Month: October 2025

  • কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি ক্ষতি ১২,০০০ কোটি টাকা: ইএবি

    কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি ক্ষতি ১২,০০০ কোটি টাকা: ইএবি

    শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই অঘটনে প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা সাতাশ হাজার কোটি টাকার মতো পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূচনালগ্নে জানানো হয়, আজ ২০ অক্টোবর সোমবার, রপ্তানি ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনের এক জরুরি সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

    ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, দেশের অর্থনীতিও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আস্থা হারাতে পারেন, যা আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র—যেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ধরনের অঘটন কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতার চিহ্ন।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, কি কারণে এত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় প্রয়োজনীয় অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না? আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং টিম কেন দ্রুত রেসপন্স করেনি? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিসের আসতেও এত সময় কেন লেগেছিল? তারা অভিযোগ করেন, সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—এই তিন সংস্থা, যা এই কার্গো টার্মিনাল দেখাশোনা করে, তারা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালসহ নানা রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে। ফলে অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার বাতিল করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্তদের বিমা দ্রুত দাবি দাবি করা, যেসব পণ্য বীমার আওতায় আসেনি, তাদের জন্য সরকারি বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার ও মনিটরিং প্রযুক্তি লাগানো, কার্গো ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন ও ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা উন্নয়ন।

    অন্তঃকরণে, রপ্তানিকারকরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক, যাতে সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতি বোঝা যায় এবং ভবিষ্যতে এর প্রতিকার করা সম্ভব হয়।

  • স্বর্ণ ও রুপার দাম আবার কমলো, রেকর্ডের পর দাম পড়ে গেল

    স্বর্ণ ও রুপার দাম আবার কমলো, রেকর্ডের পর দাম পড়ে গেল

    আজ বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশের স্বর্ণ ও রুপার দামের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে, যা দেশের বাজারে আবার নিম্নগামী প্রবণতা দেখিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে স্বর্ণের দাম কমানো হলো, এর ফলে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম আবারো প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)-এর সাধারণ সভার মাধ্যমে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-র বৈঠকে একসভায় এ দর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অগাস্টের প্রথম দিকে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতার রেকর্ড সৃষ্টি করে, যেখানে এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। তবে, চলতি সপ্তাহে সেই দাম আবার হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নতুন ঘোষণা অনুসারে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৩৮২ টাকা, যা আগের চেয়ে ৮ হাজার ৩৮২ টাকা কম। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা দাঁড়িয়েছে, যা আগের থেকে ৮ হাজার ২ টাকা কম। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা, যেখানে বহুর স্থিতির চেয়ে ৬ হাজার ৮৫৯ টাকা কমে গেছে। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম কমে ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকায় এসেছে।

    এর আগে, গত ২০ অক্টোবর, স্বর্ণের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ডের সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক ভরি ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। তখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, ১৫ অক্টোবর স্বর্ণের দাম আবারো বৃদ্ধি পায়, এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩২ টাকা। এই সময়ে অন্যান্য ক্যাটাগরির স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছিল।

    অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমার পাশাপাশি রুপার মূল্যেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস এসেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি দাম এখন ৫ হাজার ৪৭০ টাকা, যা আগের চেয়ে ৭৩৫ টাকা কম। একইভাবে, অন্য ক্যাটেগরির রুপার দামও কমে হয়েছে; ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ২১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৩৫৯ টাকা।

    আগে, ২০ অক্টোবর, রুপার দাম ছিল ৬ হাজার ২০৫ টাকা (২২ ক্যারেট), ৫ হাজার ৯১৪ টাকা (২১ ক্যারেট), পরবর্তী ক্যাটেগরিতে ও সনাতন পদ্ধতিতে দাম ছিল যথাক্রমে ৫ হাজার ৭৪ টাকা ও ৩ হাজার ৮০২ টাকা।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী, ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী, ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানের পরিচায়ক। এই অগ্রগতি মূলত রেমিট্যান্সের প্রবাহে জোর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিলাম কার্যক্রমের ফলাফল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩২.১১ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন, অপ্রতিরোধ্য রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলেই এই রিজার্ভ বৃদ্ধি।

    বিশেষ করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ২১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার নিলামে কেনা করেছে, যা ১৩ জুলাই থেকে শুরু হয়।

    গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, এবং আইএমএফের হিসাব মতে, তা ছিল ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার।

    এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সংকটের অবসান ঘটেছে ও দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি প্রশংসিত, আইএমএফের শ্রমসাধ্য প্রচেষ্টা স্বীকৃতি

    বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধি প্রশংসিত, আইএমএফের শ্রমসাধ্য প্রচেষ্টা স্বীকৃতি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়াতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোর বর্তমান বিনিয়ম এবং কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে কি মিল রয়েছে—তা তারা পর্যালোচনা করবেন।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক টমাস হেলব্লিং সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধি আমাদের লক্ষ্য ছিল। চলমান বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতির মধ্যেও বাংলাদেশ সফলভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে।” তিনি আরও বলেন, আইএমএফের একটি বিশেষ দল এ মাসেই বাংলাদেশে সফর করবে, যেখানে তারা চলতি সময়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা সম্পন্ন করবে।

    আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৯.৯৩ বিলিয়ন ডলার—এই বৃদ্ধি বেশ উল্লেখযোগ্য।

    রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স), রপ্তানি আয়ে উন্নতি, কম ব্যয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয় কার্যক্রমকে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়। সেই সময় থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির মূল টাকার মান প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে গেছে। এই বাজেটের প্রেক্ষাপটে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর ফলস্বরূপ প্রথমবারের মতো ব্যাংক বাজার থেকে ২.১২ বিলিয়ন ডলার গ্রহণ করেছে।

  • বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে ৫০ হাজার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট স্থগিত

    বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের মাধ্যমে ৫০ হাজার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট স্থগিত

    বাংলাদেশে জুয়া এবং প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত থাকায় মাধ্যমিক মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এসব অ্যাকাউন্টগুলো ডিসএবল (স্থগিত) করার ঘোষণা দিয়েছে। এ পদক্ষেপ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকেই এবং চলতি মাস পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টগুলো কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির ভবনে অনুষ্ঠিত ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধের করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় বিএফআইইউর প্রতিনিধির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স), এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স), এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার), সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট), বিএফআইইউ, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো ও মোবাইল অপারেটর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    অভিযুক্ত বিএফআইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুয়া ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো ব্লক করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে বিটিআরসির মাধ্যমে সতর্কতামূলক বার্তা পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    একইসাথে, ডিজিএফআইর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনের বিভিন্ন ধাপে জুয়া ও আর্থিক প্রতারণা রুখতে নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ভুয়া সিম, বেনামি নাম্বার, ডার্ক ওয়েবে অবৈধ ডেটা বিক্রি ও বিকাশের অ্যাপের নকল তৈরি বিষয়ে তারা বলছেন, এসব ঘটছিল চলমান। এ অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারের উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি উল্লেখ করেন, জুয়ার বিজ্ঞাপন এখনো বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। সরকার এ ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য অনেক চেষ্টার পরও কিছু মিডিয়া এই উদ্যোগে সঙ্গে দিচ্ছে না। তিনি জানান, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জুয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, তবে বেশ কিছু পোর্টাল এই নির্দেশনা মানছে না। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মে থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮২০টি এমএফএস নম্বর এবং ১ হাজার ৩৩১টি ওয়েব পোর্টাল শনাক্ত ও ব্লক করা হয়েছে। তবে, এই প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ব্লক করা নম্বর বা লিঙ্ক পরিবর্তন করে নতুন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চালু করে অপরাধীরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। এ ধরনের চক্রগুলো আইপি পরিবর্তন করে বা নতুন নাম দিয়ে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করছে। এর ফলে প্রতিরোধে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষার্থীদের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষার্থীদের সব ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে বাজেটের বড় একটি অংশ বরাদ্দ রাখা হবে। এর পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করে তোলা হবে, যাতে তারা উন্নত জীবনগাঠামো উপভোগ করতে পারে এবং দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী হয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের কেবল শিক্ষকতা নয়, সংসার চালানোর জন্য অন্য কোনও কাজ করতে হবে না, এর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশুদের মধ্যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তিনি শিক্ষকদের অবদান আরও বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে নতুন এক বা দু’টি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান, কারণ এসব দক্ষতা আন্তর্জাতিক কাজ ও বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি শিক্ষাকে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হবে যেন তারা সামনে এসে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

    শনিবার (২৫ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আগ্রহে অংশ নেয়; সকাল থেকেই বিদ্যালয় মাঠে ছুটে আসে শিক্ষার্থীরা, যা অনুষ্ঠানস্থলকে কানায় কানায় ভরে তোলে। সেখানে জাতীয় ও দলীয় সংগীতের সঙ্গে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি দেশ ও পরিবারের উন্নয়নের জন্য ভালো পড়াশোনা অপরিহার্য।

    এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বিগত ২৫ বছর আগে তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন ধরনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির আগেও বিএনপি তা বলেছে।

    অনুষ্ঠানে তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা আর বিনিয়োগে বড় অঙ্ক বরাদ্দ করা হবে। শিক্ষকদের অঙ্গীকার করতে হবে, শিক্ষকতা করেই তারা সংসার চালাবে। এ ছাড়া, ভালো শিক্ষার জন্য বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে আরও একটি ভাষা শেখানো হবে এবং কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭ম-৮ম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা চালু করতে হবে এবং মেধাবী ছাত্রদের অসুবিধা না হয়, সে জন্য তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তুললে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অতীতের মতোই, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া, তিনি বলেন, মোবাইল ও অন্যান্য গেজেটে সময় অপচয় করে পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি হয়, তাই এগুলো থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। ভবিষ্যতে তিনি নিজে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দেশ গঠন এবং শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

    অনুষ্ঠানের শেষে বৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি ও অন্যান্য অতিথিরা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফার ধারণা পৌঁছে গেছে দেশের ৮৪টি স্কুলের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মকাণ্ডের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছে আয়োজকরা।

  • পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য নতুন করে নানা ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এ কথা জানান, শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিএমএ ভবনে মাকাম সুফি ঐতিহ্য কেন্দ্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মাজার সংস্কৃতি-সহিংসতা, সংকট এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদের দীর্ঘ মানুষের ইতিহাস রয়েছে, আমরা একই নদীর পানি খেয়ে আসছি। এ কারণেই তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, কোনো দলের সঙ্গে নয়, রাষ্ট্রের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধান যতদিন পর্যন্ত পরিবর্তন না হয়, ততদিন বর্তমান সংবিধানই বাংলাদেশের আইনি ভিত্তি হিসেবে থাকতে হবে। এদিকে, সংবিধানের কিছু সমস্যা এবং ঝামেলার কারণেই সম্প্রতি মাজারগুলোতে হামলা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সাধারণ মানুষের অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান এবং বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রগঠনে গণতান্ত্রিক চর্চা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

    এনসিপির এই নেতৃত্ব দেশের সুফি ধর্মের অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে ৩০০টির বেশি গডফাদার আছেন, যারা ভালো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয় না। এ জন্য তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরণের প্রভাবশালী faction-গুলোর কাছে কখনো সিজদা করবেন না, কারণ একবার নিজেকে বিক্রি করলে তারা পরবর্তীতে আপনাকে গোলাম করে রাখবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও নিজের বিক্রি সম্ভব, তখন আপনারা গোলামির মধ্যে ঢুকে যাবেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরার। এটা কারো দয়া বা দলের অনুমোদনের জন্য নয়, বরং সংবিধান ও দেশের স্বার্থে নিজের অধিকার জানা এবং রক্ষা করার বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনীতিতে সুফিবাদীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নেই, এ কারণেই কওমি ইসলামি শিক্ষার ছাত্ররা আশ্রয় নিচ্ছে।

    জুলাই সনদ ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, এই সনদে আইনি শক্তি ও বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট আদেশ জারি জরুরি। তার জন্য প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষর থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলে থাকেন, আলোচনা ও সমাধানের মাধ্যমে দ্রুত দেশের বর্তমান সংকট সমাধান সম্ভব, যাতে নির্ঝরিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ও গণতন্ত্র উন্নত হয়। অন্যথায়, বাধা সৃষ্টি হলে দেশের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়বে।

  • আরপিওর ২০ ধারা সংশোধনে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি

    আরপিওর ২০ ধারা সংশোধনে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আরপিওর ২০ ধারায় সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা চায় জোটবদ্ধ দলগুলো নিজেদের পছন্দের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারুক, যা তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও নির্বাচনী মূলনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

    আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন। ওই আলোচনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

    বৈঠক শেষে ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘প্রথম থেকেই জানি, বাংলাদেশে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাদের চাহিদা অনুযায়ী জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে আসছে। তারা নিজেদের প্রতীক বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদ্ধতিতে কখনো দ্বন্দ্ব বা সমস্যা হয়নি। তবে সম্প্রতি সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টা চলেছে, যা দেশের নির্বাচনী চর্চায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অনুসারে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈধ ও গণতান্ত্রিক। আমরা কখনো দাবি করিনি এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করতে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জোটবদ্ধ হলেও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে, যা বিএনপির নীতিমালা ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের সংশোধনীগুলো আমাদের পছন্দ নয়; আমরা এটা গ্রহণ করছি না।

    বিএনপি জোটের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয় লাভ করা। ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছিলেন, ‘দল বা জোটের নিজের পছন্দের প্রতীকের অধিকার সব রাজনৈতিক দলেরই থাকা উচিত। আমাদের কাছে আশ্চর্যজনক মনে হয়, মূল প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আরপিওর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ পূর্বের মতোই রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। সরকারের উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছেও এই বিষয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়ে গেছে। আশা করি, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই সংশোধনটি আর হবে না, এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আইনি উপদেষ্টা মহোদয়ের দ্বারা একটি গিন্টেলম্যানস অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে, যেটা অনুসারে এই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, এই চুক্তি অনুযায়ীই সব কিছু পরিচালিত হবে। কিছু নতুন আলোচনা বা সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে না।’

    অন্ততঃ প্রকাশিত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা দলীয় প্রতীকের অধিকার সবসময়ই রক্ষা পেয়েছে। তবে, যখন তারা জোটবদ্ধ হয়, তখন তারা তাদের নিজস্ব প্রতীকের বদলে অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই নিয়মই দীর্ঘদিন থেকে কার্যকর এবং এটি দেশের নির্বাচনী প্রথার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

  • জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে একসাথে থাকতে হবে: গোলাম পরওয়ার

    জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে একসাথে থাকতে হবে: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এই দেশের জাতীয় নির্বাচনের পথে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা যেন কোনভাবেই বিঘ্নিত না হয়। তিনি জানান, নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভিন্ন পারাশক্তি ও এজেন্সি সক্রিয় হয়ে উঠবে। যদিও বিভিন্ন মত থাকলেও জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট হতে হবে। যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে পরাশক্তি ও অভ্যন্তরীণ শক্তি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও নতুন দেশের গঠনের কাজে বাধা দিতে পারবেন না।

    আজ রোববার, ২৬ অক্টোবর, দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত গণঅধিকার পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    পরওয়ার আরও বলেন, এ দেশের মানুষ জানে যে গণঅধিকার পরিষদ একটি ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি হিসেবে তাঁর ওপর যে নির্যাতন ও শারীরিক আঘাত এসেছে, তা এ দেশের জনসাধারণ সহিহভাবে স্বীকার করে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার পর যে কঠোর নির্যতন ও পুলিশি নিপীড়ন করা হয়েছিল, তা দেশের মানুষ অগ্রাহ্য করেনি। দেশের সাধারণ মানুষের নুরুল হক নুরের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন এসেছে। গত জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের নির্যাতনের ঘটনাও এ প্রমাণ দেয়।

    তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের অবসান ও মুক্তির জন্য যে লড়াই করেছি, সেই লড়াই একটি রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের আশা জাগিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল, নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। সবার জন্য একযোগে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে—রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, ছাত্র ও সাধারণ জনগণ মত প্রকাশের স্বাধীনতা পাবেন। কিন্তু বিস্ময়জনক বিষয় হলো, নুরুল হক নুরের উপর আবার কেন এবং কিভাবে নির্যাতন চালানো হলো, তা দেখে পুরো জাতি অবাক হয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ ও অস্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন, দেশের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই মহান নেতার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছে জামায়াতে ইসলামী।

    পরওয়ার আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনায় ভরা জুলাই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করেছিলাম, একটি সদ্য গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সকল বিরোধী মতের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভিন্ন শক্তি ও এজেন্সি এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে। এজন্য তিনি আশাবাদী, দেশের বৃহৎ স্বার্থে সবাইকে একসাথে থাকতে হবে।

    জামায়াতের এই নেতার ভাষায়, ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথে অনেক বাধা আসবে। ভিন্ন মত মতান্তর থাকা সত্ত্বেও, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের জন্য একযোগে কাজ করা। তিনি বলেন, আমরা এক দিকে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই, অন্যদিকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে সম্মত সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সব রাজনৈতিক দল একসাথে কাজ করলে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তি আমাদের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

  • খুলনা বিভাগের ৩6 আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য বিএনপির ডাকা বৈঠক

    খুলনা বিভাগের ৩6 আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য বিএনপির ডাকা বৈঠক

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ৩৬টি নির্বাচনী এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য ডাকা হলো মহতী এক বৈঠক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কর্তৃপক্ষ এই বৈঠক আয়োজন করেছে যাতে নেতারা নিজেদের মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন। জানা গেছে, ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের অংশ হিসেবে আগামীকাল সোমবার বিকেলে ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে, যেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে নেতাদের ফোন করে বা ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। খবরের খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত শুক্রবার রাতে অনেক নেতার কাছ থেকে ইতোমধ্যেই ফোন পেয়ে রেডি হচ্ছেন তারা, অনেকেই ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। কিছু নেতা আজ রোববার রাতে গুলশানে পৌঁছাবেন। অন্যদিকে, বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত একাধিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আজ রোববার তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, আর সোমবার খুলনা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এবং দিকনির্দেশনা দেবেন, যাতে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া সুসংগঠিত ও সফল হয়।