ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ সমর্থন বন্ধ না করে, তবে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান হারাতে হতে পারে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজস্থানের অনুপগড়ে একটি সেনা পোস্টে বক্তৃতা দিতে গিয়ে দ্বিবেদী এমন কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুর ১.০-তে আমাদের যে সংযম দেখিয়েছিলাম, এবার তা বজায় রাখব না। এবার আমি এমন কিছু করব, যা পাকিস্তানকে ভাবতে বাধ্য করবে তারা কি আসলে তাদের ভূগোলের স্থান রাখতে চায় কি না। যদি তারা সত্যিই তাদের স্থান ধরে রাখতে চায়, তাহলে তাদের অবশ্যই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে।’ এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ কথার পাশাপাশি জানানো হয় যে, শীর্ষ জেনারেল শুধু হুঁশিয়ারিই দেননি, বরং সৈন্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা হলে আপনাদের শিগগিরই একটি সুযোগ দেওয়া হবে। শুভকামনা।’ এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বিবেদীর এই হুঁশিয়ারি এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিংয়ের আগের দিনকার মন্তব্যের পর আসে। ভারতের সেনাপ্রধান আরও বলেন, অপারেশন সিন্দুরের সময় ভারতের লক্ষ্য ছিল নিরীহ মানুষকে ক্ষতি না পৌঁছানো এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস না করা। তবে তারা সন্ত্রাসীদের আস্থান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের নির্মূলের উপর জোর দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই অভিযানে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর F-16 এবং JF-17 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষ থামানোর জন্য পাকিস্তানই বাগডাক দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়। এছাড়া, তিনি বলেন, ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাকিস্তানি অভিযোগ ভেতর থেকে মিথ্যা প্রচার, যা সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছিল, যা স্পষ্ট করে দেয়, ১০ মে সংঘর্ষ বিরতিতে আসার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ নয়, বরং পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই শান্তির আহ্বান ছিল। ভারতের এই বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, পেহেলগামে সন্ত্রাসীদের অধিনস্ত জবাবে ভারতীয় সেনারা পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি নিশূলভাবে আঘাত করে। এতে বিশ্ব দেখেছে ভারতের শক্তি ও নির্ভুলতা, যা তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করে। এচিফ মার্শাল আরও বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুরের সময় অসংখ্য নিরীহ প্রাণের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে থাকলেও, আমরা লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছি। আমরা ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি, যার পর পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছে।’ তিনি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন এবং জানান, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ১০০ ঘণ্টার সংঘাতে পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত বা ধ্বংস করেছে। তবে গত চার মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলছেন, তিনি ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জাতিসংঘের মহাসম্মেলনে, বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে, এমনকি গত বুধবার মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত এবং পাকিস্তান লড়াই করছিল। আমি দু’পক্ষকে ফোন করে শান্তির পথ দেখিয়েছি এবং বর্তমানে বাণিজ্য ইস্যু ব্যবহার করে এই সংঘাত বন্ধের চেষ্টা চলছে।’ প্রসঙ্গত, গত মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলার পর দুই দেশ দ্রুত যুদ্ধের ঝুঁকিতে পৌঁছে গিয়েছিল। উভয় দেশের আকাশে হামলা চালানো হয়েছে, বহু যুদ্ধবিমান ভুপাতিতের দাবি ওঠে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপ এবং উভয় দেশের মধ্যে বোঝাপড়ার ফলস্বরূপ ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
Month: October 2025
-

গাজায় সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখন স্থগিত রয়েছে। এই খবর জানিয়েছে কয়েকটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। সেখানে বলা হয়, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় নতুন করে বোমাবর্ষণ না করার আহ্বান জানানোর পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আইডিএফ-কে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই নির্দেশ পালন করে।
আগ্নেয়াস্ত্রের খবর বলছে, যদিও হামলা বন্ধ করা হয়েছে, তবে পুরোপুরি গাজা অভিযান বন্ধ হয়নি। বেতার সংবাদমাধ্যম আর্মি রেডিও জানিয়েছে, সেনারা গাজায় তাদের অভিযান কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন তারা হামলা, বোমা বর্ষণ ও গোলাবর্ষণ বন্ধ রেখেছে, তবে অবস্থান ও টহল অব্যাহত রাখেনি।
গত সপ্তাহে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধের অবসানের জন্য ২০টি পয়েন্টের একটি নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এই পরিকল্পনায় তিনি হামাসের সাথে আলোচনা চালানোর জন্য প্রস্তাব দেন। যদিও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস এই পরিকল্পনায় সাড়া দেয়নি।
গত শুক্রবার ট্রাম্প হামাসকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যদি রোববারের মধ্যে তারা সাড়া না দেয়, তবে গাজায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এই আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাসের উচ্চপর্যায়ের নেতারা জানায় যে, তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। তারা বলেছে, তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য রাজি।
হামাসের এই সাড়া পাওয়ার পর ট্রাম্প আবার ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানান। এই ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতি আসে, যেখানে বলা হয় তারা গাজায় যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে ট্রাম্পের নেতৃত্বে সমর্থন ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
-

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথমবার মুসলিম নারী মন্ত্রী নিযুক্ত
থাই রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পালা বদল ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল তাঁর মন্ত্রিসভায় জুবাইদা থাইসেতকে সংস্কৃতি মন্ত্রীর পদে নিযুক্ত করেছেন। এটি ছিলো ইতিহাসের প্রথম নজির, যখন কোনো মুসলিম নারী সম্পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এক নতুন দিক নির্দেশ করছে।
প্রধানমন্ত্রী চানভিরাকুলের উদ্দেশ্য হলো একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা গঠন, যেখানে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। জুবাইদা থাইসেত শিক্ষাজীবনে যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের আসাম্পশন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার পিতা চাদা থাইসেত প্রাক্তন একজন মন্ত্রী ও প্রাদেশিক রাজনীতিবিদ, যার ধারাবাহিকতা চলমান। তাঁর এই নিয়োগ দক্ষিণ থাইল্যান্ডে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণের দ্বিগুণ দায়িত্ব গ্রহণ করছে। জুবাইদার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞতা ব্যাবহার করে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ভাষাগত সমৃদ্ধি এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক দিক দিয়েও তার দক্ষতা শিল্প ও সাংস্কৃতিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য সহায়ক হবে, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক পর্যটনকে প্রসারিত করতে। এই পদোন্নতি থাইল্যান্ডের মুসলিম নারী ও তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি জুবাইদা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে ভবিষ্যতে নারীর রাজনীতি এবং প্রশাসনে অংশগ্রহণ আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এটি সমাজে নারীর ভূমিকা বুঝতে ও গ্রহণে এক স্বাভাবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
-

ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির নামে ভয়াবহ গণহত্যার প্রস্তুতি সতর্কবার্তা
দখলদার ইসরাইলি বাহিনী দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির নামে গাজায় আরও ভয়াবহ গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি। তিনি এক এক্সে পোস্টে বলেন, এখন পর্যন্ত গাজায় গত কয়েক দিনেই মারা গেছেন ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
লাজ্জারিনি জানিয়েছেন, আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার অবরুদ্ধ বাসিন্দার উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। এটি খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি ও মানবিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি দেখা যাচ্ছে। এর মাঝেই ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান এই নতুন সতর্কবার্তা দিলেন।
তিনি আরও বলেন, কাউকে বেসামরিক নাগরিক হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চলমান এই অপরাধের জন্য জবাবদিহি চাইতে হবে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ইতিমধ্যেই বলছে, এখানে গণহত্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বারবার অপরাধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লাজ্জারিনির এই সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতিসংঘের এক উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা থেকে সবচেয়ে তীব্র সতর্কবাণী। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অন্ধকারের ছাপ ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতীতে গত বুধবার ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছিল, ইসরায়েলি সেনারা গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনকে হত্যা করছে। পাশাপাশি অনাহার ও চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন।
জোটবিরতি ও মানবিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান অপরাধের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নথিভুক্ত করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনতে হবে ও মনোযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, গাজায় কোনো নিরাপত্তা নেই।
জেনেভায় ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি একেবারেই বিপর্যয়কর। তিনি বলেন, আকাশ থেকে বোমা ফেলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্বাচিত স্কুলগুলো নিয়মিত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। তাঁবু ও অন্যান্য আশ্রয়স্থলগুলোও বিমান হামলার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।
-

২০২৬ সালে সম্ভাব্য রমজানের তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৪৪৩ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের সূচনা কবে হবে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির মতে, রমজান শুরুর বেশ কিছু দিন আগে থেকেই দেখা যাবে চাঁদ। বর্তমানে তাদের অংকন অনুযায়ী, রমজান শুরু হতে এখনো ১৩৯ দিন বাকি।
সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা ০১ মিনিটে চাঁদ দেখা যাবে। তবে সূর্যাস্তের পর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই চাঁদ অস্ত গেলে সেদিন সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না।
অতএব, চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন হবে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। এই তারিখটি প্রাথমিক গণনা অনুসারে সর্বসম্মত ও সম্ভাব্য।
এছাড়াও, আল জারওয়ান মধ্যপ্রাচ্যের রোজা ও আবহাওয়া সংক্রান্ত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রমজানের শুরুতে, বিশেষ করে আবুধাবিতে, রোজা রাখার সময়কাল হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষে এসে এই সময় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে পৌঁছাবে। এমন পরিস্থিতিতে, দিনের আলোর সময়কাল প্রথমে ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে শেষে ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিটে দাঁড়াবে।
সূত্র: গালফ নিউজ
-

খুলনা ছাত্রনেতা কামালের সাহসী আন্দোলন ছিল সরব
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, এস এম কামাল হোসেন ছিলেন একজন সাহসী, সত্, মেধাবী ও বলিষ্ঠ ছাত্রনেতা। তিনি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথের একজন সরব নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কামালের শিকড় গভীরে জড়িত—কোথাও তিনি ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষে উঠে এসেছেন এই ছাত্রনেতা, যার শেষ কর্মস্থল ছিল কেন্দ্রীয় সংসদে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। তার মেধা এবং বিচক্ষণতা ছাত্রদলকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সময়ে এস এম কামাল হোসেনের মতো সাহসী ছাত্রনেতার খুবই অভাব, যাকে পূরণ করা কার্যত সম্ভব নয়। অন্দোলন ও সংগ্রামের রাজপথে তার বিচরণ ছিল জোরালো এবং অপ্রতিরোধ্য।
তিনি এই কথা বলেন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ তেতুলতলা, সোনাডাঙ্গা থানার বিএনপি কার্যালয়ে, ছাত্রদল খুলনার আয়োজনে এক আলোচনা সভায়। এই অনুষ্ঠানে উপলক্ষ্য ছিল মহান নেতা এস এম কামাল হোসেনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি আরও বলেন, বারবার কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখে থাকা কামাল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের শতাধিক মামলার কেস কাঁধে নিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। আমরা সবাই কামালের বিদেহী আত্মার জন্য কামনা করি শান্তি ও বরকত, আর তার পরিবারের জন্য ধৈর্য্য ধরে সব পরিস্থিতি মোকাবেলার তৌফিক আল্লাহ থেকে প্রার্থনা করি। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার।
অতিথি ও বক্তৃতাক্রমে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক রাজিবুল আলম বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সান্নু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, আসলাম হোসেন, ইফতেখার জামান নবীন, শামীম আশরাফ ও মরহুম কামাল হোসেনের ভাতিজা তামিম হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেখ মোশাররফ হোসেন, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, মহিবুজ্জামান কচি, এড. গোলাম মওলা, আনোয়ার হোসেন, সাদিকুর রহমান সবুজ, গিয়াস উদ্দিন বনি, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, রফিকুল ইসলাম শুকুর, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, ইশহাক তালুকদার, আকরাম হোসেন খোকন, সরদার রবিউল ইসলাম রবি, মেজাবাহ্ উদ্দিন মিজু, মহিউদ্দিন টারজান, বাচ্চু মীর, ওমর ফারুক, মাহবুব হোসেন, মিজানুজ্জামান তাজ, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, মুন্সি আব্দুর রব, রিয়াজুর রহমান, এড. ওমর ফারুক বনি, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, গোলাম নবী ডালু, আলম হাওলাদার, মোহাম্মাদ আলী, শাকিল আহমেদ, মোটা ফিরোজ আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন, মনিরুল ইসলাম, মুজিবর রহমান, সৈয়দ গাজী, মামুনুর রহমান, মোল্লা আলী আহমেদ, পারভেজ মোড়ল, সেলিম বড় মিয়া, শামীম রেজা, ওহাব শরীফ, জামাল মোড়ল, সজল আকন নাসিব, শামসুল আলম বাদল, রুহুল আমিন রাসেল, ইউনুচ শেখ, আবু দাউদ খান, হুমায়ুন কবির, তরিকুল আলম, সাইফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, খান মোঃ ফয়সাল, শেখ ফরিদ, খলিল পারভেজ, মাসুদ রানা, মিজান সরদার, মিরাজুল ইসলাম, আসাদ সানা, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মাসুদ পারভেজ, রিফাত, মামুনুর রহমান রাসেল, লাল মিয়া, জুয়েল রহমান, জীবন মীর, হারুন হেলাল, অপু হোসেন, শফিউদ্দিন শফি, খোকন হাওলাদার, বেলাল ব্যাপারী, রফিক খান, ইমরান খান, আমজাদ হোসেন রাজু, শহিদুল ইসলাম, শেখ বাবুল, ফয়সাল বাদশা, তৌহিদুল ইসলাম, মহিউদ্দিন মঈন, সৈয়দ রুবেল, নাইমুল ইসলাম নাঈম, সজল, সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, সৈয়দ শাহজাহান, সৈয়দ বনি, শাহিন হাওলাদার, বিপ্লব, কামরুল প্রমুখ।
-

ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে বাগেরহাটের কেবি বাজারে উপচে পড়া ভিড়
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনব্যাপী মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এই সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও মজুদ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা ইলিশের পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই শেষ সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মাছ বাজার বাগেরহাটের কেবি বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে জেলেদের অভিযোগ, এ বছর ইলিশের দেখা খুব কম, ফলে দাম অনেকটাই আকাশচুম্বী। সন্ধ্যা থেকে বাজার জুড়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের যখন হাঁকডাক শুরু হয়, তখন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ট্রলার থেকে নামানো ইলিশ উন্মুক্ত নিলাম পদ্ধতিতে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ সরাসরি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। রাত ১২টার মধ্যে চলবে এই ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া। বাজারে ওজন অনুযায়ী ইলিশের দাম বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে—এক কেজি ভারী ইলিশের দাম ২৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১৫শ’ থেকে ২০শ’ টাকা কেজি দরে, আবার কিছু ছোট আকারের ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এই বাজারে ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মাছও বিক্রি হচ্ছে—তুলার ডাটি, রুপচাঁদা, ঢেলাচ্যালা, কঙ্কোন, চিতল, লইট্টা, জাবাসহ বেশ কিছু মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, কারণ দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেক ক্রেতা বলছেন, তারা মাছ কিনতে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয় তানজিম শেখ বলেন, “বাচ্চাদের জন্য ইলিশ কেনার জন্য এসেছিলাম, কিন্তু দাম এত বেশি যে কিনতে পারছি না।” অন্য এক ক্রেতা নওরেশুজ্জামান লালন জানান, “৩ হাজার টাকার এক কেজি ইলিশ এখন খুবই অস্বাভাবিক, এতো দামে কে মাছ কিনবে?” মরিয়ম বেগম নামে এক নারী বলেন, “শেষ সময়ে মনে করেছিলাম দাম কমবে, তাই আসছিলাম। কিন্তু দাম এত বেশি করছিল যে আমি ৮শ’ টাকায় একটি ছোট ইলিশ কিনেছি, কারণ বাচ্চাদের জন্য প্রয়োজন ছিল।” ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলেরা মাছ কম পেয়ে যাচ্ছে এবং খরচের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় দাম ওঠচে গেছে। বাগেরহাটের মাছ বাজার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি শেখ আবেদ আলী বলেন, “এবার খুব কম মাছ এসেছে, বেশিরভাগ ট্রলার মালিকের ক্ষতি হচ্ছে। আমদানি কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।” অন্যদিকে, জেলেরা বলছেন, এখনই মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত সময়, যদি আরও দশ দিন ধরে মাছ ধরা চালিয়ে যেতে পারত, তবে ভালো মাছ পাওয়া যেত। ইব্রাহিম হাজি নামে এক জেলে জানান, “২৭ সেপ্টেম্বর সাগরে গিয়েছিলাম, কিন্তু ভালো মাছ পাইনি। অবরোধের কারণে এখন মাছ ধরা বন্ধ। অনেক দিন ধরেই মাছ ধরা ব্যাহত, খরচের টাকাই উঠছে না। কী করব বুঝতে পারছি না।” অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা মৎস্য বিভাগ সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারা জেলেদের এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে সভা, সেমিনার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়াও, কোস্টগার্ড, বন বিভাগ, র্যাব, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর নদী, মোহনা ও সমুদ্রে টহল জোরদার করেছে যাতে করে কেউ এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় সমুদ্র, সমুদ্রে মোহনা, নদী ও নদীর মোহনায় মাছ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ইলিশ সংরক্ষণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনও বন্ধ থাকবে। কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার রাজ বলেন, “এটাই ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়ে যদি আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি, তাহলে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা এর জন্য সবরকম চেষ্টা করছি।”**
-

রাজপথের সাহসী ছাত্রনেতা কামাল স্মরণে শোকসভা
খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন ছিলেন দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। রাজনীতির ক্রান্তিকালে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। কামালে মতো নেতৃত্বের দরকার আজকের রাজনীতিতে। তিনি পরিবারের একজন কর্মঠ মানুষ ছিলেন, এবং তার মৃত্যুতে পরিবার যখন একজন অভিভাবক হারিয়েছে, তখন দলও একজন সাহসী নেতা হারিয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ ও দোয়া অনুষ্ঠান বড়ই শোকের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, এস এম কামাল হোসেন খুলনার সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজে পড়াশোনা করতে গিয়ে ১৯৯৫ সালে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে পা রাখেন। একই বছরে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে তিনি ১৯৯৮ সালে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ২০০১ সালে সভাপতি, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, ২০১৪ সালে সরকারি বিএল কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় শতাধিক রাজনৈতিক মামলা ছিল। সাবেক ছাত্রনেতা ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমানের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তৃতা করেন আরও নানা নেতা-কর্মী। উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রনেতা ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর রাতে বুকে ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪২ বছর।
-

সেপ্টেম্বরে ৪৪৬ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৭ জন
গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে মোট ৪৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৭ জন আর আহত হয়েছেন ৬৮২ জন। নিহতের মধ্যে নারী রয়েছেন ৬৩ জন এবং শিশু ৪৭ জন। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে, যা এই মাসের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির এক বিস্তারিত চিত্র উপস্থাপন করে।
প্রতিবেতনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাসজুড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ১৫১টি ঘটনায় ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট নিহতের প্রায় ৩৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৩.৮৫ শতাংশ। পাশাপাশি, পথচলা সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন ১১২ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ২৭ শতাংশ। যানচালকদের মধ্যে ৫৬ জন নিহত হয়েছেন, যা ১৩.৪২ শতাংশ।
অন্যদিকে, এই সময়ে ১৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটে ২৯টি, এতে ২৭ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনা প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় ও স্থানেঘটেছে। সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা সকালবেলা, ২৩.৫৪ শতাংশ রাতে, দুপুরে ২০.৬২ শতাংশ, বিকেলে ১০.৭৬ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৭.১৭ শতাংশ এবং ভোরে ৭.৮৪ শতাংশ।
ভূগোলের ভিত্তিতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার যথাক্রমে উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রাম জেলা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ৫২টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে মাগুরায়।
নিহতদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা, শ্রমিক, কৃষি প্রভৃতি পেশাজীবীর সংখ্যাও উল্লেখ্য। জনপ্রিয় পেশার মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থী।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, খারাপ রাস্তাঘাট, অবাধ বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, অনুসরণীয় ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি ও অব্যবস্থাপনা।
উপসংহারে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা কমাতে নানা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, চালকদের কর্মঘণ্টা ও বেতন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ভালো করার জন্য সার্ভিস রোড ও ডিভাইডার নির্মাণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা, রেল ও নৌপথের উন্নয়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ ও টেকসই পরিবহন অবকাঠামো বাস্তবায়ন। এই সব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা আরও উন্নত করা সম্ভব বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
-

পতিত সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে: বকুল
বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল মন্তব্য করেছেন, আমাদের দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান রোটারি স্কুল খুলনা বিভাগে মাধ্যমিক শিক্ষার ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুণগত মানের জন্য খ্যাত। এই বিদ্যালয়ের সফলতা ও বর্তমান শিক্ষকদের নিবেদিতপ্রাণ পরিশ্রমের ফলেই আজ এটি সবার বেশি স্বীকৃতি পায়। তবে দুঃখজনক পরিস্থিতি হলো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো হয়নি। তা ছাড়া, অব্যাহতভাবে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পনামাফিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। তারা সম্ভবত জাতিকে অজ্ঞ ও অন্ধ রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শুক্রবার সকালে খুলনা শহরের ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
১৯৭৫ সালে ১ জানুয়ারি এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়। এর নিজস্ব ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসে ৫০ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলার স্মরণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, গন্যমান্য ব্যক্তিরা। বকুল আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ, বৃহৎ খেলার মাঠ ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীতকরণসহ শিক্ষা জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজ্জামান বীরপ্রতীক (অবঃ), প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সাদু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আলী বাবু। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদি। দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শুক্রবার ছিল সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
