লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম—এই চারটি জেলায় বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে দেশটির বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। রোববার সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা जारी করে। আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়, আজ (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে আগামীকাল (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলো বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই এলাকায় নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগ ও তার উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন অংশে প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চগড় জেলায় ১১৮ মিলিমিটার, নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮৫ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে ভারতের দার্জিলিংয়ে ২৬১ মিলিমিটার, কোচবিহারে ১৯০ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ১৭২ মিলিমিটার, শিলিগুড়িতে ১৩৪ মিলিমিটার, আরুনাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ৮৯ মিলিমিটার ও সিকিমের গ্যাংটকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে নদীগুলোর পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Month: October 2025
-

গ্রেফতারের সময় পুলিশের পরিচয়পত্র থাকতে বাধ্যতামূলক
আসামি গ্রেফতারের সময় এখন থেকে পুলিশের নেমপ্লেট ও পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক করেছে আইনমন্ত্রীশিপ। এই উদ্যোগটি মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কার্যক্রম-১ এর আওতায় ফৌজদারি বিচার সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোববার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী দিনে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রথমত, গ্রেফতারকালে পুলিশকে অবশ্যই তাদের নেমপ্লেট ও পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। এছাড়া, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকটজনকে গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য জানাতে পুলিশ বাধ্য থাকবে। যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আহত বা অসুস্থ হন, তবে তার চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সব প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও তদারকি করবেন আদালত।
দ্বিতীয়ত, এখন থেকে মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, কারণ ভুক্তভোগীকে আগের মতো স্বতন্ত্রভাবে মামলা করতে হবে না।
তৃতীয়ত, মিথ্যা অভিযোগকারীদের সাজা বাড়ানো হয়েছে, এবং এই সাজা কার্যকর করার জন্য বিচারক নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
অবশেষে, সাক্ষী ও ভিকটিমের সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে এবং সংক্ষিপ্ত ও কার্যকরী বিচার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এই সংস্কারগুলোর মাধ্যমে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং ন্যায়নিষ্ঠ হবে।
-

তারেক রহমান: জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড আমি নই, জনগণই এর মূল কাণ্ডারী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, নিজেকে কখনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখেন না। তিনি জানান, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি এবং কৌশলগত নেতৃত্ব জনগণের মধ্যেই ছিল। তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে একাধিক পর্বের সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, যার প্রথম অংশ সোমবার (৬ অক্টোবর) তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আড়ালে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহৎ গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এই ব্যাপক বিক্ষোভে তীব্র সংঘর্ষের মাঝখানে, ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এর পরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়, কে বা কারা ছিল এই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি বা মাস্টারমাইন্ড।
বিশেষ করে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে ছাত্রদের পরিচিতি হওয়ার পর বিষয়টি আরও জোরেশোরে আলোচনায় আসে। এরপর বিএনপি, জামায়াত, ইসলামপন্থী বিভিন্ন দলসহ ছোট ছোট দলে নেতাদের মাধ্যমে নানা সমাবেশে আন্দোলনের কৃতিত্বের দাবির চলতে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কখনোই নিজেকে এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভাবি না। এই আন্দোলনটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যা সবাই জুড়ে দিয়েছে জুলাই মাসের নামে। কিন্তু এর প্র্রারম্ভকাল বহু আগে থেকেই। এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, তাদের নেতাকর্মীরা, যারা গণতান্ত্রিক মূলধারার। তারা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কেবল রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নয়, সেদিন বিভিন্ন পেশার মানুষও রাস্তায় ছিলেন। মাদরাসার ছাত্র, গৃহিণারা সন্তানের পেছনে রাস্তায় নেমেছিলেন। কৃষক, শ্রমিক, সিএনজি চালক, ছোট দোকানি থেকে শুরু করে গার্মেন্টস কর্মী-সবাই আন্দোলনে শরিক ছিলেন। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্বৈরাচারের অত্যাচারে দেশত্যাগ করা সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিতি দেখিয়েছেন। এই প্রত্যেকের অবদানকে আমরা ছোট করে দেখিনা। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সবাই এই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের আন্দোলন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এটাই ছিল মূল আন্দোলনের শক্তি এবং মাস্টারমাইন্ড, কারণ কেউ কোনো দল বা ব্যক্তি নয়—এই আন্দোলনের একমাত্র মূল চালিকা শক্তি হলো দেশের গণতন্ত্রকামী জনতা।’
আন্দোলনের শুরুতেই ছাত্রদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি নেড বলে, ‘আমরা যখন বাইরে থেকে কাজ করছিলাম, তখন আমাদের জন্য যোগাযোগের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় স্বৈরাচারিরা টেলিফোন বা অনলাইন যোগাযোগে নানা বাধা সৃষ্টি করেছিল। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে, কার্যত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে যোগাযোগ চালাতে হয়েছে। সবসময় এই যোগাযোগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বা স্মুথ ছিল না, তবে প্রত্যেকের সহযোগিতায় আন্দোলন চালাতে পেরেছি।’
-

সিইসির আহ্বান: মিডিয়াকে পাশে চাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশন মিডিয়াকে সহযোগী পার্টনার হিসেবে পাশে চাই। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচার (ডিসইনফরমেশন) নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা খুবই জরুরি। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র ভোটের আয়োজন নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্মল নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর জন্য মিডিয়াকে পাশে চায় সংস্থাটি। তিনি বলেন, অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এত কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সংলাপ একে নিয়েই কেন দেরি হলো। এ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন, বলেন, গঠিত সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশীজন, মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তৃত আলোচনা চালিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো কমিশনের কাজ সহজ করে দিয়েছে। ফলে, মূল সংলাপে দেরি হলেও, পূর্বপ্রস্তুতি শুরু থেকেই চলছিল। তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করতে কিছুটা বিলম্বের কারণ, তারা এখনো ভোট আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তাদের আমন্ত্রণ জানালেও, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে কি না—এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। এজন্য সংলাপ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চলতি সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৭ লাখ মানুষের তথ্য আপডেট করা হয়েছে। এর ফলে, ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটার তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, পাশাপাশি ৪৩ লাখের বেশি নতুন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি বড় অগ্রগতি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি সৃষ্টি করেছে। সিইসি উল্লেখ করেন, নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা যেখানে আগে ৩০ লাখের বেশি বিভাজন ছিল, সেখানে এবার তা কমে ১৮ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নারীরা ভোটদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল, তবে কমিশনের উদ্যোগে সেই আগ্রহ আবার ফিরে এসেছে। প্রবাসীদের ভোটের বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন, এবং ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের योजनাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আউটজোনে প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তারা সহজে ভোট দিতে পারবে। এছাড়া, ভোটের দায়িত্বে থাকা প্রায় ১০ লাখ কর্মী—যেমন পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা ও হাজতিরা—ও ভোটের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এর বাস্তবায়নও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সংলাপে প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সোসাইটি, সাংবাদিকসহ সব অংশীদাররা একসাথে কাজ করবে। সিইসি বলেন, নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হয়, সেই জন্য মিডিয়াকে শুধুমাত্র প্রচারক নয়, বরং নীতিনির্ধারনী আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন পার্টনার’ হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, এই সংলাপ কেবল আনুষ্ঠানিকের জন্য নয়; বরং সাংবাদিকদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসgäযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়তে চায় নির্বাচন কমিশন। অনুষ্ঠানে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজের পরিচালনায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
-

জনপ্রশাসনে বড় পরিবর্তন আসছে: পদনাম পরিবর্তন এবং নতুন সার্ভিসের ঘোষণা
জনপ্রশাসনের সংগঠন ও কার্যাপদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে গঠিত হয়েছে নতুন সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস), যা দেশের বিভিন্ন ক্যাডার থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ তৈরি করবে। এই সার্ভিসের অধীন থাকবে উপসচিব থেকে শুরু করে সচিব পদপর্যায়ের সকল কর্মকর্তার পদ।
এছাড়াও, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদনাম পরিবর্তনসহ প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলমান প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র। জানিয়েছে, এই সংস্কারের ফলে গঠিত হবে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, যা বাংলাদেশের সাধারণ প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
শোনা যাচ্ছে, ডিসির পদবি পরিবর্তন করে এখন থেকে তাকে বলা হবে ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কমিশনার’, আর ইউএনও’র পদনাম হবে ‘উপজেলা কমিশনার’। এসব পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন কেমিটি (নিকার), যাতে এই প্রক্রিয়াগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী,এসইএস গঠনের জন্য বিভিন্ন সার্ভিসের কর্মক্ষম মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হবে। এই সার্ভিসে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থাকবে, যিয়ে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামী দিনে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই পরীক্ষার জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে সরকারকে।
প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে, সব কর্মকর্তাদের একটি সম্মিলিত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। এতে, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে তাদের পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে। বিশেষায়িত সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভিন্নভাবে এই ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়বেন না।
বর্তমানে, উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে থাকা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে। সচিব, মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবও এই সার্ভিসের অংশ হয়ে যাবেন। বিশেষ করে, একটি মন্ত্রিসভার কমিটি এর নেতৃত্বে উচ্চপদে পদোন্নতি প্রদান করা হবে।
নতুন এই সিস্টেমে, সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, জেলা কমিশনার (বর্তমানে জেলা প্রশাসক), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনার পদে নিয়োগ হবে। এই পদের সঙ্গে এসইএস কর্মকর্তাদের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদটি পরিবর্তন করে ‘অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ভূমি ব্যবস্থাপনা)’ করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই শতাধিক সংস্কারমূলক প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। এ সমস্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতিকে যুগপূর্য ও যুগোপযোগী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
-

প্রবাদপ্রতিম সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই
উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন কিংবদন্তি শিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র বুধবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। তবে তার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে। এই শোকের খবর শুনে ভারত এবং বাংলাদেশের সংগীতজগৎ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।
শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে বিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরো খারাপের খবর পাওয়া যায়, এরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি দেখে ১১ সেপ্টেম্বর মির্জাপুরের মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের বিশেষ চিকিৎসকদের একটি দল তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি তার প্রেমের শুরু বাবার, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার দেখাদেখি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখা দেয়। বাবার নির্দেশনায় সংগীতের ধারায় তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রায় এক শ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের নানা রাগ, ভজন ও ধারা সমৃদ্ধ করেছেন। তার কণ্ঠে রচিত রাগ ও ভজনের দলগুলো দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছে। ভারতীয় সংগীতজগৎ তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে স্মরণ করবে।
শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট ও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরেছেন। তাঁর অপ্রতিরোধ্য সঙ্গীত জীবন ও অবদানে বাংলা-বাংলাদেশ ও ভারতের সংগীতপ্রেমীরা গভীর শোক প্রকাশ করছে। তাঁর প্রয়াণে সংগীতের অঙ্গন এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে।
-

নব্বইয়ে নগরবাউল জেমস আজ বাষট্টিতে
উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী ও জনপ্রিয় গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। আজ তিনি বয়সের প্রথম বৃত্ত সম্পন্ন করে ৬২-এ পা রাখলেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই রকবাদক এখন একটি শক্তিশালী অবস্থানে। জেমস শুধু একজন গায়ক নয়, বরং অনুভূতির এক দিগন্ত-প্রসারী নাম, যাঁর গায়কি ও সৃষ্টির জন্য বহু মানুষ তাকে ভালোবাসে। ভক্তরা তাকে সম্মান ও ভালোবাসায় গুরু হিসেবে ডাকে।
বয়সের ধারকেও অতিক্রম করে, পুরোপুরি চির তরুণ এই শিল্পী এখনও তার ঝাকড়া চুলে গিটার হাতে গানে গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। বয়স তার কাছে কেবল Zahlen, কারণ এই গায়ক এখনো গানের জাদুকর হিসেবে הפעולה চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেমসের জীবনযাত্রার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। তার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছোটবেলায় শৈল্পিক ঝোঁক থাকলেও পরিবারের অনিচ্ছাকেই অবজ্ঞা করে তিনি সংগীতের পথে এগিয়ে যান। বাবার সঙ্গে গানের প্রতি আবেগবিহ্বল হয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকাকালীন তাঁর সংগীতের যাত্রা শুরু হয়।
১৯৮০ সালে তিনি একটি ব্যান্ড গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ‘ফিলিংস’। এই ব্যান্ডের তিনি ছিলেন প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকাল। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়, যদিও তখন বেশ জনপ্রিয়তা পায়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ‘অনন্যা’ অ্যালবামটি একের পর এক সুপারহিট হয়ে ওঠে।
তারপরের বছর অর্থাৎ ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অব ফিলিংস’—এই সমস্ত অ্যালবামগুলো তার ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ায়। এছাড়াও তার অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ও একক অ্যালবাম যেমন ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, এবং ‘কাল যমুনা’।
অ্যালবামের গানের পাশাপাশি জেমস চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও অর্জন করেছেন ব্যাপক সফলতা। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি গানে গলাপ গেয়েছেন, এবং সে গানের জন্য দিয়েছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ও ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানের চাহিদা অনেকে মানতে বাধ্য। এছাড়াও বাংলাদেশের ‘সত্তা’ সিনেমায় গাওয়া গান তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও এনে দেয়।
-

ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের শিকার, নেটিজেনদের সমালোচনায় সরব মেহজাবীন ও আরশ খান
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান সবাইকে মুগ্ধ করে আসছেন সিনেমা ও নাটক উভয় ক্ষেত্রেই। তার অভিনয় দক্ষতা ও অভিনয়শৈলী দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। সম্প্রতি তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, বিজয়া দশমির দিন, কপালে সিঁদুর, তিলক লাগিয়ে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ বিজয়া।’ সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। তবে এর পর থেকে নেটিজেনদের একাংশ তার ধর্ম সম্পর্কে নানা কটূক্তি ও বিদ্রুপ মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মুসলমান ভেবে ভুল করে ছিলাম!’, ‘আপনার নাটক আজ থেকে আর দেখা হবে না। কারণ আগে ভেবেছিলাম আপনি মুসলিম।’ এ ধরনের অহেতুক নেতিবাচক মন্তব্যে কিছু নেটিজেন মন খারাপ করেছেন, যাকে নিয়ে সরব হয়েছেন ব্যস্ত বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। কোণঠাসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও অভিনেতা আরশ খান। মেহজাবীন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কারও পোস্টে বাজে মন্তব্য করা, স্ল্যাং ব্যবহার করা বা ভুয়া প্রোফাইল দিয়ে কথা বলা আপনাকে সাহসী করে তোলে না। বরং এটা আপনার মানসিকতার অবনতি ও ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা প্রকাশ করে। এমন ঘৃণা ও অবজ্ঞা নিয়ে আপনি কীভাবে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন?’ অন্যদিকে, আরশ খান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব উভয়ই আমাকে প্রশংসা করেছে। তিনি তার ধর্ম বা জন্মস্থান দ্বারা কোনও ভাবে অপ্রকাশিত। বরং নিজস্ব প্রতাপ ও দক্ষতা দিয়ে তিনি দেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ধর্মের ব্যাপারটি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, দেশের জন্য সব মানুষই সমান।’ ইয়াশ রোহান ধর্মীয় বিভাজন টপকে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুবই সরল ও স্বাভাবিক মানুষ। তার মন্তব্যে কটূক্তির জবাবেও তার সহজ ও সদাহাস্য পদচারণা চোখে পড়ে। তবে সবমিলিয়ে, নেতিবাচক মন্তব্যের সাথে সঙ্গে ভালোবাসাও পেয়েছেন এই তরুণ অভিনেতা। একজন লিখেছেন, ‘আজ বুঝলাম রোহান ভাই হিন্দু। ভালোবাসা অবিরাম ভাই।’ অন্য আরেকজন লিখেছেন, ‘কমেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় মানুষের মানসিকতা কত নিচে নেমে গেছে।’ ইয়াশ রোহান অনন্তপরিবারের বরেণ্য অভিনেতা নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান। তাঁকে প্রথম বড়পর্দায় অভিনয় করতে দেখা যায় গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। শোবিজে তার এই যাত্রা শুরু।
-

রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ও আলোচিত চলচ্চিত্র জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা অবশেষে তাদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই দুই তারকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন করেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) একটি পারিবারিক समारोहের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্য ও কাছের বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই দীর্ঘ প্রত্যাশিত বাগদান সম্পন্ন হয়। তবে, তারা এখনও নিজেদের বাগদান বা বিয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
শোনা যাচ্ছে, এই প্রেমের জুটি আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
ভক্তরা তাদের সম্পর্কের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যেই সম্প্রতি রাশমিকা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই জল্পনায় ইন্ধন দিলেন। দশেরার দিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কপালে তিলক পরা এক ছবি তিনি শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ দশেরা আমার প্রিয়জন… এই বছর আমি বিশেষ করে কৃতজ্ঞ। কারণ, ‘তাম্মা’ ট্রেলার এবং আমাদের গানের জন্য আপনারা যে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তার জন্য আমি সত্যিই ধন্য। আপনাদের বার্তা, উৎসাহ ও সমর্থন আমার জন্য অনেক কিছু। শিগগিরই সিনেমার প্রচার শুরু হবে; আপনাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি অপেক্ষা করতে পারছি না।’
অভিনেত্রীর এই পোস্টে কিছু স্পষ্টভাবেই ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।
রাশমিকা মান্দানাকে খুব শিগগিরই পরিচালক আদিত্য সারপোতদার এর ভৌতিক-কমেডি সিনেমা ‘তাম্মা’ তে দেখা যাবে। সেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করবেন আয়ুষ্মান খুরানা। এই ছবিতে আরও রয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, পরেশ রাওয়ালসহ অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরা। এই ছবি আসছে ২১ অক্টোবর মুক্তির অপেক্ষায়।
অন্যদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গৌতম তির্ণানুরির তেলুগু স্পাই অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিংডম’ (২০২৫) সিনেমায়।
-

বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিনকে, স্বজনের অভিযোগ বিস্ফোরক
প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে এখনো নানা জল্পনা-কল্পনা চলচ্ছে। নতুন করে এক বাবা-ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জুবিনকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার ব্যান্ড সদস্য এবং মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির রিপোর্টে জানা গেছে, রিমান্ড নোটে সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী উল্লেখ করেছেন, জুবিনের মৃত্যু যা ঘটেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। প্রচুর সন্দেহজনকভাবে এটি একটা দুর্ঘটনা নয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, এই হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক হোটেলকেই বাছাই করা হয়, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রায় এক মাস আগে, ৫২ বছর বয়সী এই গায়ক রে জুবিন গার্গ, ভারতীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী ও ভারত-আসিয়ান পর্যটনের উৎসবের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে যাত্রা করেছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য একটি দ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে ডুবে গিয়ে তার মৃত্যু হয়, যা প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়।
রিমান্ডের বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ জানায়, মূল সাক্ষী তথা জুবিনের ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যখন জুবিনের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে, তখন দেখানো হয় যেন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একেবারে চিকিৎসায় সাহায্য না করে, শুধুমাত্র ‘অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এই অবহেলা, গোস্বামীর মতে, জুবিনের মৃত্যুর পথটা আরও ত্বরান্বিত করেছে।
গোস্বামী আরও দাবি করেছেন, জুবিন একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন, এরূপ পরিস্থিতিতে তার স্বাভাবিক ডুবে যাওয়ার কোনও কারণ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্যামকানু মহন্ত ও শর্মা এই ঘটনার প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ইয়ট দুর্ঘটনার কোনও ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করতে নাকোচ করেছিলেন।
এ পর্যন্ত, এই ঘটনায় মোট চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নিয়েছে। তাদের মধ্যে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত, মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং অন্য এক শিল্পী রয়েছেন। এই ঘটনায় তদন্ত এখনো চলমান।
