Month: November 2025

  • অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    অস্ট্রেলিয়ার এমপিদের গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থানে তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

    বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অস্ট্রেলীয় সংসদ সদস্যরা স্পষ্ট ও বিবেকবান দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করায় বাংলাদেশের জন্য এই দৃষ্টান্তমূলক সমর্থনের জন্য তারেক রহমান আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, অনেক বাংলাদেশি—যার মধ্যে আমি নিজেও আছি—অস্ট্রেলিয়ার ওই সংসদ সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। তাঁরা যারা আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষজনের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাদের এই বিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের শক্তিকে আরও দৃঢ় করে, এবং বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ নাগরিকরা অস্হিরতা, নিরাপত্তাহীনতা ও নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, যেখানে প্রত্যেকে ভয় বা বাধা ছাড়াই মতামত প্রকাশ করতে চান। এসব উদ্বেগ মূলত তথাকথিত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে, যা বাংলাদেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলীয় এমপিদের চরম মানবাধিকৃতমুলক ও বৈধ দিক নির্দেশনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেকটাই সহায়ক। তাঁদের এই প্রত্যয় ও বার্তা বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার নতুন দিশার সূচনা হতে পারে।

    তারেক রহমান বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা দায়িত্বশীলতার জন্য এগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরছেন। তাঁদের এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সমাজের উন্নয়নে অমূল্য অবদান রাখছে। দেশের প্রতি তাদের এই ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আন্তরিকতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করছে। একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এই বন্ধন এবং একতা অপরিহার্য।

    তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অস্ট্রেলীয় এমপিদের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের এই সমর্থন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকার শুধু একটি দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। আমাদের উচিত একে অপরের পাশে থেকে শান্তি, ন্যায় ও উন্নয়নের পথে একসঙ্গে অগ্রসর হওয়া।’

  • শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টায় একটি মহল: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টায় একটি মহল: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়ের বিরুদ্ধে দেশে সৃষ্টি হয়েছে ভীতির পরিবেশ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, রায় ঘিরে একটি শক্তিশালী মহল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান দেশের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি এখন অনেক জটিল ও সংকটময়। একটি দুষ্টচক্র বা গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, হতাশা, বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেও ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা গেছে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত না স্বাভাবিক হয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না। একটি নির্দিষ্ট দল বা সরকার যদি কার্যকর না হয়, তবে দেশের সমস্যা সমাধান হবে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত থেকে নামের ভিত্তিতে গণহত্যার রায়ের ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিএনপি নেতা বলেন, শেখ হাসিনার রায় ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টির একটা চক্রান্ত হচ্ছে, যা রুখে দিতে দেশবাসীসহ সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

    মওলানা ভাসানীর অবদান স্মরণ করে উল্লেখ করেন, তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার, তবে তার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়নি। বিএনপি তার প্রতি দায়িত্বশীল এবং সম্মান প্রদর্শন করে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে (আরেকটি মহান নেতা) প্রিনাম করে দোয়া করতেন ভাসানী। তাছাড়া, মশিউর রহমান জাদু মিয়াকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

    অতীতের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে এখনো দেরি হচ্ছিল। আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাজ্য বিচারিক আদেশ কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করতে নির্ধারিত করেছে। অন্যান্য বিচারকরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.Mohitulul Hk Enam Chowdhury.

    শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে। পাশাপাশি, ঢাকা শহরে কয়েকটি বড় বড় স্থানে বড় স্ক্রিনে এই রায় প্রচার করা হবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও এই রায় দেখানো হবে।

  • রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পার পাওয়া যাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের কর্মসূচি চলবে যতক্ষণ না পার পাওয়া যাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের তিন উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করছেন। এই সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ভূমিকার কারণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হচ্ছে না বলে মনে করছে আটটি দল। এই কারণেই তারা ঘোষণা দিয়েছেন—প্রতিশ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া না পর্যন্ত রাজপথের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সব কিছু ফরমালি বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে সময়মতো ওই তিন উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করবেন। আমাদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য–প্রমাণ রয়েছে।

    রোববার ১৬ নভেম্বর রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সরকার এখনই সজাগ না হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দুর্বার প্রশাসনিক থাকার স্বরূপ এবং তিন উপদেষ্টার প্রভাব–প্রতিপত্তির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    তিনি আরো বলেন, আট দলীয় জোটের মতো, এই অবস্থায় নির্বাচন অবাধ–সুষ্ঠু হবে না—এর ফলে জনগণের মধ্যে যে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে, এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট ভাষায় বললেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই আমরা মাঠে আছি। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হয়, আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরও জানিয়ে দেন, আমাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— তিনটি এখনো অপূর্ণ, যার মধ্যে হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি, ফ্যাসিবাদী দোষীদের বিচার, এবং প্রশাসনে দলীয় পক্ষপাত দূর করা। এইসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আট দলীয় জোটের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করে ঘোষণা দেবে।

    নেতারা মনে করেন, এই আন্দোলন নির্বাচনকে বিঘ্নিত করবে না বরং নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার পথে সহায়তা করবে।

    অপরদিকে, নির্বাচন নিয়ে থাকা অভিযোগের মধ্যেই দেশের গণভোট বিষয়েও তারা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন। এমনকি, সংবাদ সম্মেলনে তারা জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি এবং মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশনের মূল সংস্কারগুলো নিয়ে আমরা শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছি। এগুলোর প্রয়োজনীয়তা সাধারণ ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে হবে।

    তার দাবি, প্রচারপত্র, জাতীয় প্রচারমাধ্যম ও মুক্ত কমিউনিকেশনের মাধ্যমে সরকারের এবং নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট জাননো উচিত—কেন এই সংস্কারগুলো জরুরি। না হলে জনগণের বড় একটি অংশ বিষয়টি বোঝার সুযোগ পান না।

  • ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ: বিএনপি

    ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ: বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১৭ নভেম্বর (সোমবার) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে, দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে চলা ফ্যাসিবিদ্বেষী রাজনৈতিক আন্দোলন এবং এই বছর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অবশেষে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। সভায় বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ জনগণ গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মামলার নামে নিপীড়নসহ বিভিন্ন দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে, ছাত্র-জনতা, শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের আত্মদান, আহত হওয়া ও স্থায়ী ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার পরই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। বিএনপি সংক্ষেপে জানায়, দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রত্যাশা ছিল—স্বৈরশাসন চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে রায় ঘোষণা হয়েছে, তাকে দলটি ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সম্পন্ন বিচার’ হিসেবে বিশ্লেষণ করে। রায় অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং পুলিশে সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে সহযোগিতার জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়াকে বিএনপি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক স্বাভাবিক এবং সুবিচারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। সভায় আরও বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি জনগণের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে এবং অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদের সুবিচার পাওয়ার দাবি তুলছে। পাশাপাশি তারা মনে করে যে, দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার পরিবারের ক্ষত কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে, এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে।

  • হাসিনার বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের: গোলাম পরওয়ার

    হাসিনার বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের: গোলাম পরওয়ার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার হত্যার রায় নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, এই বিচার সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে হয়েছে। তিনি বলেন, এই রায়ের ব্যাপারে কারো আপত্তি বা প্রশ্নের কিছু নেই, কারণ এটি অনুসন্ধান ও বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেছে।

    সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে রায় বিবেচনার পর তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, ট্রাইব্যুনালের রায় অন্তত জনসম্মতিতে কিছুটা আশার বার্তা দিয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারকালীন সময়ে বিচারকরা যে রায় দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট হয়েছে অপরাধীদের নির্বিচারে নিষ্ঠুরতা, ঘৃণা ও প্রহসনমূলক অপরাধের বিষয়টি। আদালত প্রমাণ হিসেবে অডিও-ভিডিও, ফোনালাপের তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনাল সামনে আনতে সক্ষম হয়েছে, যা শুনে সবাই বিস্মিত হয়েছেন।

    তিনি আরও বললেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের নেতাদের বিচার নিয়ে আগে অনেক প্রশ্ন ওঠে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশেও। তিনি অভিযোগ করেন, সেইসব বিচারগুলো সত্যিকারের স্বচ্ছ বা আন্তর্জাতিক মানের ছিল না। সেগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বাজি ধরা হয় যে, সাজানো, সাক্ষী ও ডকুমেন্টেশন সবই ভুয়া ও কৃত্রিম। এমনকি ব্রিটিশ আদালতেও এই বিচারকে ‘জেনোসাইড অফ জাস্টিস’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

    সরকারি এই বিচার প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, কোট-আনকোট করে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের হস্তান্তর, সাক্ষীদের মামলা থেকে তুলে নেওয়া এবং বিদেশ থেকে লিখিত রায় প্রেরণ—এসব নানা অপ্রমাণিত পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অতএব, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে যে বিচার হয়েছে, সেটি একান্তভাবে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা, জোরপূর্বক নিপীড়নের শিকার করেছেন—যেমন, আয়নাঘর, পিলখানা, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায়—তাদের জন্য আরও বেশি বিচারের প্রয়োজন। এখানে একটাই রায় পেয়েছি, যা সবাইকে বিচারপ্রার্থী করে তুলছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যু

    চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যু

    সোমবার দিবাগত রাত ১১টার পরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি গ্রামে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সমাজসেবা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নুরুল ইসলাম ছিলেন দুইবারের সংসদ সদস্য, এর আগে তিনি বৈধভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে তিনি সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তিনি এক স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয়রা, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

    অভিনন্দন, চার ঘণ্টা আগে ভোরের দিকে বরগুনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিউর রহমান তালুকদারও মারা গেছেন। তিনি মারা যান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মতিউর রহমান ছিলেন ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নেন, কিন্তু পরাজিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিততে পারেননি, বরং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মাত্র সাড়ে তিন হাজার ভোটে হেরে যান। এরপর তিনি বরগুনা-৩ আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাননি। তার মৃত্যুতে স্থানীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • আজও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তাজোড়ালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায়, আদালতের আশপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি

    আজও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তাজোড়ালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায়, আদালতের আশপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি

    জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতা থেকে সরানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা পরদিনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কড়া ছিল। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোর থেকেই ট্রাইব্যুনাল এবং এর আশপাশের সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়। হাইকোর্টের প্রধান গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে চোখে পড়ে সীমান্ত গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। এরপর ট্রাইব্যুনালের মূল গেটের দিকে এগোতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তর ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। একই মামলায় পুলিশ বাহিনীর সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর থেকে রাজধানীর এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন বাহিনীর যৌথ উপস্থিতি আরও বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

  • ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার সুযোগ gains

    ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার সুযোগ gains

    সরকার আজ (১৭ নভেম্বর) শ্রম আইন সংশোধন করে একটি নতুন অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে, যা ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার সুবিধা প্রদান করে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই নতুন আইনটি জারি করে বলেছে, এখন কোনও প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক একত্রিত হয়ে ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই নতুন বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিকের সম্মতির ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন দেওয়া হবে। যেমন, শ্রমিক সংখ্যা ২০ থেকে ৩০০ হলে অন্তত ২০ জনের সম্মতি; ৩০১ থেকে ৫০০ জন হলে ৪০ জন; ৫১ থেকে ১৫০০ জন হলে ১০০ জন; ১৫০১ থেকে ৩০০০ জন হলে ৩০০ জন; এবং ৩০০১ জনের বেশি হলে ৪০০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। এই পরিবর্তনের ফলে আগের আইনকে হার মানিয়ে এখন সর্বনিম্ন ২০ শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়নের গঠন সম্ভব হলো। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার আরও সুসংহত হলো এবং শ্রম আইনকে যুগোপযোগী করে তোলা হলো বলে জানানো হয়েছে। আইএলও এর চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানানসইভাবে এ সংশোধনী করা হয়েছে। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই সংশোধন শ্রমিক এবং মালিক উভয়ের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ও আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা শ্রম আইনকে বিশ্বমানের করে তুলবে। পাশাপাশি, নতুন আইনে গৃহকর্মী ও নাবিকসহ অন্যান্য শ্রমিকদেরও শ্রম আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শ্রমিকদের ব্ল্যাক লিস্টিং নিষিদ্ধ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা বৃদ্ধি এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসাথে, একই কাজের জন্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৈষম্য নিষিদ্ধ ও শ্রমিকদের বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পুনর্বাসন এবং চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে আরো সুগম করবে। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, এই সংশোধনীতে শিল্প কারখানায় বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াও উন্নত করা হয়েছে, যা শ্রমিক, মালিক, ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।

  • ৫ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টে রিট

    ৫ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টে রিট

    সংকটে পড়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করার সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন এ রিট আবেদন করেন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটির গুরুত্বপূর্ণ বিবাদী করা হয়েছে।

    ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে সংকটে পড়া এই পাঁচ ব্যাংকের একীভূতির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামিক ব্যাংক। এই পাঁচটি ব্যাংকের সফল একীভূতির মাধ্যমে একটি শরিয়াহভিত্তিক নতুন ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন ব্যাংকের জন্য দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে— ‘ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক’ এবং ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’। এই ব্যাংকটি বাণিজ্যিক দিক থেকে পরিচালিত হবে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ মূল ঘোষণায় কেউ চাকরি হারাবেন না এবং কোনো আমানতকারী তার টাকা হারাবেন না। প্রাথমিকভাবে নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটি গঠন ও পরিচালনার জন্য পাঁচটি ব্যাংকের সব দায়-দায়িত্ব ও সম্পত্তি গ্রহণ করা হবে।

    ফান্ডিং এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা নগদে প্রদান এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সুকুক বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে সংগৃহীত হবে।

    সুকুক হলো শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড, যা সুদভিত্তিক বন্ডের বিকল্প। এটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো আইনি চুক্তিপত্র।

    এ ছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের শেয়ার দিয়ে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনে রূপান্তর করা হবে বেইল-ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যাতে করে মানহীন ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধারণ করেন। পরবর্তীতে রেজল্যুশন পরিকল্পনা অনুসারে এটি টাকা হিসেবে ফেরত দেয়া হবে আমানতকারীদের।

    প্রাথমিকভাবে, এই ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় থাকবে। তবে ধাপে ধাপে তা বেসরকারি খাতের হাতে হস্তান্তর করা হবে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, পাঁচ বছরের মধ্যে এই ব্যাংকটি সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতে চলে যাবে।

    ব্লকচেইন ও একীকরণ প্রক্রিয়ায় এই ব্যাংকের রূপান্তরটি নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক কমবে এবং ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা দ্রুত ফেরত দেয়া সম্ভব হবে।

  • সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, সতর্ক থাকুন

    সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, সতর্ক থাকুন

    আবহাওয়া অধিদফতর আগামী শনিবারের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এর ফলস্বরূপ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানার দেয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

    সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) পর্যন্ত এই অঞ্চলে একটি লঘুচাপ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরে আরও ঘনীভূত হতে পারে। পাশাপাশি, বর্তমানে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বিস্তৃতি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত फैला রয়েছে। এ সব কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা জারি হয়েছে।

    আগামী বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আংশিক মেঘলাসহ সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাত ও দিন উভয় الوقتেই তাপমাত্রা আগের মতোই থাকতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশের কিছু অংশে মেঘের আধিকার থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ওই দিনই, শুক্রবার (২১ নভেম্বর), সকাল ৯টার পরে ২৪ ঘণ্টার জন্য আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

    সর্বশেষ, শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৯টার থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।