Month: October 2025

  • কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই

    কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই

    উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র বাংলা বিশ্বের গভীর শোকের ছায়া ফেলেছেন। ৯১ বছর বয়সে তিনি বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারতের সংগীতাঙ্গন এই দুঃসংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

    শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানিয়েছেন, তিনি বুধবার (১ অক্টোবর) রাত থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, ছান্নুলাল বাড়িতেই নানা চিকিৎসা চলছিল কয়েক মাস ধরে অসুস্থ থাকার কারণে। ১১ সেপ্টেম্বর তার অবস্থার আরও অবনতি হলে মির্জাপুরের মেডিকেল কলেজে ১৫ জন চিকিৎসকের একটি বিশেষ দল তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।

    ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার সংগীতের পথচলা শুরু হয় বাবার, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিলো তার, যা তিনি বাবার নির্দেশনায় শাস্ত্রীয় সংগীত অনুশীলন করে অর্জন করেন। প্রায় এক শতিকার বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার কণ্ঠে রচিত রাগ এবং ভজনের ধারা দেশ-বিদেশে শ্রোতাদের মনকে আকর্ষণ করে রেখেছে। ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় ‘লেজেন্ড’ হিসেবে।

    শাস্ত্রীয় সংগীতের ক্ষেত্রেও ছান্নুলাল মিশ্রের অবদান অসামান্য। তিনি বহু কনসার্ট, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় সংগীতের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ সংগীতপ্রেমীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

  • বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আর সম্মানিত গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের আজ জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন নওগাঁয়। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে, যেখানে তিনি সংগীতের প্রতি আগ্রহ অনেক আগে থেকেই জাগিয়ে তুলেছেন। আজ তিনি পেরিয়ে গিয়েছেন ৬১ বছর, তবে তার অঙ্গন এখনও তাজা ও উদ্দীপনায় ভরপুর।

    জেমসের ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই আসলেও তিনি আজও এক সুপারস্টার, যার নামে এক বিশাল ভক্তশ্রেণির আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে। গানের মাধ্যমে তিনি পুরো দুনিয়ার হৃদয় জয় করেছেন, কিন্তু ভক্তদের কাছে তিনি স্মরণীয় এক গুরু হিসেবেও পরিচিত।

    অতিক্রান্ত জীবনে তিনি এখনও চিরতরুণ। ঝাকড়া চুলে গিটার হাতে দাঁড়িয়ে, নতুন গানে নতুন ভক্ত যোগাচ্ছেন। বয়স তার কাছে কেবল একটি সংখ্যা, যা তার অজস্র গানের জাদুকরীর ক্ষমতাকে কিছুই কমাতে পারে না।

    জেমসের জীবনেও এসেছে অনেক মোড়, তার পরিবার ও পেশাজীবনের নানা কাহিনী। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল, এমনকি বাবার সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে আসা পর্যন্ত হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকতে থাকতে তিনি সংগীতের মূল পথ খুঁজে পান।

    ১৯৮০ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ নামের একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশিত হলেও তা তখন খুব বেশি জনপ্রিয়তা পাননি। তবে ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন্যা’ অ্যালবামটি তার ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল।

    পরবর্তী সময়ে তিনি নানা অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যেমন ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    অ্যালবাম ছাড়াও জেমসের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য কনসার্ট ও একক অ্যালবাম রয়েছে, যেমন ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’সহ অন্যান্য। তিনি কেবল গানের মধ্যে না থেকে চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করে অর্জন করেছেন ব্যাপক সফলতা।

    এছাড়াও তিনি হিন্দি গানে কণ্ঠ দিয়ে বলিউডে তার জন্য সুচিত্রার স্থান তৈরি করেছেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং)। বাংলাদেশের সিনেমা ‘সত্তা’তেও গেয়ে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনে, জেমসের জন্মদিনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে অসংখ্য প্রেরণা ও স্মৃতি সবার মাঝে থাকুক। তার সংগীতজীবনের এই অনন্য পথে ভবিষ্যতেও তিনি নতুন নতুন গানে ভক্ত-শ্রোতাদের মাতোয়ারা করতে থাকবেন।

  • নেটিজেনদের অবজ্ঞা প্রবঞ্চনায় ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের ঝড়, সমর্থনে মেহজাবীন ও আরশ খান

    নেটিজেনদের অবজ্ঞা প্রবঞ্চনায় ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের ঝড়, সমর্থনে মেহজাবীন ও আরশ খান

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান তার অসাধারণ অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন সিনেমা ও নাটক জগতের সবখানে। সম্প্রতি তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, বিজয়া দশমির দিন, তিনি কপালে সিঁদুর তিলক দিয়ে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ বিজয়া।’ এ পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এ ছবির সঙ্গে নেটিজেনদের কিছু কমেন্টও উঠে আসে, যেখানে বেশ কিছু ব্যক্তি তার ধর্মের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিদ্রুপমূলক মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মুসলমান ভেবে ভুল করেছিলাম!’, ‘আপনার নাটক এখন থেকে দেখবো না, কারণ ভাবতে হয় আপনি মুসলিম!’, এমন তির্যক মন্তব্যে ভীড় জমেছে তার পোস্টে। এই মন্তব্যগুলো বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের গভীরভাবে আঘাত করেছে। তবে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও আরশ খান। মেহজাবীন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কারও পোস্টে বাজে মন্তব্য করা, স্ল্যাং ব্যবহার করা বা ভুয়া প্রোফাইল দিয়ে কথা বলা ব্যক্তি নিজেকে নির্লজ্জ ও মন মানসিকতার অধিকারী হিসেবে প্রকাশ করে। এতে সে তার মানসিকতার পরিচয় দেয়। এত ঘৃণা ও অপরাধবোধ নিয়ে রাতে কিভাবে ঘুমায় তারা?’ অন্যদিকে, আরশ খান বলেছেন, ‘ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা। তার অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব আমাকে খুবই প্রিয়। এই অভিনেতা তার ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, তার শিল্পকর্ম, তারুণ্য ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ধর্মের বিভাজন টপকে সে দেশের জন্য কাজ করে চলেছে।’ ইয়াশ রোহান ধর্মের পার্থক্য ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুবই সরল ও মনের মানুষ। তার মন্তব্যের ঘরে উঠে আসা কটাক্ষের জবাবে অনেকেই সৌন্দর্য ও ধৈর্য্য দেখিয়েছেন। তবে সব প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক নয়, অনেকেই তাকে ভালোবাসা দিয়ে প্রমাণ করেছেন তার জনপ্রিয়তা। একজন লিখেছেন, ‘আজ জানলাম রোহান ভাই হিন্দু। ভাল, প্রেম যেন অবিরাম থাকে।’ অন্য কেউ বলেছেন, ‘কমেন্ট দেখে বুঝা যায় মানুষের মানসিকতার অবনতি হয়েছে।’ ইয়াশ রোহান বরেণ্য অভিনেতা নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান। তিনি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে অভিষেক করেন।

  • রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা নিজেদের গভীর প্রেমের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন করেছেন।

    এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, এই পারিবারিক অনুষ্ঠানটি হয়েছিল গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর), যেখানে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং কাছের বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাদের বাগদান হয়। তবে, এই দুই তারকা এখনো তাদের বাগদান বা বিবাহের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করেননি।

    অতীতে জানা গেছে, এই জুটি ভবিষ্যতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহের পরিকল্পনা করেছেন। প্রেমের এই সম্পর্কের ব্যাপারে ভক্তদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ ও উত্তেজনা ছিল। সম্প্রতি রাশমিকা সামাজিক মাধ্যমেও এই জল্পনাকে উসকে দেন একটি পোস্টের মাধ্যমে। তিনি দশেরার দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে কপালে তিলক পরেছেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ দশেরা প্রিয়জন… এই বছর আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা যে আমার জন্য এত শুভেচ্ছা, ট্রেলার ও গানের জন্য অবিস্মরণীয় ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। শিগগিরই সিনেমার প্রচার শুরু হবে, এবং আমি আপনাদের সাথে দেখা করার অপেক্ষায় থাকতেছি।’

    বিশেষ করে এই পোস্টে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটছে বলে ধারণা করছেন অনুরাগীরা।

    অন্যদিকে, রাশমিকা মান্দানা আসন্ন পরিচালক আদিত্য সারপোতদারের ভৌতিক-কমেডি সিনেমা ‘তাম্মা’-তে দেখা যাবে, যেখানে তার বিপরীতে আছেন আয়ুষ্মান খুরানা। এই ছবিতে আরও উপস্থিত রয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, পরেশ রাওয়ালসহ অন্যান্য তারকারা। এই সিনেমার মুক্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২১ অক্টোবর।

    অপরদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডা সর্বশেষ দেখা গিয়েছে গৌতম তিন্নানুরির তেলুগু অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিংডম’ (২০২৫) ছবিতে।

  • বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিন গার্গকে, দাবি ব্যান্ড সদস্যের

    বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিন গার্গকে, দাবি ব্যান্ড সদস্যের

    প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে গোলমাল সৃষ্টি হয়েছে। এবার তার ব্যান্ড সদস্য এবং প্রধান সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী দাবি করছেন, জুবিনকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, ম্যানেজার শ্রীধর শর্মা ও ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত ষড়যন্ত্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিমান্ডের নোটে গোস্বামী উল্লেখ করেছেন, জুবিনের মৃত্যু ছিল একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। হঠাৎ এই ঘটনা ঘটানোর জন্য বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক হোটেলকে নির্বাচন করা হয়, যাতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানো যায়।

    ভারত ও সিঙ্গাপুরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী ও ভারত-আসিয়ান পর্যটনবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে জুবিন গার্গ সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বীপের কাছে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিউজ ১৮ এর সূত্রে জানা যায়, মূল সাক্ষী হিসাবে অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ আনেন শেখর জ্যোতি গোস্বামী। তিনি বলেছিলেন, যখন জুবিনের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল, তখন তার ম্যানেজার শর্মাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘যাব দে, যাব দে’ (যে কিছু বলো য়ে কিছু করো)। তখন শর্মা জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে বলে, ‘অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স’, যা অবহেলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাক্ষীরা মনে করছেন, এই অবহেলা জুবিনের মৃত্যুক ত্বরান্বিত করেছে।

    গোস্বামী আরো দাবি করেন, জুবিন একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন। ফলে তার স্বাভাবিকভাবে ডুবে যাওয়ার কোনও কারণ না থাকলেও, শর্মা তাঁকে ইয়ট দুর্ঘটনার কোনও ফুটেজ না দেখানোর নির্দেশ দেন, যা প্রমাণ লুকানোর চেষ্টার অংশ বলে ধারণা করছেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে—জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত, ব্যান্ডের সদস্য ও প্রধান সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী, এবং অন্যএক জন সহশিল্পী।

  • বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা

    বিসিবি নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। যাচাই-বাছাই এবং শুনানি শেষে মূলত ৫০ জনের নাম ছিল তালিকায়। তবে বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ১৬ জন প্রার্থী। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ৩৩ প্রার্থী নিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির নির্বাচন, যেখানে ২৫টি পরিচালক পদের জন্য ভোট গ্রহণ হবে।

    নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শেখ জোবায়েদ হোসেন জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছি একেকজন ব্যক্তিগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    বিশেষ করে, সরকারি হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বেশিরভাগ প্রার্থী এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঢাকা ক্লাব ভিত্তিক ক্যাটাগরি-২-তে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন বিতর্কিত ক্লাবের প্রতিনিধি যেমন ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমির ইফতেখার রহমান নির্বাচন করতে পারবেন না।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘একই নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু প্রার্থী প্রত্যাহার করেছেন।’ এই ক্যাটাগরিতে ৭৬ জন কাউন্সিলরের ভোটে ১২টি পরিচালক পদের জন্য ১৬ জন প্রার্থী লড়ছেন।

    অন্যদিকে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর জন্য গঠিত ক্যাটাগরি-১ থেকে নির্বাচিত হবেন ১০ জন পরিচালক। এখানে ভোটার সংখ্যা ৭১ থেকে কমে ৭০ এ নেমে এসেছে। এতে ভোট দেবে জেলা ও বিভাগীয় সংস্থাগুলোর কাউন্সিলররা, তবে অধিকাংশই বিসিবির বর্তমান সভাপতি, আমিনুল ইসলামকে সমর্থন করছেন।

    উল্লেখ্য, এবার নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের প্রার্থিতা প্রত্যাহার। তার পাশাপাশি আরও কিছু আলোচিত প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় পরিস্থিতির উত্তাপ কিছু কমে এসেছে।

    চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এখন তিনটি বিভাগে ভোটের মূল লড়াই হবে। অন্য বিভাগ ও ক্যাটাগরিতে একক প্রার্থী থাকায় তারা সরাসরি নির্বাচিত হবেন।

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ১০ পরিচালকের মধ্যে ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই তালিকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে বিভিন্ন বিভাগে—খুলনা, বরিশাল, সিলেট—প্রতিনিধিরা। এছাড়াও, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ও নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন কিছু প্রার্থী।

    বিশেষত, ঢাকা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে আগামী সপ্তাহে ভোট হবে। ঢাকা বিভাগে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যেখানে দুটি পরিচালকের জন্য ভোট থাকবে। অন্য বিভাগগুলোতেও একই পদ্ধতিতে ভোট হবে।

    ক্যাটাগরি-৩-এ, সাবেক ক্রিকেটার ও জাতীয় দলের অধিনায়কসহ মোট ৪৫ জন ভোটার তাদের পছন্দের পরিচালকদের জন্য ভোট দেবেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচিত হবেন।

    সংক্ষেপে, এই নির্বাচন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীরা বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন, যেখানে একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিছু বিভাগে।

  • বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

    বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের

    বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মহাযুদ্ধে প্রথম দায়িত্বশীল মানসিকতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছে। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোলারদের সাগরসাপটে ধরা পড়েছেন এবং তাদের পুরো ইনিংস জুড়ে ব্যাটিং অচল করে ফেলেছেন। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানসহ বাংলাদেশের ঘূর্ণি বোলাররা এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তানিদের ১২৯ রানে অল আউট করেছেন। সফরকারীরা বলেছে, তারা অবশ্যই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জয়ের জন্য লড়াই করবে। তবে বাংলাদেশের ঘূর্ণি বোলাররা সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান সঙ্গে বোলারদের দৃঢ় মনোবল ও নিপুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানিরা মাত্র ১২৯ রানেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মারুফা, নাহিদা ও স্বর্ণা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। মারুফার সুইং ও গতির সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা অনূপ্রাণিত হতে পারেননি, যার কারণে শুরুতেই তারা দুই উইকেট হারায়। এরপর মুনিবা আলি ও রামিন শামিম কিছুটা চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি বোলাররা তাদের ফিরিয়ে দেন। পাকিস্তানি ব্যাটাররা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা বোলার হন। রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক তার দারুণ ফিফটিতে ম্যাচের মানের ওপর দ্যোতনা সৃষ্টি করেন। তিনি ৭৭ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৫৪ রান করেন, যা দারুণ এগিয়ে যায় তার ক্রিকেট জীবনের জন্য। এই জয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের মনোবল ধরে রেখে আগামীর ম্যাচগুলোতেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ম্যাচের উত্তেজনা ও বাংলাদেশ দলের সাহসকে চিরদিন মনে রাখবেন।

  • সোহানের ক্যামিওতে বাংলাদেশের ঝড়ো জয়, সিরিজে নেতৃত্ব ধরে রাখলো বাংলাদেশ

    সোহানের ক্যামিওতে বাংলাদেশের ঝড়ো জয়, সিরিজে নেতৃত্ব ধরে রাখলো বাংলাদেশ

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ শক্তিশালী দেলোয়ার প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল খুবই প্রতি়তাবধানে, কিন্তু রশিদ খানের এক স্পেলে হঠাৎ হেরের শঙ্কা দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের নবীন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এবং তরুণ রিশাদ হোসেনের কৌশলী ব্যাটিং ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর ভর করে সে চাপ কাটিয়ে জয় হাসিল করে বাংলাদেশ। নাটকীয় এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তারা ৬ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারায়।

    প্রথম ম্যাচের শুরুতেই তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর দ্রুতই এগিয়ে যায়। শুরুতেই তারা আফগান বোলারদের খুবই ভালোভাবে মোকাবেলা করে অর্ধশতক করেন। দুটি ওপেনার দ্রুতই দলের জন্য বড় সংগ্রহের ভিত্তি স্থাপন করেন। এরপর ম্যাচের শেষ পর্যায়ে প্রয়োজন ছিল ৫১ বলে ৪৩ রান, হাতে ছিল সব উইকেট। এই পরিস্থিতিতে সবাই সহজ জয়ে আশা করছিল। তবে বাংলাদেশ দলের জন্য কিছুটা নাটকীয়তা ঢুকে পড়ে, যখন টপ অর্ডার থেকে ৬ ব্যাটার বিদায় নেন মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে, যা দলকে চরম বিপদে ফেলতে পারতো।

    বিশেষ করে, রশিদ খানের বল যেন বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়ায়। এই স্পিনারের ৪ উইকেট শিকার পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ফলে তারা ১০৯ থেকে ১১৮ রান পর্যন্ত হারিয়ে যায়। এরপর, দলটি মানসিকভাবে লড়ে উঠে হাল ধরেন বড়ো আকারের ব্যাটিংয়ে, যেখানে নতুন অধিনায়ক সোহান ও রিশাদ ধৈর্য্য ও সচেতনতার সঙ্গে ব্যাট করে নিজেরা রক্ষা পায়।

    শারজায় আফগানদের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল ভিন্ন রকমের। প্রথমদিকে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন ম্যাচের প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর ধারালো আঘাত হানেন। তারা অর্ধশতক করে থামে, তামিম ৫১ এবং ইমন ৫৪ রান করে ফিরতে বাধ্য হন। এরপর অন্য ব্যাটাররা চারপাশে চাপ সৃষ্টি করলেও অপ্রতিরোধ্য থাকেননি। মধ্যবর্তী সময়ে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও, সোহান ও রিশাদ ধৈর্য্য ধরে পরিস্থিতি সামলে ম্যাচ শেষ করেন। সোহান ১৩ বলে ২৩, আর রিশাদ ৯ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

    অন্যদিকে, ম্যাচের আগের দিনই শারজাহতে টস জিতে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করে। দলের জন্য সর্বোচ্চ সংগ্রহ করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ৪০ রান। বাংলাদেশকে প্রথম সারিতে বড় ধাক্কা দেন নাসুম আহমেদ, যিনি ইব্রাহিম জাদরানকে LBW করে দেন। জাদরান ১৫ রান করে আউট হন। এছাড়া, সাদিকুল্লাহ আতালও ১০ রান করেন।

    এরপর দউরিউস রাসুলি ও মোহাম্মদ ইশাক দ্রুতই ফিরে যান বলের আঘাতে। তারা দুইজনই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। আফগানিস্তান দ্রুতই বিপদে পড়ে যায়, মাত্র ৪০ রান করে ৪ উইকেট হারিয়ে। এরপর দলের ব্যাটিংয়ে বড়ো পারফর্ম করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানুল্লাহ গুরবাজ। গুরবাজ ১৮ বলে ১৮ রান করে আউট হন, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে বাধা দেয়।

    অবশেষে, শেষদিকের ঝড়ো ব্যাটিং দেখান মোহাম্মদ নবি। তিনি ১৮তম ওভারে তাসকিনের ওপর তিন ছক্কা হাঁকান। যদিও এই ওভারে তিনি আউট হন, তবে ২৫ বলে ৩৮ রান করে যান। তার পাশাপাশি, শরাফুদ্দিন আশরাফ ১২ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই ব্যাটাররা শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তানের রান সংগ্রহকে কিছুটা সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে আসেন।

  • ফিফা উন্মোচন করল ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা

    ফিফা উন্মোচন করল ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন অফিসিয়াল বল ট্রাইওন্ডা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির মধ্যে আরও একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ফুটবল সংস্থা ফিফা। মাত্র এক বছর বাকি রেখে, বিশ্বকাপের বলের অবকাশ উন্মোচন করেছেন তারা, যা এই মহাযজ্ঞের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে, বিশ্বকাপের নতুন বল ‘ট্রাইওন্ডা’ এর লুক প্রকাশ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলাররা, যেমন জার্মানির জার্গেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।

    নতুন এই বলের নাম ‘ট্রাইওন্ডা’, যা অ্যাডিডাসের তৈরি। এটি বাংলাদেশের মানুষ জানেন, অ্যাডিডাস বিশ্বকাপের জন্য বিখ্যাত বল সরবরাহকারী। ১৫ বছর ধরে এই সংস্থা বিশ্বকাপের বল প্রস্তুত করে আসছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ট্রাইওন্ডা উন্মোচন করছি। এই বলের ডিজাইন কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের একত্রীকরণ ও উচ্ছ্বাসের প্রতিচ্ছবি।’

    ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—’ট্রাই’ অর্থ ‘তিন’ এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ‘ঢেউ’, যা এই বলের ডিজাইনেও প্রতিফলিত। এতে তিনটি রঙের ঢেউ রয়েছে— লাল, সবুজ ও নীল— যা সংযুক্ত দেশগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে। এই তিনটি দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজন করছে, তাই এই রঙের মাধ্যমে তাদের ঐক্যকে সূচিত করা হয়েছে।

    বলটির ডিজাইনে স্থান পেয়েছে প্রতিটি দেশের জাতীয় প্রতীক— যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতা এবং মেক্সিকোর ঈগল। এসব প্রতীক গ্রাফিক্স ও খোদাইয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া, বলের সোনা রঙের হালকা স্পটিং এটিকে আরও গুরুত্ব দেয়, বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান জানাতে।

    নকশায় নতুনত্বের মধ্যে রয়েছে চার-প্যানেল ডিজাইন, যা বলের স্থিতিশীলতা ও টেকসইতা বৃদ্ধি করেছে। পুরু সেলাই, নির্দিষ্ট রেখা ও গ্রাফিক্স দিয়ে বলের গ্রিপ ও চলাচল আরও উন্নত। তবে এই নতুন বলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো অ্যাডিডাসের সংযুক্ত প্রযুক্তি, যা বলের ভেতরে থাকা ৫০০ হার্জ সেন্সর দিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা সরবরাহ করে।

    এই প্রযুক্তির মাধ্যমে, অফসাইডের সঠিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে, এমনকি হ্যান্ডবল বা অন্যান্য বিতর্কিত পরিস্থিতিও সহজে নির্ণয় করা যাবে। অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। আমাদের ডিজাইন, রং ও গ্রাফিক্স এই বলটিকে অন্যসব বল থেকে আলাদা করে তুলেছে। এটি এখন পর্যন্ত তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপ বল।’

  • এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    প্রথম टी-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও একই রকম দৃশ্য দেখা গেল। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ মাঝপথে কিছুটা পথ হারিয়ে ফেলে, তবে শেষমেশ দলের জয়ের স্বপ্ন সফল করলেন নুরুল হাসান সোহান। প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের সাথে পার্টনারশিপে জয় পেয়েছিলেন, আজ শরিফুল ইসলামকে পেলেন আবার রানের জন্য। এই এক পার্টনারশিপের সুবাদে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজের জয় নিশ্চিত করে ফেলল কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

    শুরুর দিকে রান তুলতে সমস্যা সৃষ্টি হয় বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনই অঙ্কের একপ্রান্তে ফিরে যান। দ্বিতীয় ওভারটির দ্বিতীয় বলে তানজিদ ফিরে যান, আগের দিনের হাফ সেঞ্চুরিয়ানকে আজমতউল্লাহ ওয়াক্সের উপর থেকে ক্যাচ ধরেন। তানজিদের বিদায়ের মাধ্যমে প্রথম ওভারেই পড়ে বাংলাদেশ।

    চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই ফিরে যান ইমনও। ওমরজাইয়ের দুর্দান্ত গুড লেংথের বল লেগ বিফোর উইকেটে পাঠান তিনি। তার ব্যাটে আসে ৫ বলে ৩ রান।

    পরে ইনফর্ম সাইফ হাসানও শিকার হন। মালুমের বা পাওয়ার প্লের প্রথমে বাংলাদেশ ৩৭ রানেই তিন উইকেট হারায়।

    অতিরিক্ত চাপের মধ্যে গণনা অনুযায়ী ৮ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৭ রান। তবে এরপর ধীরে ধীরে এই সংকট কাটিয়ে ওঠেন জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারি। দশ ওভারে বাংলাদেশ ক্রমশ ৭৪ রান করে উইকেটের বিপরীতে। এরপর ৮০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায়।

    জাকের আলী (২৫ বলের ৩২ রান) ও শামীম (২২ বলে ৩৩ রান) দলের জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। দৌড়ে দলের শতক সম্পন্ন করেন, কিন্তু পরের ওভারে তিনি বিদায় নেন।

    শেষে বাংলাদেশ ১০২ রান করেন ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। এরপর নুরুল হাসান সোহান দলের মূল সঙ্গী হয়ে ফিরে আসেন, দলের ভীত কাঁপানো পরিস্থিতিতে। ১৭তম ওভারে রশিদের শেষ বলে বোল্ড হন সোহান, তবে তার আগের ইনিংসে ১১ বলে ১০ রান ও ছিল। এই সময়ে বাংলাদেশের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন দুটি করে উইকেট নেন, শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট চান। মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং অনবদ্য হলেও উইকেট পাননি।

    আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবি, কাবুলের উল্লেখযোগ্য পারফরমার। শেষ পর্যন্ত তারা সংগ্রহ করেন ১৩৮ রান, যেখানে নবি ১২ বলে ২০ ও ওমরজাই ১৭ বলে ১৯ রান অবিচ্ছিন্ন থাকেন।

    বিজয়ী দলের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ দুটি করে উইকেট নেন, শরিফুল ইসলাম একটি উইকেট পান। মুস্তাফিজের বোলিং বেশ প্রশংসনীয় হলেও তার একটি ক্যাচ ছেড়ে দেন ইমন, যা সম্ভবত উইকেটের পরিবর্তে সুযোগের হার।

    এভাবে বাংলাদেশের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ তারা সিরিজে এগিয়ে থাকতেই থাকল।