Month: October 2025

  • খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র-জনতার অবরোধ পূর্ণরূপে প্রত্যাহার

    খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র-জনতার অবরোধ পূর্ণরূপে প্রত্যাহার

    খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে জুম্ম ছাত্র-জনতার মিডিয়া সেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পুণ্যকর্ম সম্পাদন, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান এবং প্রশাসনের আংশিক আশ্বাসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সাম্প্রতিক নৃশংস গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ১ অক্টোবর বিশিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ দ্বিতীয় দফার আলোচনা করে। ঐ বৈঠকে তারা তাদের ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, হামলা-গ্রেফতারের অবসান, ধর্ষণের দুই আসামির গ্রেফতার ও বিচার, ভুক্তভোগী পরিবারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন, এবং আটক ব্যক্তিদের নি:শর্ত মুক্তি।

    অভ্যুত্থানের সূচনাতে ২৩ সেপ্টেম্বর এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসলে সড়ক অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি উত্তাল হয়। যদিও মেডিকেল পরীক্ষায় ওই কিশোরীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি, তার পরও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি শুরু হয়। এতে তিনজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়। জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অবরোধটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

  • আহমদ রফিককে শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা

    আহমদ রফিককে শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা

    শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে ভাষাসংগ্রামী, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য আহমদ রফিকের প্রতি শত শত মানুষ। শনিবার (অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে গেলে সেখানে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমী মানুষজন দল বেঁধে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি শহীদ মিনারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত জনতার উৎসাহের কারণে সঙ্গতিহীনভাবে ঘিরে ধরে তাদের। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার অবর্তমানে তারই letzten ইচ্ছে অনুযায়ী, মরদেহ বারডেম হাসপাতাল (ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ) দান করা হবে বলে জানানো হয়েছে ‘আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন’ থেকে। এই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শেষে তার মরদেহ ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। তাতে চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার কাজে বিশেষ সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং বুধবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক, তবে জীবনভর তিনি ছিলেন গবেষক, সাহিত্যিক ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ। তিনি দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে তার অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক সহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কলকাতার টেগর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি দিয়েছে। আহমদ রফিকের জন্ম ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তার স্ত্রীর মৃত্যু ২০০৬ সালে হয়, তবে তার কোনও সন্তান নেই। কবিতা, প্রবন্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসবিদ ও গবেষক হিসেবে তিনি দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ২০১৯ থেকে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে এবং পরে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। ২০২১ সালে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যাওয়ার পর শারীরিক পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদানের স্বীকৃতির অংশ হিসেবে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ তার চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় তার দুটি বই প্রকাশিত হয়, একটি সময় প্রকাশন থেকে ‘ভারত-পাকিস্তান বাংলাদেশ কথা’ এবং আরেকটি ‘শিল্প-সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য’ প্রবন্ধসংগ্রহ। এই কিংবদন্তি ব্যক্তি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।

  • ভারী বৃষ্টির কারণে ৩ বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা

    ভারী বৃষ্টির কারণে ৩ বিভাগে ৪৮ ঘণ্টার সতর্কবার্তা

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বড় ধরনের ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে। এই সময়ের মধ্যে দেশের তিন বিভাগে কোথাও মনে হতে পারে অতি ভারী বর্ষণ। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সংস্থাটির আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

    আবহাওয়া অফিস জানায়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে এসব অঞ্চলে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, আবার কিছু কিছু স্থানে ১৮৮ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার পর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ এলাকায়, পাশাপাশি ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং খুলনা বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী, এমনকি অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    অতিরিক্তভাবে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কিছুটা কমতে পারে।

    সূত্র: ঢাকা পোস্ট

  • স্কুল-কলেজে ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    স্কুল-কলেজে ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি

    দুর্গাপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষ্যে দেশের মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজগুলিতে ১২ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নির্ধারিত। এই ছুটি ২৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এবং আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। এর পরে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে আবারও শ্রেণি কার্যক্রম ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কিন্তু তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির মাঝে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৮ ও ৯ অক্টোবর কোনও পরীক্ষা নেওয়া যাবে না বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির ভুল ব্যাখ্যা করে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। এর ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার উপ-পরিচালক মো. ইউনুছ ফারুকী জানান, মূল নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মান্য হবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবারও ক্লাস ও পরীক্ষাসমূহ স্বাভাবিকভাবে চালু হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পরীক্ষার búইন না হওয়া দুই দিন নিশ্চিত করা, ছুটি বাড়ানো নয়। যারা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছেন, তারা ভুল করেছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা স্পষ্ট; যদি কেউ বিভ্রান্ত হন, তবে সরাসরি মাউশিতে যোগাযোগ করে সঠিক ব্যাখ্যা জানতে পারবেন।

  • বিজয়নগরে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, আহত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

    বিজয়নগরে অতিরিক্ত মদ্যপানে দুইজনের মৃত্যু, আহত তিনজন হাসপাতালে ভর্তি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে অ্যালকোহল সেবনের পরপরই ঘটেছে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় সৌরভ (২৩) ও শ্রীনিবাস (৭৪) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অজিত, সুমন ও পিন্টু নামে আরও তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    নিহত সৌরভ স্থানীয় বাসিন্দা সুদানাথের ছেলে এবং শ্রীনিবাস মৃত উকিল মালাকাতের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গভীর রাতে একের পর এক কয়েকজন সদস্য মদ্যপানে মত্ত হন। হঠাৎ করে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই শ্রীনিবাস মারা যান, এবং সৌরভকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে। তবে মৃত্যুর 정확 কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতালে অন্যরা চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

  • চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন

    চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন

    নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে অবগত করেছেন তার ছেলে ও নিসচা’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন জয়। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। কানাডার দূরবর্তী থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি জানান, তার বাবা এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি আরো বলেন, চলতি বছর শুরুতে ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যার মধ্যে কথা বলতে গিয়ে অসুবিধা ও মনে রাখতে গিয়ে সমস্যা ছিল। এর পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তার মাথায় টিউমার রয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন, তার মাথায় অপারেশন করতে হবে, যা অত্যন্ত সংকটজনক কারণ টিউমারটি ব্রেনের গভীরে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভের সঙ্গে সংযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে পরিবার লন্ডনে যোগাযোগ করে দ্রুত চিকিৎসার প্রস্তুতি নেয়। প্রথমে ঢাকার ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় এবং পরে তার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ২৬ এপ্রিলে তিনি ঢাকায় থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর থেকে নেদারল্যান্ডসের হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে সাই repousier নেয়া হয় এবং তিন মাস ব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর, ৫ আগস্ট উইলিংটন হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। ডাক্তাররা সতর্ক করেছেন যে পুরো টিউমারটিকে অপসারণ সম্ভব নয় এবং অপারেশনের ফলে তার জীবনঝুঁকি এবং চলনশক্তি, কথা বলার সক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আংশিক অস্ত্রোপচার করে টিউমারটির কিছু অংশ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ রেডিয়েশ ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করা হবে। এই চিকিৎসা চলাকালীন প্রত্যাশা করা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ৩০ দিন ধরে চলে এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ছয় সপ্তাহ চিকিৎসা চলবে। এর পরে চার সপ্তাহ তিনি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আশা করা হচ্ছে, তখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন। পরিবার ও চিকিৎসকদের এই কঠিন সময়ে সবাইকে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।

  • কাশ্মীরের বরেণ্য অভিনেত্রী কমলাশ্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন

    কাশ্মীরের বরেণ্য অভিনেত্রী কমলাশ্রী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন

    বছরের শেষের দিকে এক দুঃখজনক খবর শোনালেন কন্নড় বিনোদন জগতের জন্য। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কমলাশ্রী প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। নতুন প্রজন্মের মধ্যে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘গাট্টিমেলা’ শো-এর দাদী চরিত্রের জন্য, যা তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিয়েছে।

    কমলাশ্রী জীবনের দীর্ঘ আট দশক ধরে অভিনয় করেছেন—চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক, নাটক—all অঙ্গনেই তার অসামান্য উপস্থিতি। তিনি মঞ্চ নাটকের পরিচালক হিসেবেও প্রশংসিত। জীবনের শেষ দিকে তিনি স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, ক্যানসার 치료ে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বয়সজনিত কারণে ডাক্তাররা কেমোথেরাপি দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন, ফলে তিনি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন ব্যয়বহুল ওষুধের ওপর।

    অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও কখনোই তিনি শিল্পের কারো কাছে সহায়তা চাননি। মৃত্যুর কাছাকাছি থাকাকালীন এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি অন্যদের কষ্ট দিতে চাই না।’ তবে তার কঠিন সময়ে তাঁকে পাশে দাঁড়িয়েছেন তার কাছের বন্ধুরা, যেমন উমাশ্রী ও গিরিজা লোকেশ।

    বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কমলাশ্রী ছিলেন একাধারে থিয়েটার, সিনেমা ও টেলিভিশনের অভূতপূর্ব শিল্পী। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কাবেরী কন্নড় মিডিয়াম’ এবং ‘পাত্তেহদারি প্রতিভা’র মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর অভিনয় জীবনের এই অসাধারণ গুণাবলি এবং ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।

    বরেণ্য এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে কন্নড় ইন্ডাস্ট্রি গভীর শোক প্রকাশ করছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন তার সহকর্মী ও অনুরাগীরা। তাঁর স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

  • প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র

    প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র

    উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের এক কিংবদন্তি শিল্পী, বিশিষ্ট গণমাধ্যমশিল্পী ও সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র, ৯১ বছর বয়সে আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পরপারে পাড়ি জমালেন। তাঁর আকস্মিক এই প্রয়াণে ভারতের সংগীতাঙ্গনসহ বিশ্বব্যাপী সংগীতপ্রেমীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন, বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। ১১ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মির্জাপুর মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের একটি বিশেষ চিকিৎসক দল তার চিকিত্সা চলান।

    ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সংগীতজীবন শুরু হয় তিনি তার পিতা, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই গভীর আগ্রহে সংগীতের প্রতি বিমুগ্ধ হয়ে তিনি বাবার নির্দেশনায় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুশীলন শুরু করেন। দীর্ঘ জীবনকাল ধরে তার সংগ্রামী দক্ষতায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সমুজ্জ্বল করেছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত রাগ ও ভজনের উন্নতধারা দেশের নানা প্রান্তে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছে। ভারতের সংগীতবিশ্ব তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে সম্মান করে থাকেন।

    শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে ছান্নুলাল মিশ্রের অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ দান করেছেন, পাশাপাশি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের সংগীতকে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অক্লান্ত অবদানে সংগীতপ্রেমীদের মনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বিদ্যমান।

  • বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্মানিত গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের ৫৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি রকস্টার, যিনি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাসাহিত্যে এবং সংগীত জগতে অবিস্মরণীয় স্থান করে নিয়েছেন। তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে হলেও, আজ তিনি ভক্তদের কাছে ‘নগর বাউল’ নামে পরিচিত। প্রতিভার অপার বিকাশের মধ্য দিয়ে তিনি আজ ৬২ বছর পেরিয়ে ৬৩ বছরে প্রবেশ করেছেন।

    জেমসের জীবনকাহিনী একদিকে চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা, অন্যদিকে তার সফলতার গল্প অনুপ্রেরণাময়। সংগীতের প্রতি তাঁর প্রেম এবং প্রতিভা তাঁকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। তার গানে মনোহরা আবেগ, দৃঢ়তা ও স্বকীয়তা প্রতিটি শ্রোতার মনে দাগ কাটে। ভক্তদের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন শিল্পী নন, বরং গুরুরূপ।

    বয়সের সাথে সাথে এই রক লিজেন্ডের চিরতরুণত্বের রহস্য হলো তার অসীম আগ্রহ ও ভালোবাসা গানের প্রতি। আজকের এই দিনেও ঝাকড়া চুলে, গিটার হাতে তিনি অন كالীন রূপে এক নতুন জাদু সৃষ্টি করেন। তার বয়স তার কাছে কেবলমাত্র একটা সংখ্যা; আজও গানে গানে তিনি ভক্তদের মাতোয়ারা করে থাকেন।

    জেমসের জীবনযাত্রার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর এবং অনুপ্রেরণামূলক। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি দুর্বার আগ্রহ জন্মায় তার মধ্যে, কিন্তু পরিবারের পছন্দ ও প্রত্যাশা আলাদা থাকায় তিনি সংগীতের পথে চলে যান। বাবার সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে গিয়ে তার সংগীতের পথচলা শুরু হয়।

    ১৯৮০ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন, যেখানে তিনি নিজে গিটার ও ভোকাল দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম আলবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়, তবে এই অ্যালবাম তখন দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার ‘অনন্যা’ অ্যালবাম, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তাকে সংগীত অঙ্গনে নতুন উচ্চতা প্রদান করে।

    এরপর তার বিকাশ অব্যাহত থাকে—১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘কলেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো ব্যাপক স্বীকৃতি পায়। এছাড়াও তার অন্যান্য অ্যালবামগুলির মধ্যে রয়েছে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, ও ‘কাল যমুনা’।

    অ্যালবাম গানে ছাড়িয়ে তিনি চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করেছেন, যেখানে তিনি ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি সিনেমায় কিছু জনপ্রিয় গান গেয়ে তিলমাত্র ভক্তে-শ্রোতাদের মন জয় করেছেন। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো) ও ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানগুলি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। দেশের চলচ্চিত্র ‘সত্তা’তেও গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনটি জে়মসের জন্য শুধু জন্মদিন নয়, বরং তার অজস্র গীতিনাট্য ও সুরের উৎসব। তার জীবন সংগ্রাম, সংগ্রহ ও অসীম ভালোবাসা সংগীতের মাধ্যমে আমাদের প্রেরণা দিতে থাকে। তিনি অবিরত অগণিত মানুষের হৃদয়ে যুগের পর যুগ প্রেম ও শ্রদ্ধার স্থান করে রাখতে থাকবেন।

  • সালমান-ঐশ্বরিয়ার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

    সালমান-ঐশ্বরিয়ার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

    অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, ওই ধরনের রেডিও, ইউটিউব বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লিঙ্ক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক আরও বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অন্য প্রকার প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ যাতে হয়, তার জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা জরুরি। এর ফলে শুধু ব্যক্তিগত মানহানি রোধই হয় না, বরং ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা ও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। এর মাধ্যমে বলিউডের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।