Month: November 2025

  • সোনার দাম ভরিতে কমলো ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে কমলো ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা

    দেশের বাজারে কয়েক দফা মূল্য বৃদ্ধি শেষে হঠাৎ করে সোনার দাম এসে পড়েছে অন্যরকম এক পরিস্থিতিতে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরে কমে হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা, যা পূর্বে নির্ধারিত ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা। এই দাম পরিবর্তন আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা সর্বোচ্চ মানের সোনার দামটি কমে যাওয়ায়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দামে সবচেয়ে ভালো মানের বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। একই সাথে, ২১ ক্যারেটের দামে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত দামে এখন ইয়াকটা ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা। এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার রেট এখন প্রতি ভরি ১৪১ হাজার ৭১৭ টাকা।

    উল্লেখ্য, এর আগে ১৩ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ছিল দুই লাখ ৪ হাজার, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মিনিমাম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির বিভিন্নতা থাকতে পারে।

    অপরদিকে, সোনার দাম কমলেও রূপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়, ২১ ক্যারেটের জন্য দামের হার ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

    দীর্ঘ দিন ধরে বাজেটে আয় কম থাকায় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কারণে বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো মোট ঋণের পরিমাণ ২১ ট্রিলিয়ন টাকা বা ২১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগের ঋণ বুলেটিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়, যেখানে জানানো হয়, জুন শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন টাকায়। যা এক বছর আগে ছিল ১৮ দশমিক ৮৯ ট্রিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

    বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখন ৯ দশমিক ৪৯ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৪৪.২৭ শতাংশ। বিগত পাঁচ বছর ধরে বৈদেশিক ঋণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ২০ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    অভ্যন্তরীণ ঋণও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৭৬ ট্রিলিয়ন টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন টাকা। ২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন টাকা।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণের বৃদ্ধির হার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার মহামারির পর থেকে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো থেকে প্রাপ্ত বাজেট সহায়তা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রো রেল, এবং মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় বড় প্রকল্পে ব্যাপক খরচের কারণেই এই ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

  • ২০২৬ সালে ব্যাংক বন্ধের দিন কত থাকবে জানা গেল

    ২০২৬ সালে ব্যাংক বন্ধের দিন কত থাকবে জানা গেল

    আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে, মোট ২৮ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকতে পারে, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছুটির দিনগুলোর সমন্বয়ে নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব সাইড সুপারভিশন আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) এই ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে, যা সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথম ব্যাংক বন্ধ থাকবে শবে-বরাতের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় শবে কদর, সেই দিনও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ঈদুল ফিতর উদযাপনে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকবে, যেখানে ঈদের আগে ও পরে ব্যাংক বন্ধ থাকবে, যার মধ্যে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল।

    অন্যদিকে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের জন্য ব্যাংক বন্ধ থাকবে। চৈত্র সংক্রান্তি উৎসবের জন্য রাঙামাটিসহ কয়েকটি পার্বত্য জেলার জন্য ১৩ এপ্রিল বিশেষ ছুটি ঘোষণা হয়েছে। বাংলা নববর্ষের শুভ সূচনা হিসেবে ১৪ এপ্রিল ব্যাংক বন্ধ থাকবে। মে দিবস ও বুদ্ধপূর্ণিমার জন্য ১ মে ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    ঈদুল আজহার জন্য ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধের দিন থাকবে, যেখানে দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। এছাড়া, ২৬ জুন আশুরার উপলে ও ১ জুলাই ব্যাংক ছুটি থাকবে। অন্য গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো হলো, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী, ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ২০ ও ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন, এবং ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই ছুটির তালিকা কার্যকর হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রীালয়ের ৯ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনের ওপর ভিত্তি করে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ব্যাংকে মোট ২৪ দিন ছুটি ছিল এবং ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২৭ দিন। আর ২০২৬ সালে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ দিন হবে।

  • স্মারক স্বর্ণ ও রূপার মুদ্রার দাম বাড়ল

    স্মারক স্বর্ণ ও রূপার মুদ্রার দাম বাড়ল

    আন্তর্জাতিক ও দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্মারক স্বর্ণের (বাক্সসহ) নতুন বিক্রয়মূল্য হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পাশাপাশি, স্মারক রূপার (বাক্সসহ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার টাকা, এর আগে এই দাম ছিল ৮ হাজার ৫০০ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের দামের ওঠানামার কারণে এই মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে। এই নতুন দাম ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকে এ তথ্য সঠিকভাবে প্রচার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

    অন্যদিকে, দেশের বাজারে ভরি প্রতি স্বর্ণের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকায়, ২১ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকায়, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ভরি প্রতি ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • সোনার দাম আবার কমলো

    সোনার দাম আবার কমলো

    দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ মঙ্গলবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৩৬৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি ২ লাখ ৬ হাজার ৯০৭ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের নির্ধারিত দাম ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এই নতুন দাম আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে গেলে, সামগ্রিক অর্থনীতির পরিস্থিতির বিবেচনায় এই মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বরের নির্বাচিত দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ টাকা।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যতে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির শতাংশে ভিন্নতা থাকতে পারে।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হয় ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।

  • শেখ হাসিনার রায়ের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়ের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার রায়ের ঘোষণা উপলক্ষে দেশব্যাপী আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল এই রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনীতি বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল ও সংকটময়। কিছু দুর্বৃত্ত ও অন্ধকার প্রকৃতির গোষ্ঠী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।

    তিনি আরও বলেন, হতাশা, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মাঝেও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে পারে বলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তাই নানা জটিলতায় এখনই সময় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন করতে সব রাজনৈতিক দলকে এককাট επակցিত হতে হবে।

    ফখরুল আরও মন্তব্য করেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভালো নয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক নেই। দেশে যদি নির্বাচিত সরকার না থাকে, তবে এই সমস্যা সমাধান হবে না। তাই এখনই একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন প্রয়োজন।

    তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার দায়ে রায় ঘোষণা হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মহল এই রায়কে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে সকলকে এক涛নে সমর্থন দিয়ে, দেশবাসীর সুরক্ষা ও শান্তি রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    মওলানা ভাসানীর অমূল্য অবদান স্মরণ করে ফখরুল বলেন, তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতেন এবং এক কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়তো তিনি দেখার সুযোগ পাননি।

    তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রতি বিএনপির দায়িত্ব অগ্রণী। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে তিনি দোয়া করেছিলেন ও মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

    উল্লেখ্য, জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করছে দেশ। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করবে সোমবার (১৭ নভেম্বর)।

    আদালতের অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    বিচারকার্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে, পাশাপাশি ঢাকা শহরের কয়েকটি স্থানে বড় স্ক্রিনে রায় পাঠের পরিবেশ তৈরি হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও এই রায় লাইভ দেখা যাবে।

  • রাজপথের কর্মসূচি চলবেই, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পাওয়া পর্যন্ত: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    রাজপথের কর্মসূচি চলবেই, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পাওয়া পর্যন্ত: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার স্পষ্ট করে বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সবার জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হবে, ততক্ষণ রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের তিন উপদেষ্টা নির্বাচন ও গণভোটের প্রক্রিয়ায় তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এই কারণেই আসন্ন নির্বাচনকে যথাযথভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলে তুলতে গেলে নিশ্চিতভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি দরকার, যা আজও সম্ভব হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তাই, আট দলের জোট ঘোষণা করেছে—প্রতিশ্রুত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাওয়া না পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

    রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সব কিছু ফর্মালভাবে বললে হবে না, যদি প্রয়োজন হয় তবে তারা তিন বিতর্কিত উপদেষ্টার নামও প্রকাশ করবেন—তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, সরকারের এখনই সজাগ হওয়া উচিত, অন্যথায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অনেক ক্ষেত্রেই এখনো দলের পক্ষপাতিত্ব চালু রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে তিন উপদেষ্টার প্রভাব।

    এই পরিস্থিতিতে, জোটের নেতারা মনে করেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে না পারা প্রধানত সরকারের দায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ও তাঁর দল নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে মাঠে থাকা চালিয়ে যাবেন—এ ব্যাপারে কোনো আপোস করবেন না।

    জামায়াতের এই নেতা আরও জানান, তাঁদের তিনটি মূল দাবি—লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ফ্যাসিবাদের দোষীদের বিচারের উদ্যোগ এবং প্রশাসনে দলীয় পক্ষপাতদুষ্টা বন্ধ—অপূর্ণ ছিল। এসব বিষয়ে আট দলীয় জোটের স্টিয়ারিং কমিটি পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করে ঘোষণা দেবে।

    বিশ্বাস করেন, আন্দোলন ও ভোটকে কোনওভাবেই বাধাগ্রস্ত করবে না; বরং এই আন্দোলন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দ্বার আরও প্রশস্ত করবে। পাশাপাশি, তারা গণভোটের বিষয়ে নিজের অবস্থান শক্তভাবে বজায় রেখেছেন। সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও মৌলিক সংস্কারের জন্য সমর্থন প্রকাশ করে বলেছেন, এই সংস্কারগুলো কেন জরুরি ও বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা সাধারণ ভাষায় জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রচার ও গণমাধ্যমের প্রয়োজন। যদি এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা না হয়, তাহলে সাধারণ ভোটারদের জন্য এর গুরুত্ব বোঝা কঠিন হয়ে পড়বে।

  • ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ: বিএনপি

    ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ: বিএনপি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১৭ নভেম্বর (সোমবার) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

  • বিএনপির মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন নয়: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন নয়: মির্জা ফখরুল

    বিএنপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন মানে কেবল সরকার গঠন বা ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, এটি মূলত গণতন্ত্রের পথে ফিরে যাওয়ার একটি অবিরাম প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান লক্ষ্য হলো শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, বরং একটি সুদৃঢ় ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এই মন্তব্য তিনি বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে করেন, যেখানে ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি’ শিরোনামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচन ও ডকুমেন্টারির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বিএনপি গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং এই মৌলিক মূল্যবোধের জন্য জীবনভর সংগ্রাম করে এসেছে। দেশের মানুষও যুগে যুগে গণতন্ত্রের জন্য পরিশ্রম এবং বলিষ্ঠ সংগ্রাম চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণের শব্দের মিথ্যা অপব্যাখ্যা বা ভিন্ন মত দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবে গণতন্ত্রের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেবে না। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে বাধা দিতে হলে, অবশ্যই গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসা জরুরী। এ জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি, তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন, যেখানে পৃথিবীর নজর ছিল নিষ্ঠুরতার দায়ে ফ্যাসিস্ট বর্তমান সরকার প্রধানের রায়ের দিকে, সেখানে কিছু মহলের অপচেষ্টায় রায়ের গুরুত্ব কমানোর অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি কেউ এককভাবে সংস্কারের দাবি করেন, সেটি সংকীর্ণতা ছাড়া কিছু নয়। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য এবং দেশের উন্নয়নের জন্য সংস্কারের পক্ষে কাজ করছে। তিনি সকল গণতান্ত্রিক দলের ঐক্যের দাবি জানিয়ে বলেন, ভিন্ন মত থাকলে সেটা মেনে নেওয়া হবে কিন্তু সংগঠিতভাবে মৌলিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের একসাথে দাঁড়ানো জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি কোন বিপ্লবী দল নয়, বরং এটি একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমাদের কাছে সংস্কার আদর্শ, যা অগ্রাধিকার পেয়েছে। কেউ যদি আমাদের ভিন্নভাবে চিত্রিত করতে চায়, তাহলে সেটি মানতে আমাদের সংকোচ হবে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির উপর সবসময়ই দায়িত্ব আসা স্বাভাবিক। এখন নির্বাচনের সময়, তাই বিএনপির উচিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানে ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা’ বিষয়ক বইটির মোড়ক উন্মোচন ও ডকুমেন্টারির মাধ্যমে সেই সময়ের আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়েছে।

  • হাসিনার বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের: গোলাম পরওয়ার

    হাসিনার বিচার স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের: গোলাম পরওয়ার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের প্রতি জামায়াতের পক্ষ থেকে একাডেমিক ও রাজনৈতিক নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেছেন, এই রায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের। তিনি বলেন, এই বিচারপ্রক্রিয়া দ্বারা আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে আশার আলো জেগেছে এবং জাতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সান্ত্বনা পেয়েছে। সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে যে দীর্ঘ সময় ধরে বিচারকগণ রায় পেশ করেছেন, তাতে প্রকাশ পেয়েছে অপরাধীদের নিষ্ঠুরতা, ঘৃণ্য ও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড। আইনপ্রযুক্তি, টেলিফোনিক কথোপকথন, অডিও-ভিডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য প্রমাণসমূহ দেশী ও আন্তর্জাতিক মাধ্যমে রায়ের অংশ হিসেবে হুবহু প্রকাশ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষ ও মিডিয়া বিস্মিত এবং জাতি গর্ববোধ করছে।

    তিনি আরও বলেন, এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতের নেতাদের বিচার নিয়ে দেশ-বিদেশে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, তবে সেই বিচারটি আন্তর্জাতিক মানের হয়নি বলে মনে করে জামায়াত। তিনি বলেন, একদম সাজানো মামলার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া চালানো হয় এবং আদালত থেকে সাক্ষী অপহরণ, মামলাগুলো সাজানো, বিদেশে রায় প্রস্তুতকরণ, স্কাইপে চ্যানেলে কেলেঙ্কারি—all এই বিষয়গুলোই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ব্রিটিশ আদালতেও এ ধরনের বিচার ‘জেনোসাইড অফ জাস্টিস’ বলে অভিহিত করেছেন।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আজকের এই রায়ে দেখা গেছে, যারা নির্মমভাবে হত্যা, কোপানো, ক্রসফায়ার, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডে জড়িত—they-র জন্য আরো বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রথম রায় প্রকাশ পেল, এবং তিনি সুপারিশ করেন, সব বিচারই যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এটিএম মা’ছুমসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।