Month: October 2025

  • একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করলে বিলম্বের সুযোগ থাকবে না: সালাহউদ্দিন

    একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করলে বিলম্বের সুযোগ থাকবে না: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কোনো পক্ষই নির্বাচন পেছানোর সুযোগ পাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন যেন ততটাই হয় যেমনটি পরিকল্পনা করা হয়েছে, কোনো বিলম্বের স্থান নেই।

    সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গুণমানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ বিষয়ে এক আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন এক চ্যালেঞ্জ নয়; যারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চাইছেন, তারাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।

    তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময় একই সঙ্গে গণভোট নেওয়া সম্ভব। এতে জনসম্পৃক্ততা কমবে না, বরং বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হবে না। আগের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, একাধিক ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুবিধায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হননি। তাই সরকার দু’টি ভোটের জন্য আলাদা দিন না রেখে, একই দিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিতে পারে…

    সালাহউদ্দিন সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি গণভোটের আয়োজন করতে দেশের নির্বাচন কমিশনকে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ এতে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

    আলোচনায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পেছানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাত দেয়া হবে। তিনি এই সব চক্রান্তকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি না করে।

    সালাহউদ্দিন দাবি করেন, বাইরে থেকে পাঠানো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনীতি সম্পর্কিত বার্তা সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যহীন। তিনি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদবাদের বিরুদ্ধে একজোট থাকলে কোনো সংকট তৈরি হবে না।

  • গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

    গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সেক্যুলার শিক্ষা মানুষকে নৈতিক চরিত্র দেয় না, বরং ইসলামের সুশিক্ষা ছাড়া এই শিক্ষাব্যবস্থা মানবতার চেয়ে বেশি পশু তৈরি করছে। তার এই মন্তব্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসের উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন, যা বাংলাদেশ জনতা দলের ‘রুখে দাঁড়াও ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগপার সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আবরার ফাহাদ কোন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মেধাবী ছাত্র। তিস্তা নদী, ফেনী নদী, গ্যাসের অবস্থা ও কলকাতার বন্দরের বিষয় নিয়ে তিনি ফেসবুকে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্ররা এই ধরনের নৃশংস কাজ করতে পারে কীভাবে? এটি দেখায় তাদের মনন, শিক্ষা ও চরিত্রে মানবতা হারিয়ে গেছে।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি বলেন, এখন আধিপত্যবাদ নৈরাজ্য বা শুধু ভৌগোলিক দখল নয়, বরং একটি দেশের অন্য দেশের ওপর রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে শাসন প্রতিষ্ঠা করাও আধিপত্যবাদের অংশ। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। এর কারণে বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাচ্ছে না এবং নানাভাবে শোষিত হচ্ছে।

    অতি গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্নের উত্তরে, গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে, একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারহিসাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য বৈধ রাষ্ট্র কাঠামো বদলে, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার চালিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট বা অসামাজিক নেতাদের আর জন্ম না হয়।

    তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে যে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তা যেন কোনো আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি না করে। পাশাপাশি ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।

  • তারেক রহমানের মন্তব্য: উপযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সন্দেহ কমবে

    তারেক রহমানের মন্তব্য: উপযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সন্দেহ কমবে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যত বেশি দৃঢ় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থির থাকবে, ততই সমাজে সংশয় বা অবিশ্বাস কমে যাবে। তিনি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন, যা মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশিত হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—আপনি কয়েক মাস আগে বলেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে, তা কি আপনি এখনও অনুভব করেন?

    তারেক রহমান জবাব দেন, ‘আমার মনে আছে, আমি যখন এই মন্তব্য করেছিলাম, তখন সরকার কোনও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা নির্বাচনের জন্য সঠিক সময়সূচী ঘোষণা করেনি। তারা কেবলমাত্র সাধারণ কথাবার্তা বলেছে, কিছু পরিকল্পনা বা তারিখ উল্লেখ করেনি। এই জন্যই, অন্তর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, যখন ওই সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন, এবং পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকবার তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখান, তখন ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে সংশয় কমতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, যেখানে যত বেশি তাদের কার্যক্রমে দৃঢ়তা থাকবে, মানুষ ততই বিশ্বাসićে ফিরে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে, যদি তারা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।’

    বিএনপির নেতা বলছেন, ‘এই সরকারকে সফল করতে আমরা চাই, তারা মূলত সংস্কার ও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রতি মনোযোগী হোন। এই লক্ষ্য অর্জনই মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের প্রত্যাশা। আমাদের আশা, তারা উত্কৃষ্টভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।’

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকারের কাজের মান কতটাই বা ভালো হচ্ছে, তা নির্ভর করে কার্যকারিতার ওপর। দেশ পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকারকে মূল্যায়ন করতে গেলে, এটি ক্ষণস্থায়ী হলেও এর দায়িত্ব রাজনৈতিক ও জনতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বিচার করতে হলে তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ‘বাংলাদেশ একটি বড় দেশের মতো। জনসংখ্যার দিক থেকে সেটি বিশ্বে অনেক বড়। যুক্তরাজ্য যেমন সাত কোটি মানুষ থাকলেও, আমাদের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির কাছাকাছি। এর মানে, এই দেশ পরিচালনা একরকম শক্তি ও শক্তিমত্তার প্রয়োজন। এজন্য অবশ্যই জনগণের ম্যান্ডেট সহকারে দুর্দান্ত এক সরকার দরকার।’

    সন্ধি যুগের সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক কথায় বলতে গেলে, এক এগারোর সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অনৈতিক। তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাইছিল। তবে আমাদের মতে, সেই সময়ের সরকারের নিহিত ছিল অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি, তারপরও নানা সংঘর্ষ ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিলো।’

    কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূলনীতি একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থের অখণ্ডতা। সবার আগে বাংলাদেশ, তার জনগণ, সার্বভৌমত্ব। এটা বাস্তব ও সরল বিষয়, এর বেশি কিছু নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘দ্রুত বলার জন্য, আমার দৃষ্টি শুধুই বাংলাদেশের স্বার্থে, বাইরের বিষয়াবলি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক, দেশের স্বার্থই আমার প্রথম প্রাধান্য।’

  • ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে জুলাইয়ে সংস্কার প্রয়োজন

    ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে জুলাইয়ে সংস্কার প্রয়োজন

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কোনো শঙ্কা করছি না বলে স্পষ্ট করে মন্তব্য করেছেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি মনে করছেন, তবে এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য জুলাই মাসের সংশোধনী, বিশেষ করে সনদ সংস্কার, খুব জরুরি।

    তাহের বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন অত্যন্ত স্পষ্ট—নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিউইয়র্কে সফরকালে বহুবার আলোচনা হয়েছে। আমাদের সবাইকে একযোগে বলতে হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য সময় মতো উদ্যোগ নিতে হবে। এর জন্য বৈধতা ও আইনের দিক থেকে অবশ্যই শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    তাহের প্রমাণ দেয়, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মতো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, সমস্যার সমাধানে অবাধ, নিরপেক্ষ, ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই একমাত্র সমাধান। তিনি জানান, জুলাই মাসের সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন সম্ভব হয়।

    তাহের বলেন, বর্তমানে কিছু পক্ষের ষড়যন্ত্র ও দেরি করানো সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। যদি এসবের কারণে নির্বাচনের সময় আবার সমস্যা হয় বা নির্বাচন সংশয় হয়, তাহলে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে তাহের বলেন, বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে এই সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। তিনি এটা একাত্মতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও, তিনি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে, জামায়াতে ইসলামী প্রথম এই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, এবং জনগণের পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁর আশাবাদ।

    এক প্রশ্নের জবাবে তাহের স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। সেখানে জাতিসংঘের অধিবেশন অংশগ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন। আমেরিকায় তাঁদের পরিবার ও মেয়ে রয়েছে, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন।

    অবশেষে, তিনি গুজবের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, অনলাইনে ও মিডিয়ায় বারংবার ছড়ানো এই ধরনের গুজব, যেমন ভারতের সেনা প্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও চিকিৎসারজন্য গিয়েছে—সবই মিথ্যা। এগুলো কৃত্রিম ও অপ্রামাণিত খবর, যা AI টেকনোলজি দিয়ে তৈরি। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং সত্যের পথ অনুসরণ করতে হবে।

  • নির্বাচনে জয় ও একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

    নির্বাচনে জয় ও একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। এই কথা তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। ডের যুগের বেশি সময় ধরে লন্ডনে বসবাস করলেও তিনি দেশের রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারেক রহমান বলেন, আমার বাংলাদেশের ফেরার সময় খুব দ্রুত অাসছে। তিনি আরও বলেন, একাধারে অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে শেখ হাসিনার সরকার পতন সম্ভব নয়, কারণ তা ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না। সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ় বলে জনান, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা জয়ী হব। আমাদের ধারণা, আমরা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত অবস্থানে আছি। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য তিনি কাজ করবেন। এ ছাড়াও তিনি বলেন, বিএনপি নতুন সরকারে দায়িত্ব নিলে কোন প্রতিহিংসার সুযোগ প্রদান করা হবে না। জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকায়, ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও সমালোচনাও করেছেন। তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, বিএনপি অন্যদের নিয়ে গঠন করবে সরকার, যাতে তরুণ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করতে আমাজন, আলিবাবা এবং ই-কমার্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরবরাহ কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে নির্বাসনে রয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, নতুন বিএনপি সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাবে। তবে আওয়ামী লীগের জনসমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে? প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকারালে দুর্নীতি ও বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়নের নানা বিষয় উঠে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবেন, কারণ তাদের দাবি যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, তারা অর্থ চুরি করে বিদেশে পাচার করে চলেছেন।

  • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত

    সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এখন থেকে এসব নিয়োগ ব্যবস্থা সম্পন্ন হবে মাধ্যমেই নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, যা এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে হবে। উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার জারি করা হয়েছে, যেখানে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

  • আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু, ট্রাইব্যুনালে কর্মকর্তা নিয়োগ

    আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু, ট্রাইব্যুনালে কর্মকর্তা নিয়োগ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এই খবর নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, দলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং এরপরই তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, গত রোববার (৫ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে बातचीतকালে প্রধান প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে আইনীভাবে তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। দলটির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর আগে আমাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে।’

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে বরিশালে এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন উপদেষ্টা বলেছিলেন rằng, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটি দ্রুতই প্রত্যাহার হবে না। পাশাপাশি, দলটির বিরুদ্ধে বিচার সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন।

  • নির্বাচনে মূল প্লেয়ার রাজনীতিবিদরা: সিইসি

    নির্বাচনে মূল প্লেয়ার রাজনীতিবিদরা: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন একার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের, কারণ তারা নির্বাচনের মূল খেলোয়াড়। আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ কথা বলেছেন তিনি। ঐ সংলাপের শুরুতে বক্তব্য রাখছিলেন সিইসি, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

    সিইসি বলেন, আমরা নির্বাচনের বিষয়ে সংলাপ শুরু করেছি, যদিও কিছুটা দেরিতে। এর পেছনের কারণ হলো, সংবিধান সংস্কার কমিশন (কনসেন্স কমিশন) স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বহু আলোচনা করে একটি সুপারিশমালা তৈরি করেছে, যার অনেক কিছু আমরা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।

    তিনি আরও বলেছেন, এখনই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে যাব না কারণ তারা বর্তমানে কনসেন্স কমিশনের সঙ্গে ব্যস্ত। ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা চাই অসুবিধা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। এর জন্য আমরা পরে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করব।

    সিইসি আবির্ভাবের সময় মন্তব্য করেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করা নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা জানা খুব জরুরি। তিনি জানান, আমাদের লক্ষ্য হলো কীভাবে সুন্দর, জবাবদিহি মূলক এবং জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব, তা বুঝতে আগ্রহী।

    তিনি এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার সুযোগ খুঁজে ফেলা জায়গাগুলো চিহ্নিত করে বন্ধ করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়েও আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন সিইসি। তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোট দিতে চান কারণ তারা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠায়। তাদের জন্য একটি হাইব্রিড মডেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা পোস্টাল ভোটের মতো, তবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, প্রবাসী ও নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তাকে ভোটাধিকার দেওয়ারও উদ্যোগ রয়েছে।

    তাঁর আরও জানান, কারাগারে থাকা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সিইসি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং দেশের জনগণের সহযোগিতা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে তিনি অঙ্গীকার করেন।

  • ত Goodmanঙের পানির অধিকার চাই, ফেলানীর ঝুলে থাকা আর নয়: তারেক রহমান

    ত Goodmanঙের পানির অধিকার চাই, ফেলানীর ঝুলে থাকা আর নয়: তারেক রহমান

    সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পানির অধিকার নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন, আমরা আমাদের পানির অধিকার চাই এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মতো নিরীহ প্রাণের ক্ষতি আর দেখতে চাই না। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এই একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে তার গভীর মনোলোক প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক তৈরীর সময় অবশ্যই দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সিদ্ধান্ত আসলে দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থের উপর ভিত্তি করে নিতে হবে।

    বৈঠকটিতে তিনি বলেন, বিএনপি আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে, তবে দেশের স্বার্থের ওপরে কখনোই আপোস করবে না। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জুলাই-আগস্টে যে গণঅভ্যুত্থান হয়, সেখানে জনসমর্থনের মুখে অবৈধ শাসক শেখ হাসিনাকে আড়াল করতে ভারতের আশ্রয় নেওয়া হলে, বিএনপির কিছু করার থাকবে না। কারণ বাংলাদেশীরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা নিজের দেশের স্বার্থে থাকবেন। তাই বিএনপি নেতা হিসেবে আমি আমার দেশ ও দেশের মানুষের পাশে থাকবো।

  • অন্তর্বর্তী সরকার পেল নতুন দুটি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন

    অন্তর্বর্তী সরকার পেল নতুন দুটি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন দুইটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই দুই চ্যানেল হলো ‘নেক্সট টিভি’ এবং ‘লাইভ টিভি’। নেক্সট টিভির লাইসেন্স লাভ করেছেন মো. আরিফুর রহমান তুহিন, আর লাইভ টিভির জন্য লাইসেন্স পেয়েছেন আরিফুর রহমান নামে একজন প্রবাসী।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, নতুন টিভি অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে চ্যানেল দুটির অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি এবং এখনো প্রক্রিয়াধীন।

    নেক্সট টিভির লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান তুহিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি ২০২৪ সালে ডিসেম্বরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত হন। এর আগে তিনি একজন ইংরেজি দৈনিকের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন। এনসিপি গঠিত হওয়ার পর তিনি দলের যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্বে আসেন।

    অপরদিকে, লাইভ টিভির লাইসেন্সপ্রাপ্ত আরিফুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন প্রায় ছয় বছর আগে। ছাত্রজীবনে তিনি একটি ইংরেজি দৈনিকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি এনসিপির সদস্য ছিলেন, তবে দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না।

    তাদের টিভি চ্যানেল চালানোর জন্য আর্থিক সক্ষমতা আছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে কতটা যোগ্যতা বা রূপায়ন হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চ্যানেল দুটির অনুমোদনের পেছনের কারণ জানতে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

    অতীতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালীন সাড়ে ১৫ বছরে প্রায় ২৮টি টেলিভিশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এসব চ্যানেলের মালিকেরা প্রায়ই সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সেই ধারা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারও নতুন দুটি টিভির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।

    নেক্সট টিভি কর্তৃপক্ষের কাছে এই অনুমোদন দেয়া হয় গত ২৪ জুন। এই চ্যানেলটি ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন এনসিপির যুগ্ম চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান তুহিন। অফিসের অবস্থান পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার করাতিটোলা লেনে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চ্যানেলের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন বগুড়ার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাবেক সংসদ সদস্য এ.কে এম. হাফিজুর রহমানের ছেলে এ.কে এম গোলাম হাসনাইন, যিনি সৌদি আরবের প্রবাসী এবং সেখানে বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

    অন্যদিকে, লাইভ টিভির অনুমোদন পেয়েছে ১৪ জুলাই। এর মালিকানা ‘মিনার্ভা মিডিয়া লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানের। অফিসের ঠিকানা গুলশান ১ নম্বর সড়কের ১৪৩ নম্বর ভবন।

    আরিফুর রহমান জানান, তার কাছ থেকে আরও কিছু কাগজপত্র ও কাজ বাকি থাকায় তিনি আশা করছেন, আগামী বছর থেকেই সম্প্রচারে যেতে পারবেন। তিনি যোগ করেন, তার সঙ্গে রয়েছেন এক বিনিয়োগকারী, যিনি টেলিভিশন চালানোর জন্য অর্থের যোগান দিচ্ছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন চ্যানেল দুটির পরিচালনায় একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক কাজ করছেন, যিনি একে অপরাধ ও বাণিজ্যিক দিক থেকে বেশ অভিজ্ঞ। মূলত এই ব্যক্তি টেলিভিশন দুটির স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    এছাড়াও, অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদন দিয়েছে একটি আইপি টিভি ‘চেঞ্জ টিভি প্রেস’ নামে। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন।

    বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ৫০টির বেশি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র ৩৬টি পূর্ণ সম্প্রচারে রয়েছে, আর বাকিগুলো সম্প্রচারে আসার অপেক্ষায়। এছাড়া ১৫টি আইপি টিভি এখন সক্রিয় রয়েছে, যেগুলোর অনুমোদনও চলমান। ভবিষ্যতে আরও কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য অনুমোদনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।