Month: November 2025

  • আইরিশদের ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে শীর্ষে বাংলাদেশ

    আইরিশদের ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে শীর্ষে বাংলাদেশ

    সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাট ও বলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আয়ারল্যান্ডকে ইনিংস ও ৪৭ রানের বড় ব্যবধানে পরাস্ত করেছে। গত চতুর্থ দিনে আইরিশরা ভালো লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত হার মানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তারা প্রথম দিন শেষ করেন ৫ উইকেটে ৮৬ রান করে। এরপর তৃতীয় দিন তারা ২৫৪ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়। এর ফলে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা। এটি বাংলাদেশের জন্য চতুর্থবারের মত সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ইনিংস ব্যবধানে জেতার ঘটনা।

    বুধবার বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩০১ রানের লিড নিয়ে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। এর পর তাদের বলিং দল আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। দিনের শেষের দিকে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার আইরিশরা কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। শুরুতে কয়েকটি বাউন্ডারি করেন, তবে বেশি দূর এগোতে পারেননি। এর মধ্যে তাইজুল ইসলাম (৩-৮৪) প্রথম আঘাত করেন, ম্যাথিউ হামফ্রিজ (৩৭) এবং অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নি (৩৮) জুটি গড়ে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর নাহিদ রানা (২-৪০) বালবার্নির উইকেট তুলে ফেলেন। পরবর্তীতে হাসান মুরাদ (৪-৬০) ম্যাকব্রাইনকে এলবিডব্লিউ করেন। ভাঙা যায় আয়ারল্যান্ডের শেষ ভরসা, শেষদিকে জর্ডান নিল (৩৬) ও ব্যারি ম্যাককার্থি (২৫) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও, বাংলাদেশ তার নির্মম বলের আঘাতে দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের ইনিংস ভেঙে দেয়।

    ম্যাচের পুরো সময়টাই বাংলাদেশের দাপট ছিল। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৮৬ রানে দক্ষিণ আয়ারল্যান্ডকে প্রতিরোধের সুযোগ দেয়। জবাবে টাইগাররা ৫৮৭/৮ ঘোষণা করে, যেখানে মাহমুদুল হাসানের ১৭১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের ১০০ রানের সেঞ্চুরি ছিল উল্লেখযোগ্য। এর জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান জয়। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৯ নভেম্বর, মিরপুরে।

  • কপিলমুনি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনীতে ধানের শীষ প্রার্থী বাপ্পী

    কপিলমুনি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনীতে ধানের শীষ প্রার্থী বাপ্পী

    খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও জেলা বিএনপি’ারের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেছেন, খেলাধুলার চর্চা মূলত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম পথ। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের তরুণ সমাজকে মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে, যা দ্বারা শরীরি ও মানসিকভাবে সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব। শুক্রবার বিকেলে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিত কপিলমুনি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের আয়োজনে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ক্লাবের সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, জেলা বিএনপি’র সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু, ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবুল বাসার, জেলা বিএনপি’র সদস্য ওয়াহিদ হালিম ইমরান, পাইকগাছা পৌর বিএনপি’র সভাপতি আসলাম পারভেজ এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সহ-সভাপতি এম ডি বায়েজিত হোসেন বাচ্চু।

  • বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে নারীর কাবাডি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

    বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে নারীর কাবাডি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা

    জাতীয় খেলা কাবাডি। বাংলাদেশ এবার আয়োজন করছে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ। এই আসরটি হবে আগামী সোমবার মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে, যা বাংলাদেশের কাবাডি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আজ শনিবার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন তাদের দল ও প্রস্তুতি সব কিছু ঘোষণা করে।

    দলের ঘোষণা সময় অধিনায়ক, কোচ কেউ উপস্থিত ছিলেন না, ফলে মিডিয়া সরাসরি তাদের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেনি। তবে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ জানান, ‘কাবাডি দলের জন্য খেলোয়াড়রা বিকেএসপিতে অনুশীলন করছে, এজন্য কেউ সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেনি।’

    নির্মীত আয়োজনের অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন হবে। এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি বেশ ভিন্ন বা দারুণ আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। তিনি বললেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে যমুনা নদীর পাড়ে বিকেলে ১১ দলের অধিনায়করা উপস্থিত থেকে ট্রফি উন্মোচন করবেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম নারী কাবাডি বিশ্বকাপ, যা স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক করে রাখতে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

    অ্যাকর্ষণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনার দর্শকদের আগমনের প্রত্যাশা, যা করোনা পরিস্থিতির কারণে বাস্তবে ঘটতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে, আয়োজকরা জানিয়েছে, ১৪ দেশের অংশগ্রহণের কথা ছিল, তবে তার মধ্যে জাপান, কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনা আর আসছে না। পরিবর্তে, স্ট্যান্ডবাই হিসেবে পাকিস্তান ও পোল্যান্ড থাকবে; পাকিস্তান আসবে না, তবে পোল্যান্ড টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ সব ধরনের সুবিধা প্রদান করবে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারেন।

    বাংলাদেশ দীর্ঘ বছর ধরে আন্তর্জাতিক কাবাডি প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে এবং এই খেলায় বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছু সমালোচনা রয়েছে, বিশেষ করে আম্পায়ারিং নিয়ে। সাধারণ সম্পাদক জানান, ‘আমাদের দলের ১২ জন আন্তর্জাতিক আম্পায়ারসহ কিছু দেশি আম্পায়ার থাকবেন, ভারতের আম্পায়ারিং মানের অনুকূল থাকছে।’

    বাংলাদেশের কাবাডির বিশ্ব র‌্যাংকিং এখন পাঁচে, এবং সেমিফাইনালে উঠলেই ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া যায়। তাই, এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পদকের জন্য প্রত্যাশা অনেক উচ্চ। সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামীকাল গ্রুপিং অনুষ্ঠানে আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আমি মনে করি, ইরানে এশিয়ান নারী কাবাডিতে অর্জিত পদক আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বকাপে আমাদের প্রতিযোগিতা সফল হবে বলে আশাবাদী।’

    তাই এই গুরুত্বপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের দল হলো: শ্রাবণী মল্লিক, বৃষ্টি বিশ্বাস, রুপালী আক্তার, স্মৃতি আক্তার, রেখা আক্তারী, মেবি চাকমা, রুপালী আক্তার (জুনিয়র), আঞ্জুয়ারা রাত্রি, সুচরিতা চাকমা, খাদিজা খাতুন, লোবা আক্তার, ইয়াসমিন খানম, ইসরাত জাহান ও তাহরিম।

    দলের কোচ হিসেবে থাকছেন শাহনাজ পারভীন মালেকা ও আরদুজ্জামান। এই দল ও কোচিং স্টাফের উদ্দেশ্য হলো, এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের কাবাডি দলের পারফরম্যান্স উচ্চ মানের, এবং তারা পদকের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছে।

  • সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জিতে গেলো হারিয়েও নজরকাড়া পারফরম্যান্স

    সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জিতে গেলো হারিয়েও নজরকাড়া পারফরম্যান্স

    লিস্ট এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আগে থেকেই ছিল হাবিবুর রহমান সোহানের নামে। এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও তিনি দেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করার কীর্তি নতুন করে গড়লেন।

    কাতারে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের এ দল হংকং ও চায়নার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দুর্দান্তPerformance দেখিয়েছেন সোহান। মাত্র ১৪ বলেই ফিফটি পৌঁছান তিনি এবং এরপর ৩৫ বলে ঝড় তুলেন, যার ফলে তিন অঙ্কের সংখ্যা হাতের কাছেই আসে। এটি বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির রেকর্ড বলে স্বীকৃত।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) দোহার ওয়েস্ট ইন্ড পার্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিরুদ্ধে সোহানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ এ দল বড় ব্যবধানে, ৮ উইকেটের জয়ে যান। লক্ষ্য ছিল ১৬৮ রান, যা সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫৪ বলের মধ্যেই পূরণ হয়।

    এতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগে এই রেকর্ড ছিল পারভেজ হোসেন ইমনের, যিনি ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে ফরচুন বরিশালের হয়ে ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এখন, প্রায় ছয় বছর পর, সেটি ভেঙে দিয়েছেন সোহান।

    তবে, বিশ্ব রেকর্ডের কাছাকাছি এখনও তিনি যাচ্ছেন না। সবচেয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে ইস্টোনিয়ার সাহিল চৌহানের নামে, যিনি মাত্র ২৭ বলে সেঞ্চুরি করেন। এছাড়া, সেটার আগে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল ৪৯ বলে, যা সোহানোর মধ্যে ছিল।

    সোহান রান তাড়ার জন্য মাত্র ৩৫ বলে ৮ চার ও ১০ ছক্কা হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকেন। তার পাশাপাশি, অধিনায়ক আকবর আলি বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন—মাত্র ১৩ বলে ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৪১ রান। আরেক ওপেনার জিসান আলম ১৪ বলে ২০ রান করেন।

    এই ইনিংসে বাংলাদেশিরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয় হাঁকানোর রেকর্ড ছুঁয়েছেন, যেখানে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর নামে ছিল ১১টি ছয়। এছাড়া, জিসান আলমের ১০ ছক্কার রেকর্ডও চোখে পড়ে এবার।

    অতীতে, হংকংয়ের স্কোর ছিল ১৬৭ রান, বাবর হায়াতের ৬৩ এবং ইয়াসিম মোর্তুজার ৪০ রানে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে। তবে সোহানের এই রাজা পারফরম্যান্স দেখে বোলিংয়ের আচরণে যে পরিবর্তন এসেছে, তা স্পষ্ট।

    এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ১৭ নভেম্বর আফগানিস্তান ও ১৯ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা। দুটিরও ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।

  • আসিফের মন্তব্যে বিসিবি সভাপতির দুঃখ প্রকাশ ও বাফুফের প্রতিক্রিয়া

    আসিফের মন্তব্যে বিসিবি সভাপতির দুঃখ প্রকাশ ও বাফুফের প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আসিফ আকবরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের এই ঘটনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠান।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) সেই চিঠির মাধ্যমে বিসিবি তাদের অবস্থান জানিয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষরিত উত্তরটিতে উল্লেখ করা হয়, আসিফ আকবর মূলত জেলা প্রতিনিধিত্বকারী কাউন্সিলর হিসেবে এই মন্তব্য করেছেন, তিনি বোর্ডের পরিচালক হিসেবে নয়।

    বিসিবি বলছে, আসিফের এই মন্তব্যটি তাদের বোর্ডের দলিল বা মতামত নয়, বরং তার ব্যক্তিগত অভিমত। আরো জানা গেছে, আসিফের এই বক্তব্যটি তার নিজের জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও মাঠ ব্যবহারের ওপর দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেই উঠে এসেছে।

    বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই মন্তব্যটি আসিফের নিজস্ব মতামত, যা কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের official অবস্থান নয়। তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যদি এই মন্তব্যের কারণে ফুটবল পরিবারের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি বা মনোক্ষুণ্ণতা সৃষ্টি হয়ে থাকে।

    তবে, আভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা রক্ষার জন্য, আসিফের এই মন্তব্যের ব্যাপারে ক্ষোভও রয়ে গেছে। আজ সন্ধ্যায় সাবেক ফুটবলারদের সংগঠন ‘সোনালী অতীত ক্লাব’ এ এই বিষয় নিয়ে এক জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আসিফের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চিঠির শেষাংশে বিসিবি সভাপতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের অবদান স্বীকার করেছেন এবং ফুটবলসহ সব খেলাধুলার জন্য তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, খেলাধুলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং সম্মিলিত ঐক্যের প্রতীক। তাই সব ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।

    উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ আকবর মন্তব্য করেছিলেন যে, ফুটবলের আধিপত্যের কারণে দেশের স্টেডিয়ামগুলোতে ক্রিকেটের পরিবেশ কমে আসছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, কিছু ফুটবলার উইকেট ভেঙে দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ক্রিকেটকে ‘আভিজাত্যের খেলা’ হিসেবে তুলে ধরে মাঠের অধিকারের জন্য মারামারির কথাও ভাবছেন। এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে, যেখানে সাবেক ফুটবলার ও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা আওয়াজ উঠান।

  • বিহার নির্বাচনের ফলাফল বিস্ময়কর, শুরু থেকেই সুষ্ঠু নয় : রাহুল

    বিহার নির্বাচনের ফলাফল বিস্ময়কর, শুরু থেকেই সুষ্ঠু নয় : রাহুল

    বিহার নির্বাচনের ফলাফলে শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রশ্ন উঠছে ভোটের সুষ্ঠতা নিয়ে। ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান নেত্রী রাহুল গান্ধী এই ফলাফলের পিছনে নানা ধরনের অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ না দিলেও, ভোট চুরির কথাটি এড়ায়নি। রাহুল জানান, যারা মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিহারের লাখ লাখ ভোটার, যারা আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তার জন্য আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞ। এই বিস্ময়কর ফলাফল আমাদের জন্য এক ধরনের বিপদফুল হয়েছে। শুরু থেকেই এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে শঙ্কা ছিল।”

    বিহার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দুই দফায়। প্রথম দফায়, ৬ নভেম্বর, ১২১ আসনে ভোটগ্রহণ হয় যেখানে ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি। এরপর ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১২২ আসনে ভোটগ্রহণ হয়, যেখানে ভোট পড়ে ৬৮ শতাংশের বেশি। মোট মিলিয়ে প্রায় ৬৭% ভোটার অংশগ্রহণ করে এই নির্বাচনে। এই নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিজেপি–জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বনাম কংগ্রেস–আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগাঠবন্ধনের। ফলাফল জানা যায়, ২৪২ আসনের মধ্যে এনডিএ জোট পেয়েছে ২০২টি আসনে জয়, যেখানে মহাগাঠবন্ধনের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে ৩৫টিতে।

    বিজেপি জেতার সংখ্যা ৮৯টি আসনে, জেডিইউ ৮৫টি। অন্য জরুরি অংশীদার হিসেবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ তার জয়ে অগ্রগতি করেছে। চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ১৯টি আসনে জয় লাভ করে, এবং জিতেন রাম মাঝির নেতৃত্বাধীন আওয়াম মোর্চা পার্টি ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে।

    দ্বিতীয় দফা ভোটের তুলনায়, ২০২০ সালের লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে কংগ্রেসের ফলাফল বেশ খারাপ। তখন তাদের ৭০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল। এবার, ৬১ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে। মহাগাঠবন্ধনের আরেক শরিক, আরজেডি, ২০২০ সালে ১৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং ৭৫টিতে জয়ী হয়েছিল। এবার, ১৪৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে তাদের জয় পেয়েছে মাত্র ২৫টি।

    রাহুল গাঁধী বলেছেন, “আমরা লড়ছি সংবিধান ও গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য। কংগ্রেস ও ইনডিয়া জোট এই ফলাফল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে আর গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সতর্কতা ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন ভবিষ্যতের জন্য।

  • ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ, শুক্রবার

    ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ, শুক্রবার

    ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে জানা গেছে যে এটি হতে পারে শুক্রবার, ২০ মার্চ। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন যে, আশা করা যাচ্ছে যে, আরব আমিরাতে ১৪৪৭ হিজরি রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাবে ১৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায়। তবে এক্ষেত্রে চাঁদ চোখে দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। এই বছর রমজান চলতে পারে ৩০ দিন, ফলে সম্ভাব্য ঈদের ছুটি বাড়তে পারে আরও এক দিন। এর ফলে, সংস্থাগুলোর অনুমান অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২২ मार्च পর্যন্ত চারদিনের ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যাকে বলা হয় রীতি অনুযায়ী চার দিনের ঈদ ছুটি। স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে ২৩ মার্চ সোমবার। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ নিশ্চিত করবে ইউএই মুন-সাইটিং কমিটি। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ মার্চই শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, যা ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর মুসলমান সমাজের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এর সঙ্গে গভীর ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকায়, চাঁদ দেখার আগে কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষ এই তারিখ চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করবে না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য তারিখে ঈদ উদযাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪ জনের মৃত্যু

    লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪ জনের মৃত্যু

    উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে চাচ্ছিলেন এমন অভিবাসীদের জন্য এটি এক হতাহতের দুঃখজনক ঘটনা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশি সহ কমপক্ষে চার জনের প্রাণহানি হয়। এই ঘটনার মধ্যে অন্য একটি আলাদা নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটেছে যেখানে অর্ধশতাধিক সুদানি ও অন্যান্য দেশের অভিবাসী ঝরেছেন প্রাণের ঝুকিতে। তবে সেই ঘটনায় হতাহত হয়নি।

    ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৬ নভেম্বর) উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস শহরের উপকূলে। লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে এই নৌকাগুলোর উল্টে যাওয়ার খবর তারা পায়। প্রথম নৌকায় ছিল বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক, যাদের মধ্যে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য নৌকাতে ছিল মোট ৬৯ জন; এর মধ্যে দুইজন মিসরীয়, আরও ৬৭ জন সুদানি, যাদের মধ্যে আটজন শিশু। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার এবং মৃতদেহের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করে।

    লিবিয়া বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ইউরোপ যেতে অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে এই দেশটি অভিবাসীদের জন্য একটি ট্রানজিট রুটে রূপ নিয়েছে। এখন সেখানে Sাআড়ে ৮ লাখের বেশি অভিবাসী অবস্থান করছেন। গাদ্দাফির পতনের পরে দেশটি নানা মিলিশিয়ার সংঘর্ষে জর্জরিত হয়েছে, এবং যেখানে সাধারণ অভিবাসীরা নিয়মিত নিপীড়ন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।

    অধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ জানায়, লিবিয়ায় শরণার্থীদের এই দুর্দশা অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন দিন দিন বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অর্থের সহায়তা দিলেও, অভিযোগ উঠেছে যে এই কোস্টগার্ডের একজন অংশ ‘নির্যাতন ও অপরাধে জড়িত’ মিলিশিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। এছাড়াও, ইউরোপের দেশগুলো নিখোঁজ উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়ায় সমুদ্রপথে যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর ওপর নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাধা দিয়ে তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো গুরুতর করে তোলা হচ্ছে।

  • মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান, ৪৫ বাংলাদেশিসহ ১২৩ বিদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান, ৪৫ বাংলাদেশিসহ ১২৩ বিদেশি আটক

    অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে একটি প্লাস্টিক কারখানায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানটির মাধ্যমে মোট ১২৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ জন বাংলাদেশি। এই অভিযানটি রোববার (১৬ নভেম্বর) চালানো হয়, যা জোহর অভিবাসন বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন জোহর অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থার সদস্যরা। এই সময় কারখানায় অপরাধের শিকার বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ পাস ছাড়াই কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠেছে।

    আটকদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি ৪৫ জন, মিয়ানমার থেকে ৭১ জন, ভারতীয় ৪ জন, নেপাল থেকে ২ জন এবং পাকিস্তানের ১ জন নাগরিক। কর্মকর্তাদের দাবি, এই বিদেশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কাজ করাসহ বৈধ কাগজপত্র না থাকা, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়াও, এই অবৈধ নিয়োগের সঙ্গে জড়িত থাকায় স্থানীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপককেও আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কারখানায় কিছু শ্রমিক পালানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পিছু হটানো হয় ও লুকানোর স্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের লুকানোর বা ঢাল করার চেষ্টা যদি হয়, তবে তা রক্ষাকবচ হবে না। আটককৃত সন্দেহভাজন সবাই স্থানীয় সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের আরও তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জোহর অভিবাসন বিভাগ উল্লেখ করেছে, দেশের আইন শৃঙ্খলা ও শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরদার করা হবে।

  • চীনে ৭০ বছরের মধ্যে বৃহত্তম স্বর্ণের খনি উদ্ধার

    চীনে ৭০ বছরের মধ্যে বৃহত্তম স্বর্ণের খনি উদ্ধার

    চীনে ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে বড় স্বর্ণভাণ্ডার খুঁজে পাওয়া গেছে। লিয়াওনিং প্রদেশে অবস্থিত এই খনিতে প্রায় ১,৪৪৪ টন স্বর্ণ থাকা প্রত্যক্ষ হয়েছে। মাত্র ১৫ মাসের নিরলস অনুসন্ধান এবং গবেষণার মাধ্যমে এই বিশাল ভাণ্ডার চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

    চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ বিষয়ে নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দাদংগোউ নামের এই খনিটি এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের খনি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই খনিতে প্রায় ২৫.৮৬ লাখ টন আকরিক রয়েছে, যার প্রতি টনে গড়ে ০.৫৬ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। ফলে এই খনিতে মোট স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় ১,৪৪৪ টন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমান বাজার অনুযায়ী, এই স্বর্ণের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬৬ বিলিয়ন ইউরো যাকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মূল্য। আর এই বছর বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে; প্রতি কিলোগ্রাম স্বর্ণের মূল্য এখন বেশি থেকে বেশি, শতাধিক ইউরো পর্যন্ত পৌঁছেছে।

    এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত লিয়াওনিং জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং গ্রুপ। তারা প্রায় এক হাজার প্রযুক্তিবিদ ও কর্মী নিয়োগ করে মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন করেছে, যা বর্তমানে আধুনিক স্বর্ণখনির ক্ষেত্রে বিরল একটি ঘটনা।

    প্রথমে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই স্বর্ণের ভাণ্ডারকে ‘অতি-বিশাল’ বলা হলেও এর মান কম। তবে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই স্বর্ণভাণ্ডারটির নির্দিষ্ট অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, এটি লিয়াওনিং প্রদেশের পূর্ব অংশে অবস্থিত। নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এর অবস্থান সচেতনভাবে গোপন রাখা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

    বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এই সময়ে, যখন মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত। এই বছর স্বর্ণের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল মার্কিন ডলার, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা। বিশেষ করে, উদীয়মান দেশগুলো তাদের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে স্বর্ণ কিনছে।

    চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণখনির অনুসন্ধান এবং খনিজ সম্পদের খোঁজ বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে হুনান প্রদেশে ১,০০০ টনের বেশি স্বর্ণের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়া গেছে। একই বছর গাড়্সু প্রদেশে ৪০ টনের বেশি স্বর্ণের খনি পাওয়া যায়।

    চীনের স্বর্ণ উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ৩৭৭.২৪ টন স্বর্ণ উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ০.৫৬ শতাংশ বেশি। দেশের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণের চাহিদা ছিল প্রায় ৯৮৫.৩১ টন। সাথে সাথে, স্বর্ণের কনসামেশন ও বোর্সের চাহিদাও ২৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সম্পদ রক্ষা ও বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের জনপ্রিয়তা সার্বজনীনভাবে বেড়ে চলেছে এবং এটি এখন অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে অনেকে বেছে নিচ্ছেন।