Month: October 2025

  • সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    সাইফের র‍্যাঙ্কিং লাফ ও অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড: এশিয়া কাপের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন

    গত কিছু বছর ধরে বাংলার তরুণ ক্রিকেটার সাইফ হাসানের নাম টি-টোয়েন্টির অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও সম্প্রতি তিনি এই আধিপত্য আরও শক্ত করে নিয়েছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি তিন ধাপ উন্নতি করে অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছেন। তবে এর আগে চার ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি, যা তার ক্রিকেটীয় অভিযাত্রায় এক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হয়।

    অন্যদিকে, হার্দিক পাণ্ডিয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। দুই নম্বরে থাকা হার্দিক বর্তমানে চার ধাপ নিচে অবস্থান করছেন, তার চেয়ে শীর্ষে থাকা সাইম আইয়ুবের থেকে আট ধাপ পিছিয়ে। পাকিস্তানের মোহাম্মদ নাওয়াজ আরও চার ধাপ এগিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছেন। শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালাঙ্কা তিন ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সের কারণে এসব ক্রিকেটার তাঁদের র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন।

    ব্যাটিং ক্ষেত্রে ভারতের অভিষেক শর্মা রীতিমতো নজর কেড়েছেন। তিনি এক অসাধারণ রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হাফ-সেঞ্চুরি করে তাঁর রেটিং পৌঁছে গেছে ৯৩১ পয়েন্টে—যা টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই রেকর্ড আগে ছিল ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের (৯১৯ পয়েন্ট, ২০২০ সালে)। এই বিশাল অর্জনটি তাঁর সতীর্থ সূর্যকুমার যাদব ও বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে গেছে। ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করলে এত দ্রুত তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকা হিসেবে উঠছেন।

    এশিয়া কাপের দর্শনীয় পারফরম্যান্সে তিনি ৩১৪ রান করে গড়ে ৪৪.৮৫’র কাছাকাছি। এর জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার পুরস্কারও জিতেছেন। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের থেকে ৮২ রেটিং পয়েন্টে এগিয়ে থাকছেন। অন্যদিকে, ভারতের তিলক ভার্মা তৃতীয়, শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা পঞ্চম, এবং কুশল পেরেরা নবম স্থানে অবস্থান করছেন।

    ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাংলাদেশের সাইফ হাসানও বড় উত্থান করেছেন। তিনি ৪৫ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬তম স্থানে আছেন, তাঁর রেটিং ৫৫৫ পয়েন্ট। গত সপ্তাহে তিনি এই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৩ ধাপ এগিয়েছিলেন।

    বোলারদের ক্ষেত্রে রিশাদ হোসেন ৬ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে পৌঁছেছেন। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান ১৩তম স্থানে উন্নীত হয়েছেন। ভারতের সঞ্জু স্যামসন ৩১তম স্থানে অবস্থান করছেন। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী এখনও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তিনি সাত উইকেট নেওয়ার পরেও সেই পজিশন ধরে রেখেছেন। ভারতের কুলদীপ যাদব নয় ধাপ এগিয়ে ১২তম, পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদি ১২ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ১৩তম স্থানে আছেন।

    এরকম এশিয়া কাপের পারফরম্যান্স নতুন রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে; ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখলেন একজন তরুণ ক্রিকেটারের এক সুপারউৎকর্ষের গল্প ও কিছু রেকর্ডের নতুন ইতিহাস।

  • বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত আসিফ আকবর

    বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত আসিফ আকবর

    আগামী ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের নির্ধারিত দিন। এর আগে, আজ বুধবার (০১ অক্টোবর), প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এই দিন পর্যন্ত, বিকেল ১২টায়, বেশ কিছু প্রার্থী নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তামিম ইকবালসহ মোট ১৬ জন।

    চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে মীর হেলাল উদ্দিন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলে, সেখানে কেউ অন্য কোন প্রার্থী থাকেননি। ফলে, সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গায়ক ও ক্রিকেট প্রেমী আসিফ আকবর পরিচালক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অধীনে। সেখানে একইভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন আহসান ইকবাল চৌধুরী।

    প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় চমক ছিলেন তামিম ইকবাল, যিনি এক সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন সফল অধিনায়ক। আরও বেশ কয়েকজন বিএনপিপন্থী ক্রীড়া সংগঠকের পাশাপাশি, বড় বড় প্রার্থিরা নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে সাঈদ ইব্রাহিম, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ বোরহানুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম বাবু যেমন উল্লেখযোগ্য।

    আসিফ আকবর যেমন কণ্ঠশিল্পী, তেমনি তার ক্রিকেটের সাথে যোগ রয়েছে পুরনো। তিনি অতীতে ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট খেলেছেন। শিল্পী হওয়ার আগে তিনি কুমিল্লার ক্রিকেট পাড়ায় এক পরিচিত মুখ ছিলেন।

    বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজ কনসার্টে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। সফর শেষে, এ মাসের শেষদিকে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার বিজয়টি শিল্পীর জনপ্রিয়তা ও ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতিফলন।

  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাপুটে জয়, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো টাইগ্রেসরা

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাপুটে জয়, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো টাইগ্রেসরা

    বাংলাদেশি বোলারদের প্রবল আক্রমণে পাকিস্তানি ব্যাটাররা শতরান করতেও পারেননি। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানদুই তরুণ স্পিনার দেশীয় ঘূর্ণিতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সহজে পাঠিয়েছেন সাজঘরে। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দর্শকরা অভিভূত হয়েছেন। বিশেষ করে রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, তার দুর্দান্ত ফিফটিতে ১১৩ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পরিণত হয়েছেন। এই জয়ে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।

    কলম্বোতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৩৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৯ রান সংগ্রহ করে তারা। দলের সর্বোচ্চ রান! ২৩। তারা যখন বড় সংগ্রহের জন্য সংগ্রাম করছিল, ঠিক তখনই বাংলাদেশের পেসার মারুফার প্রবল সুইং ও গতিতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দেন। প্রথম ওভারেই ডাবল স্ট্রাইক করেন, ওমাইমাকে বোল্ড করেন। পরের বলেই ফর্মে থাকা সিধরা আমিনের স্টাম্প ভেঙে দেন। ফলে, পাকিস্তানের শুরু থেকেই দুর্দশা শুরু হয়।

    পাকিস্তানের হয়ে মুনিবা আলি ও রামিন শামিম কিছু বল লড়াই চালিয়ে যান, তবে তারা কোনোমতে দলের দেখাশোনা করেন। মুনিবা ৩৫ বলে ১৭ রান করেন, আর শামিম ২৩ রান করে ফিরে যান নাহিদার হাতে। ২ রানে ২ উইকেটের বিপর্যয় পাকিস্তানের জন্য ভয়ংকর।

    তবে সেখানে বাংলাদেশি বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। মারুফা প্রথম ওভারে দারুণ সুইং দেখিয়ে সিধরা আমিন ও ওমাইমাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর নিয়মিত ছন্দে বোলিং করে পাকিস্তানকে পিছু হঠান। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্বর্ণা আক্তার, তিনিই ৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইনিংসের সেরা বোলার। এছাড়া মারুফা ও নাহিদা দুটি করে উইকেট শিকার করেন, অনেকে ছিলেন শুভাকাঙ্ক্ষী।

    পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য্য ও সাহস খুব একটা কাজে লাগেনি, ফাতিমা সানা ও নাটালিয়া পারভেজও ধীরে ধীরে উইকেট হারিয়ে যান। শেষদিকে ডায়ানা ২২ বলে ১৬ রান করে দলের কিছুটা মান ধরে রাখলেও, দেড়শর কাছাকাছি স্কোর গড়ার আগেই তারা অলআউট হয়ে যায়।

    বাংলাদেশের জন্য standout পারফরম্যান্সে রয়েছেন ওপেনার রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, যিনি অপরাজিত থাকলেন ৫৪ রানে ৭৭ বলে। তার সঙ্গে লোভনীয় পারফরম্যান্স করেছেন সুবহানা মোস্তারি ২৪*, আর নিশিতার ব্যাটে এসেছে ১০ রান। দুর্দান্ত বোলিং করেন স্বর্ণা আক্তার, যিনি ৩ উইকেট নিয়েছেন। মারুফা ও নাহিদা দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন। বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বকাপে তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক↑ বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং দুই দেশের মধ্যে প্রচন্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের স্মৃতি এখনও বেঁচে থাকবে ফুটফুটে প্রতিভাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য।

  • সোহানের ক্যামিওতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

    সোহানের ক্যামিওতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অসাধারণ একটা জয়ের মাধ্যমে শুরু করলো বাংলাদেশ। উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো দল, কারণ তারা আগলে রেখে ম্যাচটিকে নিজেদের করে নিয়েছিল। প্রথমে আফগানিস্তানের ব্যাটসম্যানরা কিছুটা নির্ভরতাসহ শুরু করলেও বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তারা বিপাকে পড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে রক্ষা করেন নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন, যারা কঠিন পরিস্থিতিতে ৮ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন। নাটকীয় এই ম্যাচে তারা ৬ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।

    প্রথম দিকে বাংলাদেশ দল শুরুটাই ছিল দারুণ। তানজিদ তামিম এবং পারভেজ ইমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ওপেনে জোড়া অর্ধশতক হাঁকান। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বাংলাদেশ সহজ জয়ের পথে এগোতে থাকে। আফগান বোলাররা ব্যবধান কমানোর জন্য চেষ্টা করলেও দলীয় সংগ্রামে তারা কিছুটা ব্যর্থ হন। শেষ দিকে, বাংলাদেশকে জয়ের জন্য মাত্র ৫১ বলেই প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান, হাতে ছিল সবকটি উইকেট। অনেকের ভাবনা ছিল, এই সহজ লক্ষ্য তো সহজেই শেষ হবে। কিন্তু, খেলাটা যেখানে বাংলাদেশ, বা অন্য কিছু, তখন কিসের সহজে হতো?

    আফগানিস্তানের রশিদ খান বল যেন বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। এই স্পিনারের চার উইকেট বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নাড়িয়ে দেয়। তাদের আউটের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক সময় ১০৯ থেকে ১১৮ রান করে উইকেট হারাতে থাকে—৬ উইকেট। এরপরেও, নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন একযোগে দলের হাল ধরে পরিস্থিতি বদলে দেন।

    দ্রুত ব্যাট করে নির্ণায়ক এক জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ১৫২ রান। শারজায় তাদের শুরু ছিল স্বর্গের মতো—উপ अखাবার মতো। ওপেনাররা উচ্ছ্বসিত, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনেই অর্ধশতক হাঁকান। তামিম ৫১ রান ও ইমন ৫৪ করে ফিরে যান। এরপর দলের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ফিরে যান, কিন্তু সোহান ও রিশাদের ধৈর্য্য ও মনোবল দলকে টেনে তোলে।

    সোহান ১৩ বলে ২৩ এবং রিশাদ ৯ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, ম্যাচ শেষ করেন। এই দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৫২ রান, যা শুধুই কৃতিত্বের ব্যাপার।

    উল্লেখ্য, এদিন শারজায় টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ, তিনি করেন ৪০। বাংলাদেশের জন্য শুরুতেই উজ্জীবিত হন নাসুম আহমেদ, যিনি ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন। অন্যদিকে, সাদিকুল্লাহ আতালও ১২ বলে ১০ রান করেন।

    আফগানিস্তান আরো কিছু ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে শক্ত ভিত গড়তে পারেনি। এরপর অতি জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন ৪ উইকেট পড়ে যায়। তখন দলের প্রাণ ছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং গুরবাজ, যারা দলের পরিস্থিতি কিছুটা উজ্জীবিত করেন। শেষ দিকে মোহাম্মদ नबी ঝড় তুললেও, তিনি ২৫ বলে ৩৮ রান করে আউট হন। তার চেয়ে বেশী রান করেন শরাফুদ্দিন আশরাফ, তিনি ১২ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

    অবশেষে, বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় উদযাপন করা হয় এবং এখন তারা সিরিজে এগিয়ে থাকেন। আগামী ম্যাচে তারা চেষ্টা করবে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর।

  • বিসিবির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০ পরিচালক

    বিসিবির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১০ পরিচালক

    বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিস্থিতি এখন স্পষ্ট হয়ে এসেছে। যাচাই-বাছাই ও শুনানির পর মোট ৫০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী আগেই নির্বাচন থেকে ওতপ্রোতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার শেষ মুহূর্তে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে, নির্বাচনে অংশ নেবেন মোট ৩৩ প্রার্থী, যারা তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৫টি পরিচালক পদে লড়াই করবেন ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে।

    নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শেখ জোবায়েদ হোসেন বলেন, “প্রার্থী তালিকা এখন চূড়ান্ত করে দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা ব্যক্তিগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তিনি আরও জানান, বিশেষ করে ঢাকা ক্লাবগুলোকে নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-২-তে বেশির ভাগ প্রার্থীই এখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই ক্যাটাগরির ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, যার ফলে কিছু ক্লাবের জন্য এই ক্যাটাগরিতে নির্বাচন আর হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমির ইফতেখার রহমানসহ ১৫ জন প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে অংশ নিতে পারবেন না। এই ক্যাটাগরির প্রার্থী সংখ্যা এখন মোট ১৬ জন, যারা ১২টি পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কেবল ১৬ জনের মধ্যে থেকে ভোটে জয়লাভ করবেন ১২ জন।

    আরো জানা গেছে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। এখানে যদিও ৭১ জন কাউন্সিলর ভোটার হওয়ার কথা ছিল, তবে নরসিংদী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনুপস্থিতির কারণে ভোটার সংখ্যা এখন ৭০ জন। এই ভোটাররা শুধুমাত্র নিজেদের বিভাগের জন্য ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়েছেন। তবে অনেক অভিযোগ উঠেছে कि এই ক্যাটাগরির বেশির ভাগ কাউন্সিলরই এই নির্বাচনে একশ্রেণির প্রার্থী তথা যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পছন্দের প্রার্থীদের মনোনীত করেছেন, যারা বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলামকেও সমর্থন দিচ্ছেন।

    বিশেষ করে, এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় খবর হলো সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার। শুধু তামিমই নয়, তার প্যানেল থেকে আরও কিছু জনপ্রিয় প্রার্থীও এখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন না। এতে নির্বাচনী উত্তাপ কিছুটা কমে এসেছে।

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, তিনটি বিভাগের মধ্যে ভোটের লড়াই চলবে। অন্য বিভাগ ও ক্যাটাগরিতে একক প্রার্থী থাকায় সেগুলিতে সরাসরি নির্বাচিত করা হবে। আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় ক্রিকেটার ও সাবেক নির্বাচক আবদুর রাজ্জাক, জুলফিকার আলী খান, শাখাওয়াত হোসেন এবং রাহাত সামস।

    এদিকে, বিভিন্ন বিভাগে নির্বাচনী লড়াইও দেখা যাচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জন্য আলাদা ভোট হবে। ঢাকার জন্য নির্বাচনে লড়বেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম, নাজমুল আবেদীন ও এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। অন্যদিকে, রাজশাহী ও রংপুরের প্রার্থীরা নিজেদের বিভাগীয় কাউন্সিলরদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা প্রতিনিধির জন্য ক্যাটাগরি-৩-এ রক্তরঙের ভোটের পরিবেশ। মোট ৪৫ জন ভোটার এই ক্যাটাগরিতে ভোট দেবে, যার মধ্যে মনোনয়নপ্রাপ্ত হলেন দেবব্রত পাল ও খালেদ মাসুদ। প্রার্থিতাদের মধ্যে কেউ কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ফেলেছেন।

    সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন মোট ১০ জন পরিচালক, যাদের মধ্যে খুলনা বিভাগ থেকে আবদুর রাজ্জাক, জুলফিকার আলী খান, বরিশাল ও সিলেটের প্রার্থীরাও রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে এখনো লড়াই চলছে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান বোর্ডের সভাপতি, নতুন প্রার্থীরা এবং ইতিহাসের নাটকীয় পরিবেশে গড়ে উঠছে নতুন বিসিবি।

  • ইসরায়েল ৪৭ দেশের ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবীদের অপহরণ: গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা

    ইসরায়েল ৪৭ দেশের ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবীদের অপহরণ: গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা

    আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী বেআইনিভাবে অন্তত ৪৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে অপহরণ করেছে বলে খবর দিয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এই ঘটনায় জাহাজে থাকা কর্মীদের উপর জলকামান চালানো হয়েছে এবং নোংরা পানি ছিটানো হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যোগাযোগের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংগঠনের বিবৃতিতে জানানো হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজগুলো, বিশেষ করে গাজা যাওয়ার পথে, ইসরায়েলি নৌবাহিনী অবৈধভাবে হামলা চালিয়ে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে অপহরণ করেছে। এই জাহাজগুলোতে ছিল খাবার, শিশুদের দুধ, ওষুধের মতো জরুরি সামগ্রী এবং স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ছিল ৪৭ দেশের।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলি নৌবাহিনী জলকামান নিক্ষেপ করে, দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছিটিয়ে, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়, ফলে স্বেচ্ছাসেবকরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। পরে তাঁদের জোরপূর্বক ইসরায়েলি সামরিক জাহাজ MSC Johannesberg-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

    আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা আদালাহ জানিয়েছে, আটক স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়টি সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্য দেওয়া হয়েছে আর এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে তাদের আশদোদ বন্দরে নেওয়া হয়েছে কিনা। সংগঠনের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌযানকে আটক করা যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বনেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, অবিলম্বে অপহৃত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।

    এদিকে, কিছু জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফরাসি পতাকাবাহী মিকেনো জাহাজটি ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, পোল্যান্ডের পতাকাবাহী ম্যারিনেট এখনো স্টারলিংকের মাধ্যমে যোগাযোগে রয়েছে, যেখানে ছয়জন যাত্রী অবস্থান করছেন।

    নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী, যে সকল জাহাজ নিশ্চিতভাবে ইসরায়েলের হাতে আটক হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ফ্রি উইলি, ক্যাপ্টেন নিকোস, ফ্লোরিডা (সব পোল্যান্ডের পতাকাবাহী), অল ইন (ফ্রান্স), কারমা, অক্সিগোনো (পোল্যান্ডের পতাকাবাহী), মোহাম্মদ ভাহর (নেদারল্যান্ডস), জেনো ও ওটেরিয়া (ইতালি), গ্র্যান্ডে ব্লু, হুগা, অরোরা (সব পোল্যান্ড ও ইতালির পতাকায়) এবং আরও কিছু জাহাজ।

    অপরদিকে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া জাহাজের মধ্যে রয়েছে মিয়ামিয়া, ভ্যাংলেইস, পাভলস, ওয়াহু, ইনানা, মারিয়া, আলাকাতালা, মেটেক, মাংগো, আদাজিও, আহেদ তামিমি, অস্ট্রাল, আমস্টারডাম, ওহওয়াইলা, সেলভাগিয়া, কাতালিনা, এসত্রেলা, ফেয়ার লেডি ইত্যাদি।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বলেছে, ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভাঙা এবং গাজায় চলমান গণহত্যার অবসান তাদের মূল লক্ষ্য। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের দমননীতি কেবল তাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংগঠনটি সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাধানকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন এসব অপহরণ মুক্তি পায় এবং মানবিক সহায়তা অবাধে চলতে পারে।

  • সাহসী ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শেষে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ বললো ইসরায়েলি বাধা

    সাহসী ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শেষে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ বললো ইসরায়েলি বাধা

    গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মী, ত্রাণকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সমুদ্রপথে একত্রিত হয়ে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জামাদি নিয়ে গাজায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযাত্রা বিভিন্ন বাধা ও বিপত্তিতে ভরা ছিল। ইসরায়েলি অবরোধ, আটক অভিযান এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাদের গাজায় প্রবেশের সেটি সম্ভব হয়নি।

    প্রায় ৪৫টি জাহাজে করে অধিকারকর্মীরা গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলি নৌবাহিনী তাদের সামনে বাধা দেয়। বেশিরভাগ জাহাজকে আটক করা হয়, অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং ধারণা করা যায় যে, তারা সবাই বর্তমানে আটক রয়েছেন। বৃহষ্পতিবার ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এই অভিযাত্রা গাজায় পৌঁছানোর আগে শেষ হয়ে গেছে। তারা আরও বলেছেন, এসব জাহাজ আটক করতে গেলে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।

    রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত ৩৯টি জাহাজকে আটক করেছে। তবে একটির পথ এখনও গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আটককৃত মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

    আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী, রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড বানানাস সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রুহি লরেন আখতার, সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, তাদের জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ফিরে যায় সাইপ্রাসে। কারণ, তাদের ক্যাম্পে থাকা কয়েকজন যাত্রী “উচ্চ ঝুঁকিতে” थे এবং আটক হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, তারা তাদের সহযাত্রীদের জন্য সোচ্চার হতে চান, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে চান, এবং গাজায় সহায়তার জন্য নিরাপদ করিডর নিশ্চিত করতে চান।

    অবশ্য, এই ফ্লোটিলার মূল লক্ষ্য ছিল গাজায় সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। যদিও তা সফল হয়নি, তবুও এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংগঠকরা বলেছে, “এটি কেবল একটি ত্রাণ মিশন নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। গাজার অবরোধ মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।”

    ইউরোপীয় গ্রিন পার্টি ইতোমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের এই আটক অভিযান ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’। তারা জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আটক যাত্রীদের ছেড়ে দিতে হবে এবং মানবিক সহায়তা অবিলম্বে পৌঁছে দিতে হবে।

    তদ্ব্যতীত, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অভিবাদন বা হামলা চালানোর ঘটনায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী অন্তত ৩১৭জন অধিকারকর্মকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    অফিশিয়াল ট্র্যাকারে জানা গেছে, ২১টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। ধরা হয়েছে আরও ১৯টি জাহাজেও হামলা হয়েছে বলে ধারণা, আর চারটি জাহাজ গাজায় যাওয়ার পথে রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল অন্তত ৩৯টি জাহাজ আটক করেছে।

    এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ছিলেন, যেমন স্পেন, ইতালি, ব্রাজিল, তুরস্ক, গ্রিস, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নাগরিকসহ বহু দেশের অধিকারকর্মী।

    ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকৰিত ব্যক্তিদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে থেকে তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।

    অন্যদিকে, ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজা উপকূলের কাছাকাছি প্রবেশ করেছিল, কিন্তু যান্ত্রিক সমস্যা বা যোগাযোগ বিঘ্নের কারণে ট্র্যাকিং সিগন্যাল হারিয়েছে। তুরস্কের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এই জাহাজটি গাজার থেকে মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানায়, গাজার দিকে এগিয়ে যাত্রার সময়ই অবরোধের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা কার্গো জাহাজগুলো ঘিরে ফেলে এবং বেশিরভাগেই যোগাযোগ ও সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক অধিকারকর্মী এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর নির্দেশে তাঁদের দিক পরিবর্তনের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।

    ফ্লোটিলার এক পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেনারা জাহাজে প্রবেশ করে এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায়, জলকামান ও সহিংসতা ব্যবহার করে। ৫০টি দেশের শান্তিপ্রিয় কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

    ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, কিছু কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের লোকজনকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা বলেছে, ফ্লোটিলার অন্যান্য জাহাজগুলো পরীক্ষা করে সেগুলো থেকে সাহায্যসামগ্রী গাজায় পাঠানো হবে।

    সর্বশেষ, এই অভিযান ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে শুরু হয়েছিল, এরপর অন্যান্য দেশ থেকে আরও নৌযান যোগ দেয়। এই অভিযানে মূলত মানবিক সাহায্য ও ওষুধপত্র ছিল। বহু বছর ধরে চলমান গাজা অবরোধের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়। এই অবরোধ মার্চ মাসে আরও কঠোর হয়, ফলে গাজায় খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায় এবং অঞ্চলটি দারুণভাবে দুর্বল হয়।

    ২০২৩ সালে ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, গাজা বসবাসের অযোগ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে, জায়গাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অভুক্ত ও অসুস্থতার চেহারা।

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই দিনের মধ্যে ব্যাপক ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই শুরু হতে পারে: হোয়াইট হাউসের সতর্কতা

    যুক্তরাষ্ট্রে দুই দিনের মধ্যে ব্যাপক ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই শুরু হতে পারে: হোয়াইট হাউসের সতর্কতা

    যুক্তরাষ্ট্রে শিগগিরই ব্যাপক হারে ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাইের প্রস্তুতি চলছে, যা দুই দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। গত সাত বছর wherein প্রথমবারের মতো দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার অচলাবস্থার ফাঁদে পড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে অবিরত বিরোধের কারণে দেশ জ্বলজ্বল করছে। বুধবারের মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই শাটডাউন চলমান ও অচিরেই তা মোকাবেলার কোন উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছে, তবে তারা কোন সমঝোতার লক্ষ্যে এখনো এগোতে পারেনি। এই অচলাবস্থার কারণে কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি লাখো সরকারি কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়েছে যখন সিনেটের কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীরা ছাঁটাই হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় দেশের অর্থনীতির ওপর বাজেভাবে প্রভাব পড়তে পারে। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স টেক্কা দিয়ে বলেন, বিরোধীপক্ষ বাস্তবতা না বুঝে রাজনৈতিক খেলা খেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা সব সময় রাজনীতি করে সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই ছাঁটাই সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষের আগে শুরু হতে পারে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দুই দিনের মধ্যে, 一শিগগিরিই।’ তিনি আরও যোগ করেন, পরিস্থিতি কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় যা আমাদের করতে হয়, এবং এর জন্য দায়ী মূলত ডেমোক্র্যাটরাই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের সতর্কবার্তায় তিনি বলেছিলেন, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে তিনি ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবেন। একই সাথে নিউইয়র্ক শহরের বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পে ধারদেনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশেষ করে নাগরিক জীবন ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ধাক্কা হতে পারে। বিভিন্ন দিক থেকে দেখা যায়, এই অচলাবস্থা রাজনৈতিক দিক থেকে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে চান, যেখানে রিপাবলিকানরা চাইছেন বর্তমান অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে। অর্থাৎ, এই দরকষাকষিতে অন্তত ৭৫০,০০০ সরকারি কর্মী অস্থায়ী ছুটিতে যেতে পারেন, এবং তাদের বেতন বন্ধ রাখতে হতে পারে। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব ২০১৮ সালের চেয়ে আরও গুরুতর হতে পারে, কারণ এই বার প্রায় ৪০ শতাংশ ফেডারেল কর্মী অস্থায়ী ছুটিতে যেতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে, হোয়াইট হাউসের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ভ্যান্স আবারও স্পষ্ট করে বলেন, এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘ সময হয়, তবে তাদের কর্মী ছাঁটাই করতেই হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনীতির দৃঢ়তা ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন, অন্যথায় দেশের সরকারি ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

  • বিশ্বজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া: বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের নিন্দা

    বিশ্বজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া: বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের নিন্দা

    গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের গভীর উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, তুরস্ক, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ অনেক রাষ্ট্রই এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন। কেউ সরাসরি ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন, আবার কেউ বন্দি নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার পরিষেবা দ্রুত নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। আল-জাজিরা নোঙর করা এই গ্লোবাল ফ্লোটিলার বাধা ও ইসরাইলের আটক অভিযানের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে। বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইসরাইলে এই অবরুদ্ধ ফ্লোটিলাকে আটকালো নিয়ে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরিস্থিতির নিরাপদ সমাধান জরুরি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আমরা বহু বৃটিশ নাগরিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ত্রাণ যেন মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরাপদে গাজায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। গাজায় মানবিক সঙ্কটের সমাধান দায়িত্বে রয়েছে ইসরাইলি সরকার। অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য দ্রুত পৌঁছানোর আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাজ্য।’ অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, গাজা উপকূলে ফ্লোটিলায় ইসরাইলি সেনাদের হাতে কর্মীদের আটক হওয়ার খবর তারা জেনে গেছে এবং প্রয়োজনে তাদের নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব পক্ষই আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান জানাচ্ছে। স্পেনে, গাজা যায় এমন ফ্লোটিলার ঘটনা নিয়ে মাদ্রিদে ইসরাইলে থাকা উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকদের তলব করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেছেন, স্পেনে ৬৫ জন স্পেনীয় নাগরিক রয়েছেন। গত বছর ইসরাইল ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দেওয়ার পর, তারা মাদ্রিদ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হস্তক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই কর্মকাণ্ড সত্যিই গণহত্যা চালানোর নীতিরই অংশ, যা গাজাকে বিপর্যস্থ করে দিয়েছে। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে থাকা কয়েকজন ব্রাজিলিয় নাগরিকের মধ্যে সংসদ সদস্য লুইজিয়ানে লিন্সও রয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের সামরিক অভিযান মানবাধিকার লঙ্ঘন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের জন্য গুরুতর হুমকি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই অভিযানকে ‘নৃশংস আক্রমণ’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দ্রুত সবাইকে মুক্তি দেয়া হবে। কারণ তারা মূলত বাধ্যতামূলকভাবে ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ বহন করছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডালা ম্যান্ডেলা এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বিশ্বজুড়ে জনগণের জন্য তারা সরকারের উপর চাপ চাপানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে গাজায় নিরাপদে ত্রাণ পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলিরা যদি তাদের অপহরণ করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে এই ফ্লোটিলার মুক্তির জন্য চাপ বাড়ানো। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক স্ট্যাটাসে বলেছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের অধিকার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ইসরাইলের হস্তক্ষেপ অবৈধ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও বলছেন, ইসরাইল শুধু ফিলিস্তিনিদের অধিকারই অমান্য করেনি, বরং বৈশ্বিক মানবসমাজের বিবেককেও পদদলিত করছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো জানিয়েছেন, ইসরাইলি কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও মুক্তি চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলছেন, নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দেশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত দাবি জানানো হবে। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, ইসরাইল নিশ্চিত করেছে যে, নৌবহরের বিরুদ্ধে কোনও সহিংস কর্মকাণ্ড হবে না। ইতালীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশ সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রতি তাদের সমর্থন জানায়। গ্রিসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের অধিকারীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান করেন। আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনস সতর্ক করেছেন, গাজায় মানবিক ত্রাণ আগস্ট বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মানা উচিত নয়। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাকসিম প্রেভো বলেছেন, তাঁদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল অংশগ্রহণকারীর কনস্যুলার পরিষেবা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে। মার্কিন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা হোয়াইট হাউসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। জাতিসংঘ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেসকা আলবানিজ বলেছেন, পশ্চিমা দেশের নীরবতা লজ্জাজনক। বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনপন্থীরা ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছেন। ইসরায়েল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে আটকানোর ফলে অন্তত ৪০টির বেশি নৌকা এবং একশো’র বেশি অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর গোটা বিশ্ব থেকে নেতারা দ্রুত নিন্দা জানিয়েছেন, গাজায় প্রবেশের এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের পথে বাধা দেওয়া অবৈধ। ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপের দেশগুলোসহ বহু দেশে প্রতিবাদ ও অনুশীলন চলেছে। এই ৫০০ সদস্যের নৌবহরে অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন, যারা আন্তর্জাতিক সমর্থন ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সহিংসতা, নিহত ৮

    পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সহিংসতা, নিহত ৮

    পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা কাশ্মিরে চলমান চার দিনের ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভে অন্তত আটজন নিহত হন। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেন, যাতে বিভিন্ন দিক থেকে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান উত্থাপন করা যায়।

    ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চার দিনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যারা আশপাশের শহর থেকে এসে কাশ্মিরের অন্যতম শহর মুজাফফরাবাদে জড়ো হন। তবে এই বিক্ষোভের পুরো চিত্র বাইরের বিশ্বের কাছে এখনো খুবই সীমিত। ফলে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বোঝা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অপরদিকে, কর্তৃপক্ষ টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিরোধের ঐতিহ্য ১৯৪৭ সাল থেকেই চলে আসছে, যখন এই অঞ্চল দু’দেশের মধ্যে বিভক্ত হয়।

    বিক্ষোভের অংশবিশেষের ছবি থেকে দেখা যায়, বুধবার কাশ্মিরের একটি সেতুর ওপর বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে দিচ্ছে পুলিশ। রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে, এই সহিংসতায় অন্ততঃ তিন পুলিশ সদস্য ও পাঁচ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শুরুর দিন থেকেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে হাসাপাতাল, স্কুল এবং পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাশ্মিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের আলোচনার জন্য আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান সবসময়ই কাশ্মিরি ভাইদের সমাধানের জন্য প্রস্তুত।” একই সঙ্গে, পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেছেন, “আমরা আশা করি, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারব।”

    কাশ্মিরের সুশীল সমাজের নেতারা বলছেন, এই বিক্ষোভ মূলত রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তাদের সুবিধা-অধিকার এবং প্রভাবের বিরোধিতার জন্য। একজন স্থানীয় যুব নেতা শওকত নবাজ মীর বলেন, “আমরা যখন হাসপাতালে ওষুধের জন্য বলি, তখন তারা বলে, তহবিল নেই, কিন্তু তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য অর্থ আছে।”

    স্থানীয় সংসদে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসন বরাদ্দের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাশ্মিরের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এই প্রতিনিধিদের ব্যবহার করে আঞ্চলিক সরকারকে ক্ষমতায় বসানো বা সরানোর চেষ্টা করা হয়।

    গত বছরও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে এই ধরনের সহিংস আন্দোলন দেখা গিয়েছিল, যেখানে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে সরকার কাশ্মিরিদের বেশিরভাগ দাবি মানেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি রুপি (প্রায় ৮.৬ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেন, যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও জিনিসের দাম ভর্তুকির বিষয়টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

    সুত্র: রয়টার্স