Month: October 2025

  • ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল, অখণ্ডতা ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওএসডি ৪৯৭১ কর্মী

    ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল, অখণ্ডতা ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওএসডি ৪৯৭১ কর্মী

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দাবি এনে ২০০ জন কর্মীকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪ হাজার ৯৭১ জন কর্মীকে ওএসডি (অফ সার্ভিস ডিউটি) করে দেওয়া হয়েছে। ওএসডি হওয়া এই কর্মীরা বেতন-ভাতা পান, তবে তারা আপাতত কোনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

    অফিসিয়াল কেউ কেউ জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের নিয়ন্ত্রণে আশার পর থেকে ব্যাংকের ভিতরে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয় দুই হাজারের বেশি কর্মীকে, যেখানে কোনো লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্তই ছিলেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা, ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অঞ্চলের আঞ্চলিক।

    একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, “এস আলম গ্রুপের সময়ে অযোগ্য কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকের স্বার্থে ক্ষতি করা হয়েছে। এরপর থেকেই আমরা সবাই যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।” গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ও হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। যেখানে ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে অংশ নেওয়ার জন্য বলা হলেও, মাত্র ৪১৪ জন উপস্থিত হন। যারা উপস্থিত হননি, তাদের প্রত্যেকের জন্য পরদিন থেকেই ওএসডি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, পরীক্ষা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ও বিরোধিতা ছড়ানোর ঘটনাতেও ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    ওএসডি হওয়া কর্মীরা অভিযোগ করেন, তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করার পর আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষার নির্দেশ দিলেও, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বেআইনি ভাবে আলাদা যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা আয়োজন করে। তারা এখন আদালতের সহায়তা চেয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “এ ধরনের কর্মী ছাঁটাই দেশের মধ্যে প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভাইভা নেওয়া হয়, কিন্তু এই পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মীদের মান যাচাই এর বিষয়টি নতুন একটি অভিজ্ঞতা।“ তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একভিন্নপ্রকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। নিয়োগ ও কর্মীর মান যাচাই অধিকার তাদের হলেও আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী করতেই হবে।“

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আনার পর থেকে ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা সরানো হয়। এর ফলে ব্যাংক গভীর আর্থিক সংকটে পড়ে। ২০২৪ সালে সরকারের পরিবর্তনের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল আনে, যাতে এস আলমের প্রভাব কমানো যায়।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের, অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো মানের সোনার প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) মূল্য আগেই বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা, যা আগের তুলনায় ২২২৫ টাকা বেশি। এই দাম আগামী মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে ঠিক সেই সময়, যখন স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দাম কিছুটা কমে গেছে।

  • পাচার হওয়া অর্থের বেশিরভাগই ফেরত আনা সম্ভব ফেব্রুয়ারির মধ্যে: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের বেশিরভাগই ফেরত আনা সম্ভব ফেব্রুয়ারির মধ্যে: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে, দেশে থেকে পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদিও তিনি এখনো নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের কথা বলেননি। আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে, তারা যদি জানতে চান যে, ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাচার হওয়া অর্থ কি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তিনি বলেন, যারা এই অর্থ পাচার করে, তারা এই বিষয়গুলো খুব ভালো জানে। তবে এটি ফিরিয়ে আনতে কিছু সময় লাগবে এবং কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, আশা করছেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কিছু অর্থ ফেরত আসতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই প্রক্রিয়ার কোনো অংশই বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। সরকার যদি চাই, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকেও টাকা দেওয়া যায়, তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

    সালেহউদ্দিন জানান, বর্তমানে ১১-১২টি মামলা বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে এবং উচ্চমূল্যের অর্থের জন্য নিয়মিত নজরদারি চলছে। তিনি বলেন, ২০০ কোটি টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে অনেকেই ধরা পড়েছেন।

    নতুন সরকারের ধারাবাহিকতা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে, তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের জন্য এটি বাধ্যতামূলক যাতে নির্দিষ্ট প্রসেসগুলো চালু থাকে না থাকলে অর্থ ফেরত আনা কঠিন হয়ে যাবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই পদ্ধতিগুলো আন্তর্জাতিক মানের পরিচ্ছন্নতা ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে, অন্যথায় অর্থ ফেরত আনা সম্ভব নয়।

    অর্থের পরিমাণ কত হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেই প্রশ্ন করতে হবে।

    কিছুদিন আগে অর্থ পাচার থাকলেও এখনো কিছু অর্থ পাচার হচ্ছে বলে খবর রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই এক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই বিদেশের বিভিন্ন দেশে অর্থের অ্যাসেট ফ্রিজ করা হয়েছে। কোথায় কত টাকা আছে, তাদের পাসপোর্টের তথ্যসহ সব কিছু জানা রয়েছে। এই কাজের জন্য প্রয়োজন আরো কিছু সময়।

    অতিরিক্ত বরাদ্দ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব প্রকল্পের বরাদ্দ বহু পুরোনো।

    বিবিএস এর রিপোর্টের অনুযায়ী, দেশের দশটি পরিবারের মধ্যে তিনটিরই পুষ্টিহীনতা বা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সমস্যা রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কিছুটা পুষ্টিহীনতা রয়েছে, বিশেষ করে শিশুরা ও মায়েদের মধ্যে। তিনি জানান, এই সমস্যা মোকাবিলায় চেষ্টা চলছে। ভিজিএফ ও স্পেশাল ট্রাকের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, আরো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কাল থেকে জেলেদের জন্য মাছ ধরা বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে, এ সময়টায় তাদের জন্য ২০ কেজি আপেক্ষিক খাবার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলছেন, আমাদের খাদ্য এখনো সুষম নয়; চালের ওপর বেশি ডিপেন্ডেন্সি থাকলেও অন্যান্য খাবারের অ্যাকসেস কম। অতএব, আমিষের প্রয়োজন রয়েছে, যার মধ্যে ডিম গুরুত্বপূর্ণ—যেখানে অনেকেই এখনো সেটি কিনতে পারছেন না।

  • ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি ছাড়া

    ইসলামী ব্যাংকে আরও ২০০ কর্মীর চাকরি ছাড়া

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার অবতারণা করছে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, ইসলামী ব্যাংক। চাকরি বিধি লঙ্ঘন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ এ মাসে একসঙ্গে আরো ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এই দ্বিতীয় দফার ছাঁটাই চলতি সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে মোট ৪০০ কর্মী এখন আর ব্যাংকের সঙ্গে নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেছেন, এমন ব্যাপক পরিসরে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান আগে নজরে আসেনি।

    অন্যদিকে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ হলো কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। সম্প্রতি ঢাকার শাহবাগের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এর মাধ্যমে কর্মীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ৪১৪ জন কর্মী, এর মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকি ৫০ জনের জন্য পুনর্মূল্যায়নের জন্য ট্রেনিং দেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীকে “বিশেষ দায়িত্বে সংযুক্ত” (ওএসডি) করে রাখা হয়েছে।

    অধিকাংশ সূত্র জানিয়েছে, চাকরি হারানো কর্মীদের মধ্যে কেবল অযোগ্যতার জন্য নয়, বরং পরীক্ষার সময় সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার, সহকর্মীদের বাধা ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া, ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ইসলামি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকেই অনেকদের সরাসরি সিভি ভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার স্থানীয়দের নিয়োগ বেশি। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি কর্মীই ওই অঞ্চলের বাসিন্দা।

    অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং তাদের দক্ষতা যাচাই ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এই শুদ্ধি কার্যক্রম যেন স্বচ্ছ ও যোগ্যতা অনুযায়ী হয়ে থাকে, সেটি আমাদের লক্ষ্য।

  • চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ

    চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ৪ শতাংশ। তবে, ২০২৬ সালের শেষে এই প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। যদিও পোশাক রপ্তানি এখনো স্থিতিশীল, তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এখনো লক্ষণীয়, এর মূল কারণ হলো চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা। পাশাপাশি, বারবার বন্যা, শিল্পকর্মশিল্প শ্রমিক বিরোধ এবং ক্রমাগত উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কিছুটা কমে গেছে।

  • ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের সংগ্রাম চলবে

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের সংগ্রাম চলবে

    সারা বিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সহকারী মহাসচিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ফিলিস্তিনসহ এই অঞ্চলের মুক্তি এবং স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবে এবং এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আজ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের আয়োজন করে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশে গাজায় ত্রাণবাহী একটি নৌবহরকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করার পর আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়। বিশ্বে একের পর এক গণহত্যা ও নারী-শিশু হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংসভাবে হামলা চালিয়ে নারীদের ও শিশুদের ওপর বিরম্ন্যসহ গণহত্যা চালাচ্ছে, যা মানবতার জন্য ভয়ঙ্কর এক বিপদ। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছে। অনেক দেশের মত বাংলাদেশও ইসরায়েলি এই নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু শক্তিধর দেশ ছোট্ট ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে এইধরনের নৃশংসতা চালাতে সহায়তা করছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অনতিবিলম্বে ফিলিস্তিন স্বাধীনতা অর্জন করবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করেন— দয়া করে ইসরায়েলি দখলদারদের হাত থেকে অবিলম্বে ফিলিস্তিনের অঞ্চল মুক্ত করার উদ্যোগ নিন, ত্রাণবাহী জাহাজের কর্মীদের মুক্তি দিন। বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা ও পক্ষের শক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যতদিন না ফিলিস্তিন মুক্তি পাবে, ততদিন মুসলমানদের সংগ্রাম ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এই বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর গণপরিষদ সচিব মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর স্পেন, ইতালি ও গ্রিসের নৌযান যোগে মুক্তির জন্য রোদের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনী বুধবার ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই নৌবহরকে আটক করে। এতে প্রায় ৪০টি মানবিক সহায়তাযুক্ত বেসামরিক জাহাজ আটক হয়, যারা খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য মানবিক সাহায্য গাজাবাসীর জন্য বহন করছিল। এই নৌবহরে ছিল বিভিন্ন দেশের ৪০০-এর বেশি অধিকারকর্মী, পার্লামেন্ট সদস্য, চিকিৎসক ও সাংবাদিক। সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনী এই নৌবহরকে জলদস্যুরূপে বিবেচনা করে অবিলম্বে আটক করে। তুরস্ক এই ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি জলদস্যুতা, যারা জাতিসংঘ ও বাংলাদেশসহ বিশ্বস্বীকৃত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সকলকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে।

  • শিগগিরই প্রতিটি আসনে একক প্রার্থীর জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন

    শিগগিরই প্রতিটি আসনে একক প্রার্থীর জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন

    বাংলাদেশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্ব সহকারে চোখে পড়ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এর কথা। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই প্রতিটি নির্বাচনী আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ‘গ্রীন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। গত শুক্রবার (৩ অক্টোম্বর) রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির অনেক আসনে বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। কিছু কিছু আসনে নির্দিষ্ট করে ১০ থেকে ১২ জনের মতো প্রার্থীও রয়েছে। বাছাই প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। এতে দলের মনোভাব পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে যে, তারা জোড়া প্রার্থী বা বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একত্রিত করার পরিকল্পনা করছে।

    এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি জোট গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি কোনও বিষয় ছাড়া এমন কিছু সামনে আনা উচিত নয় যা জাতীয় জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, গণতন্ত্র রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও, তারা সবাই একসূত্রে বাঁধা থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভাগের খোলাসা করে দিয়ে বলে, সব বিপদ কাটিয়ে উঠলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। বরং তারা দিল্লিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের উচিত এখনই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা।

  • গণঅধিকার ও এনসিপি ক্ষতিগ্রস্ত: রাশেদ খান

    গণঅধিকার ও এনসিপি ক্ষতিগ্রস্ত: রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদে সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেছেন, জামায়াত ও শিবিরের নানা অন্য দলগুলিতে নিজেদের কর্মী যুক্ত করার রাজনীতির কারণে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খান বলেন, “জামায়াত এবং শিবিরের অন্য দলে নিজেদের লোকবলের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতিকালে এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের সংগঠন গুলোর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপি। এই দুই তরুণ দলসহ অন্যান্য সংগঠনে নিজেদের লোকজন যুক্ত করে তারা সংগঠনগুলোর মধ্যে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করছে, বিভাজন বাড়াচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে পরিচয় প্রকাশ না করেই তাদের সংগঠনে যুক্ত করার প্রবণতা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেও বাধাগ্রস্ত করছে। এই নীতির কারণে সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের এই কার্যকলাপ এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সুদিনের সময়।” রাশেদ খান বলেন, “যদি জামায়াত-শিবির বাংলাদেশে মধ্যপন্থী রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে, সেটাকে অবশ্যই স্বাগত জানাতে হবে। তবে তাদের পুরো রাজনীতি হোক প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। অন্যথায়, দলের মধ্যে বিভেদ বাড়বে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং বিরাজনীতির সৃষ্টি হবে।” তিনি সতর্ক করেন, “দেশের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জামায়াত-শিবিরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইসলামকে রাজনীতিতে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। বর্তমানে জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতি মধ্যপন্থী ধারায় চলে আসছে। এই ধারার সঙ্গে ইসলামকে যুক্ত করলে মানুষ ভুল মেসেজ পাবে। ইসলামিক দল গঠনের নামে এমন কৌশল অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার, কারণ এতে দেশের সম্পূর্ণ সিস্টেম বিপর্যস্ত হবে ও বিরাজনীতির সৃষ্টি হবে।” শেষ তিনি প্রার্থনা করেন, “সম্প্রদায়ের সবাই আল্লাহর রহমতে এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পান, আমিন।”

  • ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, একসাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দরজা খুলতে চাই জামায়াতে ইসলামী

    ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, একসাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দরজা খুলতে চাই জামায়াতে ইসলামী

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ মুসলমান। অবশিষ্টরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তবে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, আমরা ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করার পক্ষে নই। বরং আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতির স্বপ্ন দেখি।

    আজ শনিবার (০৪ অক্টোবর) দুপুর ১১টায় মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির উদ্যোগে দেশের বিশিষ্ট দাঈ ও ওয়ায়েজ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

    জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছি। পৃথিবীতে কিছু দেশের মধ্যে সম্প্রীতির বিচিত্র দৃষ্টান্ত রয়েছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ বিশেষ এক স্থানে অধিষ্ঠিত।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় এই দেশের সূচনা করেছি। অন্য ধর্মের অনুসারীরা কি এমন করে থাকেননি? সবাই আল্লাহর ইচ্ছায় এই ভূখণ্ডে জন্ম নিয়েছেন। মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মমত থাকা স্বাভাবিক, কারণ আল্লাহ মানুষকে বিচার, বিবেক ও বিবেচনা করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ তাদের বিবেক ও ধর্মের ভিত্তিতে পথ নির্বাচন করে।

    দাঈদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, আল্লাহের শাশ্বত বিধান, খতেমুন নাবিয়্যিন মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ ও দাওয়াহ আমাদের অনুসরণ করতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে যা সত্য ও রোশনাময়, তা বাস্তবায়নে আমাদের নিজেদের নমুনা রাখতে হবে, অন্যকেও আহ্বান জানাতে হবে। কারণ মানুষ সমাজে বাস করে এবং একান্ত নিজস্ব জীবন চালাতে না পারলে সমাজ অশান্ত ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

    তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশে উপস্থিত সবাই মানুষের কল্যাণের দিকে মনোযোগী হয়ে সমাজকে সুন্দর, সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ করে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) জনজাতির প্রতি যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা আমাদের সবাইকে মানতে হবে এবং দাওয়াহ কার্যক্রমের মাধ্যমেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাই যদি একসাথে এ পথ অনুসরণ করে, তাহলে দেশের ভেতরে ধর্মীয় বিভাজন ও বিভ্রান্তি দূর করে একটি সংঘবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা যাবে।

  • রিজভী: জনগণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নতুন ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলছে

    রিজভী: জনগণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য নতুন ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলছে

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ শনিবার (০৪ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নতুন করে কিছু ইস্যু তৈরি করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি জনগণের সত্য জানা থেকে বিরত রাখার এক চাল, যা তাদের ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চায়।

    রিজভী বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, ভ্রান্ত তথ্য ও অমূলক পরিসংখ্যান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়—কারণ এখন মানুষ সবাই তাদের চেনেন। তিনি মনে করেন, সত্যের পথে মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।

    অভিযোগ করে তিনি জানান, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ধর্ম ভিত্তিক দলের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সমাজের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। রিজভী আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়ে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হবে, মানুষ সেটির জন্য প্রস্তুত। আগের মতো ডামি বা ভুয়া নির্বাচন আর মানুষের হাতে থাকবে না।’

    এছাড়াও তিনি ভারতের পূজামণ্ডপে ডক্টর ইউনূসের উপর আক্রমণের সমালোচনা করেন, এটিকে দেশটির নিম্নরুচির প্রকাশ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনা দেশের সংস্কৃতি ও মানসিকতার জন্য হতাশার।