Month: November 2025

  • যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় আরও দু’জন ভাড়াটে খুনি গ্রেপ্তার: র‍্যাব

    যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় আরও দু’জন ভাড়াটে খুনি গ্রেপ্তার: র‍্যাব

    রাজধানীর পল্লবী এলাকায় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যার মামলার জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব আরও দুই ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সোহেল ওরফে পাত্তা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০) এবং সুজন ওরফে মুখপোড়া সুজন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাভার এলাকার বিরুলিয়া এবং গাজীপুরের টঙ্গী মাজার রোড থেকে তাঁদের আটক করে র‌্যাব। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে র‌্যাব-৪-এর সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়।

    র‌্যাব-৪ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সন্ত্রাসীরা যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যার অভিযোগে আসামি এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। সোহেল ওরফে পাত্তা সোহেল ওরফে মনির হোসেনকে তাদের বিরুলিয়া এলাকায় এবং সুজন ওরফে মুখপোড়া সুজনকে গাজীপুরের টঙ্গী মাজার রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই ভাড়াটে খুনি।

    আজ বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন র‌্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পল্লবী সেকশন-১২-এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারি দোকানে অবস্থান করছিলেন গোলাম কিবরিয়া। তখন মোটরসাইকেলে করে তিনজন দুর্বৃত্ত এসে দোকানে ঢুকে তাঁর মাথা, বুক ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এই ঘটনার পর আশপাশের লোকজন মো. জনি ভূঁইয়াকে আটক করে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সোহেল ও তাঁর অনুসারীরা দোকানে ঢুকে গুরুতর যানবাহন থেকে ঢুকে সাত রাউন্ড গুলির ছাড়া হয়। ঘটনার স্থান থেকে সাত রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার হয়।

  • শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি : প্রধান উপদেষ্টা

    শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি : প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্ত, উৎসবের রঙে ভরপুর এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে কোর্স-২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের সকলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও দুর্ঘটনামুক্ত পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা সব সময়ই প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে হলে সরকারের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা অপরিহার্য।

    জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এটি তার ভূমিকাকে সকলের কাছে সম্মানজনকভাবে তুলে ধরে। তিনি এ জন্য সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন।

    এবারের কোর্সে উপস্থিত ছিল বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ মোট ২৪ দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক কর্মকর্তা। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তাদের ব্যক্তিজীবন ছাড়াও দেশ ও জাতির প্রয়োজনীয় কালীন সময়ে কাজে লাগতে পারে। একজন বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তার ভাষ্য, “ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমাদের যে নেতৃত্ব, কৌশল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান হয়েছে, তা আমাদের দেশের এবং দেশের বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত করে ফেলেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকটের সময় আমরা এই জ্ঞান প্রয়োগে সক্ষম হব।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রধান উপদেষ্টার কথাগুলো সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশের রক্ষায় এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে।”

    চীনের একজন কর্মকর্তাও বলেন, প্রশিক্ষণের মানের বিষয়ে তারা সন্তুষ্ট। “বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩ দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জ্ঞান আমাদের নিজ দেশ ও অন্যান্য দেশের নিরাপত্তায় কাজে লাগবে,” বললেন তিনি।

  • ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে সাংবাদিক মিজানুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই

    ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে সাংবাদিক মিজানুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই

    দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তার বাড্ডার বাসা থেকে নিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা তার হেফাজত রাখার পরে বুধবার সকালে পুলিশ তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সচেতনতা প্রকাশ করেছে।

    এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা থাকার rumors নিয়ে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি একেবারেই ভিত্তিহীন। মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই ধরনের অপপ্রচারে এনইআইআর বাস্তবায়নের সঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

    বিজ্ঞপ্তিতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সরকারী কর্মসূচি, যেমন এনইআইআর বাস্তবায়ন করছি। অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসি অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিষয়ের ওপর ভিত্তিহীন গুজবের জন্য কিছু গণমাধ্যম আমার বিরুদ্ধে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কিছু কিছু গণমাধ্যম প্রচার করছে যে, আমি এই ব্যাপারে জড়িত, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি स्पष्ट করেছেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বিভ্রান্তি ছড়ানো না, বরং সত্য তুলে ধরা।

    মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গোয়েন্দা পুলিশ মিজানুর রহমান সোহেলকে তার বাসায় ফিরে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, এ ধরনের ভুল তথ্য সুবিধামতো জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

    উল্লেখ্য, সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান সোহেলকে গোয়েন্দা বিভাগে নেয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানান। এরপর থেকেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুজব ছড়ানো শুরু হয়। তবে সংস্থাগুলো স্পষ্ট করে বলছে, এই বিরোধের মধ্যে সত্যতা নেই এবং তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা জরুরি।

  • জামায়াতের দাবি: ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন

    জামায়াতের দাবি: ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনের আলোচনা সভায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে দলের সহ–সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত এক মাসের মধ্যে অনেক নতুন ডিসি বদলি করা হয়েছে, অনেকের বদলি হঠাৎ করে চোখে পড়ে। তিনি মনে করেন, এর পেছনে একটি স্বয়ংক্রিয় বা পরিকল্পিত ডিজাইন কাজ করছে, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    এছাড়া, জামায়াতের পক্ষ থেকে বাস্তুসংস্থান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলির ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার চালুর পক্ষে মত প্রকাশ করা হয়। দলটির মনে হয়, লটারির মাধ্যমে বদলি করলে, কেউ যা চাইবেন, তাকে সে স্থান পাওয়ার সুযোগ থাকবে এবং একযোগে বদলি নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠবে না।

    প্রস্তাবের পক্ষে আরও এগিয়ে এসে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সাহসী ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    অপর দিকে, দলীয় প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শাস্তি নিয়ে দলের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার শিশির মনির অভিযোগ করেন, আচারবিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি প্রদানের প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, একই অপরাধে প্রার্থী ও দলের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিস্তারিত নিয়ম থাকতে হবে যেন সব পক্ষের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

    সর্বোপরি, তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সব প্রার্থীর জন্য একযোগে সংলাপ বা আলোচনা করা বাধ্যতামূলক না কি ঐচ্ছিক তা স্পষ্ট করা জরুরি। এ ধরণের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রমের উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

  • ময়মনসিংহে ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা, সাহসী প্রতিরোধে বড় ক্ষতি এড়ানো

    ময়মনসিংহে ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা, সাহসী প্রতিরোধে বড় ক্ষতি এড়ানো

    ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ওয়াশপিটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল ট্রেনের বগিতে নাশকতার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। তবে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) তিন সদস্যের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ভোর ৪টার দিকে, স্টেশনে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, সাহসী তিন আরএনবি সদস্য ছিলেন হাবিলদার মাসুদ রানা, সিপাহি আসাদুজ্জামান এবং নায়েক ঈসমাইল। এই তিনজনের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসের কারণেই ব্যাপক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। জানা যায়, আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা দেখেন, বগির কিছু সিটে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকা সত্ত্বেও, ওই নিরাপত্তা সদস্যরা নিজেদের শরীরে থাকা জ্যাকেট খুলে ওয়াশপিটের পানিতে ভিজিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেন। সেই ভেজা জ্যাকেট দিয়ে তারা আগুনের উপর জাপটে ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। এর পর দুর্বৃত্তরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়। স্টেশন সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আরএনবির তৎপরতা ও সাহসের ফলে আগুনে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদি আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসত, তবে পার্শ্ববর্তী কোচ, ট্রেনের ইঞ্জিন ও প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য অংশ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়তে পারত। তিনি আরও বলেন, রাতের সময় প্ল্যাটফর্মের বাইরে জারিয়া লোকাল ট্রেনের কোচগুলো ধোয়ামোছার জন্য ওয়াশপিটে দাঁড় করানো ছিল। নাশকতার জন্য লুকিয়ে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাঁজা পাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে ট্রেনে ওই আগুনের ঘটনা ঘটায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

  • বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভদ্রা বসু আর নেই

    বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ভদ্রা বসু আর নেই

    অভিনেত্রী ও পরিচালক ভদ্রা বসু, যিনি কলকাতার মঞ্চ থেকে শুরু করে বলিউড-সহ ভারতের বিভিন্ন সিনেমায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন, তার জীবনাবসান ঘটেছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫ বছর।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার শিকার ছিলেন। প্রথমে তার গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়েছিল, তবে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের কারণে দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পরিবর্তে চিকিৎসকরা ওষুধের মাধ্যমে সমস্যা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

    কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়, যখন হঠাৎ করে তিনি ঘরে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে কলকাতার বিখ্যাত এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

    সেখানে তার মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি কিডনির সমস্যাও দেখা দেয়, যার জন্য তার চিকিৎসায় আরও জটিলতা সৃষ্টি হয়। অবশেষে, সব প্রচেষ্টার পরও শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

    ভদ্রা বসু ছিলেন প্রখ্যাত নাট্য নির্দেশক ও অভিনেতা অসিত বসুর সহধর্মিণী। তার মঞ্চ এবং সিনেমার ক্যারিয়ার ছিল বেশ প্রসারিত। তিনি অনেক শর্টফিল্ম ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি তিনি সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বেলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন। তার এই অকাল প্রয়াণ শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পকালো জগতের বিভিন্ন স্তরে।

  • অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    ঢাকার একটি আদালত মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মামলার শুনানির সময় তাদের আদালতে হাজির না হওয়ায় জারি করা হয়েছে। গত ১০ নভেম্বর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর এক আদেশে ওই পরোয়ানা জারি করেন। তা ছাড়া, মামলার তদন্তের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য তামিল প্রতিবেদন দাখিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচয়ের সুবাদে বাদী ও অজানা ব্যক্তিরা মেহজাবীন ও তার ভাইকে নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখতে নানা প্রলোভন দেখান। সেই সুবাদে বাদী নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। তবে, দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও, মেহজাবীন ও তার ভাই ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেননি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা নানা অজুহাত দেন।

    ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অর্থ ফেরত চাইতে গেলে, তারা রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার জীবনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ট্রাইবাল থানায় মামলা দায়েরের পর, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেন এবং মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না দেওয়ায় এর জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হন বাদী। সংক্ষেপে, এই মামলায় মেহজাবীন ও তার ভাইকে দ্রæত গ্রেপ্তার করা বা বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা মামলার অন্যতম লক্ষ্য।

  • প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি মামলায় মুখ খুললেন মেহজাবীন

    প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি মামলায় মুখ খুললেন মেহজাবীন

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই মামলা মূলত অর্থ আত্মসাৎ, প্রাণনাশের হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের হয়েছে। আদালতের বিচারক আফরোজা তানিয়ার গঠিত এই আদেশের মাধ্যমে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কার্যদিবসের জন্য গ্রেফতারি ঘটনা জারি করা হয়েছে।

    গুপ্তচরবৃত্তির এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মেহজাবীন। তিনি বলেন, এই মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব। তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের অপপ্রচার ব্যবসায়িক স্বার্থের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।

    অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মেহজাবীন চৌধুরী। আজ আমি একটি ভুয়া ও মিথ্যা মামলার সংবাদ দেখে খুবই বিস্মিত। এই মামলাটি ভিত্তিহীন এবং কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব। আমি কোনও ধরনের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। যারা এই ভিত্তিহীন মামলা করেছেন, আমি তাদের সরাসরি চিনি না। আমার কাছে যারা আমাকে জানেন, তারা জানেন আমি সৎভাবে কেবলমাত্র আমার অভিনয় ও পেশাগত দায়িত্বে নিবেদিত। আমি এমন কোনো ব্যবসায়িক কাজে যুক্ত নই যেখানে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি দেশের আইন, নিয়ম ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ইতোমধ্যেই আমার আইনজীবী এই বিষয়টি নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যেন এ ধরনের গুজব ও মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ হয় এবং ভবিষ্যতে কেউ এরকম অপপ্রচার করতে না পারে।’

    মেহজাবীন আরও বলেন, ‘একজন শিল্পী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি সবসময় দেশের আইন, নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাই। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে আমি মিডিয়ার সাথে যুক্ত আছি, পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সাথে কাজ দিয়ে দর্শকের আজকের স্থান তৈরি করেছি। আমার এই আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি আপনারা দেন।’

    সর্বশেষ তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমি অনুরোধ জানাই, ভিত্তিহীন কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করবেন না। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত ও বন্ধুদের বলবো— আপনারা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি, তাই বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সত্যের পক্ষে থাকুন এবং এই গুজবের বিরুদ্ধেও সচেতন থাকুন।’

  • অভিনেত্রী মেহজাবীন আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন

    অভিনেত্রী মেহজাবীন আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন

    পারিবারিক ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রাখার বিনিময়ে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আলোচনা ছিল বেশ চাঞ্চল্যকর। দিনটি ছিল রোববার, ১৬ নভেম্বর, যখন ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-তে ঢাকার আদালতের মাধ্যমে মেহজাবীন চৌধুরী নিজেই আত্মসমর্পণ করেন এবং তিনি জামিন লাভ করেন। একইসঙ্গে তার ভাই আলিসান চৌধুরীকেও জামিন দেন আদালত।

    অভিনেত্রীর এই জামিনের খবর জাতীয় মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। আদালতের মতে, তাঁরা আইনানুগ বিষয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিনের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী খোরশেদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাকে বলেছেন, এই জামিন শুনানি ব্যক্তিগত কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রথমে জানা গেছে, মামলার জন্য আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে, মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় ১০ নভেম্বর, যা এখনো কার্যকর। তাদের বিরুদ্ধে আরও তামিল প্রতিবেদনের জন্য আগামী ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, বাদী দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত থাকার সুবাদে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে, নগদ অর্থ এবং বিকাশ ব্যাংকের মাধ্যমে মোট সাতাশ লাখ টাকা জামিনের বিনিময়ে পরিবারিক ব্যবসায় পার্টনার হিসেবে রাখার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পার্টনার হিসেবে রাখতে গেলে, তারা দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেননি। টাকা চাইতে গেলে, তারা বিভিন্ন সময় টাকার জন্য দেরি করে।

    গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে, টাকা চাওয়ার জন্য গিয়ে, বাদী ওই দিন একটি রেস্টুরেন্টে ডেকেছিলেন। সেখানে গেলে, মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ও জীবননাশের হুমকি দেয়। তারা বলেছে, ‘অতএব, তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না,’ এবং শত্রুতা প্রকাশ করে বলেছে, ‘আমাদের সামনে দেখা করলে মারবো। এসব কথা বলে তাদের জীবনভয় ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

    এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় যায় বাদী, একে মামলা হিসেবে নিবন্ধন করে। মামলায় বাদী অভিযোগ করেন যে, তাঁকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন করে। মামলা দায়েরের পর, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিচারের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

  • শাওনের মন্তব্য: ৩২ নম্বরের বুলডোজার বাহিনীকে ‘রাজাকার’ আখ্যা

    শাওনের মন্তব্য: ৩২ নম্বরের বুলডোজার বাহিনীকে ‘রাজাকার’ আখ্যা

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফের দুটি বুলডোজার আনা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকের মাধ্যমে এই দুটি বুলডোজার সেখানে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় ট্রাকের উপরে হাতে মাইক নিয়ে কয়েকজন তরুণ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে একজন জানান, ‘রেড জুলাই’ নামে এক সংগঠন এই বুলডোজার দুটি আনা হয়েছে।