Month: November 2025

  • সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জেতল এশিয়া কাপের ম্যাচ

    সোহানের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জেতল এশিয়া কাপের ম্যাচ

    ক্রিকেটের লিস্ট এ সংস্করণে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি আগেই গড়েছিলেন হাবিবুর রহমান সোহান। এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও দেশের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে তিন অঙ্কের মাইলফলক ছোঁয়ার কীর্তি অর্জন করলেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার।

    দোহার এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টে হংকং ও চায়নার বিপক্ষে বাংলাদেশ এ দলের প্রথম ম্যাচে মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করে এরপর ৩৫ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন সোহান। এটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরির রেকর্ডও।

    শনিবার, ১৫ নভেম্বর, দোহার ওয়েস্ট ইন্ড পার্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোহানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে হংকংকে ৮ উইকেটে বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ এ দল। লক্ষ্য ছিল ১৬৮ রান, যা সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫৪ বল হাতে রেখেই অর্জিত হয়।

    বাংলাদেশের এই সংস্করণে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল পারভেজ হোসেন ইমনের দখলে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফরচুন বরিশালের হয়ে তিনি ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। প্রায় ৬ বছর পর এই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন সোহান।

    বিশেষ বললে, বিশ্ব রেকর্ডে এখনও বেশ দূরে সোহান। তিনি মাত্র ২৭ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছেন ইস্তোনিয়ার সাহিল চৌহানের নামে। এর আগে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম শতকের রেকর্ড ছিল ৪৯ বলে সোহানের।

    রান তাড়ায়, মাত্র ৩৫ বলে ৮ চার ও ১০ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ প্লাস স্কোর করেন সোহান। এর পাশাপাশি ইনিংসে বিস্ফোরক খেলেছেন অধিনায়ক আকবর আলি, যিনি ১৩ বলে ৬ ছক্কায় অপরাজিত ৪১ রান করেছেন। ওপেনার জিসান আলম ১৪ বলে ২০ রান করেন।

    এই ইনিংসটি বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ডও। এখনও পর্যন্ত, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তর ইনিংসে ১১টি ছক্কার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া, জিসান আলমের ঝড়ো ইনিংসে ১০ ছক্কার রেকর্ড রয়েছে।

    প্রথমে, হংকংয়ের ব্যাটসম্যান বাবর হায়াত ৪৯ বলে ৬৩ রান ও ইয়াসিম মোর্তুজা ২২ বলে ৪০ রান করে যথাক্রমে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় স্কোরবোর্ডে, যেখানে তারা ১৬৭ রান করে ৮ উইকেট হারিয়ে। তবে সোহানের আক্রমণে সেটি מספיק ছিল না।

    এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারে বাংলাদেশের গ্রুপে আছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ১৭ নভেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে, আর ১৯ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮:৩০ মিনিটে।

  • আসিফের মন্তব্যে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ ও বাফুফের প্রতিক্রিয়া

    আসিফের মন্তব্যে বিসিবির দুঃখ প্রকাশ ও বাফুফের প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আসিফ আকবরের এক বিবৃতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সভাপতি তাবিথ আউয়াল বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর), বিসিবি সেই চিঠির জবাব দিয়েছে Officially। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আসিফের বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আসিফ আকবর মূলত জেলা প্রতিনিধি হিসেবে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তিনি বিসিবির পরিচালক নন।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এমন মন্তব্য তিনি করেছিলেন জেলা প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধি হিসেবে, বিসিবির একজন সদস্য হিসেবে নয়।” আরও জানানো হয়, আসিফ সম্ভবত তার নিজ জেলার ক্রিকেট কার্যক্রম ও মাঠের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘ দিনের হতাশা ও জটিলতা থেকে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বশে এই মন্তব্য করেছেন।

    বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করে বলেছেন, “উক্ত বক্তব্যটি আসিফের ব্যক্তিগত অভিমত মাত্র, এটি কখনোই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের official stance বা অবস্থান নয়।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “যদি এই বক্তব্যের কারণে ফুটবলপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা আঘাত সৃষ্টি হয়ে থাকে, আমি নির্দ্বিধায় দুঃখ প্রকাশ করছি।”

    বিষয়টি নিয়ে বিসিবি দুঃখ প্রকাশ করলেও, আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত মন্তব্যের কারণে ফুটবল পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় সোনালী অতীত ক্লাবের এক সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে আসিফের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চিঠির শেষ অংশে বিসিবি সদস্যরা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবলের অবদান স্বীকার করে, ফুটবলের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “খেলাধুলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং ঐক্য ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। তাই বিসিবি সব ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করে।”

    উল্লেখ্য, ৯ নভেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ আকবর মন্তব্য করেন যে, ফুটবলের আধিপত্যের কারণে ক্রিকেটের জন্য মাঠে পরিবেশ সংকটে পড়ছে। তিনি ফুটবলারদের বিরুদ্ধে উইকেট ভেঙে ফেলার অভিযোগ করেন এবং ক্রিকেটকে ‘আভিজাত্যের খেলা’ হিসেবে অভিহিত করে, মাঠের অধিকারের জন্য মারামারির প্রস্তুতির কথাও বলেন। social media-য় এই মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে, যেখানে সাবেক ফুটবলার ও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এর নিন্দা জানিয়ে আসেন।

  • ৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনের মধ্যেই ইডেনে লজ্জাজনক পরাজয়

    ৯৩ রানে অলআউট ভারত, তিন দিনের মধ্যেই ইডেনে লজ্জাজনক পরাজয়

    ইডেন গার্ডেনে চিত্তাকর্ষক এক টেস্টের শেষপর্ব তিন দিনে শেষ হয়ে গেল। মাত্র ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্যে ভারতের প্রতিউত্তর দেওয়ার আশা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের স্বপ্ন ভেঙে দিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ভারত ৩০ রানের ব্যবধানে হার মানলো। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলো।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করে। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার সঙ্গে করবিন বশের (২৫) জুটিতে প্রোটিয়াদের লড়াকু পুঁজি বৃদ্ধি পায়। বাভুমা শেষ পর্যন্ত ১৩৬ বলের মোকাবেলায় ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর এই দৃঢ়তার কারণে প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোর দাঁড়ায় ১৫৩ রানে। ভারতের লিড বাদ দিয়ে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪ রান। ভারতের হয়ে রবীন্দ্র জাদেজা চারটি এবং মোহাম্মদ সিরাজ ও কুলদীপ যাদব দুইটি করে উইকেট তুলে নেন।

    লাঞ্চের আগে ভারত লক্ষ্যচ্যুত হয় ১২৪ রানের। ব্যাটিং শুরু করেন একেবারেই দুঃস্বপ্নের মতো। মার্কো ইয়ানসেনের আঘাতে প্রথম ওভারে জৈবিকভাবে ফেরেন যশস্বী জয়সোয়াল (০)। এরপরই লোকেশ রাহুল (১) লেগে যান দলের হাল ধরতে। চোটের কারণে অধিনায়ক শুভমান গিল হাসপাতালে থাকায় বোলিং অর্ডারে পরিবর্তন আনা হয়, কিন্তু ধ্রুব জুরেল (১৩) ও ঋষভ পন্ত (২) ব্যর্থ হন। স্পিনার সাইমন হার্মার এই দুজনকে ফেরালে ভারত পড়ে যায় মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে।

    একদিকে অক্ষর প্যাটেল ঝড় তুলছিলেন, অন্যদিকে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে খেলা উইশিংটন সুন্দর প্রহরার জন্য থাকেন। রবীন্দ্র জাদেজা (১৮) তার সঙ্গে জুটি বাঁধতে চাইলে হার্মার তাকে আলগা করেন। ৬ উইকেট পড়ে ৭২ রানে ভারতের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে, অক্ষর প্যাটেল ১৭ বলে ২ ছক্কা আর ১ চারে ২৬ রান করে জয়ের সম্ভাবনা দেখান। কিন্তু শেষমেষ কেশভ মহারাজ তাঁর বলেই সুন্দরকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মোহাম্মদ সিরাজ (০) ওয়ে আউট হয়ে ভারতের শেষ আশা শেষ করেন। সুন্দরও ৩১ রানে আউট হন।

    অবশেষে, ভারতের ইনিংস শেষ হয় ৯৩ রানে অলআউট হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সাইমন হার্মার ৪টি উইকেট লাভ করেন, ইয়ানসেন ও কেশভ মহারাজ ২টি করে উইকেট নেন। এই বাজে ফলাফল বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য লজ্জার মুহূর্ত হয়ে রইল।

  • জ্যোতি বললেন, আমি স্বৈরাচারী নই, সব অভিযোগের বাইরে নিজের বক্তব্য

    জ্যোতি বললেন, আমি স্বৈরাচারী নই, সব অভিযোগের বাইরে নিজের বক্তব্য

    বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি সম্প্রতি বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জুনিয়র ক্রিকেটারদের মারধর এবং সিনিয়র খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এই গুঞ্জনের মধ্যেই তিনি শিনবোন ইনজুরির রিহ্যাবে থাকাকালীন বিকেএসপিতে বসে ক্রিকবাজের সাথে এক উপস্থিত সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সেখানে তিনি ড্রেসিং রুমে নিজের প্রভাব, স্বৈরশাসনের ধারণা, সিনিয়রদের সাথে সম্পর্ক, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি এবং দলের পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। নিচে সেই মূল অংশগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

    জ্যোতি বলেন, আমি কখনওই স্বৈরাচারী নই। প্র্যাকটিস বা ড্রেসিং রুমে আমি সবাইকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। অধিনায়ক হিসেবে আমি সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকি, তবে সম্মান পাওয়ার ব্যাপারে আলাদা কিছু নেই। অনেক দিন ধরেই আমি এসব অপবাদ শুনছি, কিন্তু আমি জানি কে এর পেছনে রয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছি, সবাই পছন্দ করবে সেটা প্রত্যাশা ভুল। তবে আমি নিশ্চিত, আমি দলের জন্য কি করছি।

    জুনিয়র ক্রিকেটার জাহানারা-রুমানা ঢাকোড়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই এসব অভিযোগ শুনে আসছি। সত্যি বলতে, আমি নির্বাচক নই। ২০১৫ সাল থেকে আমি জাতীয় দলে খেলছি। কখনও ড্রেসিং রুমে কোনও সিণ্ডিকেট বা বিশৃঙ্খলা দেখিনি। ২০২১ সালে অধিনায়কত্ব গ্রহণের পরও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ পর্যন্ত আমি নির্বাচনী কমিটির সদস্য ছিলাম না। দলের খেলোয়াড়রা কে খেলবে সেটা তারা জানত, আমি জানতাম না। দলের ঘোষণা আসে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে, যা বোর্ডে জিজ্ঞেস করলে সত্যিটা পাওয়া যাবে।

    নিউজিল্যান্ডে হাসান তিলকরত্নের কোচ থাকাকালীন এক ম্যাচে রুমানা আপু, সালমা আপু এবং অন্য কেউ খেলেননি। একবার সালমা আমাকে বলেন, “তুমি আমাদের দলের বাইরে করে দিয়েছেন।” তখন আমি বলেছি, “আমিই এখন দলের একাদশ বলতে পারছি।” তখন সালমা বলেছেন, “তাহলে কি তুমি শুধু টসের জন্য ক্যাপ্টেন?”—এমন পরিস্থিতিও দেখেছি।

    অভিযোগ, জুনিয়র ক্রিকেটার গালিগালাজ বা মারধরের বিরুদ্ধে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেবল একজনের কাছ থেকে এই অভিযোগ এসেছে। ম্যাচের উত্তেজনায় কেউ কেউ কথা বলেছে, যেমন “কেন ধরে নিও?” বা “শুধুমাত্র বলের দিকে নজর দাও।” হ্যাঁ, Microphone থাকার কারণে আমার কণ্ঠ বেশি শোনা যায়, কিন্তু আমি কখনই কাউকে গালি দিই না বা মানসিক রোগী নই।

    জ্যোতি আরও জানান, জাহানারা আলমের অভিযোগ বিষয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় কেউ ফোন করে বলে গেছে “জোতি আপু মারছে”—এমন কথার বিশ্বাসযোগ্যতা তিনি প্রশ্ন করেন। কোচ বা ম্যানেজমেন্টকে জানালেও সত্যতা পাওয়া যায় না। কাওকে মারার প্রমাণও নেই।

    শ্রীলঙ্কার ম্যাচে মারুফার ঘটনাটি উল্টোভাবেই দেখানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বলতে থাকেন, মারুফা দল জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ডার। পাকিস্তান সিরিজের সময় তার ক্যাচিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়। বারবার বল ছিল, “বাবা, ক্যাচিং ঠিক করো,” যা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সে ফেলেছিল। তখন ওর হাতেও ব্যথা হয়, কারণ ওর বাম হাতটাই বোলিং হাত। সে খারাপ লাগাতেও দেখেছি। ম্যাচের পর ওর সাথে গিয়ে প্রিয়ভাবে জড়িয়ে ধরেছিলাম, ও কেঁদেছিল কারণ সে ক্যাচ ফেলেছিল।

  • প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশ নেবেন না তামিম ইকবাল

    প্রথমবারের মতো বিপিএলে অংশ নেবেন না তামিম ইকবাল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান দেশের এই তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল। এর পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশেষ করে বিপিএলে তার অংশগ্রহণ নিয়ে নানা জল্পনা সৃষ্টি হয়। তবে সব কৌতূহল শেষ পর্যন্ত নিজেই কাটিয়ে দিলেন তিনি। ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তামিম নিশ্চিত করেছেন, এবারকার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) তিনি খেলবেন না। তিনি আরও জানান, আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া বিপিএলের জন্য প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে নিজের নাম তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিসকে। এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিপিএলে অংশ নিচ্ছি না। ড্রাফট থেকে আমার নাম বাদ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।’ ২০১২ সালে বিপিএল শুরু হওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে মাঠে দেখা গেছে তাকে। বিশেষ করে শেষ দুটি মৌসুমে ফরচুন বরিশালের নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন এবং শিরোপা জিতিয়েছিলেন। তবে এবার পরিস্থিতি বদলে গেছে। বোর্ডের নির্বাচনী উত্তাপ, ফাইন্যান্সিয়াল বিষয় এবং বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজি না থাকার কারণেও তার বিপিএলে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যায়। অবশেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিলেন, এবারকার বিপিএলে তাকেঅ দেখা যাবে না।

  • আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবর

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবর

    বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান শিরোনামে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বর্তমান বা সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ। গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার জন্য দায়ী হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে এই আন্তর্জাতিক আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এই রায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রবল গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, গত বছর কাকতালীয়ভাবে সংঘটিত ছাত্র-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এই নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। এতে বিচারপতি মা. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আদালত তিনজনের ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রকাশ করে। অন্য দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আদালত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটিতে তাকে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন দমন করার জন্য দায়ী করে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অন্য দুইটিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

    প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর মাধ্যমে বলা হয়েছে, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিচারে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

    ভারতীয় জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই রায় ঘোষণা হওয়ার পর ঢাকার আদালত কক্ষেই উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। মানুষ হাততালি ও উল্লাস করতে শুরু করে, কারণ দীর্ঘদিনের বিচার শেষে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। বিচারকরা বলছেন, এই রায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

    কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানাচ্ছে, গত বছর ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে দমন-পীড়নের জন্য শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে পলাতক থাকলেও, তাঁকে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, এই রায় বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থার জন্য নতুন এক দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে।

  • শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া

    শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ভারতে পলাতক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ Penh গেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের এই রায় তারা প্রত্যক্ষ করেছে। ভারত নিজেকে বাংলাদেশের কাছাকাছি প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা সবসময় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবে। স্বার্থের জন্য তারা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার পথে পাশে থাকবে। তবে রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত এই দুই নেতাকে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তর করার জন্য। এর কোনও প্রতিক্রিয়া ভারত থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকার বলছে, এই দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির যদি অন্য কোনও দেশের আশ্রয় নেয়, তবে তা খুবই অবমাননাকর ও অন্যায় হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ভারত সরকার যেন দ্রুত তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়—এটাই তাদের দাবি। এর আগে বাংলাদেশ অসংখ্যবার ভারতকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অনেকেরই প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের মনোভাব ও সিদ্ধান্ত কি হবে। উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই ও আগস্টের মধ্যে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে এই অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া, ঘটনাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছর জেলের সাজা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনাল তাঁদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দাবি করে, পাশাপাশি দেশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও শহীদদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এই রায়ের ফলে শেখ হাসিনা যে ভারতের আইন(?:বা) বা মানসিকতা অনুযায়ী ফেরত আসবেন, সেটি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় প্রবল বর্ষণ এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৃথক দুটি স্থানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রথমে জানানো হয়, মধ্য জাভার দক্ষিণ উপকূলীয় চিলাচাপ রিজেন্সির চিবেউইং গ্রামে ভূমিধসে অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। সেখানে এক ডজনের বেশি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। উদ্ধারকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো, বেশ গভীরতে থাকা এসব বাড়ি থেকে লোকজনকে উদ্ধার করা খুবই কঠিন। ডিপো অ্যাক্সক্যাভেটর ব্যবহার করেও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছিল। তবে গভীরতা বাড়ার কারণে উদ্ধার প্রচেষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

    অপরদিকে, শনিবার মধ্য জাভার বানজারনেগারাতে আলাদা এক ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়। এই ঘটনার ফলে প্রায় ৩০টি বাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই বছর থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এপ্রিলে অবধি চলতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি বেশি হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে নিহত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি

    দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে নিহত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯৮ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দী হিসেবে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন। গাজা থেকে অনেক শতাধিক মানুষ আটক হওয়ার পর তাদের মধ্যে নিখোঁজের সংখ্যাও বাড়ছে, যা করে আরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। ডিয়ার গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    পিএইচআরআই-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব মৃত্যু ঘটেছে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা না দেয়া এবং অপুষ্টির কারণে। তারা এই তথ্য সংগ্রহের জন্য তথ্য অধিকার আইনের অধীন বিভিন্ন নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট, আইনজীবী, স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করেছে।

    প্রথম আট মাসের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়টিতে গড়ে প্রতি চার দিনে একটি করে বন্দী মৃত্যুবরণ করেছেন। মে ২০২৪ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হেফাজত মৃত্যুর তথ্য আপডেট করেছে, তবে পিএইচআরআই’র গবেষকেরা আরও ৩৫টি অজানা মৃত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছেন।

    নাজি আব্বাস, পিএইচআরআই-র বন্দী ও আটক বিষয়ক বিভাগের পরিচালক, বলেছেন, এ সংখ্যাগুলো খুবই বড়। তবে তিনি অবহিত করে বলেছেন, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেকের মরদেহ ও মৃত্যুর খবর তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত—হেফাজতে থাকা অনেক মানুষই মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের বিষয়ে আমাদের কোনও তথ্য নেই।’

    ইসরায়েলের গোপন নথিতে দেখা গেছে, গাজা থেকে আটক হওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে কারাগারে মারা গেছেন। তবে এই রিপোর্ট বলছে, অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি সাধারণ বেসামরিক মানুষ, যারা হামাস বা ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা নয়। দ্য গার্ডিয়ান, ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’ এবং হিব্রু ভাষার স্থানীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ২০২৪ সালের মে মাসে সেনাবাহিনীর একটি ডেটাবেসে দেখা গেছে, যেখানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ৪৭ হাজারের বেশি যোদ্ধার নাম রয়েছে, সেখানে শ্বাসরুদ্ধ হেফাজতের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ২১ জন। কিন্তু একই সময়ে গাজা থেকে আটক হওয়া অস্বচ্ছ ব্যাবস্থায় মারা গেছেন ৬৫ জন ফিলিস্তিনি।

    এই সব মৃত্যুর তালিকা অসংখ্য ব্যক্তি, যারা কোনও অভিযোগ বা বিচার পায়নি। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন ইসরায়েলের নাগরিকত্ব বা অধিকারপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি।

    দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক ও যৌন সহিংসতার মতো নিষ্ঠুরতার ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। এমনকি, ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির কারাগারে বন্দীদের জন্য গোপন কক্ষে এমন একটি পরিবেশের কথা প্রকাশ্যে বলেও গর্ব করেছেন, যেখানে বন্দীরা দিন আলো দেখেন না।

    বিরোধী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, আইনের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুললেও কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অস্ত্র ও বন্দুকের মাধ্যমে নির্যাতন চালানো, মৃত্যু বেড়ে যাওয়া—এসব হচ্ছে সাধারণ ঘটনা।

    নাজি আব্বাস মন্তব্য করেছেন, ‘এটা একেকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থায় এটা বিস্তার লাভ করেছে। এটি চলতেই থাকবে।’ এর মূল কারণ, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি। দু’বছর সময়ে একটিমাত্র ঘটনায় বিচার হয়েছে, তার জন্য অভিযুক্ত সেনাকে মাত্র সাত মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর এক ঘটনায় বিচার শুরু হলে ডানপন্থীরা বিক্ষোভ করে, সামরিক বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার হয়। এখন তারা এই মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘অসংখ্য মৃত্যুর পরেও কোনো কর্তৃপক্ষ কেউই এখনো গ্রেপ্তার বা মামলা করেনি। এই নীতিগুলো এখনও চালু থাকলে, সব ফিলিস্তিনি বন্দীর জন্য ঝুঁকি থাকবে—সুস্থ থাকলেও, কমবয়সী হলেও বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকার পরও।’

    অবশ্য কিছু মৃত্যু বেশ আলোচিত হয়েছে, যেমন, ৫০ বছর বয়সী আদনান আল–বুরশ। তিনি আল–শিফা হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ছিলেন। চার মাস আটক থাকার পর ওফের কারাগারে তিনি মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা একজন জানান, মৃত্যুর আগে বুরশকে প্রহরীরা আঙিনায় নিয়ে আসে—তিনি ছিলেন আহত ও কোমর থেকে নিচে উলঙ্গ। এখনও পর্যন্ত মরদেহ গাজায় ফেরত দেয়া হয়নি।

    অন্যদিকে, অনেকের মৃত্যু রয়েছে অজানার মতো। অনেক মৃতদেহের পরিচিতি বা নাম জানা সম্ভব হয়নি। কারাগার ও সামরিক বাহিনী শুধু মৃতের সংখ্যা ও কোথায় মারা গেছে, তার তথ্য দিয়েছে, তবে তাদের নাম বা বিস্তারিত তথ্য দেননি। এর মধ্যে বেশিরভাগই গাজার নাগরিক।

    বন্দীদের পরিবারগুলোও হয়তো এখনো জানে না যে তাদের প্রিয়জন মারা গেছেন। কারণ, ইসরায়েল বন্দীদের অবস্থান জানানো বা তথ্য দেয়ার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে কঠোরভাবেই বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধের প্রথম সাত মাসে গাজা থেকে আটক হাজারো মানুষের পরিবারের তথ্যই রveal হয়নি। পিএইচআরআই বলছে, এর মধ্যে মূল নীতি ছিল বলপূর্বক গুমের মতো।

    ২০২৪ সালের মে মাসে গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে জানার জন্য একটি ইমেইল ঠিকানা চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি খুবই ধীর। পিএইচআরআই মন্তব্য করে বলছে, ‘অব্যাহত ব্যর্থতা ও অস্বচ্ছতা এখনো রয়ে গেছে।’

    আইনজীবীরা বারবার বলছেন, তাদের আবেদন করলে দেখা যায়, যে ক্লায়েন্টের ব্যাপারে তথ্য চাইছে, তাদের এইজড়ো বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড বা নথিপত্রই নেই, যদিও সেই গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ প্রমাণিত। মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, গত ছয় মাসে প্রায় ৪০০ ব্যক্তির ব্যাপারে ‘নথি নেই’ হিসেবে বলা হয়েছে।

    সম্ভবা সবচেয়ে আলোচিত একজন বন্দী হলেন হুস্সাম আবু সাফিয়া, গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে পরিচালকের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে এক অভিযানে আটক করা হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে অ্যারেস্ট করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপর এক সপ্তাহের বেশি সময় পর্যন্ত সেনাবাহিনী দাবি করে, তাঁরা তাঁকে হেফাজতে নেননি।

  • ফ্রান্স থেকে ইউক্রেনের জন্য ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ফ্রান্স থেকে ইউক্রেনের জন্য ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    রাশিয়ার তীব্র আক্রমণের মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ইউক্রেনের জন্য ফ্রান্স বিশাল এক সামরিক উপহার হিসেবে ১০০টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছে। এই চুক্তি স্বাক্ষর হয় প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির মধ্যে। জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন, কেননা এটি ইউক্রেনের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আশা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া ২০২৩ সালের মধ্যে শুরু হয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে এবং পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।

    আর্থিক ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফ্রান্স বিষয়টি সমাধানে ইইউর অর্থায়ন ও জব্দ করা রাশিয়ান সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি অনেক রাজনীতিবিদ ও দেশবাসীর মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারন এর মাধ্যমে রাশিয়ান সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়।

    উভয় নেতার যৌথ ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি জানান, ‘আমরা একটি কৌশলগত চুক্তি করতে যাচ্ছি যা ধারাবাহিকভাবে ১০ বছর চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন এই চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি রাডার, আটটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্রপত্র পাবে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে দেশটির জীবনকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

    রাশিয়া সম্প্রতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত বাড়িয়েছে, মূলত জ্বালানি ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে, যা দেশের ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হামলাগুলিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে কিয়েভ ও পশ্চিমা মিত্ররা। গত কিছু সময়ে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের বালাক্লিয়া শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত ও উন্নত অল্পসংখ্যক আহত হয়েছে।

    ম্যাঁক্রো জেলেনস্কির কাছে বলেন, ‘আমরা ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিকল্পনা করছি—এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইউক্রেনের সামরিক পুনরুজ্জীবনে বড় সহায়ক হবে।’ তিনি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করেন।

    রাফাল যুদ্ধবিমানগুলোকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটি বর্তমানে সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র ও বড় শহরগুলোয় দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে হামলা মোকাবিলায় অক্ষম। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার গ্লাইড বোমা ব্যবহার করছে, ফলে ২০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ফরাসি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন, যেহেতু রাশিয়ানদের নিজস্ব ২৩0 কিলোমিটার পাল্লার অর্পিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

    কিয়েভ ও প্যারিসের এই উল্লেখযোগ্য ঘোষণা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে সময়সীমা, সরবরাহ এবং অস্ত্রের ওপর। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সামরিক সরঞ্জাম যেমন জার্মানির লেপার্ড টু ট্যাংক বা মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, সবই প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর heavily dependent।

    এই চুক্তির অর্থ কে দিচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্স নিজস্ব বাজেট এবং ইইউর যৌথ ঋণ ব্যবস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। তবে ব্রাসেলসের আলোচনা অনুযায়ী, এখনই অর্থের যোগান স্বচ্ছ নয় এবং ইউক্রেনের অর্থনৈতিক সহায়তা আগামী দুই বছর ইইউর দ্বারা চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে রাশিয়ার জব্দকৃত ১৬২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ব্যবহারে ঐক্য নেই।

    এদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের মিরাজ এবং মার্কিন তৈরি এফ-১৬ ব্যবহার করছে। সম্প্রতি কিয়েভ সুইডেনের গ্রীপেন যুদ্ধবিমান পাওয়ার আশা করছে। এই আড়ালে, জেলেনস্কি স্পেনের সঙ্গে আরও সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা চুক্তি করবেন এবং চলতি সপ্তাহে তিনি গ্রিসের সঙ্গে একটি গ্যাস চুক্তিও সম্পন্ন করেছেন। এই গ্যাস সরবরাহ শীতে ইউক্রেনসহ বলকান অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।