ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, নির্বাসিত অবস্থায় হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে চাপের মধ্যে থাকবে। তার ভাষায়, হাসিনার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কাঁটার মতো আটকে থাকবে। তবে তিনি এও মনে করেন যে, ভারতের নিজস্ব মিত্রদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য এটি একটি প্রতিফলন, কারণ ভারতের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদে কিছু সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কুগেলম্যান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বংশভিত্তিক দলগুলো দীর্ঘ সময় সংকটে থাকলেও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না। তাই আওয়ামী লীগকেও পুরোপুরি বাতিল করার সময় এখনও আসেনি। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনে এই দলটির ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।অন্যদিকে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের পরিস্থিতি ‘অস্বস্তিকর’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারত বুঝতে পারছে যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ জনগণ হাসিনার প্রতি ক্ষুব্ধ, কিন্তু তাকে আবার বাংলাদেশের মূল রাজনীতিতে স্থান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দত্ত আরও বলেন, আদর্শ অবস্থায় ভারত চাইবে একসময় আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কারণ ‘হাসিনা ভারতের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প’। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভারতের জন্য প্রয়োজন ঢাকার অন্যান্য রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন। তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন, তাই হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক জটিল না করে এগিয়ে যেতে হবে।জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ বলেন, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—ঢাকার বর্তমান সরকারকে তারা ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ হিসেবে দেখে। ভর্ধ্বাজের মতে, বাংলাদেশে এখন যেসব রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে, তারা প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা করে ও হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকেই দোষারোপ করছে। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য হাসিনাকে ফেরত দেওয়া হলে সেটি হবে ভারতের বিরোধী শক্তিগুলোর বৈধতা প্রদান, যা বাস্তবসম্মত নয়।ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিদের’ অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে, এবং ভারতের পক্ষ থেকে এই ব্যতিক্রমটাই প্রয়োগ হচ্ছে বলে ভর্ধ্বাজ উল্লেখ করেন। ২০১৩ সালে ছাড়সহ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশ আসামীদের প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য। তবে যদি আসামীরার মধ্যে ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ থাকে, তাহলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে।একদিকে, সম্পর্কের নতুন সমীকরণ গড়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন কিছুটা তিক্ততার মুখে পড়লেও, সম্পূর্ণ ভেঙে যায়নি। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে হাসিনা সম্পর্কের বিষয়টি দুই দেশের কূটনীতিতে বড় বাধা হয়ে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ তাকে প্রত্যর্পত করতে চাইলেও ভারত মনে করছে নাว่า এটি সম্ভব। অন্যদিকে, ভারতও বুঝতে পারছে যে ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
Month: November 2025
-

হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চলে এসেছে। গত একবছরে বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ করলেও ভারত তাকে প্রত্যর্পণ না করে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ের বিশ্লেষকরা—মাইকেল কুগেলম্যান, শ্রীরাধা দত্ত এবং সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ—ভারতের সামনে বাস্তবতা, দ্ব›দ্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা দিক বিশ্লেষণ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি ভারত হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তবে এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে কী ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
-

ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩
দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের আইন আল-হিলওয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন ও বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও অনেক লোক গুরুতর আহত হয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার সময় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানার জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নিম্নে থেকে আরও হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
এই ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল শরণার্থী শিবিরের ভেতর থাকা সংঘটিত সদস্যদের, যারা স্বীকার করে থাকেন যে সেখানে হামাসের সক্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তারা বলেছে, এই হামলাটি হামাসের কার্যক্রমের জন্যতেই চালানো হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনারা বলেছে, তারা লেবাননে হামাসের উপস্থিতি ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও হুমকি দেখা দিলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
অন্যদিকে, হামাস এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তারা বলেছে, ইসরায়েলি এই হামলা ছিল নিরীহ শনিবার শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর বর্বরোচিত আঘাত এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের এক ন্যায়বিচারবিহীন লঙ্ঘন।
একই সময়ে, পশ্চিম তীরে গুশ এটজিওন জংশনে দুই ফিলিস্তিনি সন্দেহভাজনের ছুরিকাঘাত ও গাড়িচাপায় একজন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারী দুজনকে গুলি করে হত্যা করে।
ফিলিস্তিনি জরুরি সেবা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি, গাজায় এক আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়ার পর সেখানে আলাদা মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিছু ফিলিস্তিনি এই পরিস্থিতিকে গাজা থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক পুনর্বাসনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করে উঠেছেন, এই বাহিনী গাজায় নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের সূচনা করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের নেতৃবর্গ যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করতে এবং গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জর্ডানের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তার জন্য তাদের দৃঢ় অবস্থান।
উল্লেখ্য, লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা গত বছর শেষের দিকে বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধের রূপ নেয়। যদিও নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, লেবাননের পক্ষ অভিযোগ করছে যে ইসরায়েল প্রায়শই এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল লক্ষ্য ছিল ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার, কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়সীমা মানেনি।
-

গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব পাস, রাশিয়ার কড়া সতর্কতা
গাজায় শান্তি ফেরানোর নামে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে রাশিয়া রাজনৈতিক ও উপনিবেশিক মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছে। গত ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি রেজ্যুলেশন পাস করেছে, যেখানে গাজা অঞ্চলে এই আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করার প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে এর ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত ছিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানো হলেও রাশিয়া কেন ভোটদান থেকে বিরত থাকল, তা নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। রাশিয়ার জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া মনে করেন, এই প্রস্তাব স্বচ্ছতার অভাবে এবং ফিলিস্তিনিদের মতামত উপেক্ষা করে তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই নথি যেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অজুহাত হয়ে না দাঁড়ায়। ইসরাইল ও অবাধ পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উপর এই দলিল যেন নিজস্ব স্বার্থের জন্য ব্যবহৃত না হয়।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনাটি উপনিবেশিক যুগের চিন্তাভাবনার মতো, যেখানে ফিলিস্তিনিদের মতামত গুরুত্ব পেত না। তিনি আফসোস করে বলেন যে, এই প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী কীভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে কাজ করবে, সেই স্পষ্টতা নেই। তিনি মনে করেন, এই বাহিনী গাজার পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য নয় বরং আরও যুদ্ধোমুখী অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, রুশ দূত বলেন এই বাহিনী ‘রামাল্লার মতামত বা স্বায়ত্বশাসনকে বিবেচনা না করে স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করতে পারে।’ নতুন এই বাহিনীতে করোন তুরস্ক, কাতার ও মিসর ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত গাজার পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তার অজুহাতে এই বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প এই ভোটকে ‘ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ দাবি করে বলেছেন, আরও উত্তেজনাপূর্ণ ঘোষণা আসবে। অপর পাশে হামাস এই পরিকল্পনাকে চাপিয়ে দেওয়ার ‘আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে তারা কখনো অস্ত্র দেয়া বন্ধ করবে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সতর্ক করে বলা হয় যে, এই প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিপূরণের মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে।
-

সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের অনীহার জবাব
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশাল বৈঠকের পর সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তখনই এক সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যা মুহূর্তেই ট্রাম্পের মনোভাব বদলে দেয়। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জবাব দেন, এই ধরনের প্রশ্ন খাসোগির মতো বিতর্কিত ব্যক্তির প্রসঙ্গে করা হয় কারণ তিনি একজন পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন না। ট্রাম্পের মতে, এ ধরনের কথা বলায় যুবরাজ বিব্রত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান কিছুই জানতেন না। ট্রাম্পের ভাষ্য, খাসোগি একজন রাজনৈতিক অস্থির ব্যক্তি ছিলেন, যাকে অনেকেই পছন্দ করতেন না, এ জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য সৌদির যুবরাজের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগির মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে মার্কিন গোয়েন্দারা বলেছিলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই এই হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুবরাজ মোহাম্মদও নিজের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তাঁর প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
খাসোগির স্ত্রী হানান ট্রাম্পের এই ভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে যুবরাজের আগের মতামত সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৯ সালে একটি অনুষ্ঠানে নিজে খাসোগির হত্যার দায় স্বীকার করেছিল যুবরাজ। এক্স-এ (আগের টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের জন্য তারা যুবরাজের সঙ্গে দেখা করতে চান।
বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত হানান আরও জানান, খাসোগির স্ত্রী হিসেবে তিনি জীবনে সত্যের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
-

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই
দিঘলিয়া উপজেলায় সারাদিনব্যাপী নির্বাচনী ও জনসেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বিএনপির বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটেই ভুলে গিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি, আর সেই ভোটে জনগণের বিপ্লব হবে, ইনশাআল্লাহ।
বুধবার সকাল থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত দিঘলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, বৃক্ষরোপণ, পথসভা, মতবিনিময় ও নির্বাচনী প্রচার চালান তিনি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে আরুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে “একটি বাড়ি একটি গাছ, সবুজায়নের অঙ্গীকার” শ্লোগানে শিক্ষার্থীদের সাথে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে স্কুলে শিক্ষকদের সাথে বিশেষ আলাপচারিতায় বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে শিক্ষায় এবং পরিবেশের ক্ষেত্রে উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দুপুরে তিনি পূর্ব আমবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে আবারও বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেন। সাথে দূরবর্তী মাঠে মাধপুর ওয়ার্ডের নির্বাচনী পথসভায় বলেন, ভোটাধিকার থেকে দীর্ঘদিন মানুষ বঞ্চিত হলেও এবার ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে, বিএনপি হলো সাধারণ মানুষের দল। এ সময় তিনি confidently জানিয়েছেন, জনগণের রায় অনুযায়ী বিএনপি সরকার গঠন করবে।
দুপুর দেড়টায় রাধা মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবারো বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালানো হয়, যেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এরপরে তিনি কামারগাতী বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়, দোকানপঠে লিফলেট বিতরণ এবং নঈম মোল্লার কবর জিয়ারত করেন। লাখোহাটি বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের সাথে আলোচনা করেন, তাদের সমাধান ও উন্নয়নের বিষয়ে। বিকালে বারাকপুরে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উপভোগ করে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সন্ধ্যায় একটি মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় তিনি বলেন, রূপসা, দিঘলিয়া ও তেরখাদার মানুষদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে হবে। বিএনপি সরকার মার্কা হলে অবহেলিত এলাকা উন্নত, বেকারত্ব কমবে, আধুনিক সড়ক, ব্রিজ, হাসপাতাল ও অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দিঘলিয়া এক আধুনিক এলাকায় পরিণত হবে।
বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যেমন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোল্লা সাইফুর রহমান মিন্টু, অর্থাৎ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা।
-

খুলনা নদ-নদী থেকে অর্ধশতাধিক লাশ উদ্ধার, হত্যার রহস্য রহস্য উন্মোচন হয়নি
খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, দেশের মানুষের মধ্যে দেড় যুগ পর আবারও নির্বাচনের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ লকডাউনের নামে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, যা সরকারের ভিতরে থাকা স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী গ্রুপের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানান তিনি। আওয়ামী লীগ ইন্ধনে দেশের বিভিন্ন এলাকাতে অরাজকতা, নৈরাজ্য ও খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিক দিয়ে এগোচ্ছে়। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে গড়ে উঠা অন্ধকারাচ্ছন্ন ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের দ্বারা দেশবাসীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ এই সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ। এই মন্তব্য করেন তিনি, খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় শনিবার বিকালে এক বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা খুলনার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, খুন, ছিনতাই ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
-

মায়ের কোলই সন্তানের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, সন্তানের প্রথম শিক্ষা স্থানের নাম হলো মায়ের কোলে। সন্তানের ভালোবাসার স্পর্শে মায়ের চোখে যে অশ্রু ঝরে, তা অত্যন্ত মূল্যবান এবং অকৃত্রিম। গতকাল মঙ্গলবার সকালে খুলনার বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মা দিবসের উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মঞ্চে উঠে তাঁদের মায়েদের পা ধুয়ে দেয়, যা পুরো পরিবেশটিকে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্তে রূপান্তর করে। বকুল বলেন, মায়ের চোখের জল সাধারণ নয়; এটি ভালোবাসার অমূল্য প্রকাশ। একজন মা কতটা আবেগাপ্লুত হন তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অনন্য আয়োজন নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনে যত বড়ই হও না কেন, মনে রাখো যে প্রতিটি সাফল্যের পেছনে মা-ই থাকেন, তার ত্যাগ, দোয়াসহ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। শুধু মা দিবসেই নয়, প্রতিদিন মা কে সম্মান জানানো শিখো। বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগকে তিনি ‘যুগান্তকারী’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, যে সমাজে মায়ের সম্মান সর্বোচ্চ স্থান পায়, সেই সমাজ কখনও পিছিয়ে যেতে পারে না। অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা করেন। এতে অংশ নেন সহকারী প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, গার্ডিয়ানের সাবেক সভাপতি মৃধা জামাল হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও অভিভাবকগণ। এই কর্মসূচি পুরো পরিবেশে এক আবেগপূর্ণ ও আনন্দময় মুহূর্তে সম্পন্ন হয়। পরে রকিবুল ইসলাম বকুল দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৫ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এ সময় মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা উপস্থিত ছিলেন।
-

আমরা শান্তিময় বাংলাদেশ চাই
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার এবং ভবিষ্যত নির্বাচনকে বানচাল করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের উপর কখনো কোনো চাপ বা অঙ্গীকার মানা যায় না। দেশের সর্বোচ্চ সার্বভৌম শক্তি হলো জাতীয় সংসদ, যেখান দিয়ে মানুষ প্রার্থী নির্বাচন করে তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করে। জনগণ ভোটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ, যেখানে সকল মতের মানুষ اپنی মতামত সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটযন্ত্রের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম এড. মহসীন মোল্লা, সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম আব্দুস সাত্তার পিনু, সাবেক মন্ত্রী মরহুম এস এম আমজাদ হোসেন, মরহুম মমিন উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম টগর কাজী, এনজিও ব্যক্তিত্ব মরহুম কাজী ওহেদুজ্জামান সহ বেশ কিছু পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। পাশাপাশি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা খেজের আহমেদ, ক্রীড়া সংগঠক ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক ফকির রেজাউদ্দিন, জনকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের সুস্থতা কামনা করেন এবং দোয়া চান।
এ সময় তারা থানা, ওয়ার্ড, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। সাক্ষাৎকালে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সংকটময় সময়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদদের আত্মারা শান্তি পাবে, তাদের পরিবার পরিজনদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিদায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সবাই একত্রে কাজ করবে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদসহ আরও অনেক নেতাকর্মী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
-

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সাড়ে ১৩ হাজার টন চাল আমদানির নজির
ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে চালের আমদানি আবার শুরু হয়েছে। গত ২১ আগস্ট প্রথম চালান হিসেবে নয়টি ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর একে একে গত ৮৮ দিনে প্রায় ১৪৫টি চালান, মোট ১৩ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মোটা চাল বেনাপোল বন্দরে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে ৩৯৫টি ট্রাকের মাধ্যমে চাল আমদানি হয়েছে।
দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ সরকার সব বন্দর দিয়ে চাল আমদানি করতে অনুমতি দেয়। ফলে অগাস্টে ১২৬০ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বরেআ ৫ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন, অক্টোবারে ৫ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন আর নভেম্বরে ১৬৪৫ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়। আমদানির এসব চাল বেনাপোলের কাস্টমস হাউজে চার থেকে পাঁচটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কাজ করে চালের খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বাবলুর রহমান জানান, ‘চাল আমদানি শুরু থেকে আমরা কাস্টমসের মাধ্যমে চালের ছাড়করণের কাজ করে আসছি। ২১ আগস্ট থেকে আবার ভাইয়া এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে চালের আমদানি শুরু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাল আসার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে, তবে বিভিন্ন বন্দর দিয়ে চালের আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজার স্থিতিশীল। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে চালের দাম তেমন পরিবর্তনের কারণে উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই।’
বেনাপোল আমদানি রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মহসিন মিলন বলেন, ‘চাল আমদানির পরিমাণ গত আগস্ট থেকে বেড়ে গেছে। তবে বর্তমানে এটি কিছুটা কমে এসেছে। দেশের অন্য বন্দরে চালের আমদানি চালিয়ে গেলে বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে ও চালের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছে, ফলে বাজারে নতুন ধান আসার সঙ্গে করেও চালের দাম কমবে, যা বাজারের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।’
বেনাপোলের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, ‘তিন মাসে ভারত থেকে ১৪৫টি চালানে ট্রাকের মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন চাল বেনাপোল বন্দরে এসেছে। আমদানির চাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
