’ বা ‘ভালো কর’ ইত্যাদি বলে থাকেন, তবে আমি কাউকে এমনকিছু গালি দিই না। আমার মানসিক সমস্যা বা মানসিক রোগ আছে বলে কোনও ভিত্তি নেই।

    জাহানারা আলমের অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোতি উল্লেখ করেন, তিনি শুনেছেন যে অস্ট্রেলিয়ায় কেউ ফোন করে বলেছে, “জোতি আপু মারছে”—এমন ভিত্তিহীন তথ্য। কোচ বা ম্যানেজমেন্টকে জানালে সত্যটুকু জানা যাবে। প্রমাণের অভাবে এসব অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

    শ্রীলঙ্কায় মারুফার সাথে যা ঘটেছে, সেটাকেও তিনি উল্টোভাবে দেখানোর দোহাই দেন। বলেন, মারুফা দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার, কিন্তু পাকিস্তান সিরিজে বেশ কিছু ভুলে হাই ক্যাচে সমস্যায় পড়েন। অতিরিক্ত অনুশীলনে বারবার বলেছিলেন, “বাবা, ক্যাচিং ঠিক কর।” ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সে ক্যাচ ফেললে হাতেও ব্যথা হয়ে যায়। মারুফার ডান হাত তার বোলিং হাত, তাই হাতের চোট এ ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করেছিল। ম্যাচ শেষে তিনি মারুফাকে জড়িয়ে ধরেন, কারণ সে কষ্ট পেয়েছিল। ক্যাচে ভুলের জন্য সে কাঁদছিল, তবে আমি তার সাহস বাড়াতে ও সমর্থন দিতে গিয়েছিলাম।

  • তামিম ইকবাল বিপিএল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করলেন

    তামিম ইকবাল বিপিএল থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করলেন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও, শেষ মুহূর্তে সরকারী হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তামিম ইকবাল উপস্থিত থাকেননি। এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে দেশের এই তারকা ওপেনারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশেষ করে বিপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে সব ধরণের ধোঁয়াশা কাটিয়ে, নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি এবার পিএিল খেলবেন না। ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তামিম জানান, তিনি এই মৌসুমে বিপিএলে অংশ নিচ্ছেন না এবং ড্রাফট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছেন। ২০১২ সালে বিপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে সব বছরেই মাঠে দেখা গেছে তাকে। সর্বশেষ দুটি মৌসুমে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক হিসেবে দলের সাথে ফাইনালে যাওয়া ও শিরোপা জেতার কৃতিত্ব ছিল তার। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। বোর্ডের নির্বাচনের উত্তাপ, ফিসনেট ইস্যু এবং বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির অবর্তমানে তার বিপিএলে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই আসরে তাকে দেখা যাবে না।