Month: October 2025

  • টানা দুই মাস রপ্তানি কমছে

    টানা দুই মাস রপ্তানি কমছে

    চলমান অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসেই পণ্যের রপ্তানি কিছুটা কমে এসেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক আয় প্রায় ৩ শতাংশের মতহ্রাস পেয়েছে। এই ধারা চলমান থাকায় তৃতীয় মাসেও রপ্তানি অব্যাহতভাবে কমছে, যেখানে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আরও περίπου ৫ শতাংশ কমে গেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি পরিমাণে কমে গেছে ১৭ কোটি ডলার ধরে। বর্তমানে রপ্তানির মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি ডলার, যা গত সেপ্টেম্বরে ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার এর বেশি।

    রপ্তানির এই কমতির পেছনে মূল কারণ হলো তৈরি পোশাকের রপ্তানি অনুপাত কমে যাওয়া। রপ্তানির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পোশাকের রপ্তানি মাত্র ৬ শতাংশের মতো কমেছে। মূলত পোশাকের এই হ্রাসই পুরো রপ্তানির নেতিবাচক প্রবণতার জন্য দায়ী। গত সেপ্টেম্বর মাসে পোশাকের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২৮৪ কোটি ডলার, যা আগে একই সময়ে ছিল ৩০১ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে দেখলে, রপ্তানি কমলেও অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক—যা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—পর্যন্ত, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি মোট ৬ শতাংশ বেশি ছিল। এ কারণে, প্রথম মাসে রপ্তানি বেড়ে ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ, তবে দ্বিতীয় মাসে রপ্তানি প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে।

  • সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে বৃদ্ধি

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে বৃদ্ধি

    সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পূর্বের মাস আগস্টে এ হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ। এ মাসে দেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুটি খাতের পণ্যের দাম বেড়েছে, ভাষ্য অনুযায়ী সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি একটি উদ্বেগজনক বিষয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে যাওয়াটা বাস্তব হতাশাজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এর রিপোর্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

    সিপিআই-য়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৩৬ শতাংশে। এর মানে, যদি গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে একটি পণ্য ১০০ টাকায় কেনা যেত, তবে এই সেপ্টেম্বরে সেই একই পণ্য কিনতে এখন প্রয়োজন ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ, সাধারণ পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে।

    মূল্যস্ফীতি মূলত একধরনের করের মতো, যা পরিবার চালানোর ব্যয় ভুলিয়ে দেয়। ধরা যাক, মাসে সাধারণ আয় দিয়ে সংসার চালাতে হয়, আর হঠাৎ করে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে বা আয়ের সাথে সামঞ্জস্য না থাকলে মানুষকে ধারদেনা করে খেতে হয় অথবা ব্যয় কমাতে হয়। এতে করে পরিবারের আর্থিক চাপ বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে, যদি মজুরি বা আয়ের বৃদ্ধি কম হয়, তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও খারাপ হয় এবং প্রকৃত আয়ের পরিমাণ কমে যায়।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গেলো অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা বিপরীতে সরকারের লক্ষ্য ছিল ৬.৫ শতাংশের মধ্যে রাখা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল, তেমনভাবে তা অর্জিত হচ্ছে না কারণ মূল্যস্ফীতি এখনও লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করছে।

    তদন্তে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭.৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৭.৬ শতাংশ। পাশাপাশি, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৯৮ শতাংশ। এর ফলে, সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

    নানা পদক্ষেপের পরও দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার আর সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখন সবচেয়ে বেশি। ভারতের মূল্যস্ফীতি ২.০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১.৫ শতাংশ, নেপালে ১.৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২.২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪.৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩.৬ শতাংশ।

    এ মাসে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। গ্রামে গড়ে মূল্যস্ফীতি ৮.৪৭ শতাংশ, যেখানে শহরে তার হার ৮.২৮ শতাংশে নেমেছে। বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা অনুযায়ী ৮ শতাংশের নিচে নামবে, তবে সেটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ হার হবে।

    অবশ্য, দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। তবে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখায়, কঠোর মুদ্রানীতি, কার্যকর বাজার তদারকি এবং উৎপাদন বাড়ানোর নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংক

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান কমেছে: বিশ্বব্যাংক

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার প্রায় ৪.৮ শতাংশের মতো হতে পারে, যা অর্থনীতির বেশ উন্নতি সূচক। মুদ্রাস্ফীতির উপর নিয়ন্ত্রণ আসার ফলে ব্যক্তিগত খরচে কিছুটা বৃদ্ধি ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, আর ফলস্বরূপ গত অর্থবছরের তুলনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এ সকল পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশার কথাও জানানো হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রতিবেদনটির সাথে সাথে এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক আরেকটি রিপোর্টও প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি, ঢাকা অফিসের চীফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ, এবং ইকনোমিস্ট নারজুস সাকিব খান। এ ছাড়াও, সিনিয়র এক্সটারনাল অফিসার মেহেরিন এ মাহবুবও বক্তব্য দেন।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ সামান্য বৃদ্ধি পাবে। তবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি, যদি আমদানি স্বাভাবিক হয়, তাহলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য সামান্য ঘাটতির দিকে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনীতির উন্নতির সাথে সাথে কর রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় জিডিপিতে দেশের রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে থাকবে বলে দেখানো হয়েছে।

    মুদ্রাস্ফীতির দিক থেকেও প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসগুলিতে এটি ধীরেধীরে কমছে, তবে ২০২৫ সালের আগস্টে এটি ৮.৩ শতাংশে পৌঁছেছিল। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের নভেম্বরের ১৩.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭.৬ শতাংশে নেমেছে। বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ পুনরুদ্ধার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে এই উন্নতি।

    অল্প আয়ের মানুষজনের মধ্যে মজুরি এখনও মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বেশি হারে বৃদ্ধি পেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যবধান কমে আসছে। তবে, দারিদ্র্য হার এখনও বেড়েই চলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২১.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২০.৫ শতাংশ। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হারও কমে গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এটি ৬০.৯ শতাংশ থেকে নেমে ৫৮.৯ শতাংশ হয়েছে, যার মূল কারণ হলো নারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস। এ সময়ে প্রায় ৩০ লাখ কর্মক্ষম বয়সী মানুষ শ্রমশক্তির বাইরে চলে গেছেন, যার মধ্যে ২.৪ মিলিয়ন নারী। পাশাপাশি, মোট কর্মসংস্থান প্রায় ২০ লাখ কমে ৬৯.১ লাখে দাঁড়িয়েছে, ফলে কর্মসংস্থান-জনসংখ্যার অনুপাত ৫৬.৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

    অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দুর্বার সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের সমস্যা এখনো প্রবল, এবং মূলধন-ঝুঁকি-সম্পদের অনুপাত ৬.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ১০ শতাংশের চেয়ে অনেক নিচে। সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্বল ব্যাংকগুলো মার্জ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাসনব্যবস্থা ও পরিচালনাগত স্বাধীনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকের কর্পোরেট শাসন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে আইনি কাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি, আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত এবং জরুরি তরলতা সহায়তা কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ২৭১২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪.০ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.২ শতাংশ। বিনিয়োগের অপ্রতুলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গেছে। সরকারি বিনিয়োগও ধীরগতিতে চলিত হয়েছে, ফলে মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৮ শতাংশ।

    অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর-রাজস্ব আয়ের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি হার খুবই কম, যা একটি টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

  • সোনার দাম ফের বাড়ল, ভরিতে আরও ১৪৬৯ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম ফের বাড়ল, ভরিতে আরও ১৪৬৯ টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে সোনার দাম প্রথমবারের মতো ভরিতে ২ লাখ টাকার নিচে নামিয়ে আনার এক দিন পরই আবার দাম বেড়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করে যে, দেশের বাজারে মোটা মানের সোনার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে গত চার দিনে সোনার ভরি মূল্য বেড়েছে মোট ৬ হাজার ৮৪৮ টাকা। নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের তথ্যানুযায়ী, নতুন দাম অনুযায়ী, এক ভাল মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনা ভরিতে এবার খরচ পড়বে ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা, যা আগের থেকে ১৪৬৯ টাকা বেশি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের সোনা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ টাকায় বিক্রি হবে।

    অন্যদিকে, আজ পর্যন্ত বিদ্যমান দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনা ভরিতে বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকায়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, আজ থেকে সোনার ভরি প্রথমে ২২ ক্যারেটে ১৪৬৯ টাকা, ২১ ক্যারেটে ১৩৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ হাজার ২৭ টাকা বৃদ্ধি পাবে।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বৃদ্ধি হয়েছে। এবার এক ভরি রুপার সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৬ টাকা। ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন ভরিতে ৪ হাজার ৬৫৪ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৮০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সংক্ষেপে বললে, সাধারণত ভরিতে ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৯৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৮৪০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৬৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ টাকায় crossing

    সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ২ লাখ টাকায় crossing

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরিতে ৩ হাজার ১৫০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। এই দাম পরিবর্তন বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

    সোমবার রাতের এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৭২৬ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। এটি মূল্যবৃদ্ধির ফলেই হয়েছে। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের বাজারে। ফলে, দেশের সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, শনিবার (অক্টোবর ৪) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৯৩ টাকা, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    নতুন দামে, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে: ২২ ক্যারেটের অধীনে প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির (পুরোনো মানদণ্ডে) জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।

    গত শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, তখনও স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা (২২ ক্যারেট), ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৫ টাকা (২১ ক্যারেট), ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা (১৮ ক্যারেট), এবং ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা (সনাতন)।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশীয় বাজারে সর্বোচ্চ। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের রুপার জন্য ভরি দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারিত।

  • শাপলা প্রতীক চেয়ে এনসিপির ইসিকে নতুন চিঠি

    শাপলা প্রতীক চেয়ে এনসিপির ইসিকে নতুন চিঠি

    আবারও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ইসিকে 7টি বিভিন্ন প্রতীকের নমুনা তুলে ধরে আবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (7 অক্টোবর) দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইসি সচিবের কাছে পাঠানো হয়।

    এনসিপি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করে, তারা গভীরভাবে শাপলা প্রতীকের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে, এবং এই প্রতীক ছাড়া তাদের পক্ষে অন্য কোনো প্রতীক নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটি তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে।

    চিঠিতে তারা জানায়, ওই প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্বাচনী করপোরেট মিটিংয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইসি ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী নতুন করে প্রতীক তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এনসিপি দাবি করে, সংশ্লিষ্ট কমিটি মোট ১৫০টি প্রতীক তালিকাভুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছিল এবং ৪ জুন ইসির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয় যে, চূড়ান্ত তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত আছে।

    এর আগে, ২২ জুন এনসিপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং ‘শাপলা’ প্রতীকের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের দাবি জানায়। পরবর্তী সময়ে, ৩ আগস্ট, তারা তিনটি প্রতীর জন্য তালিকা পাঠায়: ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা, এবং ৩. লাল শাপলা।

    অভিযোগ করে এনসিপি জানায়, তাদের আবেদনপত্রের বিষয়ে ইসি অদ্যাবধি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, ৩০ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি প্রেরণ করেছে, যা আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত নয়। তারা আরও জানায়, দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীসহ ১০১ জনবির দল জানিয়েছেন যে, শাপলা প্রতীকের বরাদ্দে কোনো আইনি বাধা নেই। এর পাশাপাশি, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি বলেছেন, শাপলা প্রতীক দেওয়া সম্ভব।

    এনসিপির মতে, এই প্রতীক বরাদ্দ না করে অবিচার করা হচ্ছে, এবং এটি একটি স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ। তারা মনে করে, ইসি প্রতীকের বিষয়টিতে অন্যান্যায্য আচরণ করছে, যা ইসির সংবিধানিক ও আইনি গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

    নির্বাচনী কার্যক্রমে বিভ্রান্তির অভিযোগে, এনসিপি অভিযোগ করে যে, নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করছে এবং শাপলা প্রতীকের বরাদ্দ না দিয়ে এনসিপিকে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে বাঁধা দিচ্ছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ায়公平তা প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

    সার্বিকভাবে, এনসিপি আশা করে ভবিষ্যতে নির্বাচন আইনে সংশোধন আনা হবে যেন তাদের পক্ষে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা কোনোটিই পেতে পারে, এবং ইসি অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নিয়ে যথাযথ প্রতীক বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে।

  • কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই: সারজিস

    কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কিছু উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাচ্ছেন এবং শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই ‘উত্তরণ’ বা ‘সেফ এক্সিট’ খোঁজার মানসিকতা বদ্ধমূল করে রেখেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে গড়া এই দায়িত্ব পালন করেও যদি কেউ ভয় পান কিংবা পিছপা হন, তাহলে তাঁদের জন্য এই দায়িত্বে থাকা অর্থহীন। যারা এই ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, তাদের জন্য মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশের মানুষ তাদের খুঁজে বের করবে, বলেন তিনি।

    মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁয় জেলা শাখার এক সমন্বয় সভার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করে সারজিস বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে শপথের প্রতীক (শাপলা) ব্যবহার করতে পারার জন্য এনসিপির কোন আইনি বাধা নেই। কিন্তু এরপরও যদি নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ না করে, তাহলে তা স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা গোষ্ঠীগত চাপেরই পরিচায়ক হবে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি কখনোই মেনে নেব না।

    এনসিপির জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দল অন্য কারো সাথে জোট বেঁধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়টি এখনো দলের কেন্দ্রীয় নেতা নেত্রীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে, দলটির সংগঠনিক শক্তি আরও দৃঢ় করার জন্য আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বাস্তবতা বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সৎ ও আদর্শবান মানুষ যদি একত্রিত হন, তাহলে একটি কার্যকর রাজনৈতিক দল গঠন সম্ভব। তবে, আওয়ামী লীগের যে কোনো সংস্করণ বা সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশে এখন আর কার্যকর নয়। এনসিপি এই অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে বজায় রাখবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নওগাঁ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মনিরা শারমিন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের সমর্থন প্রত্যাশা তারেক রহমানের

    আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের সমর্থন প্রত্যাশা তারেক রহমানের

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যৎ দায়িত্বশীল নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং দেশের উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের সরকারের সক্ষমতা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষকদের দাবিগুলোর পূরণ হবে। একই সঙ্গে, আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা দেন তিনি। সেই সমাবেশে সারাদেশের কয়েক হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন, তার মধ্যে রয়েছে অবসর বয়স ৬৫ বছরে নির্ধারণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়। তারেক রহমান বলেন, অতীতের ভালো ও খারাপ দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের উন্নতিতে প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে মেধা, মনন ও জ্ঞানের বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে শিক্ষকদের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, তিনি শিক্ষাখাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এ ব্যাপারে একটি কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। দুর্নীতিবিরোধী সমাজ গড়তে শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এই সভায় তিনি শিক্ষাখাতে জরুরি সংস্কার প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার উল্লেখ করেন।

  • নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র-active থাকুন: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র-active থাকুন: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে বক্তৃতার সময় এ অভিযোগ করেন। এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা, অবসর বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামনে রেখে। মির্জা ফখরুল শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,

  • জনগণই নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে: আমীর খসরু

    জনগণই নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে: আমীর খসরু

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিদেশিরা নয়, বরং দেশের জনগণই ঠিক করবে কীভাবে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি প্রতিনিধিদল। এই সাক্ষাৎকালে আমীর খসরু উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুবই আন্তরিক। গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরা এ দেশে নিয়মিত পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে দেখেছে এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা অবজারভার দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    আমীর খসরু বলেন, দেশের নির্বাচননীতি নির্ধারণ করার দায়িত্ব শুধু বিদেশিদের নয়; সেটা জনগণই করবে। সকল বিদেশি পরোক্ষে বা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে, দেশের মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিবাচক ভূমিকা ইসলামপ্রিয় এই অঞ্চলে অব্যাহত রাখতে চায়। তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করতে কাজ করতে চাইছে।

    বৈঠকের আলোচনায় নির্বাচন প্রক্রিয়া, জনগণের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি, এবং সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিএনপি পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

    অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের ঘটনার মন্তব্য জানতে চাইলে আমীর খসরু সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি বলেন, কে কোথায় বৈঠক করল, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশি দলের কিছু বলার নেই।