Month: October 2025

  • জান্নাতের টিকিট বিক্রেতাদের সতর্কতা জরুরি

    জান্নাতের টিকিট বিক্রেতাদের সতর্কতা জরুরি

    মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে ঘরে ঘরে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। জনগণকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে rằng বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল, যা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, যারা সাধারণ মানুষকে ভোটের আশ্বাস দিয়ে জাল টিকিট দিচ্ছে—এরা আসলে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এই সব বিক্রেতাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শফিকুল আলম তুহিন আরও বলেন, এই দেশের জনগণ বহু আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণ They’ve অনেক বার বুঝিয়ে দিয়েছে যে, স্বৈরাচারী শক্তির কাছে তাদের মাথা নত করবে না। তাই ধানের শীষের বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতীক নয়; এটা হলো গণতন্ত্রের বিজয় ও জনগণের মুক্তির নিশ্চয়তা। তিনি উল্লেখ করেন, খুলনা বিএনপি’র ঘাঁটি। এখানকার জনগণ আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং সব সময় গণতন্ত্রের পক্ষে থেকেছে। তাই তারা আবারও ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবে- এই নগরীর মানুষ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না।

    সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, ইকবাল বাপ্পি, আবুল আবুল ওয়ারা, মীর মোসলে উদ্দিন বাবর, মক্কার মীর, কাজী নুর মোহাম্মদ, মীর মোসলেউদ্দিন বাবর, এনামুল কোভিদ, হাওলাদার শফিকুল ইসলাম, মোল্লা মিজান, আবুল কালাম সাবু, খন্দকার আজাদ, মাসুদ পারভেজ বাবু, সাবু খন্দকার, শামসুল হুদা জাহিদ, গোলাম রসুল রনি, আমিন হোসেন মিঠু, মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান, রিপন সিকদার, নুর আলম, সুলতানা পারভিন রজনী, ফারহানা আক্তার লিপি ও রেশমা আক্তার প্রমুখ।

  • নগর বিএনপির সভাপতি মনার প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির বার্তা

    নগর বিএনপির সভাপতি মনার প্রতিমা বিসর্জনে সম্প্রীতির বার্তা

    শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে খুলনা নগরীতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও আনন্দের পরিবেশ। জেলখানা ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, যা সম্প্রীতির এক সুন্দর বার্তা দিয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং এই আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি বলেন, আমরা সবাই এই দেশে বাস করি, যেখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে একটি সম্প্রদায় হয়ে থাকি। আজকের দুর্গাপূজা যেমন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, একইভাবে প্রতিমা বিসর্জনও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে আমাদের বিশ্বাস। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতেও যে কোনো ধর্মীয় উৎসবে সবাই একসঙ্গে থাকবে এবং সহযোগিতা করবে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধরে রাখার লক্ষ্যে তিনি আহ্বান জানান। শফিকুল আলম মনা বলেন, “আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে ধর্মের বিভাজন থাকবে না। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক, এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠের পার্থক্য নেই। সবার সমান অধিকার ও সুযোগ থাকা এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।” তাঁদের উপস্থিত ছিলেন খুলনা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, বিশ্বজিৎ দে মিঠু, বিপ্লব মিত্র, ভবেশ সাহা, পাপ্পু সরকার, ধনরঞ্জন সাহা বাপ্পি, রতন বণিক, সুশীল দাসসহ বিভিন্ন মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক নেতাকর্মীরা। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শফিকুল আলম মনা বলেন, “তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রমে দুর্গাপূজা সফলভাবে আয়োজন করেছেন। বিএনপি সব সময় তাদের পাশে থাকবে।” প্রতিমা বিসর্জনের পর রূপসা নদীসহ বিভিন্ন ঘাটে ভক্তরা আবেগপূর্ণ পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায়। ঢাক ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। আনন্দ ও অভিমান মিশ্রিত এই বিদায়বেলায় ভক্তরা ভবিষ্যতে আবার দেবী দুর্গার আগমন ও শুভ বার্তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

  • নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, ঘাটে ফিরেছে ইলিশ শূন্য শত শত ট্রলার

    নিম্নচাপে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, ঘাটে ফিরেছে ইলিশ শূন্য শত শত ট্রলার

    উত্তাল বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপে দেশে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিনীর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইলিশে ভরপুর বঙ্গোপসাগর এখন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মুখোমুখি। গভীর নি¤œচাপের প্রভাবে প্রবল ঝড়ো বাতাস শুরু হওয়ায় সাগরে মাছ ধরা কর্মক্ষম ট্রলারগুলো দ্রুত কূলে ফিরে আসতে শুরু করে। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাতে বাগেরহাটের শরণখোলার শতাধিক বড় ট্রলার, যারা ইলিশ শিকার করছিল, তারা নিরাপদে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে পৌঁছে গেছে। ছোটবড় মিলিয়ে আরো একশোটির মতো ট্রলারও এখন পথে, যারা দ্রুত ঘাটে ফিরবে বলে প্রত্যাশা করছে মাছের আকাল ও আবহাওয়ার কারণে। এই পরিস্থিতিতে অতীতের মতো ইলিশ ধরা সম্ভব না হওয়ায়, জেলেরা এবং মাছ ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, এই মুহূর্তে প্রচুর ইলিশ থাকলেও আবহাওয়ার কারণে অনেক ট্রলারই লাইসেন্সের আওতায় এসে চলে আসছে। বিশ্লেষকদের ধারনা, এবারের বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেক ট্রলারই এই ট্রিপে মাছ ধরতে পারেনি বা খুব কম মাছ পেয়েছে, ফলে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। জানাজানি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে শেষ ট্রিপে অনেক জেলে অনিশ্চিত আশা নিয়ে সাগরে পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু মেঘের রোষে, ঝোড়ো বাতাসে তাদের মাছ ধরা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড়ের কারণে জেলেরা দ্রুত জাল তুলে সাগর থেকে উঠে আসে। বেশিরভাগ ট্রলার আজ বা কাল কূলে ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংঘটিত ট্রলার মালিক ও আড়ৎদাররা। শরণখোলার বড় ট্রলারগুলো, যেগুলো গভীর সাগরে মাছ ধরতে পাঠানো হয়, বেশিরভাগই এ বার ধরা পড়েনি। অন্যদিকে, ছোট জালের ট্রলারগুলোতে ইলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা বলে মনে করা হচ্ছে লাভজনক হতে পারে। শরণখোলা সমুদ্রগামী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন বলেছেন, এই বছর ইলিশের উপস্থিতি তেমন নেই, তাই বেশিরভাগ ট্রলার ও আড়ৎদার ক্ষতির মুখোমুখি। আজ বা কাল ফিরছে ট্রলারগুলো, কিন্তু নানা কারণে অধিকাংশেরই চালান মধুর ফল দিতে পারছে না। মাতৃ ইলিশ রক্ষা প্রকল্পের আওতায় এই শনিবার থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, মজুদ ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলে জানান শরণখোলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার। জানানো হয়, শরণখোলায় বর্তমানে ৬৮০০ এর বেশি নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যার মধ্যে ৪৫০০ জন ইলিশ মাছ ধরা নিয়ে নিবিড় কাজ করেন। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে রিচার্জভিত্তিক চাল দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অসুবিধায় না পড়েন। ফলে সরকারি এই পদক্ষেপে মাছ প্রজনন ও আহরণ বাধা করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে মাছের সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে প্রশাসন।

  • খান এ সবুর মহিলা মাদ্রাসায় অভিভাবক নির্বাচন নিয়ে অধ্যক্ষের লুকোচুরি

    খান এ সবুর মহিলা মাদ্রাসায় অভিভাবক নির্বাচন নিয়ে অধ্যক্ষের লুকোচুরি

    নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত খান এ সবুর মহিলা ফাযিল (ডিগ্রি) মডেল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়ে নানা অস্পষ্টতা ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় অধ্যক্ষ মো. ছালেহ আহমেদ সাধারণ অভিভাবকদের যথাযথভাবে অবগত না করে, ভোটার তালিকা ও তালিকার মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা সরবরাহ না করে গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। এর ফলে, পছন্দের প্রার্থীকে ভোটে জেতানোর জন্য তিনি বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় প্রায় ৯၆৭ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

    সূত্রমতে, শারদীয় দুর্গা পূজার ছুটির মধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে আগামীকাল শনিবার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যের নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হলেও, নির্বাচনের পূর্বে অভিভাবকদের জন্য কোনো সভা আহবান বা অবহিত করা হয়নি। শেষ মুহূর্তে, আশিকুজ্জামান শেখ নামের একজনকে এলাকা ও শিক্ষামূলক সমর্থন থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, তাদেরকে নির্বাচনের বিষয়ে কোন ধরনের তথ্য দেয়া হয়নি, এবং অধ্যক্ষ নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বসানোর জন্য এই গোপনীয়তা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণ অভিভাবকদের পক্ষে নির্বাচনের জন্য দাবি জানানো হয়েছে লুকোচুরির অবসান ঘটানোর এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সভা ডেকে সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠানের।

    প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী এসএম জাহিদুল করিম পিন্টু অভিযোগ করেন, তাদের দেয়া ভোটার তালিকায় কোনও শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর নেই, ফলে ভোটের সময় যোগাযোগ বা সমর্থন জানানো সম্ভব নয়।

    অবশেষে, খানের এ সবুর মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ছালেহ আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ধরনের লুকোচুরি বা তদ্বিরের কিছু নেই। তিনি জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের জন্য নির্বাচন সম্পর্কিত নোটিশ নিজে দিয়ে এসেছেন এবং তিনি কোনো পক্ষে বিবেচিত নন। এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম ছায়েদুর রহমানের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।

  • রূপসায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ও চারজন আহত

    রূপসায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা ও চারজন আহত

    ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রূপসা উপজেলার জাবুসা চৌরাস্তা এলাকার জাবুসা গ্যাস পাম্পের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পাঁচজন আহত হন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঠাকুরপুরের থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাটি সাড়ে দশটার দিকে ঘটে। তখন জাবুসা মিলন মন্দির থেকে দূর্গা প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের জন্য আসা মন্দিরের নেতৃবৃন্দ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা রূপসা নদীর দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে খুলনাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস একটি অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে রূপসা বাসস্ট্যান্ড পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আমিনুল (৩৭), আনসার সদস্য তামিম হোসেন (২৫), গ্রাম পুলিশ ওদুদ (২৮), মন্দিরের পূজারী সুপ্রিয়া রায় (৪৫) এবং মলয় রায় (৪২) আহত হন। আহতদের মধ্যে আনসার সদস্য তামিমের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ সময় হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে আটক করেছে।

  • ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি ব্যাপক কর্মচারী ছাঁটাই ঘোষণা করেছে। শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০ জন কর্মীকে সরাসরি চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া এ কর্মীরা এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তবে তারা বর্তমানে কোনও দায়িত্বে থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানাতো, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকে অখাদ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি সিভি দেখে বেশ সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল নিবাস এই অঞ্চল।

    একজন সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “এস আলম গ্রুপের সময়ে অযোগ্য লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়েছিল। এখন আমরা সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায় অনুসারে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে আহ্বান জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশগ্রহণ করেন। বাকি ৪, সুপ্রিমাম ৪,৯৭১ জনকে পরদিন থেকেই ওএসডি ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও গণপ্রতিবেদনে বিরোধিতা করার জন্যও ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    ওএসডি হওয়া ওই কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সে নির্দেশ উপেক্ষা করে আলাদা যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা আয়োজন করে, যা বেআইনি। তারা এখন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “এ ধরনের ছাঁটাই সাধারণত দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভিএবাই নেওয়া হয়, তবে কর্মীদের মান যাচাইয়ের এই পদ্ধতি নতুন।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ বা কর্মীদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। তবে এটি অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালার মধ্যে থাকতে হবে।”

    অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা ব্যাংকটির জন্য গভীর আর্থিক সংকটের কারণ হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণাধীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে এস আলমের প্রভাব দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

  • সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দামে আবারও রেকর্ড, ভরি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বেশি

    বাংলাদেশের বাজারে আবারও সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। দেশের শৈলীর মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬ গ্রাম) দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। ফলে এখন এই মানের সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকায়। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে, বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর পেছনে মূল কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার দামের বৃদ্ধির প্রভাব।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, ২৪ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছিল। তখন এক ভরি ভালো মানের সোনার মূল্য ছিল ১৯৪,৮৫৯ টাকা, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২৮ সেপ্টেম্বর সেই মূল্য কিছুটা কমে আসে। এখন আবার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দামে ২ হাজার ৪১৫ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের ভরি দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ হাজার ৯৭১ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ হাজার ৬৮০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৭২৫ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৯ টাকা, যা ১ হাজার ৮৯০ টাকা কমে। সেইসঙ্গে অন্যান্য ক্যাটাগরির দামও কমে বসে।

    এছাড়া, রুপার দামের পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২০৮ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ২২৮ টাকা। তবে, এই দামগুলোর মধ্যে আশা করা যায়, ভবিষ্যতেও দাম পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকবে।

  • পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

    পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের বাইরে থেকে পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এখনো কত টাকা ফেরত আসবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকরা জানতে চান, কি পরিমাণ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব, উত্তরে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যারা টাকা পাচার করে, তারা অত্যন্ত চালাক। কিভাবে এটা আনা যায়, সে বিষয়ে তারা নানা বুদ্ধি খুঁজে বের করে। টাকা ফেরত আনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশাপ্রকাশ করেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে কিছু অর্থ ফিরে আসতে পারে। বাকি অর্থের জন্য সরকারি প্রস্তুতি চলছে।

    তিনি বলেন, এই ধরনের ফরমালিটির কোনো সরকার এড়াতে পারে না। আমি বলেছিলাম—টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকে—এমন দাবি করা হয়, তাহলে অবশ্যই দিতে হবে। কারণ, এ অর্থ লিগাল ওয়েতে যাওয়া জরুরি। ইতিমধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ১১-১২টি বিষয় বেশ হাইপ্রোফাইল মনে হচ্ছে, যেখানে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ২০০ কোটি টাকার বেশি জরিমানা বা অভিযোগ রয়েছে।

    নতুন সরকার এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে বাধ্য, বলেন তিনি, কারণ কেবল তখনই টাকা ফেরত আনা সম্ভব। যদি সরকার এসব প্রক্রিয়া চালু রাখে, তবে দেশের অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায়, অর্থ ফেরত আনার কিছুই হবে না।

    তিনি বলেন, এর জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সরাসরি অর্থ পাঠানোর বা অন্য কোনো সহজ পদ্ধতি এড়ানো জরুরি। বিদেশে থাকা অর্থের ব্যাপারে সাধারণত লাখ লাখ টাকা বা ডলার সরবরাহের জন্য কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা তিনি জানাতে অস্বীকৃতি জানান ও জানান, এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রশ্ন করতে।

    এ সময় তিনি জানান, এখনও কিছু অর্থ পাচার হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত রিপোর্ট আসার পরে তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে কিছু অ্যাসেট বা অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পাচারের অর্থের বিষয়ে তথ্য রয়েছে, কোন দেশে তার পাসপোর্ট বা অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেটিও দেখা হচ্ছে।

    অর্থনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি, কিছু অভিযোগ উঠেছে যে উপদেষ্টা এলাকায় বরাদ্দ বেশি দেওয়া হয়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়, কারণ প্রজেক্টগুলো অনেক পুরোনো।

    কর্তৃপক্ষ এক গবেষণায় জানিয়েছে, দেশের ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটিই খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন। সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কিছু খাদ্যঘাটতি আছে, বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের ক্ষেত্রে।

    সরকার খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভিজিএফ ও স্পেশাল ট্রেকের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। জেলেদের জন্য কয়েক দিন থেকে মাছ ধরা বন্ধ, এবং তাদের জন্য ২০ কেজি করে খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, আমাদের লক্ষ্য হল সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, যেখানে ডিম ও অন্যান্য আমিষের যোগান বাড়ানো হবে, কারণ এগুলোর ক্রয় ক্ষমতা কিছুটা কম। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি কমানোর কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।

  • ইসলামী ব্যাংকের আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল

    ইসলামী ব্যাংকের আরও ২০০ কর্মীর চাকরি বাতিল

    নজিরবিহীন শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকে। শাসক বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একসঙ্গে আরও ২০০ কর্মীকে বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই ছাঁটাইয়ের কার্যক্রম চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি কর্মীর চাকরি হারিয়েছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার মতে, এই ধরনের নজিরবিহীন ছাঁটাই হলো এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কী শুধুমাত্র দক্ষতা যাচাই ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ‘বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ এই অভিযান শুরু করার মূল কারণ বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছেন। ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪১৪ জন কর্মী, যার মধ্যে ৮৮ শতাংশ বা ৩৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাকিরা—প্রায় ৫০ জন—তাদের কর্মক্ষমতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে আপাতত ওএসডি (বিশেষ দায়িত্ব ছাড়া সংযুক্ত) হিসেবে বা অন্য কাজে স্থগিত রাখা হয়েছে।

    ব্যাংকের একাধিক সূত্রের দাবি, চাকরি বাতিল করা কর্মীদের মধ্যে কেবল অযোগ্যতার কারণেই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সহকর্মীদের মধ্যে অংশগ্রহণে বাধা ও ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে চাকরি হারাতে হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর থেকে নানা অনিয়ম শুরু হয়। ওই সময় হঠাৎ করে অনেককে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি সিভি দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশিরভাগই ছিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দাদের। বর্তমানে দেখা গেছে, এর ফলে ব্যাংকের কর্মীদের অর্ধেকের বেশি এখন প্রায়ই এই অঞ্চলের বাসিন্দা।

    ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. কামাল উদ্দীন জসীম জানান, আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে ছাঁটাই করা নয়, বরং দক্ষতা যাচাই ও নিয়মের মধ্যে আনা। তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা এবং দুর্বল কর্মীদের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

  • চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নতির প্রত্যাশা

    চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নতির প্রত্যাশা

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে, আগামী ২০২৬ সালের শেষে এটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদিও পোশাক রপ্তানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তারপরও দেশের অর্থনীতির ধীর গতির মূল কারণ হচ্ছে চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন। পাশাপাশি বারবার বন্যা, শ্রমশক্তির বিরোধ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে গেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনটিতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    এডিবি বলছে, ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও পুরোপুরি পরিলক্ষিত হয়নি এবং ব্যাংকিং খাতের কিছু দুর্বলতা বিদ্যমান। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অটুট অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। ২০২৬ সালের অর্থবছর নিয়ে কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়ে গেছে, যেমন বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও নীতি পরিস্থিতির অস্থিরতা। তাই সমন্বিত বৈঠকি অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

    এছাড়াও, এডিবি জানিয়েছে, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব, বাজারের তথ্যের অপ্রতুলতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা ও মুদ্রার দুর্বলতায় ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫) দেশের মোট জিডিপির সংক্ষিপ্ততম সামান্য উদ্বৃত্ত থাকবে, যা ২০২৪ অর্থবছরের ১.৫ শতাংশ ঘাটতির চেয়ে বেশি। এটি দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৃহৎ বাণিজ্য ঘাটতির সংকোচনের ফল।