Month: October 2025

  • থাইল্যান্ডের রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাইল্যান্ডের রাজমাতা সিরিকিত আর নেই

    থাইল্যান্ডের সম্রাট পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজমাতা সিরিকিত মারা গেছেন। তিনি শুক্রবার রাত ৯:২১ মিনিটে ব্যাংককের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের মা হিসেবে তিনি দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে আseyেছেন।

    থাই রয়েল হাউজহোল্ড ব্যুরো শনিবার (২৫ অক্টোবর) এই দৃষ্টান্তমূলক সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর তাঁর শরীরে রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ে। অবশেষে, শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান।

    রাজমাতার পুত্র, বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন এবং তিন মেয়ে তার উত্তরসুরি হিসেবে থাকবেন। তাঁর শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের ডুসিট থ্রোন হলে মরদেহ রাখা হবে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে এক বছরের শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    সিরিকিতের যোগদান স্বদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি থাই রাজতন্ত্রের গৌরব ও মর্যাদার পুনরুদ্ধার করেন। রাজনীতি ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ২০১২ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি।

    থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, সিরিকিতের মৃত্যুতে মালয়েশিয়ায় আসিয়ান সম্মেলনে তার সফর বাতিল করেছেন। এই মুহূর্তে, তার শেষকৃত্য নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে।

    সিরিকিত ছিলেন থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময়ের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের প্রিয় স্ত্রী। ১৯৪৬ সালে রাজা ভূমিবলের সঙ্গে তার বিয়েটি হয়, যা পরবর্তীতে দেশটির ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে যায়। স্বামীর সঙ্গে জাতির সেবা ও দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে তিনি জনসাধারণের মধ্যে গভীর ভালবাসা অর্জন করেছিলেন।

    জন্ম ১৯৩২ সালে প্যারিসে, তিনি ফরাসি দূতীর কন্যা। সংগীত ও ভাষা শিক্ষার জন্য তিনি প্যারিসে থাকাকালীন রাজা ভূমিবলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯৪৯ সালে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৭।

    সিরিকিত ফরাসি প্রসিদ্ধ ডিজাইনার পিয়ের বালমাঁ কর্তৃক ডিজাইন করা ঐতিহ্যবাহী থাই সিল্কের পোশাকের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের সিল্কশিল্পের রূপ দেখিয়ে থাকেন।

    চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দেশের গ্রামীণ জনপদে গিয়েছিলেন, দরিদ্রদের সেবায় উৎসাহিত করেছেন। ১৯৫৬ সালে যখন রাজা সাময়িকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন, তখন তিনি থাইল্যান্ডের দায়িত্ব সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে তার জন্মদিন ১২ আগস্ট জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা হাজারো মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।

    রাজা ভূমিবল মারা যাওয়ার পরে, ২০১৬ সালে তার একমাত্র সন্তান মহা বাজিরালংকর্ণ রাজা হন। ২০১৯ সালে তাঁর রাজ্যাভিষেকের পর থেকে সিরিকিতের উপাধি হয় রাজমাতা, যা মানে তিনি দেশের জন্য এক যুগের বর্ণিল অবদান রেখেছেন।

  • বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে সুদান

    বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে সুদান

    তিন বছর ধরে চলা ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধের কারণে সুদান এখন মানবিক বিপর্যয়ের শিকার। লাখ লাখ মানুষ সরকারি লড়াইটার কারণে বাস্তুচ্যূত হয়েছে, এবং খাদ্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় দেশটিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেশে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি না করলে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। এই সংকটের কারণে এখন বিশ্বের অন্যতম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সুদানে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ৯৬ লাখ মানুষ দেশটির ভেতরে বাস্তুচ্যূত হলেও অন্যরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেছে।

    জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর উপ-উচ্চকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস বলেছেন, এই গৃহযুদ্ধের ফলে সুদানবাসীর এক-তৃতীয়াংশই গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

    অপর দিকে, ইউনিসেফের কর্মকর্তা টেড চাইবান জানিয়েছেন, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১৪ লাখ শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে এবং মোট শিশুর চার-পঞ্চমাংশ—অর্থাৎ ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু—বিদ্যালয় থেকে বাইরে রয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর দারফুর অঞ্চলে এই বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে।

    খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর কর্মকর্তা ভ্যালেরি গুয়ারনিয়েরি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে দুর্ভিক্ষঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে ১৮ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হলেও বেশ কিছু অঞ্চল এখনো যুদ্ধের কারণে প্রবেশ করতে পারছে না।

    এই অবস্থা মোকাবিলার জন্য জাতিসংঘের চার সংস্থা দ্রুত তহবিল সহায়তা, মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

  • দীপাবলির খেলনায় চোখ হারাল ৬৪ শিশু, বিপত্তিতে এখনো রয়েছেন অনেকে

    দীপাবলির খেলনায় চোখ হারাল ৬৪ শিশু, বিপত্তিতে এখনো রয়েছেন অনেকে

    পুরো ভারত জুড়ে প্রতি বছরের মতো এবারের দীপাবলি উৎসবটি ছিলো মারাত্মক উল্লাসে ভরে উঠেছিল। পটকা ফুটানোর ধারাবাহিক উৎসবের অংশ হিসেবে এখবরের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি সাধারণ দেখাচ্ছে এমন খেলনা বন্দুক। তবে এই খেলনার এতটাই মারাত্মক প্রভাব ফেলার ঘটনা প্রথমবারের মতো সামনে এল, যা শিরোনাম তৈরি করেছে। বাজারে আসা এক নতুন ধরনের কার্বাইড বন্দুকের কারণে এ বছর দীপাবলি হয়ে উঠেছিলো এক প্রকার আতঙ্কের। অল্প অল্প দামে কিনে শিশু-কিশোররা এই বন্দুক চালানোর জন্য উচ্ছ্বাসিত হলেও, এর বহুমাত্রিক বিপদজনক দিকটি লুকানো ছিলো। এই বন্দুকটি চালানোর জন্য কেবল মাত্র ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও পানি প্রয়োজন, এবং মাত্র কিছু ক্ষণেই তা বিস্ফোরিত হয়ে বিকট শব্দ তৈরি করে। এই অতি স্বল্প খরচে তৈরি বিনোদনের মাধ্যমে শিশুরা খুব দ্রুত আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তবে এই বন্দুকের তৎক্ষণাৎ বিস্ফোরণে চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছে শতাধিক শিশু-কিশোর-কিশোরী। এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা সত্যিই এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। সোমবার (২৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর দীপাবলি উদযাপনের পরে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত শতাধিক শিশু-কিশোর ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ জনের দৃষ্টিশক্তি ফিরবে না বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। বিহারেও সংখ্যা আরও বেশি, যেখানে রাজধানী পাটনায় স্থায়ী চোখের সমস্যা নিয়ে কমপক্ষে ৫০ জন শিশু-কিশোর চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, আগামী দিনগুলোতেও এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোপাল মেমোরিয়াল হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার (বিএসএইচআরসি) এর চক্ষু বিভাগ প্রধান ডা. হেমলতা যাদব এই ব্যাপারে বলেন, ‘এই কার্বাইড বন্দুক কোনো সাধারণ খেলনা নয়। এটি আসলে একপ্রকার রাসায়নিক বোমা, যা বিকট শব্দ এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ক্ষয়রূপে শিশুর চোখের গুরুতর ক্ষতি করে। সতর্কতা না নিলে, এই ধরনের খেলনা আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।’

  • শীতের আসনে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হচ্ছে

    শীতের আসনে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ খারাপ হচ্ছে

    শীতের আগমনের সাথে সাথে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত আশ্রয় ও শীতের বস্ত্র প্রবেশের জন্য ইসরায়েলের বাধা থাকায় লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পরিস্থিতি মারাত্মক সংকটের দিকে এগুচ্ছে। এটা জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। শনিবার (২৫ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় শীতপ্রবণ সময় আরো বেড়ে যাচ্ছে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যেখানে আশ্রয়, উষ্ণতা ও শীতকালীন সামগ্রী প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো জন্য প্রয়োজনীয় তাঁবু, কম্বল ও অন্যান্য শীতকালীন সরঞ্জাম এখনো জর্ডান ও মিসরে ইউএনআরডব্লিউএর গুদামে আটকা রয়েছে। সংস্থাটি মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে প্রবেশের দাবি জানিয়ে জরুরি অবস্থায় সহায়তা প্রবেশের অনুমতি চান।

    অতিরিক্ত হিসেবে, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সরকারি প্রভাবশালী সেই কর্মকর্তা জানিয়ে ছিলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে দিচ্ছে না। এর এক দিন আগে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) সতর্ক করে বলেছিল যে, গাজায় বসবাসকারী ফিলিস্তিনিরা পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পাচ্ছেন না এবং ইসরায়েলকে অবশ্যই সহায়তাপ্রবেশে অনুমতি দিতে হবে। তারা আরও বলেছে, ‘অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ বন্ধ করতে হবে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি হামাসের সাথে নতুন চুক্তির মাধ্যমে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসরায়েল পণ্য ও ত্রাণ প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ দফা শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে, ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং পরবর্তী পর্যায়ে গাজা পুনর্গঠন ও হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা ছিল।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৮ হাজারের বেশি।

  • অবাক করে আবারও ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সফলতা

    অবাক করে আবারও ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সফলতা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর কৃতিত্ব নিজের নামে নিলেন। তিনি বলছেন, তার নেতৃত্বে এই দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি বিশ্বাস করেন এক বড় সফলতা। এশিয়া সফরকালে এক বিমান আড্ডার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই দাবি করেন। তিনি আরও জানান, এই কাজটি করতে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা তিনি সমাধান করে ফেলেছেন। ট্রাম্প নিশ্চিত করে বলেন, তিনি অনেক চেষ্টার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

  • ধর্ম আমাদের আত্মার শান্তির জন্য, ভোটের জন্য নয়

    ধর্ম আমাদের আত্মার শান্তির জন্য, ভোটের জন্য নয়

    বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্ম আমাদের আত্মার শান্তির জন্য, ভোটের জন্য নয়। যারা বলে অমুক মার্কায় ভোট দিলে বেহেশত মিলবে, তারা আল্লাহর দীনকে উপহাস করছে। আছিয়া ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহর ইবাদত করেই বেহেশত পেয়েছেন, কোনো প্রতীকে ভোট দিয়ে নয়। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ২, ৩, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা দলের নির্বাচনী সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আপনারাদের এলাকার সন্তান। ২০০৭ সালে এক-এগারোর ভয়াবহ ঘটনার কারণে আপনি ভোটাধিকার হারিয়েছেন। ২০১৮ সালে দেশের মানুষ হয়েছিল ভোটের শেষ পর্যায়ের দুঃখের স্মৃতি। তবে এবার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে, ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হবে। ধানের শীষের প্রতীককে ভোট দিয়ে আপনি আপনার সন্তানকে সংসদে পাঠাবেন। আওয়ামী লীগের মানুষের প্রতি নিপীড়ন ও অত্যাচারী রাজনীতি সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে তারা জনগণকে কষ্ট দিয়ে এসেছে। এই কারণেই তাদের দল এখন মূল রাজনৈতিক প্রেরণা থেকে বিচ্ছিন্ন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যেই এক কোটি বেকারের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবে। খুলনা অঞ্চলে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বেকারত্বের ছবি তুলে ধরে হেলাল বলেন, মানসিক দুশ্চিন্তা আর কাজের অভাবে মানুষ দিশেহারা। যদি বিএনপি সরকার আসে, নারীদের মর্যাদা রক্ষা করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি পরিবারের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মালিক হবে পরিবারের মা বা বোন। বিএনপি সরকারের সময় চালু হওয়া নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা পরিবেশ তৈরির কাজ সবকিছুই বিএনপি-ই চালু করেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্ষমতায় এলে সেই ধারাবাহিকতা আরও জোরদার হবে। স্বাস্থ্যখাতে অনেক উন্নত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন, তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে, যাতে বড় ধরনের রোগে কেউ দিশেহারা না হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি এড. তসলিমা খাতুন ছন্দা। প্রধান আলোচক ছিলেন নার্গিস বেগম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে শনিবার বিকেল ৫টায় তেরখাদা উপজেলায় তেরখাদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা মহিলা দলের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আজিজুল বারী হেলাল। ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তছলিমা খাতুন ছন্দা। সভাপতিত্ব করেন তেরখাদা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কহিনুর বেগম। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগম। তেমনি উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা বিএনপি’র সদস্য আব্দুস সালাম মল্লিক, রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান ও চৌধুরী কাওছার আলী।

  • সিরাজুল ইসলাম মেঝো ভাইয়ের শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না

    সিরাজুল ইসলাম মেঝো ভাইয়ের শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না

    মহানগর বিএনপি’র সভাপত এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম মেঝো ভাইয়ের নেতৃত্ব ও অবদান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অম্লান রয়ে গেছে। তিনি জীবদ্দশায় ভাসানী ন্যাপের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। মেঝো ভাই ছিলেন দলের এক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নেতা, যার শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না বলে তিনি দৃঢ় মনে করেন।

  • ববকুলের আহবান: ধর্মের নামে বিভ্রান্তি রুখে দাঁড়াও

    ববকুলের আহবান: ধর্মের নামে বিভ্রান্তি রুখে দাঁড়াও

    খুলনা মহানগরীর খালিশপুর বৈকালী বড় বয়রা এলাকায় অবস্থিত বায়তুল নাজাত নূরানী মসজিদ ও মাদ্রাসা একাডেমীর সম্প্রসারণ (এক্সটেনশন) কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।

    উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, “রাজনীতি খারাপ নয়, কিন্তু কিছু অসৎ রাজনীতিবিদদের কারণে আমাদের সমাজে রাজনীতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা চাই, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সবাই একত্র হতে হবে।”

    বকুল আরও বলেন, “আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমাদের শেখিয়েছেন, জনহিতের জন্য কাজ করতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সবসময় মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমাদের লক্ষ্য হলো—প্রতিটি ঘরে ইসলামের আলো পৌঁছে দেওয়া, তবে সে ইসলাম যেন বিভ্রান্তির কারন না হয়।”

    ধর্মের অপব্যবহার ও ইসলামের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বিরুদ্ধে তিনি মন্তব্য করে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করি, আজকাল কিছু দল ইসলামের নাম দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ এমন দাবিও করে যে তাদের দলে ভোট দিলে জান্নাতে যাবে—এগুলো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। জান্নাত ও জাহান্নাতের মালিক একমাত্র আল্লাহ, তিনিই ঠিক করবেন কে কোথায় যাবে।”

    বকুল আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনে উপস্থিত সব ভোটারকে সচেতনভাবে ভোট দিতে হবে। কেউ যদি আপনাকে ভোটের জন্য প্রশ্ন করে, তাহলে বলবেন, এখন পর্যন্ত তারা কোথায় ছিলেন, জনগণের জন্য কী কাজ করেছেন।” সমাজে সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    শিক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামী মূল্যবোধের পুনঃস্থাপনেও গুরুত্বারোপ করেন বকুল, বলেন, “আমাদের সন্তানদের মধ্যে ঈমানি শক্তি ও মানবিকতা গড়ে তুলতে হবে। মাদ্রাসাগুলো ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্র, সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মসজিদ কমিটির সভাপতি শেখ আব্বাস ফকির, সাধারণ সম্পাদক শেখ বাসিত আহম্মেদ মিঠু, মসজিদের হুজুর মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ এলাকার বিভিন্ন ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা বায়তুল নাজাত নূরানী একাডেমীটিকে ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

  • খুলনায় রেলওয়ে শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল জখমের ঘটনা

    খুলনায় রেলওয়ে শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল জখমের ঘটনা

    খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় রেলওয়ে শ্রমিকদলের বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল হাওলাদারকে প্রথমে স্থানীয় সিটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে খুলনা ডক্টরস পয়েন্টে নিয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দক্ষিণ জোনের জেনারেল ম্যানেজার রেলের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনায় আসেন। এ সময় তার পক্ষ থেকে ফুল দেওয়া ও রেলওয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. এম আর মঞ্জুরের হয়ে স্লোগান দেন শ্রমিক নেতা সোহেল হাওলাদার। এরই মধ্যে অপর এক গ্র“পের শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আল মামুন রাজার নেতৃত্বে এমিনুর আজাদ, শ্রমিক লীগের মিলনসহ বহিরাগতরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায় সোহেল ওপর। গুরুতর আহত হয়ে তিনি সড়ক পথে অন্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রথমে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লোকে।

    খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কবির হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার পর এ ধরনের গুরুতর ঘটনার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • যশোরে দুই কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক এক ব্যক্তি

    যশোরে দুই কোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ আটক এক ব্যক্তি

    যশোরে এক কেজি ২০ গ্রাম ওজনের আটটি স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ বিজিবি। রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে শহরের মুড়লি মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলো শেখ অলিউল্লা (৫৫), যিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধ্যকাটিয়া গ্রামের শেখ আরিজুল্লাহর ছেলে।

    বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, সকালে শহরের মুড়লি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে কোমরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় জব্দ করা হয় স্বর্ণের আটটি বার, যার মোট ওজন ১ কেজি ২০ গ্রাম, পাশাপাশি একটি স্বর্ণের আংটি ও একটি মোবাইল ফোন।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেখ অলিউল্লা জানায়, সে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করে ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। পরে আটকের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় ব্যাপারটি হস্তান্তর করে।

    অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত অলিউল্লাকে মামলা দিয়ে থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। জব্দকৃত স্বর্ণের বারগুলো সতর্কতার সঙ্গে ট্রেজারিতে সংরক্ষিত করা হয়েছে।